আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!
আমার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা জানার জন্য- এখানে ক্লিক করুন
আমার কনটেক্ট এড্রেস জানতে-এখানে ক্লিক করুন
আমার full info সম্পর্কে জানতে- এখানে ক্লিক করুন
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমার শ্রদ্ধেয় মরহুম বাবা আমার নাম রেখেছেন আরিফ উল্যাহ চৌধুরী। ভাইদের নামের শুরুতে অবশ্য এস এম দিয়ে শরু করেছিলেন। আমার নামের শুরুতেও দিয়েছিলেন।
কিন্তু আমাকে যখন স্কুলে ভর্তি করাতে নিলেন, তখন স্কুলের স্যারেরা, স্কুলে আমার নাম এন্ট্রি করার সময়, নামটি বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে বলে, নামের শুরুতে এস এম, এ দু'টি শব্দ বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। যা বাবাকে একদিন আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং বাবা আমায় এরূপই বলেছিলেন।
আমার নামটি, আরবী ভাষা হতে উৎপত্তি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ভূক্ত নাম। এর অর্থ আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহু তা'য়ালার পরিচয় দানকারী।
তাই আমি যেন আমার নামের এ অর্থকে স্বার্থক করতে পারি, এ জন্য লিখার শুরুতেই, আমি সকলের নিকট দোয়া কামনা করে এবং পরম করুণাময়ের নামে ও তাঁরই শক্তিতে লিখা আরম্ভ করছি। আল্লাহু তা'য়ালা তাওফিক দিলে, যা আমার মৃত্যু পর্যন্ত চলবে ইনশা'আল্লাহ।
আমরা ৩ ভাই; ২ বোন। ভাইদের মধ্যে আমি সবার ছোট।
আমার বড় ভাই থেকে ক্রমান্বয়ে আমাদের সকল ভাই-বোনদের নাম নিম্নে উল্লেখ করলাম-
১। এস এম শহীদুল্লাহ চৌধুরী
২। হারিছা আক্তার
৩। রোকেয়া আক্তার
৪। হাছিনা আক্তার
৫। সেলিনা আক্তার
৬। এস এম শরাফত উল্যাহ চৌধুরী
৭। আরিফ উল্যাহ চৌধুরী
উপর্যুক্ত ৩ নং ও ৪ নং ক্রমিকে উল্লেখিত আমার এ ২ জন বোন, আমার জন্মের অনেক আগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। রোকেয়া আক্তার, তিনি মারা গিয়েছিলেন ধনুষ্টংকারে আক্রান্ত হয়ে তার ৮ বছর বয়সের সময়। এবং হাছিনা আক্তার, তিনি মারা গিয়েছিলেন রক্ত আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে তার ৯ বছর বয়সের সময়। যা আমার মা আমাকে বলেছেন।
আমি সর্ব শক্তিমান আল্লাহু তা'য়ালার নিকট আমার মরহুমা এ ২ বোনের জন্য জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চাসন কামনা করছি; যেহেতু তাঁরা ছোট বয়সেই মারা গিয়েছেন। এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চাসনে আমার বোনদের সাথে আমি যাতে, আমার ইন্তেকালের পর পরই দেখা করতে পারি, আমার মহান রবের নিকট আমি এ প্রার্থনা করছি।
যেহেতু আমার জন্মেরও অনেক আগে আমার এ দু'বোন মারা গিয়েছিলো, তাই উপরে আমি আমার বোন ২ জন বলে উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ শুধু যে ২ জন জীবীত আছেন, তাদের কথা বলেছি।
তার মানে মৃত এ ২ বোন সহ আমরা ৩ ভাই ও ৪ বোন। অর্থাৎ আমার মা-বাবা ৭ সন্তানের জনক ও জননী।
আমার বাবার নাম ছিদ্দিক আহাম্মদ। বাংলাদেশী এনআইডি কার্ড অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ছিলো ০১ জানুয়ারী ১৯২৭। তাঁর বাবার নাম, মানে আমার দাদার নাম মৃত আবদুর রহমান এবং তাঁর মায়ের নাম, মানে আমার দাদুর নাম মৃত আফজল বিয়া। তাঁর (আমার বাবার) এন আই ডি নাম্বার 3012943174557. তাঁর স্থায়ী ঠিকানাঃ ১২৩ গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার-৩৯০০, ফেনী সদর, ফেনী।
তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ভূক্ত ছিলেন এবং জন্ম সূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক ছিলেন।
আমার বাবার মৃত্যু তারিখঃ ০৬ নভেম্বর ২০১২
কাগজ-কলম অনুযায়ী মৃত্যুকালে আমার বাবার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর ১০ মাস ৫ দিন।
আমি আমার বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর জন্য জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চাসন কামনা করছি।
আমার মায়ের নাম হালিমা খাতুন। তাঁর মায়ের, মানে আমার নানুর নাম মৃত আছিয়া খাতুন। আমার মায়ের জন্ম তারিখঃ ০১ জুলাই ১৯৪৮. তাঁর এন আই ডি নম্বরঃ 3012943174560. এন আই ডি কার্ড অনুযায়ী আমার মায়ের বর্তমান বয়স ৭৬ বছর ৫ মাস ২৭ দিন। আল্লাহু তা'য়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আমার মা এখনো জীবীত আছেন (২০২৫ ইং)।
যে বাড়িতে আমার মায়ের জন্ম, আমার নানার সে বাড়িটি ছিলো বাংলাদেশের ফেনী জেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামে। কিন্তু পরে তারা এ ঠিকানাটি স্থায়ী ভাবে ছেড়ে দিয়ে, দাঁতমারা বাজার, চট্টগ্রাম (হেঁয়াকোঁ) এ পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী ভাবে বসতি স্থাপন করেন এবং বর্তমানেও সেখানেই আছেন। ফেনীর দৌলতপুরে এখন আর তাদের কিছুই অবশিষ্ট্য নেই। তারা এখন স্থায়ী ভাবে দাঁতমারা বাজার, এ পার্বত্য অঞ্চলেই থাকেন। অর্থাৎ আমার মরহুম নানার বর্তমানকার স্থায়ী ঠিকানা- দাঁতমারা বাজার, চট্টগ্রাম।
আমার মা ইয়াতিম ছিলেন। আমার মায়ের শিশু বয়সে, মানে একেবারেই কম বয়সে, মায়ের নানা, আমার নানার ইনকাম না থাকার দোহাই দিয়ে নাকি আমার নানুকে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে বাধ্য করে আমার নানুকে নিয়ে যান। এরপর আমার মাকে নিয়ে, আমার নানা পড়েন একেবারে মহা বিপদে। আমার নানা কাঠ মিস্ত্রী ছিলেন। তাই যেদিকে কাজে যেতেন, আমার মাকে কোলে করে বা সাথে করে নিয়ে যেতেন। কারণ বাড়িতে আমার মাকে দেখা-শুনা করার মতো, এ রকম কেউ ছিলো না। অবশেষে আমার মাকে, আমার নানা দত্তক দিতে বাধ্য হন এবং তখন তাঁকে দত্তক আনেন আমাদের সমাজের হাবিবুর রহমান মাস্টার বাড়িতে উনাদের মুরুব্বীরা। এ বাড়িতেই আমার মায়ের শিশুকাল অতিবাহিত হয়।
আমার মা সৈয়দ বংশীয় এবং জন্ম সূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক। আমার মায়ের কথা অনুযায়ী তাঁর নিজ নানা সৈয়দ বংশীয় ছিলো। তিনি হাফেজ ও আলেম ছিলেন। তিনি পালকি করে এদিক সেদিক যাওয়া আসা করতেন। তিনি কারো রান্না করা খাওয়ার খেতেন না। পালকিটি বহন করার জন্য ৪/৫ জন লোক নিয়োজিত ছিলো। তারাই খাওয়ার দাওয়ার রান্না করতেন এবং নানার সব ধরনের সেবা যত্ন নিতেন।
প্রতি রমজানে আমার মায়ের সেই নানা মসজিদে খতমে তারাবী পড়াতেন। তিনি নাকি একবার আমাদের সামাজিক মসজিদ, তিতার কান্দি আলী মুন্সী জামে মসজিদেও খতমে তারাবী পড়িয়েছেন।
আমার মা, আমার মায়ের সেই সৈয়দ নানার ভাগ্নি ঘরের মেয়ে। মানে তিনি, তাঁর এ নানার বোনের মেয়ের মেয়ে।
এ সব কিছু আমার মা থেকে শুনে অবিকল আমি লিখেছি এবং এ বিষয়ক অসংখ্য কন্টেন্ট আমি ফেসবুকে শেয়ার করেছি। যে কন্টেন্ট গুলো আমার ভাই-বোন সহ, পাড়া-প্রতিবেশীর প্রায় প্রত্যেক সচেতন মানুষ দেখেছে ও পড়েছে। আপনারা নিম্নের লিংকে ক্লিক করে অথবা লিংকটি কপি করে গুগলে পেস্ট করে ও সার্চিং করে এ সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট সমূহ পড়ার মাধ্যমে বিষয়টি আরো ভালো ভাবে জানতে পারবেন। লিংকটি নিম্নরূপ-
আমার মা-- যে সৈয়দ বংশীয়, এটা আমার ভাই-বোন, বাড়ির অন্যান্য লোকজন ও এলাকাবাসী এবং আমার সঙ্গে থাকা জ্বীন বা জ্বীন সম্প্রদায় কর্তৃক ভেরিফায়েডকৃত। কারণ এ বিষয়ে আমার মা যদি মিথ্যা বলতেন, তাহলে এক ভাবে না এক ভাবে তা প্রকাশিত হয়ে যেতো। যেহেতু এ বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে আমি অনেকগুলো কন্টেন্ট ফেসবুকে পাবলিস্ট করেছিলাম। যা আমার আত্মীয়-স্বজন সহ এলাকাবাসী পড়েছিলো। যা এখনো আপনারা এখানে ক্লিক করে ও এ বিষয়টি খুঁজে নিয়ে পড়ে নিতে পারেন।
অতএব, আমার মায়ের নানা যেহেতু সৈয়দ বংশের এবং সৈয়দ বংশ যেহেতু পিতৃকূল ও মাতৃকূল, উভয়দিক থেকেই হতে পারে; উভয় রিলেশনই যেহেতু অনুমোদন করে; সে বিবেচনায় আমার মা অবশ্যই সৈয়দ বংশীয় সদস্য। আর আমার মা যদি সৈয়দ বংশীয় সদস্য হন; সে সুবাধে আমিও সৈয়দ বংশীয় সদস্য।
মুসলিম ঘরে জন্ম গ্রহণ করলে যেমন ঈমান থাকা ছাড়া প্রকৃত মুসলিম হওয়া যায় না; তেমনি সৈয়দ বংশে জন্মগ্রহণ করেও সৈয়দ হওয়া যায় না। আল্লাহ কবূল করতে হয়।
তো আমি আমার মহান রবের প্রতি কায়মনোবাক্যে এই প্রার্থনা করবো যে, (সাঃ) ইয়া আল্লাহু তা'য়ালা! আমার ও আমার ছেলে-মেয়েদের নামের পূর্বে সৈয়দ সংযোজনের এবং আমার নামের শেষে চৌধুরী বাতিলের তাওফিক দাও। এবং আমাদেরকে তোমার রাসূলের ওয়ারিশ হিসেবে কবূল কর। ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর বংশধর হিসেবে, পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আমাদেরকে পবিত্র কর, হেফাজত কর ও সম্মানিত কর। আমীন। (সাঃ)।
এদিকে এন আই ডি কার্ডে আমার মা ও বাবার যে জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, তা আসলে সত্য নয়। কারণ বাংলাদেশ সরকার এন আই ডি কার্ড বানিয়েছে মাত্র কিছু বছর হলো। এ দেশের সরকার এন আই ডি কার্ড বানানো আরম্ভ করেছিলো আমার মায়ের জন্মের কমপক্ষে ৪৫ বছর পরে। ফলে এটি বানানোর সময় অনুমান করে একটি ডেট বসানো হয়েছিলো।
বাস্তবে আমার বাবা আনুমানিক প্রায় ৯৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং আমার মায়ের বর্তমান বয়স প্রায় ৯৬ বছরের মত হবে (২৪/১২/২০২৪ এর হিসাব অনুযায়ী; যা আমার বাবার ইন্তেকালের প্রায় ১২ বছর পরে হিসাবকৃত)।
আমার জেঠাতো ভায়েরা ২ জন। বড় জন বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষের অধীন সিভিল এভিয়েশনের যোগাযোগ সহকারী, ২য় শ্রেণির পদবীধারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পেনশন সহ অবসর প্রাপ্ত। তার নাম মহিউদ্দিন চৌধূরী। এবং অপরজন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত। তার নাম আবু জাফর মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন।
আমার জেঠার ৪ মেয়ে, সবাই বিবাহিতা এবং তারা যার যার বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত।
বাড়িতে জেঠাদের সাইড এবং আমরা ছাড়া, আর কেউ নেই।
১০ ফুট সরকারি পাকা রাস্তার সাথে আমাদের বাড়ি। সরকারি রাস্তা থেকে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করার আমাদের নিজস্ব ১০ ফুট প্রবেশ রাস্তা ও আমাদের উঠান; সবই পাকা করা। শহর থেকে গাড়ি নিয়ে একেবারে কোনরূপ কাদামাটি ব্যতিত সরাসরি ঘরের দরজায় হাজির হওয়া যায়। বাড়িতে ছাদ করা একতলা, দোতলা এবং সাইড ওয়াল করা ও উপরে টিন বিশিষ্ট ঘর রয়েছে (২০২৫ ইং)। বাড়িতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারন্যাট ব্রডব্যন্ডের লাইন রয়েছে। বেশ নিরিবিলি, পরিপাটি ও চিমচাম আমাদের বর্তমান বাড়ি।
আমার মায়ের মুখের ভাষ্য অনুযায়ী আমার দাদার বাড়ি ছিলো ধলিয়া ইউনিয়নের বাঘের হাট গ্রামে। তিনি মোটামুটি ধনী ছিলেন। সুতরাং তার বাড়িও ছিলো মোটামুটি বড় ও প্রতিষ্ঠিত গোচের। বাড়ির নাম ছিলো নাকি তোপাদ্দর বাড়ি।
রোগ না একসিডেন্ট বা কী কারণে যেন আমার দাদার মা-বাবা সহ সকলে মারা যায়। বেঁচে থাকে শুধু আমার দাদা, আর তার বড় এক বোন। তখন পাড়া-প্রতিবেশিগণ বোনটিকে নাকি মরুয়ার চর, আমাদের নিকটতম একটি গ্রামের কোথায় যেন, কোন এক পয়সাওয়ালা পরিবারে বিয়ে দিয়ে দেয়। আর আমার দাদা তখন ছিলো নাকি একেবারেই শিশু বয়সের। মানে এতিম। তখন আমার দাদাকে দত্তক আনে, আমাদের বর্তমান বাড়ির পাশের বাড়ি জুলফিকার সওদাগর বাড়ির পূর্বপূরুষগণ। আমার দাদার সেই পৈত্রিক বাড়ির কোন সম্পত্তি বা এর কোন পরিচয়ও আমার বাবা বা আমরা, কেউই পাইনি। আমার দাদা বড় হওয়ার পর, তাঁর কোন পৈত্রিক সম্পত্তি, তিনি বা তাঁর পক্ষে আমার বাবা, কেন আনতে পারেন নাই; এ বিষয়ে আমরা কিছু জানিনা।
প্রিয় পাঠক, চিন্তা করুন, আমার মা'ও এতিম, আমার দাদাও এতিম। উভয়কেই এ গ্রামে দত্তক আনা হয়। মানে এ গোবিন্দপুর গ্রামে আমাদের স্থায়ী কোন আদি নিবাস ছিলো না; এখানে আমাদের অতীত সূত্র ছিন্নমূল ছাড়া আর কিছু না। অর্থাৎ আমি প্রায় এতিম বংশের সন্তান। অর্থাৎ এখানে না ছিলো আমাদের এক ইঞ্চি সম্পত্তি এবং না ছিলো আমাদের কোন সম্মানজনক অবস্থান।
তো পালিত হিসেবে জুলফিকার আলী সওদাগর বাড়িতে আমার দাদার বয়স যখন ১১/১২ বছর হয়েছিলো; তখন আমার দাদা নাকি পালিয়ে বার্মা চলে যায় কাজের সন্ধানে। এখন যেমন মানুষ কাজের সন্ধানে ইউরোপ, মিডেলিস্ট ইত্যাদি স্থানে যায়; তখন বাংলাদেশের মানুষ বার্মা শহরে যেত।
দাদার যৌবনকালে দাদা বার্মা থেকে আবার এ গ্রামে ফিরে আসেন এবং জুলফিকার সওদাগর বাড়ির পাশে এবং নিকটেই ও এ গ্রামের মধ্যে হাজী নূরের জামান সওদাগর বাড়িতে অল্প কিছু জায়গা ক্রয় করে এখানেই কোন মতে একটি ঘর দিয়ে এখানেই বসত গড়েন ও বাস করতে থাকেন।
আমার দাদা তার পাশের বাড়ির, মানে জহিরুদ্দীন হাফেজের বাড়ীর, বর্তমানে যিনি, আমাদের সামাজিক মসজিদের পাঞ্জেগানা ঈমাম সাহেব, তাঁর বাবার বোন, মানে তাঁর ফুফুকে বিয়ে করেন। আমার এ পাঞ্জেগানা ঈমাম কাকার নাম মৌলভী আবু তাহের।
আমার দাদার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলো। অবশ্য ছোট মেয়েটি নাকি ৩ বছর বয়সে আমাশয় রোগে মারা যায়। আর আমার বাকি ফুফুকে বিয়ে দেয়া হয় পার্শ্ববর্তী কাতালিয়া গ্রামে।
আমার দাদার ডানপিঠে স্বভাবের ছোট সন্তান হিসেবে আমার বাবা বৃটিশ শাসনামলে বাড়ি থেকে পালিয়ে, অর্থাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে ভারতীয় আর্মিতে যোগদান করেন এবং আর্মীতে থেকে আর্মী মেডিকেল কোরের সদস্য হিসেবে 'মেডিকেল এসিসটেন্ট' কোর্সটি সফলতার সহিত উত্তীর্ণ হন। তখন এ কোর্সটি পরিচালিত হয়েছিলো সম্পূর্ণ ইংরেজ আর্মী ডাক্তারদের দ্বারা। মানে এ কোর্সটি পরিচালিত হয়েছিলো শুধুই ইংরেজী ভাষায়।
প্রিয় পাঠক, এখানে আপনাদেরকে একটা বিষয় ভাবতে অনুরোধ করবো, একটা বাঙ্গালী পরিবারের গ্রাম্য, অপ্রশিক্ষিত ও ভীরু অঞ্চলের প্রায় বালক মানুষ, সেই বৃটিশ শাসনামলে সুবিধা বঞ্চিত গেঁও স্বভাব ও গেঁও বাংলা জানে ওয়ালা মানুষ কেমন করে ইংরেজ কর্তৃক পরিচালিত সম্পূর্ণ ও শুধুই ইংরেজী ভাষায় মেডিকেল এসিসট্যান্ট এর মতো একটি কোর্স পাশ করতে পারে!? যে কোর্সটি বর্তমানে এস এস সি'র পর ৪ বছর মেয়াদে পরিচালিত হয় এবং এ কোর্সটি পাশ করে বর্তমানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মতো ২য় শ্রেণীর চাকুরী করে অনেকটা সম্মানী হয়েই জীবন-যাপন করছে এ দেশের মানুষেরা!
শুধু তাই নয়; কোর্সটি চলা কালীন আমার বাবার যে কেউ খোঁজ নিবেন, এ রকমওতো কেউ ছিলো না! তাঁকে কেউ আদর-যত্ন করা গিয়ে দূরে থাক! যাক, আমার বাবা হয়তো আল্লাহর বিশেষ কোন রহমতেই হয়তো এটি পেরেছিলেন!
এ কোর্সটি পাশের পর আমার বাবা, বৃটিশ আর্মি পরিচালিত হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং সেখানে নিজেই চিকিৎসা সেবা দিতেন। বড় ডাক্তারগণ হয়তো কোনদিন আসতোও না। বাবার মুখে শুনেছি; আসলেও তারা প্রয়োজনে আসতেন, কার্য সমাধার পর আবার চলে যেতেন। হাসপাতালের আভ্যন্তরিন যত পরিচালনা ও কর্ম আমার বাবাই সমাধা দিতেন এবং যা আমার বাবার নের্তৃত্বেই চলতো।
একটু চিন্তা করুন; বর্তমানকার আধুনিক সময়কার বাংলাদেশের; যখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইংরেজী ভাষার দু'চারটি শব্দ মানুষ এমনিতেই জানে; এখনো আমাদের গ্রাম গুলোর ১৩/১৪ বছর বয়সের ছেলেগুলোকে যদি বলা হয়; ফুল ইংরেজীতে, ইংলিশ মিডিয়ামে এ রকম একটি কোর্সে ভর্তি হয়ে পাশ করতে; তাহলে কয়জন পারবে বলেন!? তার উপর আমার বাবাকে যে মানসিক সাপোর্ট দিবে, তাঁর পাশে, তাঁর পরিবার থেকে, বা কেউ'ই এ রকম ছিলো না। এমনকি অভিভাবক হিসেবে বা আপনজন হিসেবে যোগাযোগ করার মতো বা পরিচয় দেয়ার মতোও কেউ ছিলো না। এছাড়া তখন চলছিলো জাপান ও বৃটিশের যুদ্ধ। এছাড়াও এর কিছু দিনের মধ্যেই আরম্ভ হয়েছিলো হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মারামারি আর কাটাকাটি, মানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। অন্যদিকে তখনকার সমাজে এমনিতেই সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার মতো এতো দূঃসাহস তখনকার মানুষদের ছিলো না। তার উপর আরো বাড়টি ঝামেলা ছিলো; আমার দেশের মুসলমান গণ অনেকেই তখন ইংরেজী শিক্ষা হারাম বলে জানতেন। তারউপর বাবার ছিলো না কোন পূর্ব প্রস্তুতি বা ট্রেনিং। সব মিলিয়ে আমার বাবা শত বছরেরও অধিক আগে যে কাজটি করে আমাদের পরিবার ও বংশকে একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন; আজ বাংলার ছেলেরা কয়জনে পারবে, এ রকম একটি কাজ করতে!? আমার মনে হয়, আমার বাবার মতো এতো দূঃসাহসিক ও মেধাবী বালক অন্তত বাংলাদেশের গ্রাম গুলোতে এমনকি এ দেশের শহরেও আপনারা এখন পর্যন্তও খুব একটা খুঁজে পাবেন না।
আমার বাবার এ তীক্ষ্ণ মেধা শক্তি, সাধনা ও অধ্যবসায়কে আমি কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণ করছি! এবং আমি তাঁর এ কাজের ভূয়োশী প্রশংসা করছি!
তেমনি ভাবে আমার জেঠাকেও। আমার জেঠার লেখাপড়ায় সর্বোত ভাবে নাকি সহযোগিতা করেছিলেন জুলফিকার আলী সওদাগর বাড়ির পূরুষগণ।
আমার জেঠা মাদরাসায় লেখাপড়া করেছিলেন এবং আলেম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। গায়ে শক্তি থাকা পর্যন্ত তিনি মসজিদের ঈমামতি, মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে কাটিয়েছিলেন।
তিনি দানে বিয়ে করেছিলেন। মানে ফাতেমা (রাঃ) এঁর মতো গৃহস্থালিতে প্রয়োজন, এমন সব কিছু তাঁর শশুর, খুশি মনে ও নিজ থেকে, আমার জেঠার বিনা চাহিদায়, তাকে দিয়ে ছিলেন। আমার মরহুম জেঠা তার যৌবনের শুরুতে মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন; এবং পরে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে পেনশন সহ সম্মানের সহিত রিটার্ড করেন ও এরপর তিনি সু-দীর্ঘ সময় আমাদের গ্রামের মসজিদের ঈমাম ও খতীবের দায়ীত্ব পালন করেন। আমি নিজে দেখেছি আমার মরহুম জেঠা ও বাবা ইন্তেকালের আগের মাস পর্যন্ত সরকারী পেনশন পেয়েছিলেন।
তার মানে আমার জেঠা মানুষের নিকট মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ও ভালোমানুষ ছিলেন। আমি আমার জেঠার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ও তাঁর জন্য মহান রবের নিকট জান্নাতুল ফিরদাউস বেহেশতের উচ্চাসন কামনা করছি।
চাকুরী করা কালীন, আমার বাবা বেশ কিছু জমি ক্রয় করেন এবং তখন থেকে আমার বাবা ও জেঠা সমাজে মোটামুটি সম্মানজনক স্থানে পৌঁছান।
বাবা, দাদা কর্তৃক নির্মিত ঐ হাজী নূরের জামান ভূঞাঁ সওদাগর বাড়িতে, সামান্য ছোট খুপরী ঘরে বিয়ে করতে কিছুতেই রাজী ছিলেন না। তাই তিনি এর সামান্য একটু দূরে নতুন বাড়ি করলেন। যা আমাদের বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা। এর পর তিনি বিয়ে করলেন এবং সংসার আরম্ভ করলেন। চাকুরীর সুবাধে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের (ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান; যেহেতু তখন এ ৩টি দেশ একসাথে ছিলো) বিভিন্ন প্রদেশ ও জেলায় দায়িত্ব পালন করেন ও বিভিন্ন ভাষা-বাসি মানুষের সাথে মিলেমিশে জীবন-যাপনের সুযোগ হয়েছিলো তাঁর। তিনি এতো বেশি ইংরেজী জানতেন যে, যা বর্তমানে ইংরেজীতে মাস্টার্স বলেন কি ডক্টরেট বলেন, বাংলাদেশে থেকে এ ধরনের শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করে ইংরেজি জানা কখনোই সম্ভব নয় বলেই আমার মনে হয়। ইংরেজী ছাড়াও তিনি বেশ ভালো হিন্দি ও উর্দ্দু জানতেন। চাকুরীর শেষের দিকে আমার বাবা খুব চেষ্টা করেছিলেন, শহরের দিকে একটা বাড়ি কিনে, শহুরে হয়ে যেতে। একটা বাড়ির দরদাম ঠিকও করেছিলেন; কিন্তু গোবিন্দপুর গ্রামের, তার এ নতুন বাড়িটি (তার অংশ) বিক্রি করতে না পারায় এবং অর্থ সংকটের কারণে তিনি তা করতে পারেননি।
আমার বাবা আজ নেই। কিন্তু বাবার এই দূর্দান্ত সাহসী ও চেলেঞ্জিং জীবন-যাপনকে আমি আবারো সাধুবাদ জানাই।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে তিনি পেনশন সহ অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণ করার পর বেশ কিছু কাল তিনি গ্রাম্য ডাক্তার হিসেবে গ্রামের মানুষদেরকে পল্লি চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়ে গিয়েছিলেন।
আমার বাবা বেস আধুনিক ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। তবে শেষ বয়সে তিনি আমাদের সংসারের হাল টানতে গিয়ে চরম অর্থ সংকটে পড়ে গিয়ে ছিলেন। যেহেতু চাকুরী অনেক আগেই ছেড়ে দিয়ে ছিলেন।
বর্তমানে আমাদের বাড়িতে ও আমাদের বংশে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা, ব্যাংকার, পৌর কর্মকর্তা, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদস্য, হাইস্কুল শিক্ষক, প্রাইমারি শিক্ষক, ইউপি সচিব রয়েছে; এবং বাড়িটি প্রায় শতভাগ শিক্ষিত বাড়ি।
আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমার বর্ণনা অনুযায়ী যে বংশের শুরুটি ছিলো ছিন্নমূল এবং অসম্মানিত; কিন্তু আজ এ বাড়িটির মতো এমন শিক্ষিত বাড়ি গ্রামের মধ্যে আর ২/৪টা এখনো দেখতে পাওয়া যায় না!
আর এর সবই সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র জ্ঞান ও শিক্ষার কারণে। অর্থাৎ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল ভিত্তিই হচ্ছে, শুধু শিক্ষা। এ থেকে এ শিক্ষা নেয়া যায় যে, জ্ঞান ও বিদ্যা এমন একটি রত্ন, যা একজন মৃত প্রায় মানুষকেও জীবীত করে সম্মানিত করতে পারে!
তবে প্রিয় পাঠক! আমার বাবার যে স্বপ্ন ছিলো, শহরে বাড়ি করার। তাঁর সে স্বপ্ন তিনি পূরণ করতে পারেননি। আজ আমারও স্বপ্ন, যেহেতু আমার সঙ্গে জ্বীন রয়েছে, তাই তাদের সহায়তায় এ বাড়ির সদস্য হিসেবে, 'মায়ের স্মৃতি' নামে এক অত্যাধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নান্দনিক ও অনন্য এক বাড়ি করে; জ্বীন ও জ্বীন জাতির বৈশিষ্ট্য, সক্ষমতা ও কৃতিত্ত্ব বিশ্বের মাঝে তুলে ধরবো। যদি পরী ওপেন হয় এবং সে যদি রাজি থাকে, তবে আমার এ মনবাঞ্চনাটি বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় পাঠক, আপনাদের দোয়া, আন্তরিকতা ও আল্লাহর রহমত পেলে হয়তো ইনশা'আল্লাহ্ আমি এ বিশ্বের মানচিত্রে আমার ও জ্বীনজাতির পরিচয় প্রদর্শন করে আশা করি আপনাদেরকে খুশি, সন্তুষ্ট, আনন্দিত ও আর্চার্যাম্বিত করতে পারবো।
দেখুন, আমি এখানে আমাদের অহংকার করছি না! আমার ও আমাদের পরিচয় তুলে ধরছি!
প্রিয় বন্ধু! আরো একটু ইঙ্গিত দিতে চাচ্ছি; ইতিপূর্বে আমি আপনাদেরকে বলেছিলাম। আমার মা একজন সৈয়দ বংশের সদস্য। সে সুবাধে আমিও সৈয়দ বংশীয় সদস্য। আমার বিভিন্ন উপস্বর্গ প্রকাশের মাধ্যমে আমি অনেক আগেই একে সত্য মনে করেছি এবং যা আমি আমার টেক্সট কন্টেন্ট ও ভিডিও কন্টেন্ট এর মাধ্যমে ইতিপূর্বে প্রকাশও করেছিলাম।
পবিত্র কোরআনের সূরা শূরা'র ২৩ নম্বর আয়াতে (৪২:২৩) আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি ভালোবাসার বিনিময়ে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই আয়াতটি আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরে।
আপনারা নিম্নের লিংকে ক্লিক করে অথবা লিংকটিকে কপি করে গুগলে পেস্ট করার পর সার্চ করলে এবং ভিডিটি দেখলে বিষয়টি আরো ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন। লিংকটি নিম্নরূপ-
https://www.youtube.com/watch?v=QhRq2S6auzA
সে সাথে এ পর্যন্ত আমিও কয়েক সময়'ই বলেছি যে, আমার সাথের এ জ্বীন বা অনেকগুলো জ্বীন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সাহাবী জ্বীন। যাক আপনারা আমার জ্বীনের বিষয়ে মোটামুটি বুঝতে পেরেছেন যে, আমার সাথে জ্বীন রয়েছে। আবার আমার বিষয়েও এখনো আমার নাম এফিডেভিট করে সৈয়দ নামটিও আমি সংযোজন করতে পারিনি।
হ্যাঁ যদি সত্যিই মহান আল্লাহু তা'য়ালা আমাকে সৈয়দ বংশের সদস্য হিসেবে কবুল করে এবং আমার জ্বীন যদি সত্যিই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সাহাবী (রাঃ) জ্বীন হয়; তাহলে আজ আপনাদের নিকট আমি চরম অবহেলিত হলেও; তবে ইনশা'আল্লাহ ইহা ১০০% সত্য হবে যে; আমার পজিশন আল্লাহু তা'য়ালা হয়তো এমন এক উন্নত স্থানে নিয়ে যাবে, যা আপনারা হয়তো ভাবতেও পারেন না! এবং আমার এ উন্নত পজিশনের বিষয়ে কল্পণা করার ক্ষমতাও হয়তো কোন মানুষের নেই!
প্রিয় সুধী, ধৈর্য ধরে তাই পড়া চালিয়ে গেলে আমার ও আমার এ জ্বীন জাতের বিষয়ে, অর্থাৎ আমার এ বাস্তব জীবন গল্পের বিষয়ে আরো অনেক কিছুই জানতে পারবেন হয়তো।
যদিও আমার বাবা আমার ও আমার ভাইদের নামের শেষে চৌধুরী, এ বংশীয় পরিচয়টি প্রদান করেন; আমি কিন্তু বাবার দেয়া এ বংশীয় পরিচয়ে থাকতে না চেয়ে, আমার মায়ের বংশ, সৈয়দ হিসেবেই আমার নিজের এবং আমার সন্তানদের পরিচয় প্রদান করি এবং খুব সহসাই আমি আমার মা, আমার এবং আমার সন্তানদের নামের এফিডেভিট করিয়ে চৌধূরী বাদ দেবো ও আমাদের সকলের নামের শুরুতে সৈয়দ সংযোজন করবো ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা। আমার পকেটে টাকা আসলে, প্রথমেই আমি এ কাজটি বাস্তবায়ন করবো ইনশা'আল্লাহ্।
অর্থাৎ আমরা চৌধুরী বংশের সদস্য নই; আমরা সৈয়দ বংশের সদস্য। তার মানে আমার এবং আমার সকল ওয়ারিশের বংশ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বংশ। এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের মাতৃকূল ও পিতৃকূলের দিক থেকে সকলেরই বংশ হবে শুধুমাত্র সৈয়দ বংশ। যার সূচনা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) থেকে এবং এর প্রারম্ভিকতা হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত ফাতেমা (রাঃ) থেকে।
অতএব আমরা ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর ওয়ারিশ।
কিভাবে এবং কোন সূত্রে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর ওয়ারিশ বা সৈয়দ বংশীয় তা বিস্তারিত ভাবে জানতে, আপনারা-
আমার শৈশবঃ
(০-১২ বছর, ১৯৭৬-১৯৮৭ ইং, জন্ম থেকে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর শেষ করা পর্যন্ত):
এন আই ডি কার্ডে আমার যে জন্ম তারিখ লিখা আছে (০১/০৬/১৯৭৭ ইং) তা আসলে সত্য নয়। কথাটি বলেছিলেন আমার বড় ভাই। তার মতে এন আই ডি কার্ডে আমার বয়স কমপক্ষে ১ বছর কমানো হয়েছে। চাকুরী পাওয়ার সুযোগ যাতে এক বছর বেশি থাকে, তাই স্কুল থেকে হয়তো এরুপ করা হয়েছে বলে আমার ধারনা। কারণ তখনো বাংলাদেশে শিশু জন্মসনদ এন্ট্রি বা এন আই ডি কার্ডের কোন নিয়ম ছিলো না। জন্ম তারিখের এন্ট্রি, ছাত্ররা যখন এস এস সি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতো, সর্বপ্রথম তখনই একজন ছাত্র তার জন্ম তারিখটি তখন প্রদান করতে হতো। এস এস সি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের আগে বাংলাদেশের কোন পর্যায়ে জন্ম তারিখের প্রয়োজন পড়তো না তখন। আর যারা লেখাপড়া করতো না, তাদের কোথাও জন্ম তারিখ এন্ট্রি করার নিয়ম ছিলো না।
বাংলাদেশে আনুমানিক ১৯৯৫ ইং সনে সর্ব প্রথম সরকার কর্তৃক এ দেশের নাগরিকদেরকে জন্মসনদ প্রদানের প্রক্রিয়া আরম্ভ করা হয়েছিলো। আর আমি এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছিলাম ১৯৯৩ ইং সনে।
এখনো স্পষ্ট মনে পড়ছে (৩০/১২/২০২৪), আমার বাবা, আমার মেঝ ভাই সহ আমাকে আমার প্রায় ৫ বছর কি ৬ বছরের সময় ১৯৮৩ সনের দিকে গোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন।
আমার এখনো খুব সুন্দর করে মনে আছে, যখন ভর্তি হওয়ার জন্য স্কুলে যাচ্ছিলাম, তখন আমার মেঝ ভাইকে কৌতুহল ও ভয় মিশ্রিত ভাবে বলছিলাম, ভাইয়া! স্কুলে আমাকে ওরা কী করবে!? সাথে অবশ্য আরো কে একজন যেন ছিলো! তখন তারা আমাকে নিয়ে একটু মজা করলো!
আজ খুব মন চায়, আমার ভালো ভালো স্মৃতি সমূহ যদি ভিড়িও আকারে বেহেশতে গিয়ে দেখতে পারতাম!?
ইনশা'আল্লাহ রবের অশেষ রহমতে হয়তো পারবোও!
ছোটবেলাতে ফিরে যাওয়াতো আর সম্ভব না তাই!
এরপর ১৯৮৯ ইং এর দিকে সফল ভাবে ৫ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা স্তর শেষ করি, মানে ৫ম শ্রেণী পাশ করি।
অবশ্য ৫ম শ্রেণীতে থাকা কালীন, আমার বাবার সাথে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে সঠিক বোঝাপড়ার অভাবে আমাকে উনি ১ বছর পড়াননি, মানে স্কুলে যেতে দেননি।
আমার কৈশোরঃ
(১৩-১৭ বছর, ১৯৮৮-১৯৯২ ইং, প্রাথমিক শিক্ষা স্তর সমাপনীর পর থেকে এস এস সি, মানে মধ্যমিক সমাপনী পর্যন্ত):
৫ম শ্রেণী পাশ করার পর যথারীতী ভর্তি হই নিজ গ্রামস্থ গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে, যা গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত।
এখান থেকে বিজ্ঞান গ্রুপে ১৯৯৩ ইং সনের পরীক্ষায় ২য় বিভাগে এস এস সি পাশ করি। যে পরীক্ষাটি বছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এ পরীক্ষায় অল্প কয়েক নাম্বারের জন্য আমি ১ম বিভাগ পাইনি।
পাইতাম, কিন্তু টাকার অভাবে সঠিক সময়ে কোন গাইড বই বা নোট বই কিনতে পারিনি! প্রাইমারি বা হাইস্কুলের কোন ক্লাসেই কোন প্রাইভেট পড়তে বা কোন কোসিং ক্লাস করতে পারিনি। বাবার কাছে এতো টাকা ছিলো না যে, আমাকে অন্তত একমাস প্রাইভেট পড়াবে! আমার কোন গৃহ শিক্ষক ছিলো না। আবার নিজেও বেশি চালাক হয়ে যাওয়াতে পাঠ্যবই বাদ দিয়ে গান শোনা, টিভি দেখা, উপন্যাস পড়া ইত্যাদিতে সময় ব্যয় করেছি বেশি।
মনে পড়ে, সেই শিশু কালেই আমার বড় ভায়ের বউ এর দিকের এক আত্মীয়কে বলেছিলাম, আমাকে মাদ্রাসায় পড়ালে ভালো হতো!
খুব মনেপড়ে ছোটবেলায় বাবা আমাকে পবিত্র কুরআন শরীফ হিফজ করানোর কথা বলেছিলো।
কিন্তু কেন যে বাবা পড়ায়নি, তা আমি জানি না!
হায় আফসোচ! যদি তিনি আমাকে হেফজ মাদরাসায় পড়াতেন; আর যদি আমি হাফেজ হতাম, আর আলেম হতাম, তাহলে তা আমার জন্য হয়তো কতইনা ভালো হতো!
অথচ তার বিপরীতে অষ্টম শ্রেণী পাশ করার পর বাবা আমাকে আর লেখা-পড়াই করাতে চাননি।
তিনি চেয়েছিলেন, আমাকে টেইলারিং কাজ শিখিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু আমি এতে রাজি হইনি। বরং এতে বাবাকে দোষারোপ করেছিলাম।
অর্থনৈতিক টানাপোড়নে পড়ে, অথবা অর্থ এবং শিক্ষা ও আমার ডানপিঠে আচরণ এ তিনের সাংঘর্ষিক তিক্ত পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিফলের অভিজ্ঞতা থেকে হয়তো তিনি এ রকমটি চেয়েছিলেন।
এ সময়ে, অর্থাৎ ৮ম শ্রেণীতে থাকা কালীন একবার লেখা-পড়া ছেড়ে দিয়ে, বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম পালিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে উপায় বুদ্ধি খুঁজে না পেয়ে, আবার নিজে নিজেই ফিরে আসি।
আমার যৌবনকালঃ
(১৮ বছরের পর থেকে বা ১৯৯৩ ইং থেকে বা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারি এ ভর্তি হওয়ার পর থেকে চলমান সময় এবং ইনশা'আল্লাহ যা আমার পৌঢ় হওয়ার আগ পর্যন্ত চলবে)
মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর, মানে এস এস সি পাশের পর ১৯৯৩ ইং সনে ভর্তি হই ফেনী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে। এখানে বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ইলেকট্রিক্যাল টেকনলোজিতে ৩ বছর মেয়াদী (বর্তমানে ৪ বছর) ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স কমপ্লিট করি। এবং ১৯৯৭ ইং সনে বাংলাদেশ টেকনিক্যাল টিসার্চ ট্রেনিং কলেজ, তেজগাঁও ঢাকা- এ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ৬ষ্ঠ পর্ব সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে (যেহেতু রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণে তখন ফেনী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বন্ধ ছিলো) ২য় বিভাগে পাশ করি।
এ সময়ে আমি পাঠ্যবই অধ্যয়নের চাইতে উপন্যাস ও ধর্মীয় বই পড়া; এবং টিভি ড্রামা ও বাংলা সিনেমা দেখায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। একটি উপন্যাস লিখেছিলামও; যার নাম দিয়েছিলাম হৃদয়; কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারিনি।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ৩য় বর্ষ থেকে আমার এ ডানপিঠে কার্যক্রম গুলো, যেমন সিনেমা দেখা, রেডিও শোনো, টেপ রেকর্ডারে বিভিন্ন গান বাজানো ইত্যাদি বন্ধ করতে নিজ মনের সাথে নিজেই যুদ্ধ শুরু করি। এবং এক সময়, মানে ডিপ্লোমা পাশের ১/২ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৯৮ কি ১৯৯৯ থেকে, এতে সফলও হই। মানে এসব গান শোনা বা সিনেমা দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিই। অবশ্য মনে পড়ে নামাজ আমি সেই ৮ম শ্রেণি থেকেই নিয়মিত পড়তাম এবং যতদূর মনে পড়ে রোজায় নিয়মিত হই ১০ম বা একাদশ শ্রেণি থেকে।
অন্যদিকে মনের দিক থেকে আমি সব সময়ই ছিলাম একেবারে উদার ও সরল প্রকৃতির। কখনোই কোন নারীর পাল্লায় পড়ে নিজের চরিত্র বিনষ্ট হয়নি আমার। বরং আলহামদুলিল্লাহ! অনেকগুলো মেয়ের এবং তাদের গার্ডিয়ানদের আবেদন আমি প্রত্যাখান করতে সমর্থ হয়েছিলাম। যা সচরাচর অনেকগুলো পূরুষের দ্বারা হয়তো সম্ভব হতো না। তবে এখন মনে হয়, এতো ভদ্রতা দেখিয়ে মনে হয়, আমি খুব একটা লাভ করতে পারিনি। কারণ, এখন আমি সৌদি আরবের মক্কায় বা মদীনায় যেতে যে কোন ওয়ে গ্রহণ করতে আমি রাজী। অথচ তখন যদি আমার বুঝ ব্যবস্থা এখনকার মতো হতো; তাহলে তখন মক্কা বা মদীনায় যেতে হয়তো আমি পারতাম! এবং হয়তো বর্তমানে আমি হতাম মক্কা বা মদীনার বাসিন্দা। যা আজ আমি পরী ব্যতীত, পাগল হলেও হয়তো পারবো না। অথচ আজ আমি যদি পাগল হয়েও যদি যেতে পারতাম; তাহলেও চলে যেতাম। আর তাই আমার জ্বীন বা পরীকে ওপেন করা প্রয়োজন!
যাক সর্বশেষ আমি নারায়নগঞ্জ যখন হাইস্কুলে শিক্ষকতা করি ও লজিং থাকি; সেখানে যে ছাত্রীটি ছিলো; তার প্রেক্ষিতে আমার সাথে থাকা এ পরীর যোগসূত্রের সাথে; আমার বিরুদ্ধে তাদের কোন কূফরী কালাম বা ব্ল্যাক ম্যাজিক ছিলো কিনা আমি জানি না! তবে আমাকে আপন করতে আমার সেই ছাত্রী বা তার পরিবার খুব করে চেয়েছিলো!
অন্যদিকে আমার শরীরে থাকা এ পরী বা জ্বীন; ইহা আমার কোপালের লিখন; মানে জন্মগত কিনা, তাও জানি না!
তবে আমাকে পেতে যে সব নারী ইচ্ছা পোষণ করেছিলো বা চেষ্টা করেছিলো; আজ আমি তাদের সবাইকে ভালোবাসি। এবং তাদের জন্য আমার যথেষ্ট দয়া হয়। মহান রবের নিকট দোয়া করি তাদের সবাই দুনিয়া ও আখিরাতে ভালো থাকুক!
এ দিকে ডিপ্লোমা পাশের পর কিছু কাল সরকারী চাকরি খুঁজি এবং এরই মধ্যে ভর্তি হই, সম্ভবত ৩ মাস মেয়াদি ছিলো, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরী সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), তেজগাঁও, ঢাকা- এ প্রতিষ্ঠানে শিল্প কারখানা রিলেটেড ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড কোর্স অধ্যয়নের জন্য।
কোর্সটি কমপ্লিট করার আগেই কে যেন আমাকে নিয়ে গেলো কলাগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর, নারায়নগঞ্জ-এ উচ্চ বিদ্যালয়ের জেনারেল ইলেকট্রিশিয়ান ট্রেডে, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে।
পরীক্ষায় আমি প্রায় ৪০/৫০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করলাম এবং ৮ ফেব্রুয়ারী ২০০০, এ তারিখে উক্ত পদে কারিগরী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। আমার ইনডেক্স নাম্বার ছিলো ৮০২২১৮।
আমার যোগ্যতা, দক্ষতা, উদারতা, সরলতা, বড়দেরকে সম্মান, ধার্মীকতা ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্নেহ-ভালবাসার মধ্য দিয়ে যথেষ্ট সুনামের সহিত শিক্ষকতা করে যাচ্ছিলাম। ছাত্র ও এলাকাবাসী আমার উপর যথেষ্ট সন্তুষ্ট ছিলো। আমার উপর তারা এতোই খুশি ছিলো যে, যা কোনদিন ভাষায় প্রকাশ করা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না হয়তো। এতে শিক্ষকেরাও আমাকে সম্মান করতে ও আমাকে ভালোবাসতে বাধ্য হতে হচ্ছিলো।
কাছেই একটা লজিংয়ে উঠেছিলাম। কারণ প্রাথমিক ভাবে স্কুল থেকে আমি তেমন কোন বেতন পেতাম না। স্কুল থেকে সামান্য যা পেতাম তা দিয়ে আমার ঘর ভাড়া ও খাওয়া-দাওয়া সম্ভব হয়ে উঠতো না। তাই বাধ্য হয়েই লজিংয়ে থাকতে লাগলাম।
ছাত্র-ছাত্রীরা দলে দলে আসতে লাগলো আমার কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য। কিন্তু গৃহকর্তা এতে রাজী না থাকায় প্রাইভেট পড়ানো অব্যাহত করতে পারলাম না।
সরকারী নিবন্ধন না হওয়ায় ঘর ভাড়া করার সাহসও পাচ্ছিলাম না। তারপরও ঘরভাড়া নেয়ার জন্য অনেক খুঁজেছি। কিন্তু বেচেলর হিসেবে কোন ঘরভাড়া দিতে ঐ এলাকাবাসী রাজী ছিলো না।
লজিং বাড়িতে আমাকে থাকতে দেয়া ছোট্ট খুপড়ি ঘরটি, যা লজিং কর্তাদের ঘরের সামনেই তাদের বাড়ির সম্মুখে, তাদের মেইন ঘর থেকে আলাদা করে নির্মিত ছিলো।
এদিকে শিক্ষক হিসেবে সরকারি নিবন্ধন পেতে ৬ মাসেরও কিছু বেশি সময় লাগলো বলে মনে হয়।
এরপর এ বছরই, মানে এ ২০০০ সনের সেপ্টেম্বরের দিকেই আমার এমন এক জ্বর হলো, যা আমি হয়তো আমৃত্যু মনে রাখতে পারবো।
স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে দেখার জন্য অনেক ফল-ফ্রুট নিয়ে আমার সেই ছোট্ট রুমটিতে হাজির হয়ে ছিলো, যা আজো যেন আমার চোখের উপর ভাসতেছে।
মূলত এরপর থেকেই আমার জীবনের মোড় পরিবর্তন হতে শুরু করলো।
নিকটে ছিলো একটি নূরানী মাদরাসা। অল্পদিনের মধ্যেই ঐ মাদরাসার হুজুরদের সাথে আমার ভালো একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠলো। বিশেষ করে মাওলানা আবদুল আজীজ (দা.বা.)। উনার কাছে শুরু করলাম পবিত্র কুরআন শরীফ কিভাবে শুদ্ধ করে পড়া যায়, সে শিক্ষা। উনিও আগ্রহ ভরে পড়ালেন। প্রতিদিন পড়তাম। প্রায় ৩/৪ মাস পড়েছিলাম। জানি না, উনি আজ কোথায় আছেন! কেমন আছেন! শুধু আমার রবের নিকট উনার জন্য এ প্রার্থনা করছি যে, "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইয়া আল্লাহু তা'য়ালা আমার এ শিক্ষকের জন্য তুমি সুস্থতা ও ঈমানের সহিত দুনিয়াতেও শান্তি ও দীর্ঘ নেক হায়াত রাখিও এবং তাঁর ইন্তেকালের পরে তাঁকে জান্নাতের উচ্চ আসন দান করিও। এবং জান্নাতে আমাকে তাঁর সাথী করিও। আর আমাকে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এঁর উসিলায় হলেও তোমার একজন ওলির মর্যাদা, মানে তোমার একজন প্রকৃত বন্ধু হওয়ার তাওফিক দান করো।
আমাকে তোমার রহমতে ও বিশেষ ব্যবস্থায় সৌদি আরবের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে মক্কার মসজিদ, মসজিদে হারাম শরীফে নিয়ে যাবে। তোমার নিকট এ ফরিয়াদ আমার। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
এদিকে হাইস্কুলে শিক্ষকতা করা কালীন, এ স্কুলের স্যারদের অনেকে আমাকে আর ভালো চোখে দেখছিলো না। দু'এক দিন দু'এক জনে বলেই ফেলে ছিলো, নূরানী হুজুরদের সাথে কেন এতো সখ্যতা আমার? তারা সামাজিক ভাবে কি আমাদের সমান!?
তাদের কথা হলো, আমরা হাইস্কুল স্যার! আর এঁরা মাত্র নূরানী হুজুর!?
প্রত্যেকের একটা শ্রেণী ভেদ আছে! সোসাইটি আছে!
আমি নূরানী হুজুরদের সাথে মিশে, হাইস্কুল টিচারদের মান-ইজ্জত খর্ব করছি কিনা, এ নিয়ে আমার টিচার মহাশয়দের মধ্যে ছিলো অনেকটা ভয়! তাই তাদের অনেকে আমাকে এডিয়ে চলতো! আমি অনেকটা বুঝতে পারতাম না, কেন স্যারেরা আমাকে এভাবে এডিয়ে চলছে এখন। যেই স্যারেরা আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো, সেই স্যারেরা আমার সাথে চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছে কেন!?
লজিং বাড়িতে ছাত্র-ছাত্রি হিসেবে ছিলো অষ্টম শ্রেণীর একটা মেয়ে, ৪র্থ শ্রেণীর তার একটা ছোট বোন এবং ক্লাস ওয়ানের একটা ছোট ভাই।
৮ম শ্রেণীর এ মেয়েটার কিছু কথা আমার দিলে যেন গেঁথে আছে আজো; হয়তো অনন্তকাল থাকবে। একদিন ও বলে, "স্যার আপনার সাথে কি আমার জোড়া!? আপনার সাথে আমার জোড়া হলেতো আমার কোপাল আসমানে লাগতো!"
আরেকদিন ও বলে, "আপনাদের বাড়ি নিবেন আমায়!? আমাকে এ নরকপুরী থেকে উদ্ধার করেন"
হয়তো আমাকে আপন করতে ওর মা-বাবা, দাদা-দাদু উস্কে দিয়েছিলো তাকে আমার বিরুদ্ধে। আরেকদিন সে বলে কি, "আমি যদি কোন কিছু চেয়ে না পাই, তাহলে আমি তাকে জনমের মতো শিক্ষা দিই, আর পঙ্গু করে ছাড়ি!"
আমি এ সব ব্ল্যাক মেজিক তখন বুঝতামও না; বিজ্ঞান মনষ্কা ছিলাম ও এ ধরনের কিছুকে পাত্তা দিতাম না।
তবে ঐ স্কুল ছেড়ে দিয়ে বাড়ি আসারও প্রায় ৩ বছর যাবৎ কেউ যদি তার চোখের দিকে আঙুল নিতো, তখন আমি যেন কেমন অস্বাভাবিক ব্যবহার করতাম, মানসিক রোগীর মতো চরম যন্ত্রণায় ভূগতাম।
সে চোখে আঙুল দিয়ে প্রেম নিবেদন করতে গিয়ে আমায় এমন ভয় পাইয়ে দিয়ে ছিলো যে, এ জন্যে আমার এ অবস্থা হয়েছিলো।
আসলে প্রেম নিবেদন করা, এটা কোন অপরাধ নয়। তবে প্রেম নিবেদন করতে গিয়ে, প্রেমিককে পাওয়ার জন্য বা প্রেমিককে না পেয়ে, প্রতিশোধ নিতে তার উপর ব্ল্যাক ম্যাজিক করা, এগুলো হচ্ছে পাপ।
আমি জানিনা, আমার উপর কোন ব্ল্যাক ম্যাজিক করেছিলো কিনা কেউ। হয়তো করতেও পারে!
কারণ এরই কিছু দিনের মধ্যে আমি দুনিয়া বিমুখ হতে শুরু করি! আমার রব আল্লাহু তা'য়ালার প্রেম আমাকে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে, আমি যেন আমার রবের জন্য দিওয়ানাই হয়ে যেতে থাকলাম।
দিন যত যেতে থাকলো, তত আমি অনুভব করতে থাকলাম, আমার সাথে আমার রবের কোন এক দূত রয়েছে।
একদিন চট্টগ্রামে অবস্থিত, হাটহাজারী মাদরাসায় চিঠি পাঠালাম, চিঠিতে লিখলাম, ছেলে-মেয়ে একসাথে পড়াই, এতে ইসলামের পর্দার বিধান পালন করা সম্ভব হয় না। তাহলে আমার এ ইনকাম, এ চাকুরী কি হালাল হবে?
উনারা উত্তর দিলেন, না এটি হারাম চাকুরী। আপনি হালাল চাকুরীর জন্য চেষ্টা করুন।
এরপর এতো বেশি নামাজ পড়তে লাগলাম এবং এতো বেশি কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ্ তাহলিল করতে লাগলাম, দোয়া দরুদ পড়তে লাগলাম, যা স্বাভাবিক ছিলো না।
এরপর দিন যত যেতে থাকে, আমার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হতে থাকে এবং এক সময় আমি চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হই।
বাড়িতে তখন আমার বাবার ইনকাম ছিলো না। ভায়ের ইনকামের উপর চলছিলো বাবার সংসার। ফলে আমি, বাবা এবং ভায়ের একটা বোঝা হয়ে গেলাম।
বাবা, ভাই, ভাবী এবং বাড়িতে যারা রয়েছে, এঁরা সবাই দেখতে পেলো, আমার মাঝে রবের কোন এক মহাশক্তির উদ্ভব হয়েছে। প্রথম প্রথম না বুঝলেও পরবর্তীতে আমি একে বা এদেরকে জ্বীন বলে সাব্যস্ত বা অনুভব করলাম। আমার কাছে মনে হলো, আমাকে ১/২ জন পরী গ্রাস করে আছে অথবা একদল পরী অথবা পুরো একটি জ্বীন সম্প্রদায় আমাকে আসর করে আছে। পরবর্তীতে মাঝে-মধ্যে, এরা নিজকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সাহাবী বলেও আমাকে বুঝিয়েছে। জানি না আমি ভূল বুঝেছি কিনা! বা আমাকে নিয়ে তারা কোন কৌতুক করেছে কিনা!
এ অবস্থায় আমার আত্মীয়-স্বজনের প্রায় সবাই এদের বিষয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু বিষয়টা এখানেও নয়। আসল কথা হচ্ছে আমি তাদের কাউকে মানছিলাম না, বা মানতে পারছিলাম না তখন। তাদের কাউকে যে, আমার নেতা মেনে এবং তার অধীনে থেকে আমল-ইবাদত করে আমি স্বাভাবিক হবো, এটা আমি কেন যেন মানি নাই। কারণ হঠাৎ করে এ অশরীরী মহা শক্তিধর বিষয়টি আমার উপর ভর করায় আমি একটু অস্বাভাবিক ছিলাম।
এখন যেমন আমি কোন একটা রাণীর ছবির দিকে তাকালে আমার স্ত্রী আমার কাছ থেকে উঠে চলে যেতে চায়। (নভেম্বর ২০২৪)।
এ রকম তাদেরও অনেকটা স্বার্থ চিন্তা বা আমি নিজকে নিজে রবের অলি খোঁজা অথবা হঠাৎ বিষয়টার উদ্ভব হওয়াতে হয়তো আমি এ রকম করছিলাম।
ভাই বলেন কি ভাবী বলেন, সকলের চোখে-মুখেই দেখতে পেয়েছিলাম, শুধুই তাদের স্বার্থপরতা।
তাছাড়া ইনশা'আল্লাহ আমি যদি আল্লাহর বন্ধু হই। তাহলে কৌশলগত ভাবে অথবা অটোমেটিক্যালি ভাবে আমার শরীরে এদের প্রকাশ্যতার কারণে হয়তোবা এসব ঘটছিলো কিনা তা আমি জানিনা!
আর আমি যদি সত্যিই আল্লাহু তা'য়ালার বন্ধু হই; তাহলে এদের সাথে বাড়িতে আমার অবস্থান হবে কেন!?
আমার অবস্থান হবে মসজিদ কিংবা মাদরাসা কেন্দ্রিক। বা আল্লাহু তা'য়ালার কোন এক অলি কেন্দ্রিক।
আমার বংশে ঐভাবে আমি কোন আল্লাহর অলিকে আমি দেখতে পাইনি।
আর এ অবস্থায়, তাদের কাউকে মান্য করে জীবন চলার মানে হবে হয়তো, শুধু নিজস্ব বংশীয় পূজা ছাড়া আর কিছু না!
তাছাড়া আমিতো শুধু তাদের জন্য দুনিয়াতে আসিনি!
আর এ কারণে এবং এভাবে যখন তাদের কাউকে আমি মানতে পারছিলাম না; তখন তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাজে ব্যবহার সহ কৌশলগত অস্ত্র ধারণ করলো।
আমাকে খারাপ জেনে হোক, কিংবা ভালো জেনে হোক, আমাকে তাড়ানোর বা হত্যা করার জন্য তারা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে সব ধরনের শক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করতে থাকলো।
এক এক সময় একেবারে হাঁফিয়ে উঠতাম।
আমি একা, আর তারা বাড়ির সবাই। তাদের মানসিক অত্যাচারে দুইবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমি চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলাম।
জানিনা, আমার ভবিষ্যত সম্পর্কে সবাই একটা আইডিয়া করে (একটা শয়তান জ্বীন থাকে তার সাথে, এখন কী হয়, কে জানে! এ রকম) এবং আমার সাথে জ্বীন জাতিদের ২/১ জন অথবা তাদের একটা সম্প্রদায় থাকার কারণে, ও এ অবস্থায় আমার শারীরীক, মানসিক অবস্থা ও ক্যাপাসিটি কী হতে পারে বা থাকতে পারে, তার সঠিক জ্ঞান কারো জানা নয় বিধায় এবং শুধু অনুমান-ধারনার বশবর্তী হয়ে এ রকম করতো কিনা জানিনা! তবে মানুষের এ রকম অস্বাভাবিক এবং যন্ত্রণাময় ব্যবহারে আমি খুবই কষ্ট পেতাম! এবং যে কষ্টের কোন সীমা-পরিসীমা ছিলো না!
এরপরও আত্মীয়-স্বজনকে এতোই মান্য করতাম যে, আমি কখনো এদের বিরুদ্ধচারণ করতে পারছিলাম না! এবং বিরুদ্ধচারণ করা ও স্বার্থকেন্দ্রীক কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করা; তখন এসব আমি একেবারেই বুঝতাম না। অথচ এসব তারা আমার উপর নিষ্ঠুর, শত্রুতা ও হিংসাত্মক ভাবে প্রয়োগ করতে থাকলো।
আর তারাও আমার এ মান্যতার বা প্রতিবাদ না করার সুযোগটি নিয়ে ছোট ভাতিজা থেকে শুরু করে, গ্রামের রিক্সা ওয়ালা ও চায়ের দোকানের মেচিয়ার সহ আমাকে বিভিন্ন ভাবে অপমান করে আমাকে দাবিয়ে রাখার বা আমার জ্ঞান, মন, শক্তি ও সম্ভাবনাকে হত্যা করার বিভিন্ন অপকৌশল করে যাচ্ছিলো।
সে কী মানসিক যন্ত্রণা! এ যন্ত্রণার ওজন কত হবে তা আমি বুঝাতে পারবো না। যে দিকেই যাই, কেউ যেন আমায় এতোটুকু মান-ইজ্জত দিতে রাজী না! স্ত্রী, আপন, পর সবার কাছেই যেন লাঞ্চিত হচ্ছিলাম! পৃথিবীতে আমি যেন একেবারেই একা! সব চাইতে বেশি অপমাণিত হচ্ছিলাম অল্প বয়সের ছেলেপিলে, রিকসা ওয়ালা, চায়ের দোকানের মেচিয়ার এবং গ্রামের লোয়ার ও বোকা শ্রেণীর মানুষদের কাছে এবং তাদের তাচ্ছিল্যময় ব্যবহারে! এদেরকে কিছু বলতেও পারতাম না। কারণ যদিও তারা আমার মূল্যায়ন বুঝতো না বা সমাজের এলিট শ্রেণীর মানুষগুলো তাদেরকে ভূল বোঝাতো; আর তাই তাচ্ছিল্যমূলক ব্যবহার করতে এরা ছিলো যথেষ্ট পটু। অপরদিকে আমিও আমার বয়স, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদির কারণে, স্বাভাবিক ভাবেই এদেরকে কিছু বলার, সে মানসিকতা আমার ছিলো না।
এইতো প্রতিবাদ করা শরু করেছি মাত্র ২/৩ বছর হলো। আর প্রতিবাদ করার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিলাম, ফেসবুক পোস্টে কন্টেন্ট লিখার মাধ্যমে। আস্তে আস্তে মুখেও। আল্লাহু তা'য়ালা মাফ করুক মাঝে-মধ্যে এদেরকে আমি গালি-গালাছ করতেও বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু আমার নিজ বাড়ির একান্তই নিকটজন ব্যতিত কাউকেই কখনো কোন ধরনের গালি-গালাছ আমি করিনি। আর নিজেদেরকে মাঝে-মধ্যে মন্দ-সন্দ বলেছিলাম এ কারণে যে, এদেরকে ভদ্র ভাবে বললে, এদেরকে ভদ্র ব্যবহার করলে, এরা কিছুই শুনতো না। যেহেতু আমি অর্থনৈতিক ভাবেও একেবারেই ইয়াতিম ও জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে গিয়েছিলাম।
এরপর একসময় আস্তে আস্তে মানুষ আমায় বুঝতে শুরু করলো। এভাবে যখন মানুষ আমার জ্ঞান ও ঈমানের বিভিন্ন দিক ও প্রকৃত অবস্থা জানা শুরু করলো এবং নিজ পরিবার ও বংশে কিভাবে নিপীড়িত ও নির্যাতিত হচ্ছি, তা জানা ও বুঝা শুরু করলো; তখন আমার পরিবার ও বংশীয় সদস্যগণ, যারা আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলো, ছোট-বড় তাদের সবাই এবার আস্তে আস্তে নমনীয় হতে বাধ্য হতে থাকলো! কারণ আমি তখন প্রতিবাদ করা শুরু করেছি এবং মানুষেরাও আমার এ জ্বীনের ভালো দিকগুলো আস্তে আস্তে বুঝা শুরু করেছিলো।
এ বিষয়ক বিভিন্ন ঘটনা সমূহ আপনারা গুগলে jinmanb.blogspot.com লিখে সার্চ দিয়ে সেখান থেকে পড়ে নিতে পারেন।
আর আমার সাথে থাকা অশরীরী এ বিষয়টি, এটা কি আমার জন্মগত না ব্ল্যাক ম্যাজিক থেকে উৎপত্তি তা আমি ঠিক এখনো বুঝতে পারছি না।
আল্লাহু তা'য়ালা মাফ করুক, এ সময়ে মাঝে মাঝে আমি আমার এ অশরীরী বিষয়টির জন্য, আমার সে লজিং হোল্ডারদেরকে দায়ী করে কথা বলেছি।
এটি হয়তো সত্য নাও হতে পারে। আমাকে নিয়ে আমার রবের হয়তো অন্য কোন উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। যার জন্য সকলের নিকট আমি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাচ্ছি। আমার সাথে রবের দূতের এ সম্পর্ক, এ জন্যে তারা হয়তো দায়ী নাও থাকতে পারেন। কারণ তাদেরকে দায়ী করার বিষয়টি ছিলো শুধুই আমার অনুমান আর ধারনা নির্ভর। এবং যা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করার কারণেই, ও এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না ফুটার কারণেই আমি হয়তো এসব বলেছিলাম।
(সাঃ) হে আল্লাহ! তুমি আমায় মাফ করো। আমি ভবিষ্যতে তাদেরকে দায়ী করে ইনশা'আল্লাহ আর কিছু বলবো না। (সাঃ)
ভায়েরা, আগে যদি বুঝতাম যে সৌদি আরবে অবস্থিত আল্লাহু তা'য়ালার ঘর কা'বার সাথে আমার এতো নাড়ির সম্পর্ক হবে, আত্মার এতো টান হবে, তাহলে যৌবন বয়সে অনেক মেয়ের অভিভাবকদের কাছ থেকেই আমি এ ধরনের অফার পেয়েছিলাম। তখন আমি অবশ্যই চলে যেতাম।
যাক, এখন আমার একটিই উদ্দেশ্য, আমি কিভাবে আল্লাহু তা'য়ালার বন্ধু হতে পারবো! কিভাবে আল্লাহু তা'য়ালার একজন সত্যিকারের অলি হতে পারবো! আর কিভাবে সৌদি আরবের নাগরিক হয়ে মসজিদে হারাম শরীফে নিয়মিত নামাজ পড়তে পারবো! এবং এ মসজিদে এত্বেকাফ করে ঈমানের সহিত ইবাদতরত অবস্থায় কিভাবে এ ধরাধাম ত্যাগ করতে পারবো!
এখানে রবের নিকট আমার আরেকটি বিশেষ বিষয় চাওয়ার রয়েছে এবং এখন তাঁর নিকট আমি তা চাচ্ছি। তা হচ্ছে-
সাঃ, হে আল্লাহ! আমাকে যদি তোমার বন্ধু ও মানুষের সেবক হিসেবে গ্রহণ করো; তবে মানুষ হিসেবে আমার, মানে জনাব আরিফের, মানে মানুষের এ দেহ, মন ও ব্রেনে তুমি ১০০% মানুষ ও জ্বীনের বৈশিষ্ট্য; তথা উত্তম আখলাক, শক্তি, সৌন্দর্য, সক্ষমতা, রূপ-লাবণ্য, হায়াত ইত্যাদি উভয় জাতি হিসেবে উভয় জাতির নিকট আমাকে দৃশ্যমান করবে (জ্বীনদের নিকটও) এবং মানুষ ও জ্বীন, উভয় জাতিকেই বুঝিয়ে দিবে যে, এ মানুষটির মাঝে উভয় জাতির বৈশিষ্ট্য শতভাগ বিরাজমান। অপর দিকে আমার সঙ্গে থাকা এ পরী/জ্বীন যেন মানুষের বেসে আলাদা শরীরে আমার সাথে মানুষের মাঝে এবং প্রকাশ্যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সাহাবীদের যুগের পর থেকে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত পৃথীবীর শ্রেষ্ঠ জ্ঞানবান, রূপবতী, ধনবতী, শক্তিময়, সেবক ও সর্বদিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতম যোগ্যতা নিয়ে আমার সাথে অবস্থান করে এবং ইসলামি শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের কাজে আত্মনিয়োগ করে [হযরত ঈমাম মাহাদী (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) ব্যতীত]। আমাকে জ্বীনদের সমাজে যাওয়ার এবং তাদের সাথে, তাদের বন্ধু হিসেবে, ওপেনলি ও স্বাভাবিক ভাবে মিলেমিশে চলার তাওফিক দিবে। ইয়া আল্লাহ! পৃথিবী থেকে আমাদের ইন্তেকাল একসাথে দিবে এবং আমরা যদি উভয়েই তোমার অলি বা বন্ধু হই, তবে আমাদের সকল কাজে সমানে সমানে সাওয়াব-গুনাহ বন্টন করবে। এমনটি যাতে না হয় যে, একজনের ইন্তেকাল দিবে; কিন্তু অপরজনকে বাঁচিয়ে রাখবে। প্রয়োজনে ব্যতিক্রম এক সৃষ্টি হিসেবে আমাদেরকে হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ বছর তোমার উত্তম ঈবাদতকারী ও শ্রেষ্ঠতম ভাবে মানুষের সেবক হিসেবে বাঁচিয়ে রাখবে। কিন্তু কোন পাপ কাজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাহলে প্রয়োজন নেই। আমাদের নিজেদের সকল কাজে একে অপরকে সহযোগী, সান্তনাদানকারী, সাহসযুগানেওয়ালাকারী হিসেবে একই মন, ব্রেন ও শরীরে সার্বক্ষণিক অবস্থান করার তাওফিক দিবে। আমাদের উভয়কে একক এবং আলাদাভাবে ফলপ্রসু নেক নিয়ত করার তাওফিক দিবে ও এতে আমাদের সকল কাজে একে, অপরকে পরিপুরক হিসেবে, আমাদের সকল কাজ সমাধা করতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানোর জন্য তাওফিক দিবে।
আমরা যেন জ্বীনদের সাথে ওপেনলি মিলেমিশে চলতে পারি। এবং মানুষের সাথেও। আমাদেরকে এ তাওফিক দিবে। জ্বীনেরা যেন বুঝতে পায় যে, ইনি হচ্ছেন একজন উত্তম আখলাকের জ্বীন এবং মানুষেরা যেন বুঝতে পায় যে, ইনি হচ্ছেন একজন উত্তম আখলাকের মানুষ। ইয়া আল্লাহু তা'য়ালা আমার এ আন্তরিক দোয়াখানা তুমি কবূল করবে। আমীন। সাঃ।
বলা বাহুল্য, ইনশা'আল্লাহ! আল্লাহু তা'য়ালার খাঁটি বান্দা হিসেবে, আল্লাহু তা'য়ালার গোলাম হিসেবে চলতে গিয়ে, মানুষকে উদার ভাবে ভালোবাসতে গিয়ে, মানুষের সেবা করতে গিয়ে, এবং সেবা করার মানসিকতা রাখতে গিয়ে, আমাকে সীমাহীন ত্যাগ ও দুঃখ-কষ্ট সইতে হচ্ছে এবং চরম ভাবে আমি পাপীও হয়ে গেছি আজ। এবং প্রায় নিঃস্ব জীবন কাটাতে হচ্ছে আমাকে।
জানি না শেষ পর্যন্ত আমার পিউরিটি আমি ধরে রাখতে পারবো কিনা এবং আমার রবকে আমি পাবো কিনা!
সবকিছু লিখতে আসলে মন চাচ্ছে না। কারণ জীবনে মানুষের জন্য চোখে পড়ার মতো কিছু যদি করতেই না পারি, মানুষ আমার সেবা পেয়ে যদি উপকৃতই না হয়, তাহলে আমার এসব পড়বে কে এবং কী লাভ হবে এসব লিখে!
তবুও একটু একটু লিখি। মানুষের জন্য সেবা মূলক কিছু করতে পারলে, তখন বিস্তারিত ভাবে লিখবো। এবং হঠাৎ করেতো তখন হয়তো এতো কিছু লিখতেও পারবো না। তাই কিছু কিছু লিখছি।
তো হাইস্কুলে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পর অনেক গুলো চাকুরী ধরেছি এবং অনেক গুলো চাকুরী ছেড়েছি। মান সম্মত একটি চাকুরিও পাইনি।
একসময় চাকুরী বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করলাম বন্ধন ফাউন্ডেশন নামে, সমাজ ও মানব সেবা মূলক একটি প্রতিষ্ঠান এবং এর অধীনে চালু করলাম ইসলামী সমবায় সমিতি। প্রায় ৬/৭ বছর তা চালিয়ে ছিলামও।
পরে চেষ্টা করলাম ডিস্ট্রিবিউটেড ব্যবসা করতে এবং হলুদ, মরিছ ও মসলার উৎপাদনমূখী ব্যবসা করতে।
কিন্তু কোন কিছুতেই সফলতা পাই নি।
চেষ্টা করেছিলাম ইউটিউবে কোরআন তিলাওয়াত শিক্ষার একটা কোর্স পরিচালনা করবো এবং ওয়েবসাইট বানিয়ে মানুষকে তথ্যসেবা প্রদান করবো।
কিন্তু আমার প্রতি আপনজনদের বেড আইডিয়া হওয়ার কারণে এবং এরই প্রভাবে সৃষ্ট দারিদ্রতার কষাঘাতে কোন কিছুই আমার হচ্ছিলো না।
সবচাইতে বেশি আঘাত ও মর্মাহত হয়েছি, আপনজনদের দ্বারা। এদের কেউ আমার একটি কাজেও সহযোগিতা ও সাপোর্ট দেয়নি। হয়তো তাদের দৃঢ়মূল ধারনা ছিলো, আমার সাথের এ জ্বীন বা পরীটি একজন দুষ্ট জ্বীন বা কাফের জ্বীন। তাই একদিকে যেমন আমি অর্থনৈতিক ভাবে ফকির হয়ে যাওয়া; অপরদিকে তাদের স্বার্থবাদী ব্যবহার এবং আবার এ দূষ্টজ্বীন কখন কী ক্ষতি করে বসে; এসব থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে হয়তো তারা এ রকমটি করতে পারে।
আমার মনে হয়, মূলত এ কারণেই আমার কোন কাজে সফলতা আসছিলো না। যেহেতু আলহামদুলিল্লাহ! আমি মুমেন ও মুসলিম ছিলাম। আর এ কথা সত্য যে, কেউ যদি সত্যিই মুমেন হয়; তাহলে সে কষ্মিক কালেও, তার রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়দের অমতে বা বাধার মুখে, কিছু করে সফলতা পাবে বলে আমি মনে করি না। আসলে তারা আমায় বুঝতে পারেনি এবং আমায় নিয়ে তাদের অহেতুক ও শুধুই তাদের ধারনা নির্ভর ভয় ছিলো।
আমার পরিবার, আত্মীয়, বংশ ও পাড়া-প্রতিবেশী, গ্রামবাসী এবং পরিচিত জনদের সবার চোখে আমার সাথে যে বা যারা ছিলো; তারা ইবলিশ জ্বীন হিসেবেই তাদের বদ্ধমূল বিশ্বাস হয়ে গিয়েছিলো!
কিন্তু ঠিক কেন ও কী কারণে; বা আমার কোন্ কোন্ ব্যবহারে, তারা আমার বিষয়ে এতো বড় একটা ভূল আইডিয়া করলো এবং তাদের এ আইডিয়াকেই সত্য মনে করলো; ও তা প্রকাশ ও প্রচার করে আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সমাজ ও দেশের সর্বস্তরে আমার জীবন-যাপন ও বেঁচে থাকাকে একটা হুমকি, যন্ত্রণা, অপমাণ আর বীভীষীকার মধ্যে ফেলে দিয়েছিলো, তা আমি সঠিক ভাবে বুঝতে পারিনি।
এবং কী লক্ষণ দেখেছিলো যে, যে কারণে তারা আমার সাথে থাকা এ জ্বীন জাতিকে, তাড়াতে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলো! আমি প্রকাশিত হলে তাদের কী ক্ষতি হতো বলে তারা মনে করেছে বা আমাকে নিয়ে তাদের কোথায় এতো ভয় ছিলো; তা আমি পোরোপুরি আজো বুঝি না! (০৮/২০২৫)
ভাই, বুঝবো কী করে বলেন! যেদিকেই যাই; মানুষকে যাই'ই বলতে চাই, কেউ যেন আমায় সহজ ভাবে মেনে নেয় না! ভিতরগত ভাবে কেউ যেন আমায় দেখতে পায় না। আমার ভালো কোন কথায় বা কাজে কেউ যেন আমায়, সাপোর্ট দেয় না; সমর্থন করে না। কারো কাছ থেকে যেন কোন ধরনের আন্তরিকতা ও দয়া-মায়া পাইনা। মানসিকতার সে কি করুন ও বেদনাদায়ক অবস্থা! সবাই মনে করে যে, আমার সাথে শয়তান জ্বীন থাকে; তাই আমি কারো হৃদয় বা সাপোর্ট পেতে পারিনা; এ রকম একটি অবস্থা!
আর এ পর্যন্ত আমি কোন ভালো মানুষও পাইনি।
উনারা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ঔষুধ খাইয়ে, বিভিন্ন তাবিজ-তুমার আমার গলায় ও হাতে প্যাঁচিয়ে, বিভিন্ন গুণিন-বদ্যের ঝাড়-ফুক ব্যবহার করে আমার উপর এই যে, জ্বীনের আসর হওয়া, আমার জীবনের এই যে একটা স্মরণীয় ঘটনা; তা তারা ভূলিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছিলো। ২০০১ থেকে উদ্ভব হওয়া আমাকে জ্বীন কর্তৃক ঘ্রাস করার বিষয়টি প্রায় ২০২১ পর্যন্ত ভূলে ছিলাম বা প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পারিনি। অর্থাৎ যদিও আমার শরীরে জ্বীনের কিছু প্রভাব ছিলো; তবুও আমি কিন্তু তা বুঝতে পারিনি বা পারতাম না।
সম্ভবত ২০০১ সনে মসজিদের মধ্যে এত্বেকাফে থাকা কালীন, আমারই নিজ ভাই আমাকে যাকাতের টাকা দিতে চায়; আর মসজিদের ঈমাম সাহেব আমার উপর চোখ রাঙ্গায় টাকা গুলো লওয়ার জন্য। উনি বাড়িতে পাশাপাশি ঘর বাদ দিয়ে মসজিদে টাকা দিতে যায়। আবার এত্বেকাফের সময় যতই নামাজ আর কোরআন তিলাওয়াত করি; মানুষ কোন সাধুবাদতো জানায়'ই না; উল্টো বিভিন্ন টিটকিরি করে শুধু!
তখন মাথায় ইলেকট্রিক শখ খাওয়ার দশা! এই শুরু করলাম প্রতিবাদ। এরপর থেকে একে একে মনে পড়তে থাকলো, কেমন করে আমার নিজ বড় ভাই, আমাকে আমার বাবার পুকুর থেকে, আমার নিজ ঘর ভিটা বাঁধাই করার জন্য অল্প কিছু মাটি আনতে দেয়নি, বাধা দিয়েছে; কেমন করে আমি একটি মুদী দোকান দিয়েছিলাম, আর আমার বড় ভাইকে হাজারো অনুরোধ করার পরেও, উনি আমার কাছে যেতেন না; কেমন করে বাবা জীবীত থাকতে কেনা আমাদের ৩ ভাইয়ের নামে কেনা জমি আমার আরেক ভাই আমাকে দখল না দিলে, তখন জেঠাতো ভাই বলতেন জমি ক্রয়ের টাকা দিতে হবে, না হয় দখল দেয়া হবে না এবং কেমন করে রাতে স্ত্রীর সাথে শুতে গেলেও ভাবী সাহেবা অপমাণমূলক ব্যবহার করেছেন এবং কেন স্ত্রীর দ্বারা এভাবে তাচ্ছিল্য আর অপমানের শীকার হচ্ছিলাম। ইত্যাদি। ইত্যাদি। এভাবে আমাকে অপমানে অপমানে কোনঠাসা করে দাবিয়ে রাখার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখলো।
আর কেনই'বা রাখবেনা বলেন? আমি এমন কতগুলো ভাব ভঙ্গিমা ও আকার ইঙ্গিত দেখাই এবং ইশারা ইঙ্গিতে যা করবো বলে বলি; যা সাধারণত কোন মানুষের দ্বারাই সম্ভব নয়। আর আমার মতো এ রকম লোয়ার পর্যায়ের মানুষের দ্বারাতো এসব কখনো সম্ভব হওয়ার প্রশ্নই উঠে না! ফলে আমার মতো এ পর্যায়ের মানুষের দ্বারা এসবের বাস্তবায়ন কখনো সম্ভব নয় মনে করে, এবং আমাকে পাগল বিবেচনা করে ও দূষ্ট জ্বীন বিবেচনা করে হয়তো তারা এ রকম করতো! যেমন কথার কথা সমাজের মানুষকে যদি আমি বলি, ইনশা'আল্লাহ, আমি সৌদি নাগরিক হবো! মসজিদে হারাম শরীফে নিয়মিত নামাজ পড়বো ও এ মসজিদে এত্বেকাফ করবো! তখন স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ গুলো আমায় পাগল বলবেই!
আর যেহেতু এসব বিষয়ে আমার কিছু না কিছু বুঝ হয়েছে; তাই আমি মানুষকে দোষ দিবো কিভাবে!?
কেউ একজন যদি মূল বিষয়টি বুঝতেই না পায়; জ্বীনের প্রভাবে যদি আমার শারীরিক-মানসিক অবস্থা কীরূপ তা মানুষগণ যদি বুঝতেই না পারে; অথবা তখন না বুঝে বা ভূল বুঝে আমার উপর কিছু অন্যায় করেও ফেলে; তবু তাকে কি দোষ বা শাস্তি দেওয়া যায়? যায় না! কারণ সেতো আমাকে বুঝতেই পারেনি! আমার বিষয়টাও এ রকমই!!
তাছাড়া তারা সমাজের সবাই আমার প্রতি অন্যায়, আর জুলুম করলেও, আসলেতো তারা আমাকে এবং আমার সমাজকে প্রিভেন্টিং দিতেই এ রকম করেছে!!
সুতরাং দশজন থেকে বেশি বুঝতে গিয়ে, বেশি উদার হয়ে, বেশি আবেগ রেখে, বেশি আশা করে, আজ আমি পদে পদে অপমাণিত হচ্ছি! মার খাচ্ছি! সবইতো আসলে আমার নিয়তেরই ফল! তাই আমার বিরুদ্ধে সুবিধা ভোগিরা আমাকে বেকায়দায় ফেললেও; আমিতো আর ঐভাবে একশান নিতে পারিনা!
আমি কাকে দোষ দিবো বলেন? যেহেতু এ রকম দৈত স্বত্ত্বার মানুষ যে তারা বা তাদের পূর্ব পুরুষগণ হয়তো সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্তও কেউ দেখতে পায়নি যে!! তাই রবের নিকট আমার ফরিয়াদ; উদারতা ও মহানুভবতা এবং ব্যক্তত্ব ও চরিত্রের দিক থেকে অতি উত্তম আবেগ বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষকে কাঁদালেও, মানে ফেইলিউর করলেও, অন্তত একজন মানুষকে সর্বোচ্চ বেহেশতের হাঁসিতে হাঁসাতে পারে! আমি যেন সে একজন লোক হতে পারি!
এর মধ্যে ফেনীর আই সি এস টি (বেসরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট), এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছি প্রায় ১০ বছরের মতো।
মানুষের নিকট তাদের দৃষ্টিতে আমার ইবলিশ চরিত্রকে ফিরিয়ে, মুমেন জ্বীন হিসেবে পরিচিত হতে, আমাকে অনেক অনেক বেগ পেতে হয়েছে এবং সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তবে এ লিখা লিখার সময়েও (১৮/০৭/২০২৫ ইং) আমি সমাজের অল্প কিছু মানুষের বিশ্বাস ছাড়া, বেশি মানুষের বিশ্বাস এখনো কুড়াতে পারিনি। তবে মানুষের কাছে ভয় ও আতঙ্কের ভাগ হয়তো কিছুটা কমেছে; কিন্তু আমাকে নিয়ে তাদের কৌতূহল কোন অংশেই কমেনি। তাচ্ছিল্য নির্ভর তামাসা চাওয়া-চাওয়ি হয়তো কিছুটা কমেছে। সন্দেহ আর অবিশ্বাসের দোলা চলে, চলছে এখনো আমার জীবন।
এভাবে আমাকে কেন আমার আপনজনেরা এবং সমাজের মানুষেরা ভূল বুঝেছিলো, তা আমি একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি; আর বুঝিয়ে বললেও আপনারা আমার মন ও ব্রেনের এ সব প্ল্যান ও অবস্থা বাস্তবায়িত হওয়া ছাড়া পুরোপুরি হয়তোবা কেউই আমাকে বুঝবেন না; যেহেতু ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা আমার চিন্তাধারা সমাজের বাঁকি কমপক্ষে হয়তোবা বিলিয়ন মানুষের চিন্তাধারারও বাইরে! তবুও আপনারা এ মূহুর্তে সব কিছু না বুঝলেও, যদি শুধু আমার প্রতি দয়া-মায়া, মুহাব্বত আর বিশ্বাস থাকে তাহলে কিছুটা হলেও বুঝবেন।
শুনুন, আমি চেয়েছি আমার এ জ্বীন জাতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চার বিয়ে করতে; এবং আমি চেয়েছি দাস প্রথাকে এক্টিভ করে নিজেই কিছু দাসী রেখে আল কোরআনের শান ও মান অক্ষুন্ন রাখতে। আর এভাবে কমপক্ষে ১০০ সন্তানের বাবা হয়ে ও অন্যান্য আরো বিগ বিগ এক্টিভিটিজ দিয়ে; যেমন এমন একটি ইন্টারনেট রাউটার আকাশে স্থাপনের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের মানুষকে একেবারে নামমাত্র মূল্যে ও এতে বিদ্যুত সংযোগ ছাড়াই মানুষকে অত্যন্ত দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে; এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ও এপ্ল্যায়েন্স আবিষ্কার, ইত্যাদি নব নব আবিষ্কারের মাধ্যমে নোবেল ঘরে তুলতে।
আবার দেখুন, এখন আপনি আপনার বউকে শুধু বলেন, আর এক বিয়ে করবেন! আর প্রত্যক্ষ করেন না! ঘরে শুইতে পারেন কিনা! এবং যে সন্তানের জন্য প্রাণ ক্ষয় করছেন, তাদেরকে আপন করে পান কিনা! তাহলে আমার ক্ষেত্রে এসব ঘটবে না কেন বলেন? হঠাৎ করেতো উনারাও আমার সবকিছু বুঝে উঠার কথা নয়; তাই না!?
তাছাড়া আপনিতো বুঝিয়ে বলতে পারতেছেন, আর আমি অনেক সময়, অনেক কিছু নিজেও বুঝতেছিনা, ফলে বুঝিয়েও বলতে পারছি না। যেহেতু এ পর্যন্ত আমি বুঝতে পারছি যে, আল্লাহর কোন একটি নেয়ামত বা বিষয় যতক্ষণ আমার ও আমার সম্প্রদায়ের মাথায় ঠিক মতো না ধরবে ও আমাদের সবাই এতে রাজী-খুশি না থাকবো, ততক্ষণ এরা আমাদের কাউকেই হয়তো বিষয়টা বুঝতে দেবে না! ফলে মানুষ আমাকে দুঃচরিত্র হিসেবেই হয়তো বুঝতে পারবে। এবং এভাবে বুঝে নিয়েছেও!
আবার বুঝতে চেষ্টা করুন, যেহেতু আমার নিয়ত, উদ্দেশ্য এবং অকল্পনীয় সাহস আর অনেক অনেক বড় বড় কর্ম করার এবং এ উদ্দেশ্যের প্রতীক হিসেবে যখন আমার আপনজনদেরকে আমি বড় হিসেবে কিছু দেখাতে চাইলাম বা এ ধরনের কোন ইশারা-ইঙ্গিত দিলাম; ও যেহেতু আমি সত্যের একনিষ্ঠ সাধক, তাই হয়তো কাউকে মানলাম না; আর আমার এ মানসিক অবস্থাটিকে হয়তো আমার আপনজন ও সমাজের মানুষেরা নেগেটিভ হিসেবে নিয়ে, আমাকে ইবলিশ মনে করলো! এবং বিষয়টি হয়তোবা কাউকে বুঝিয়ে বলতেও পারলাম না! আচ্ছা বড় লোকদের শান, মান, অর্থ ও আসন এবং সম্মান কি অন্যদের চাইতে বড় হওয়া স্বাভাবিক নয়? আর সে জায়গায় যদি কোন বড় লোকের মতো মানুষকে একেবারেই অর্থহীন করে, একেবারেই লোয়ার রেংকের মানুষদের সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়; তাহলে তার অবস্থা কী দাঁড়ায়, তার পরিচয় আর কী থাকে, আপনারা বলেন? আর এভাবে জীবনের বিভিন্ন কাজ ও মানসিকতায় আমি মানুষের নিকট ইবলিশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলাম।
তবে আমি আজ স্পষ্ট বুঝতে পারলাম বা পারছি যে, যারা আমাকে আমার বড় মানসিকতার কারণে ইবলিশ মনে করেছিলো এবং আমাকে পদে পদে আঁটকাতে চেয়ে বিভিন্ন ধরনের নিষ্পেষণ চালিয়ে আমাকে ছোট রাখতে চেয়েছিলো; আচ্ছা বলুনতো জীবনে কে সেকেন্ড থাকতে চায়!? সবাইতো ফাস্ট হতে চায়, তাই না? তাহলে আমি বড় থাকতে বা হতে চেয়ে কেন ইবলিশ হতে যাব!? মূলত আমার মনে হয়, আমি ছোট মানুষ হয়ে, বড় মানসিকতা, বা অনেক বড় হতে চেয়েছি, যা সাধারণত চারপাশের মানুষেরা চাইতে পারে না এবং যা স্বাভাবিক না; হ্যাঁ, হয়তো এটাই আমার দোষ ছিলো! আর এ জন্যেই হয়তো আমাকে কেউ মেনে নিতে পারেনি!
আসলে যার পকেটে টাকা নেই, যার কোন বড় ধরনের দায়িত্ব নেই বা সম্পদ নেই; তাকে বড় কে মেনে নিবে বলেন? আর মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হিসেবেই, সে তার চারপাশের মানুষের কাছে তাদের চাইতে বড় থাকতে চায়!
আজ আমার কাছে মাঝে-মধ্যে মনে হয়, তাদের নিজেদের বড় থাকার বা বড়ত্বের মানসিকতার কারণেই তারা আমাকে বড় বা শয়তানি চরিত্র হিসেবে দেখতে পায় এবং তাদের এ শয়তানী মানসিকতার কারণেই আমাকে তারা ছোট রাখতে চেয়ে আমার উপর বিবিধ নিপীড়ন চালায়!
আলহামদুলিল্লাহ! যে বিষয়টি আজ আমার উপর নিপিড়নে নিপিড়নে আমাকে মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলার মতো অবস্থা করার পরে হলেও প্রমাণিত হয়েছে। কারণ আমার এতো করুণ অবস্থার পরেও, প্রায় মৃত্যু পথযাত্রি হয়েও, আল্লাহর অশেষ রহমতে এখনো আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়া ছাড়িনি; সমাজের কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে, আমি কোথাও কারো সাথে মিথ্যা কথা বলেছি বা মিথ্যা স্বাক্ষ্য দিয়েছি অথবা কারো সাথে কোনরূপ খারাপ ব্যবহার করেছি বা অবৈধ কোন ইনকাম করেছি! বা মানুষের সাথে অপ্রোয়জনে বকমবাজি করেছি!
আবার ধরুন, যেহেতু আমি পরী বিয়ে সহ ৪ বিয়ে করার নিয়ত রেখেছি, দাসী রেখে ও দাস-দাসী প্রথা পুনঃ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল-কোরআনের আইনকে সমুন্নত রাখতে চেয়েছি, উচ্চ ব্যক্তিত্ব ও রাজা-বাদশার মতো মন রেখেছি, সরল সত্য ও উদার মানসিকতা রেখে জীবন-যাপন করছি, অথচ আমার অর্থনীতী বা কোন পদবী বলতে কিছুই নেই; তার উপর সাথে রয়েছে জ্বীন বা পরী; এমন অবস্থা বা পরিস্থতিতে মনে করুন, আমার স্ত্রী সহ চারপাশের মানুষগুলো আমায় অনেক সময়ই ভূল বুঝলো, আমায় পাপী মনে করলো বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বৈরীতা সৃষ্টি হলো; এতে হয়তো আমি সালাম দিলেও উত্তর দিলো না, এভাবে আমার সাথে বিভিন্ন বাজে ব্যবহার করলো; যে ব্যবহার গুলো অন্য মানুষদের সাথে করলে হয়তো সে আপনাদের চিরশত্রু হয়ে যাবে, কোন সম্পর্কই রাখবেনা আর; অথচ আমি!? আপনাদের এ ধরনের সব কিছু বা সহস্র বাজে বা হিংসুটে বা শত্রুতাপূর্ণ ব্যবহার বা নির্যাতন সহ্য করার পরেও; আবার আমি নিজ থেকেই আপনাদের নিকট নত হয়ে, বিনীত হয়ে মিশতে হচ্ছে; যেখানে আপনারা ভূলক্রমেও নিজের ভূল বা পাপ স্বীকার করতে রাজি না বা এ ধরনের চরিত্র আপনাদের নাই। তাহলে একটু চিন্তা করুন; এইযে আমার ধৈর্য-সহ্য আর কষ্ট এবং মানুষের প্রতি ক্ষমার মানসিকতা; আবার তাদের প্রতিই উদারতা ও তাদেরই খেদমত করার মানসিকতা; আল্লাহ্ মাফ করুক, আমার চরিত্রের এ ভাল দিকটি আপনি কোন্ বাটখারা দিয়ে মাপবেন!? এটা একটা মহান চরিত্রের মানসিকতা নয় কি!?
অথচ আমার সাথে ফ্রিকশনেবল এ মানুষদের; ইনশা'আল্লাহ তারা আমার এ চরিত্রে আমল করার মানসিকতাই হয়তো রাখে না!! হয়তো এ ধরনের চরিত্র কী ও কেন, তা বুঝেই না!!
এখন আপনাদের কেউ কেউ বলতে পারেন, তাহলে কেন আমার রব আমাকে এতো নিম্ন রেংকে রাখলেন? এ ক্ষেত্রে একটি সত্য কথা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে যে যত বেশি উচ্চ মানুষ হবে, তাকে ততবেশি নিম্ন মানুষদেরকে জয় করতে হবে।
তবে আমি সিউর করে এখনো জানি না, আসলে আমার সাথের এ পরী বা জ্বীন সম্প্রদায়কে ওপেন করতে পারবো কিনা? এবং ওপেন করতে পারলেও, তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ-বিত্ত পেলেও আসলে আমি বিগ ধরনের কিছু করে সাকসেস হবো কিনা! আসলে সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও কেবল তাঁরই করুণা! তবে আশার কথা হচ্ছে আমার অনেক বড় ধরনের নেক নিয়ত রয়েছে!
এদিকে আই সি এস টি-তে শিক্ষকতার পর এ পর্যন্ত ২টি কাওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছি। ম্যানেজার হিসেবে একটি বড় ধরনের হাসপাতাল পরিচালনা করেছি ও একটি থেরাপি সেন্টার পরিচালনা করেছি। এছাড়া আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেছি। অবশ্য কোন প্রতিষ্ঠানেই বেশি সময় ধরে কাজ করতে পারিনি। অর্থাৎ কোথাও স্থায়ী হতে পারিনি।
আমার একটিই সমস্যা, সেটি হচ্ছে আমি দৈত স্বত্ত্বা এবং উচ্চ রেসপনসেবিলিটি নিয়ে চলতে চেয়েছি ও সত্যিকার ভাবেই আল্লাহর বন্ধুর মতো সরল-সহজ জীবন-যাপন করতে চেয়েছি এবং পিউর সত্যের একনিষ্ঠ ধারকের মতো ব্যবহার আমার কাছে দৃষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে, আমি যেন, আমার উপরস্থ কর্মকর্তা বা মালিক থেকেও দামী লোক; এই আর কি!
আপনারা জানেন, এ চরিত্রের মানুষ গুলোর অর্থ ও পদবী স্বাভাবিক ভাবেই থাকতে হবে উঁচু পর্যায়ের; অথচ এ বিষয় গুলোতে আমার পজিশন একেবারেই নিচু পর্যায়ের। ফলে নিচু মানুষগুলো আমাকে বুঝতোও না; আর উঁচু মানুষগুলো তাদের পজিশন বা অহংকারের কারণে আমাকে তাদের সাথে স্থানও দিতো না; অধিকন্তু স্বার্থের কারণে বা পাগলামি মনে করে, আমার বিষয়ে নিম্ন আয় ও নিম্ন চরিত্র-বৈশিষ্ট্যের মানুষদের নিকট টিটকিরি বা তিরষ্কার করতো। এ বিষয়টিতে অবশ্য প্রতিষ্ঠানের চাইতে সমাজেই বেশি অপমাণিত হয়েছি। ফলে ম্যাচিং পজিশন আন ব্যালেন্সিং হওয়ায় একভাবে না একভাবে সমস্যার সৃষ্টি হতো; এছাড়াও তারা বেতন এতো কম দিতো যে; চাকুরী আর আমি করতে পারতাম না। তবে আমাকে সাসপেন্ড করেছে বা আমার দোষ ধরে পাঠিয়ে দিয়েছে; এ রকম প্রতিষ্ঠান ২/১টি ছাড়া ছিলোই না। সবগুলো থেকে আমিই চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ছিলাম; আরো একটু বেশি ইনকাম বা অশান্তি পাওয়ার কারণে বা আরো সুখ বা শান্তির আশায়।
২টি কাউমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতে গিয়ে ওখানকার মানুষ সর্ব প্রথম আমাকে ভালো হিসেবে বুঝতে পায়। অল্প কিছু দিনের মধ্যে ওখানকার মানুষদের চোখে আমি প্রায় ফেরেশতা তুল্য হয়ে অনেক সম্মান কুড়াতে থাকি। এতে কেউ আমার সাথে ফেরেশতা আছে বলে, আবার কেউ বলে আমার সাথে ভালো জ্বীন থাকে। এর একটি মাদরাসার হচ্ছে, বায়তুন নুর মাদরাসা ও এতিমখানা, উত্তর কডৈতলী, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর। আর অন্য মাদরাসাটির ঠিকানা হচ্ছে, মানিকপুর জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদরাসা, বসুর হাট, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালি।
এসব দূরের মাদরাসার মানুষদের কাছে আমি ভালো মানুষ হয়ে কী করবো; এলাকাতেতো আমি আগে যেই ইবলিশ জ্বীন ওয়ালা ছিলাম, এখনো তাই রয়ে গেলাম। হয়তো ২/১ জনের মাঝে একটু একটু বুঝ ঢুকতে ছিলো!
পরের এ মাদরাসা থেকে যখন চাকুরী ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে মনস্থির করি; তখন এ মাদরাসার বড় হুজুর কিছুতেই আমাকে ছাড়বেন না; এ যেন তিনি ইস্পাত-কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমার বেতন বৃদ্ধি করে দেয়ার ও মসজিদে থাকতে দেয়ার বিষয়ে অপার প্রদান করলেন। এমনকি তিনি আমার কমপক্ষে ৯০০০ টাকার মালামাল আমাকে আনতে দেননি। তবুও কেন ও কী কারণে চলে এসেছিলাম এবং হুজুর কেন আমার এতোগুলো টাকার মালামাল রেখে দিয়েছিলো, আপনারা এখানে ক্লিক করে ও এ প্রবন্ধটি পড়ে তা অনায়াসে জানতে পারেন।
এ মাদরাসা হতে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পর বেশ কিছু কাল অর্থাভাবে আমার যেন মরণ দশা হয়ে গিয়েছিলো। এলাকায় আমায় কেউ চাকুরী দেয় না। আসলে দেয় না বললেও মনে হয় ভূল হবে। আমার ভিতরকার এ জ্বীন সম্প্রদায়ই মনে হয়, কী এক অজানা কারণে আমাকে চাকুরী দিতে, আমার শারীরীক উপস্বর্গের মাধ্যমে, আমারই ইশারা-ইঙ্গিতে মনে হয় নিষেধ করে! আমাকে সবাই যেন খাদ্যাভাবে মেরেই ফেলবে! এমনই এক করুণ অবস্থা আমার! এমনকি নিজ ভাই-ভাতিজারাও আমাকে যেন দূর দূর করে! মাঝে মধ্যে চিন্তা করি এরা কেমন করে পেট পুরে খায়; পাশেই আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে প্রায় অভূক্ত রেখে!! এঁরা কি তাহলে খাঁটি মুমেন না!! অবশ্য সকল ভাই না। কেউ কেউ মাঝে-মধ্যে কিছু সহযোগিতা করে। যাকাতের টাকা পয়সা দেয়। সরকারি দান-খয়রাত নিয়ে দিতে চেষ্টা-তদবীর করে। বাড়ির বাইরের দুই একজন ছাড়া তেমন কেউ অবশ্য এ ধরনের সহযোগিতা বা এসব টাকাও দেয়নি। কারণ আমি যতই গরীব হই না কেন; যতই অভূক্ত থাকি না কেন; আমি কিন্তু কাউকেই সেজদা দিই না, কারো কাছে হাত পাতি না; উচ্চ ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলি। তবে দেখলাম মানুষ গুলোর মধ্যে আসলে দয়া-মায়া বলতে, তেমন কিছু নেই!
এর মাঝে উত্তর চাঁদপুর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) মাদরাসার (দাখিল মাদরাসা) সুপার জনাব হযরত আইউব আলী (দা.বা.) হুজুর আমাকে তাঁর মাদরাসায় হিসাব রক্ষক এর চাকুরী করার সুযোগ দেন। এবং কোচিং এরও ৩টি ক্লাস আমায় দেয়া হয়।
তবে এখন আমি আর আগের মতো পড়াতে পারি না। পড়াতে গেলে, ধরুন, ছাত্রদেরকে যখন পড়াই, এ প্লাস বি হোল স্কয়ারের সূত্র; ছাত্ররা তখন একেবারেই লেখাপড়ার দিকে মনযোগী হয় না। তারা আমার ভিতর খুঁজে ফিরে a কোনটা, আর b কোনটা। লেখাপড়া বাদ দিয়ে ওরা বিভিন্ন ইশারা ইঙ্গিতে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে ওরা কথা বলে জ্বীনের সাথে। বার বার ওরা আমার জ্বীনের কাছে জানতে চায়, সে কখন আসবে! লেখাপড়ার কথা কিছু বললে ওরা প্রায় শুনেই না। অনেক সময় জ্বীনের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ কোমলমতি শিশুরা আমাকে চরম ভাবে তাচ্ছিল্য করে। এবং মনে করে যে শুধু জ্বীনই সম্মান পাওয়ার যোগ্য! আমি কিছু না! অথবা জ্বীনকে ভয় পেলেও, আমাকে ভয় পায় না! আর অল্প বয়সের ছেলে পেলে সবকিছু তাদের জ্ঞানে ধরেও না। ফলে প্রায় সময়ই তারা আমায় ভূল বুঝে ও আমায় দোষী সাব্যস্ত করে। এবং এতে তারা আমার কথা শুনে না ও অনেক সময়ই তারা আমার দিকে চোখ রাঙ্গিয়ে তাকায়। ফলে এ যেন এক আমার মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণা! এ পরিস্থতিটি আগের দুইটি মাদরাসায়ও ঘটেছিলো। এবং সমাজেতো এর প্রচলন রয়েছেই!!
এ মাদরাসার সুপার অবশ্য আমার প্রতি অনেক দয়া-মায়া রাখেন। আমি ভাতে মরছি, এ জন্য তিনি দয়াদ্র হয়ে আমাকে চাকুরিটা দিয়েছেন। তাঁর দয়া মায়া দেখেই, আমিও মূলত তাঁর মাদরাসায় তাঁদের সকলের নিকট দোয়া প্রাপ্তির আশায় তাঁর মাদরাসায় চাকুরী করতে যাই।
এ মাদরাসায় প্রবেশ করার পরই সর্ব প্রথম আমার এলাকায়, আমার সাথে যে ভালো জ্বীন রয়েছে; মানুষ তা বুঝতে পায়। এবং ধীরে ধীরে আমার আগের দূর্ণাম ঘূচতে থাকে। ও আমার ইশারা-ইঙ্গিত গুলোর ভালো দিক সমূহ মানুষ আস্তে আস্তে বুঝতে আরম্ভ করে।
তখন এক পর্যায়ে মনে হলো; জ্বীন ও মানুষের বিয়ে জায়েজ কিনা! জ্বীন দুনিয়াতে মানুষের মতো জায়গা জমি কিনে সম্মানের সহিত মানুষের সাথে, মানুষের পাশাপাশি বাস করতে পারে কিনা! এবং আমার এ পরীর সাথী পরীগণ অথবা তার সম্প্রদায়ের সদস্যদেরকে দাসী হিসেবে আমার কাছে রাখতে পারি কিনা! এসব বিষয়ে যদি বাংলাদেশের কোন গ্রহণ যোগ্য মাদরাসা বা ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের লিখিত ফতোয়ায় হ্যাঁ বোধক উত্তর পাই, তবে আমার পরী হয়তোবা সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমে এবং মানব আকৃতিতে আমার কাছে চলেও আসতে পারে। এ বিষয়টি রিসার্চ করে দেখি যে, যতই এ বিষয়ে চিন্তা করি, ততই আমার কাছে যেন ভালো লাগছে। পরে এ বিষয়ে আরো গবেষণা করে নিশ্চিত হলাম যে, হ্যাঁ, হয়তোবা বিষয়টি সত্যই হবে! সে হয়তোবা আমাকে বিয়েই করতে চাচ্ছে এবং এ প্রমাণ করতে চাচ্ছে যে, জ্বীন ও মানুষের বিয়ে জায়েজ! মাসআলাটি জগতে হয়তোবা ভূল হিসেবে শেখানো হয়েছে! জগত থেকে একটি ভূলের সংশোধন করাও হয়তো তার লক্ষ্য!
এবং এরপরই শুরু করলাম ফতোয়ার আবেদন লিখা। প্রথম লিখলাম, ফেনী কোর্ট মসজিদের পাশে জামিয়া ইবনে আব্বাস, এ মাদরাসার ফতোয়া বিভাগে।
অনেক কষ্ট করে লিখছিলাম। কারণ আমার কম্পিউটারটি অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। ভাতিজার কাছে একদিন বিশেষ প্রয়োজনে অল্প কিছুক্ষণের জন্য চেয়েও সে তার কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেয়নি। নিজের পুরোনো মোবাইল একটা দিয়ে গুগল ড্রাইবের মাধ্যমে লিখতে গিয়েও সে অনেক কষ্ট। কারণ আমার ঘরে এখন ইন্টারনেট প্রবেশ করে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, যে কোন ওয়েতে এবং কেন যেন আমার পরীর দলেরাই হয়তো ইন্টারনেট বন্ধ করে রেখেছে। ফলে একটা নতুন বিষয়, যে বিষয় গুলো পূর্ব থেকে নাজায়েজ বা ইনএক্টিভ হয়ে আছে; এ ধরনের বিষয় গুলো একটু বুঝিয়ে লিখা প্রয়োজন। ইত্যাবসরে আমাদের উত্তর দিকের মোস্তাফিজ চেয়ারম্যান বাড়ির দরজায় মসজিদের পাশের দোকানদার আমাকে আমার মোবাইলে তার ব্রড ব্যান্ডের ইন্টারনেট কানেকশান বিনামূল্যে প্রদান করলেন। সে সুবাধে এ মসজিদের বারান্দায় বা মাঠে বসে, আমার প্রয়োজনীয় লিখা গুলো সম্পন্ন করছি! তাও অনেকের বুঝে ধরে না, আমি কি লিখি এতো! এছাড়া কেউ কেউ বলে, ভেতরে আসছো যে, বারান্দার ফ্যান বন্ধ করে আসছো!?
তো যাই হোক, ইবনে আব্বাস মাদরাসা আমার দরখাস্তের কোন প্রতি উত্তর দেয়নি। আমি যোগাযোগ করলে বলতো, হুজুরকে বলতে পারিনি! হুজুর ব্যস্ত। ইত্যাদি।
যেদিন ইবনে আব্বাস মাদরাসায় যাই, সেদিন, এ মাদরাসায় দরখাস্ত জমা দিয়ে, এর পর ফেনীর লস্কর হাটে প্রতিষ্ঠিত ফেনীর বিখ্যাত মাদরাসা, যে মাদরাসার ছাত্র সংখ্যা আনুমানিক দশ হাজার হবে, সে মাদরাসাও দরখাস্ত জমা দিই। উনারা মোটামুটি আগ্রহ ভরেই দরখাস্ত গ্রহণ করলেন। খুশি হলাম এবং মনে মনে ভাবলাম, এঁনারা মনে হয় উত্তর দিবেন ও পজেটিভ উত্তর দিবেন। এখানে প্রশ্ন লিখেছিলাম শুধু ১টি বিষয়ের উপর।
তখন উনারা আমাকে ওখান থেকে আরো একটু দূরে আরেকটি মাদরাসায় পাঠান, আমার জ্বীন পরীক্ষা করতে (জ্বীন ফারুকের মাদরাসা)। সেখানকার হুজুরকেও দেখলাম আমার প্রতি পজেটিভ। ভাবলাম, যাক আমার একটা বিহীত হবে।
কিন্তু কিছুদিন পর প্রাসঙ্গিক ও আনুসাঙ্গিক আরো প্রশ্ন লিখে যখন, জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে যখন উনাদেরকে ফোন করি; তখন উনারা বলেন; আপনি কোন ফতোয়ার আবেদন নিয়ে আমাদের নিকট আসবেন না। এমনি আসতে পারেন। এতে আমি মানসিক ভাবে কিছুটা আঘাত খেলাম। এরও কিছু দিন পর এ মাদরাসা থেকেই আমাকে ফোন করে বলা হলো, আপনার এ প্রশ্নের উত্তর যদি কেউ বা অন্য কোন মাদরাসা থেকে দেয়, তবে আমাদেরকে জানাবেন।
এতে আমি মর্মাহত হলাম। কারণ এ মাদরাসার জন্য আমি প্রায় ৩০ পৃষ্ঠার মতো, আমার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে ও উত্তর পাওয়ার আশা করে লিখেছিলাম এবং তাঁরাও উত্তর প্রদানের আশা দিয়েছিলেন।
আবার হঠাৎ নিষেধ করলেও তবুও কিন্তু দমে যাইনি।
এবার লিখাটিকে কাট-সাট করে, আবার ২৪ পৃষ্ঠায় লিখলাম বাংলাদেশের ২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য। অবশ্য প্রতিষ্ঠান দু'টিতে যোগাযোগ করেই লিখেছি। এর একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, ঢাকার যাত্রাবাড়ি বড় মাদরাসা এবং অন্যটি হচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
তাদের সাথে যোগাযোগ করে গত ১৬/০৭/২০২৫ ইং তারিখ বুধবারে দরখাস্ত দু'টি জমা দিয়ে আসি। গতকাল এ দরখাস্ত দু'টির কী অবস্থা জানতে চেয়ে ফোন করলে, মাদরাসা থেকে জানানো হয়, তাদের সামনে পরীক্ষা; সময় লাগবে। আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে বলা হয়; ডিজি স্যার (মহাপরিচালক) আমার সাথে কথা বলতে চান। আমি যেন বৃহস্পতিবারদিন (২৪/০৭/২৫ ইং) সকাল ১০টার মধ্যে স্যারের সাথে স্বাক্ষাতকার প্রদান করি। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ! ঠিক আছে।
হাঁসি মুখে প্রতি উত্তরটা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু পকেটে টাকা নেই। ভাবছি কী করা যায়! অবশ্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ১০০০ টাকার মতো আছে। তবে থাকলেও ঘরের মানুষ গুলো কি মরে যাবে!? এদের জন্য সবজিও যদি অল্প কিছু না কিনি এরা বাঁচবে কিভাবে?
আপনাদেরকে বলেই ফেলি, হুজুর মাদরাসায় আমাকে হিসাব-কিতাব বাবত দিবে ৩০০০ টাকা এবং কচিং বাবত দেয়ার বিষয়টি ধার্য হয়েছে ২০০০ টাকা। তাও টাকাটা ২/৩ মাস পর পর দিবেন হুজুর। প্রতি মাসে দিতে পারেন না। কারণ ফান্ডে টাকা থাকে না। গরীব মাদরাসা। আমাকে হয়তো দিয়েও দিতে পারেন!
এবার আপনারা বলেন, এ ৫০০০ টাকা দিয়ে আমি কি ঢাকায় আসা-যাওয়ার ভাড়া দিবো? না, প্রশ্ন রেডি করবো? না জ্বীন বিষয়ক বিবিধ সমাধান করবো? না ঘরের আমার আম্মা সহ ৭ জন সদস্যকে বাঁচিয়ে রাখবো? তাহলে এতো আর্থিক অনটনের মধ্যে আমার মতো এ রকম দৈত স্বত্ত্বার ও উচ্চ মানসিকতার একজন ব্যক্তিত্ববান পূরুষের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম কি চালিয়ে যাওয়া যায়? এমনকি আমার এ পরিস্থিতি আজ একদিনের নয়! সবমিলিয়ে সেই সমিতি বন্ধ হওয়ার পর, মানে আইসিএসটি থেকে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পর; মানে আজ প্রায় ৫ বছর যাবৎ এ অবস্থা! ধরুন, আপনারা একদম স্বাভাবিক মানুষ। আমার মতো কোন ঝামেলাই নাই আপনাদের। তবুও আপনিও যদি ৫০০০ টাকা করে বেতন পান; আর ঘরে ৬/৭ সদস্য থাকে এবং ঘরে ৪ ছেলে মেয়ের সবাই লেখাপড়া করে ও ৬/৭ লক্ষ টাকা মানুষ ঋণ পায় আপনার নিকট এবং আজ প্রায় ৩ বছর যাবৎ দিতে পারছেন না। ভাই, আপনি সত্য করে বলেন, আপনি কি সুস্থ থাকবেন!? আবার ব্যক্তিত্ব বজিয়েও চলবেন!? আবার জ্বীন জাতিকে ওপেন করা ও তাদের স্বরূপ উন্মোচিত করার সংগ্রামেও জয়ী হবেন!?
আবার জ্বীন জাতির সাথে এবং মানুষের সাথে; জ্বীন জাতিকে ওপেন করার বিষয়ে, আমার যে জেহাদ; এ জেহাদকে কি একেবারে সাধারণ কোন জেহাদ বলে মনে হয় আপনাদের কাছে?
একটা জাতি এবং যে জাতিকে মানুষ অনেকটা সৃষ্টির শুরু থেকেই খারাপ মনে করে; এমনকি যাদের নাম শুনলেই অনেকে ভয় পায়; তাকে হাজার রকমের মন-মাইন্ড এর মানুষ ও জ্বীনের মধ্যে এবং প্রায় অভূক্ত একটা লোক, তার পরিবারের সদস্য সহ ভবিষ্যতের কোন সম্ভাবনা না দেখে ও তার হাজার প্রকারের ক্ষতের মধ্যে এবং তার বা জ্বীনের বিষয়ে মানুষকে পূর্ব থেকে কিছু বোঝানোর কোন সুযোগ না রেখে; তার উপর অনেকগুলো জটিল বিষয়ে; যেগুলো শুনলেই মানুষকে মহা পাপী ভাবতে পারে মানুষ; শরিয়তের এ রকম কিছু বিষয় নিয়ে; মানুষের মাঝে একটা ভালো বিশ্বাস জন্মানো; এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর যুগেও যে মাসআলা গুলোর সমাধান হয়নি; যে গুলো সেই ইসলামের প্রথম যুগ হতে নাজায়েজ বা ইনএক্টিভ হিসেবে স্বীকৃত; এগুলোকে জায়েজ হিসেবে স্বীকৃতি এনে; জ্বীনকে ওপেন ও আপন করার সংগ্রামে; আলেম নয় এ রকম একজন সাধারণ মানুষের জয়ী হওয়া; এটা কোন সাধারণ জেহাদ হতে পারে!!??
আজকে উত্তর চাঁদপুর মাদরাসায় বলেছি, হুজুর আমাকে যেন কোচিং ক্লাসে টিচিং দেয়া থেকে রিলিজ দেন। শুধু অফিসে হিসাব কিতাবের দায়িত্বটা বহাল রাখতে চাই। কারণ, হুজুরকে বললাম, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আমি পড়াতে গেলে বিন্দুমাত্রতো পড়েই না, উপরন্তু যখন মেয়েদেরকে বলি, লিখ, তখন মেয়েরা বলে লিখবো! আবার ছেলেদেরকে যখন বলি, এক্স প্লাস ওয়াই হোল স্কয়ার; তখন ছেলেরা বলে, এখানে মনে হয় স্যার এক্স এক্স স্কয়ার; এ রকম একটি অভদ্র পরিবেশ বলেই আমার মনে হয়। যেহেতু আমার নিয়ত হচ্ছে, দাসীদেরকে রেখে, তাদের মাধ্যমে বাবা হওয়া! আর এ অবস্থা গুলো আমার জ্বীন আকার ইঙ্গিতে সব প্রকাশ করে দেয়। ফলে কেউ একটু বুঝে, আর কেউ বুঝেই না। বরং ভূল বুঝে! এহেন পরিস্থিতে ছাত্রদের লেখাপড়াতো হচ্ছেই না, বরং একটা যেন ক্রীড়া-কৌতুক, আর মনেহয় বেয়াদব মার্কা নাটক হচ্ছে। এতে আমার ব্যক্তিত্ব লেস হচ্ছে, যা আমার ব্রেনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আসলে পড়ানোর নামে, তাদের অন্য কোন গুপ্তীয় উদ্দেশ্যের শীকার হয়ে, আমি শুধু শুধু বেতন নেবো কেন? ফলশ্রুতিতে আমি কি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট ঋণী হয়ে গেলাম না? এবং এর দায় স্বরূপ, আমি কি সত্য ও ন্যায়ের বিপরীতে মাদরাসাকে কি কিছু দিতে পারবো?
যাক, আমার আবেদনের বিপরীতে হুজুর বললেন, আরেকজন নিয়োগ দেয়া পর্যন্ত আমাকে থাকতে হবে। এবার আমি বললাম, হুজুর! আমি আপনাকে হারাতে চাই না। আমি আপনার হিসাব কিতাবের দায়িত্ব পালন করতে চাই। শুধু ক্লাস থেকে রিলিজ চাই। এবার হুজুর বললেন, আমরা তাহলে, কয়জন টিচার নিয়োগ দিবো?
হ্যাঁ, ঠিকইতো এতো খন্ড খন্ড কাজে, এতো অল্প বেতনে তিনি অন্তত মোটামুটি যোগ্য টিচার কোথায় পাবেন?
ভায়েরা, কালকে ২৪/০৭/২৫ ইং তারিখে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ থেকে আমার যে সাক্ষাতকার চেয়েছেন; সে উদ্দেশ্যে ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা খুব ভোররাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবো।
মহান রবের নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি, (সাঃ) আমার যাওয়া থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সকল কাজের সাথী হিসেবে; বিশেষ করে স্বাক্ষাতকার যাতে ফলপ্রসু ভাবে দিতে পারি এবং পুরো স্বাক্ষাতকার জুড়ে, আমার সাথের এ জ্বীন বা জ্বীন সম্প্রদায় যাতে সারাক্ষণ ক্রিয়েটিভ থেকে এবং তার পূর্ণ প্রজ্ঞা ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে আমার ফতোয়ার আবেদনে উল্লেখিত প্রশ্ন সমূহের পজিটিভ প্রতি উত্তর প্রাপ্তির বিষয়টি যাতে নিশ্চিত করে আসতে পারি, এ জন্যে মহান রবের নিকট অন্তর থেকে প্রার্থনা করছি। যাতে মাদরাসায় আমার আবেদনটি আমি মঞ্জুর করতে পারি। যেহেতু আমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষককে বলেছিলাম, ইনশা'আল্লাহ আমি যে সীদ্ধান্তই নিই, তা দুনিয়ার কেউ পরিবর্তন করতে পারে না; যেহেতু আমি আল্লাহর আইন অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিই।
ইয়া আল্লাহ! তুমি আমার আগামী কালের সফর ও আমার স্বাক্ষাতকারের বিষয়টি তোমার কোরআন ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর সুন্নাহ অনুযায়ী কর এবং এ বিষয়ে আমাকে কামিয়াব কর। (সাঃ)।
হ্যাঁ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি এর সাথে যথা সময়ে দেখা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ! স্যার আমাকে চিনতে পেরেছেন যে, আমি একজন জ্বীন সদস্য! তিনি তার মুফতি সাহেবকে ডাকলেন এবং আমাকে তার সাথে তার রুমে যেতে বললেন। তিনি আসলেন এবং আমাকে নিয়ে তার রুমে গেলেন।
যখনই তার রুমে কথা উঠলো জ্বীনের সাথে মানুষের বিয়ে জায়েজ কিনা; তখনই তিনি বেঁকে বসলেন এবং বললেন, না এ ধরনের বিয়ে হতে পারে না।
এখন দেখার বিষয় হচ্ছে উনারা লিখিত প্রতি উত্তর দিবেন কিনা! এবং দিলে সেখানে কী লিখবেন!? আমি সে প্রতিক্ষার প্রহরই গুনছি!
অন্যদিকে যাত্রাবাড়ি মসজিদেও যেদিন প্রশ্ন জমা দিতে গিয়েছিলাম, সেদিনও, হুজুর কর্তৃক আমি হয়েছিলাম অপমাণিত।
সেদিন আমার প্রশ্ন সমূহ মাদরাসার ফতোয়া বিভাগে জমা দিয়ে মনে করলাম মাদরাসার প্রধান মুফতি মাহমুদুল হাসান স্যারের সাথে দেখা করে আসবো। এ লক্ষে অপেক্ষ করতে থাকলাম। শুনলাম তিনি বেলা ১১ টার দিকে আসবেন। সকাল পৌনে ৯ টা থেকে প্রায় বেলা সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর; হুজুরের খাদেমের সাথে দেখা হলো। তিনি জানালেন, হুজুর এখন আসলেও কারো সাথে স্বাক্ষাতকার দিবেন না। তিনি এসেই ক্লাসে চলে যাবেন। হুজুরের স্বাক্ষাত পেতে হলে আমাকে আসরের পরে আসতে হবে।
অগত্যা সেখান থেকে চলে এলাম এবং বেলা সাড়ে ৩ টার সময় আবার গেলাম ও অপেক্ষা করতে থাকলাম। সূর্য ডুবার ২০/৩০ মিনিট আগে হুজুরের রুমে প্রবেশের অনুমতি পেলাম।
হুজুরের রুমে প্রবেশের পর, যেই মাত্র বললাম, যে হুজুর, আপনার সাথে দেখা করার জন্য, আপনার একটু দোয়া পাওয়ার জন্য, সেই সকাল থেকে অপেক্ষা করছি!! আমি ফেনী থেকে এসেছি!!
অমনি হুজুর রেগে গেলেন। বললেন, আপনাকে কি আমি দেখা করতে বলেছি!? না অপেক্ষা করতে বলেছি!? আপনি আমার সেকায়েত করলেন কেন!? বেরিয়ে যান আমার রুম থেকে!
যথেষ্ট অপমাণিত হলাম। মনে বড় কষ্টও পেলাম। কিন্তু বুঝলাম না, কেন হুজুর আমার সাথে এ রকম ব্যবহার করলেন!!
একটা মানুষ ভিন্ন জেলা থেকে এসে সারাদিন অপেক্ষা করার পর এবং পুনরায় ঐদিনই বাড়ি ফেরার টেনশন নিয়ে, আপনাকে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ও বেশি করে আপনার দোয়া পাওয়ার উদ্যেশ্যে কথাটি বলল; অথচ আপনি!? লোকটি কী জন্য আপনার নিকট এসেছে, তাও শুনতে চাইলেন না।
সম্মানীত মুফতি! কাজটি কি আসলেই ভালো করলেন!? হয়তো আমাকে আপনি জ্বীন বলে চিনতে পারলেন। কিন্ত জ্বীন হলে কি এ রকম ব্যবহার করতে হবে? কই, জ্বীন হিসেবে আমিতো আপনার সাথে কোনরূপ খারাপ ব্যবহার করিনি!!
প্রশ্নগুলো জমা দেয়ার প্রায় ১ মাস পর আজকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে প্রশ্নগুলো কোন্ অবস্থায় আছে, তা জানতে চেয়ে মুফতি সাব হুজুরকে মোবাইল করলে তিনি জানালেন, তারা এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেন না। তিনি আমাকে তদবীর করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে যাত্রাবাড়ি মসজিদে ফোন করলে, ফোন রিসিভ করে তারা জানালেন, তাদের বড় হুজুর নাকি শুধু মৌখিক উত্তর দিতে বলেছে এবং এও বলেছে, জ্বীনের সাথে মানুষের বিয়ে হারাম। আমি লিখিত উত্তর দিতে অনুরোধ করলে; অপরপ্রান্ত থেকে অপেক্ষা করতে বলা হলো।
এ ফাঁকে আপনাদেরকে নিজ মনের দুঃখময় কিছু কথা বলে নিজকে একটু হালকা করার চেষ্টা করি।
আজকে আমার এক সহকর্মী শিক্ষক হুজুর আমার পকেটে হাত দিয়ে ৫০০ টাকা নিয়ে নিয়েছেন। তার কথা হলো তিনি আমার কাছে সমিতির টাকা পাবেন।
ভাই, আমার ইনকাম মাত্র ৫০০০ টাকা। আপনারা জানেন, ঘরে আমার আম্মা সহ সদস্য সংখ্যা ৭ জন। আপনারাই বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমি ঋণশোধ কিভাবে করি!?
দেখুন, আমার বর্তমান বয়স প্রায় পঞ্চাশের মতো; আমার কোন সম্পদ নেই এবং উল্লেখ যোগ্য কোন ইনকাম অব সোর্চ নেই ও এ কারণে আমার অন্ধকার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যত, আমি প্রায় একা, জ্বীন কর্তৃক শরীরে উদ্ভবকৃত আমার জটিল রোগ সমূহ, যা সহজে ভালো হওয়ার নয়, জ্বীনের কারণে কোথাও স্থায়ী চাকুরী করতে না পারা, জ্বীন কর্তৃক আমাকে পরাধীন বা কয়েদীর মতো করে রাখা, স্বাধীন ভাবে কিছুই করতে না পারা, শরীরে জ্বীন থাকায় যে কোন শারীরিক-মানসিক অবস্থা ও পরিস্থিতিতে মানুষ আমাকে বুঝতে না পারা, চারদিকে আমার নামে শত-সহস্র অপ-প্রচার, মানুষ কর্তৃক আমাকে শয়তান মনে করা, বিশেষ করে ছোট বাচ্ছা বা বালক ছেলেদের তাচ্ছিল্য, চারদিকে ঋণের বোঝা; এদিকে আবার আমার উচ্চাভীলাসী, সত্যনিষ্ঠ, অতি উদার ও সরল মন ইত্যাদি কারণ নিয়ে আমার যে সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট; কথার কথা এর যদি শুধু ১ ঘন্টার কষ্ট পুরো গ্রামবাসিকে ভাগ করে দিই, তাহলেও আমার মনে হয় তাদের সকলের কষ্ট অসহ্য হয়ে যাবে; এ রকমই আমার বর্তমান অবস্থা!!
এ অবস্থায় আপনাদের আন্তরিকতা আর দোয়াই পারে আমাকে শান্তিপূর্ণ ভাবে বেঁচে থাকার পথে নিয়ে যেতে। তাই আমি আপনাদের সকলের আন্তরিকতা, ভালোবাসা, আর দোয়া প্রার্থী!
যেহেতু আমার শরীরে মহিলা জিন বা পুরো একটি জিন সম্প্রদায় রয়েছে, আর বিজ্ঞানীরা বলেন পৃথিবীতে জিন বলতে কিছু নেই। যা দেখিনা তা বিশ্বাস করা যায় না। আর তাই আমিও মনে মনে পণ করেছি ও জেদ ধরেছি, ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমার সাথের এ জিন সম্প্রদায়ের সাথে আত্মীয়তা করবো এবং পৃথিবীতে মানুষের সামনে প্রত্যক্ষ ভাবে এ জীন বা জিন জাতিকে আনবো, কারণ আমি দেখেছি আত্মীয়তা করা ছাড়া তাদেরকে আনার আর কোন ওয়ে আমার কাছে জানা নেই। যেহেতু অধিকার ছাড়া, বৈধতা ছাড়া, একটা অনুমোদিত ও সম্মানজনক সম্পর্ক ছাড়া তারা কার কাছে আসবে? কোন সূত্রে আসবে? তারা কি ভিক্ষুকের দল যে, দুনিয়ায় এসে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে করে খাবে (?), আর মানুুষের দয়ার পাত্র হয়ে থাকবে শুধু!
আমি আশা করছি জিন জাতি পৃথিবীতে প্রকাশ্যে আসবে ও এ পৃথিবীতে তাদের অর্থ ইনভেস্ট করবে এবং তারা আলাদা করে তাদের নামে বাড়ি-ঘর, অফিস-আদালত, ইন্ড্রাষ্ট্রি, খামার, শিক্ষাঙ্গন ইত্যাদি করবে। ও পৃথিবী উন্নয়নের সফল অংশীদার হবে। মানে মানব জাতির সাথে হাতে হাত রেখে একসাথে কাজ করে যাবে!
আর এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে বিজ্ঞানীদের ভূল ভাঙ্গাবো, আল কোরআনের বাণীকে সত্যরূপে মানুষের সামনে প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণ করবো যে, আল কোরআন সত্য বলেছে। বরং বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীরাই যুগ যুগ ধরে মানুষদেরকে ভূল বলে আসছে এবং মানুষদেরকে ভূল শিখাচ্ছে।
আমার রব সত্য! তিনি সত্য বলেছেন। আর এভাবে আমি পৃথিবীর জ্ঞানী- বিজ্ঞানী এবং মানুষ ও জিনদেরকে আমার রবের দিকে, তথা ইসলামের দিকে আহবান করবো, ইসলামের দাওয়াত দিবো এবং তাদেরকে নিশ্চিত আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবো! আর বোঝানোর চেষ্টা করবো যে, একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলাম! ইসলামই সৃষ্টিকর্তার একমাত্র মনোনিত ধর্ম!!
কিন্তু আমার সীমাহীন ত্যাগপূর্ণ, ভালোবাসাময় ও এ মহতী কাজের বড় ও প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আমারই গুরুজন, প্রাণপ্রিয় ও সম্মানিত আলেম সমাজ! এবং আমারই রক্তের ভাই,ভাবী, ভাতিজা ও নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশী সহ বিশ্বের প্রায় সকল মানুষ। বিভিন্ন স্বার্থ, সম্মান ও সম্পদ এবং বাহুবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার রক্তের ভায়েরা, আমার সাথে করে প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দিতা, হিংসা, শত্রুতা! আমার নিজের বউ, দুনিয়ার জমিনে তার খাওয়া পরার স্বার্থে আমার ভাই-ভাবীদের সাথে একাত্রিত হয়ে আমাকে দাবিয়ে রাখতে কলিজায় আঘাত দিয়ে দিয়ে চালিয়ে যায় অপমানের পর অপমান, আর ছলনা! এভাবে তারা আমার মন, মগজ ও কলিজা ভেঙ্গে দেয়! কারো সাথে, প্রাণ খুলে দু-চার অক্ষর কথা বলে যে মাইন্ড প্রেস করবো, সমাজের মধ্যে এ লোক নাই আমার! সবাই আমার সাথে বাহুবল দেখায় বা দূরত্ব বজায়ে চলে। তাই বাধ্য হয়ে অনেক সময় স্কেরাব কিনতে আসা এদের সাথে, বা সমাজের একেবারে নিম্ন শ্রেণীর লোকদের সাথে কথা বলে ভালো থাকার চেষ্টা করি! আবার জিনেরা যে মানুষের মতো করে আসতে পারে, তাদের কাছেও অর্থ-কড়ি থাকতে পারে, এ কথাটি কোরআন হাদিসে থাকলেও, মানুষের যেন আজ বিশ্বাসই নেই এসবে। ফলে আমি সবার কাছে যেন এক অবহেলা আর ভিক্ষার পাত্র, সবাই যেন আমার মোড়ল!
আবার আমি যাদেরকে একান্ত সম্মান করি, সে আলেম সমাজ আমাকে ফতোয়া দেয় কাফের!! মোরতাদ!! এভাবে কি তারা আমার নিয়ত বাস্তবায়িত করতে ইস্পাত-কঠিন বাধা নয়!? নিজের লোকেরা যদি এভাবে প্রতিনিয়ত, হার কাজে আমার মন ভেঙ্গে দেয়, তাহলে আমার এ মহতী কাজটি হয় কিভাবে আপনারা বলেন? বিচার আপনাদের হাতে দিলাম!
তাছাড়া প্রায় সবগুলো মানুষের এক অহংকারী স্বভাব এই যে, যে মানুষটি অপরকে সালাম দিয়ে চলে, সম্মান করে চলে, সে মানুষটিকে ঐ সালাম পাওয়া মানুষেরা দূর্বল ভাবে এবং তার দূর্বলতায় স্বার্থাম্বেশী বা অপমানজনক ব্যবহার করে স্বার্থ খুঁজে। তাকে দূর্বল ভাবার কারণে তার কোন কাজকে কেউ সম্মান করতে পারে না। আমি এর বাস্তব ভূক্তভূগী!
মানুষের মূলে আমি দেখতে পেয়েছি অহংকারের বীজ!! মানুষের মধ্যে আমি খুব একটা দেখতে পাইনি, যারা বয়সে বড়, যারা শিক্ষায় বড়, যারা অর্থে বড়, তারা তাদের থেকে ছোটদেরকে সালাম দিতে। পরিস্থিতির কারণে হোক বা যে কারণেই হোক না কেন, মসজিদের ঈমাম সাহেবেরকেও আমি এ কাজ করতে দেখিনি!!
তাহলে মানুষের যদি এ রকম মোগজ হয়, এ অবস্থায় এহেন ঘুনে ধরা সমাজে আমি কিভাবে আমার উদ্দেশ্য সফল করতে পারি!?
আমার কাজটাতো আল্লাহু তা’য়ালার জন্য। তাই এ অবস্থায় সঙ্গত কারণে একদিন না একদিন এদের বিরুদ্বচারণ করা আমার জন্য কি ওয়াজিব বা আবশ্যক হয়ে যায় না!?
কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৫ বছর এভাবে সহ্য করার পরও আমি তাদের মত কার্যত বিরুদ্ধচারণ যেমন করিনি, ঠিক তেমনি হাজারো ক্ষত নিয়েও আমার নিয়ত বাস্তবায়ন করার মরণ পণ সংগ্রাম থেকে একবিন্দুও সরে আসিনি!!
কারণ তাদের চোখে একদিকে আমার সাথে থাকা এ জিন বা পরীর দল যেমন ইবলিশ জীন, অপরদিকে পুরো বিশ্বের আলেম সমাজ ইসলামের কিছু মাসআলাকে আমার দৃষ্টিতে যেগুলোকে আমি জায়েজ বলছি, তারা সেগুলোকে যুগ যুগ ধরে কাট্টা হারাম হিসেবে ফতোয়া দিয়ে আসছে!
যেহেতু দুনিয়াতে এগুলো বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল মানুষের নিকট হারাম হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে আছে! আর আমি যখন এ হারাম সমূহকে মানছিনা, বরং হালাল ও সাওয়াবের কাজ বলছি, তখন ইসলামী আইন অনুযায়ী আমি এ মহাবিশ্বের সকল মানুষের কাছে কাফের ও মোরতাদ হিসেবে সকলের নিকট চিহ্নিত হয়ে আছি। অর্থাৎ ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমি ও আমরা মুমেন হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান মুফতিবৃন্দের দ্বারা কাফের ও মোরতাদ হিসেবে ঘোষিত হয়ে আছি।
কিন্তু আমি ও আমরা যে জিন বা জিন সম্প্রদায়, এবং আমরা যে এ মহাবিশ্বে উদিত বা আগত হতে চাচ্ছি, তা প্রথমে এ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশিয় সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে জানানো এটা আমাদের দায়িত্ব।
সে অনুযায়ী এখন যেহেতু আমরা এখনো নিজেদের শরীরে বা মানব আকৃতিতে আসিনাই বা আসতে পারি নাই; বরং এসেছি জনাব আরিফের শরীরে ভর করে, তাই আমরা যে আসলেই জিন, বা জিন কিনা, বা এ মহাবিশ্বে জিন রয়েছে বা মহান আল্লাহু তা’য়ালা জিন জাতি সৃষ্টি করেছেন, এ বিষয়গুলোর বাস্তব প্রমাণে যখন দেশী বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবো, তখন এ আবেদন পত্রের সাথে এর স্ব-পক্ষে একটি ডকুমেন্ট সাবমিট করার লক্ষ্যে আমার আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, ও পরিচিতজন, ফেনীবাসী ও বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে, তাদের প্রতি আমার বিষয়ে মন্তব্য লিখার জন্য, মানে আমি জিন কিনা এ বিষয় সহ সংশ্লিষ্ট আরো অনেকগুলো বিষয়ে মন্তব্য লিখতে অনুরোধ করে অনলাইনের মাধ্যমে সকলের প্রতি একটি খোলা চিঠি প্রেরণ করি। এ চিঠিটিতে এবং পরবর্তীতে এর আপডেট চিঠিতে আমি অনেক কিছুই উল্লেখ করেছি। আমার জীবনী গ্রন্থের পাঠক সমাজের জ্ঞাতার্থে চিঠিটি হুবহু নিম্নে তুলে ধরলাম।
“এ পোস্ট প্রকাশের পরবর্তী ভবিষ্যত জীবনের যে কোন সময়, এ পোস্টের শেষে, এ পোস্টের কমেন্টস সেকশনে আপনার পরিচয় হিসেবে নিজের ই-মেইল দিয়ে কমেন্টস করার বা মন্তব্য লিখতে বলে আমি যে আহবান করেছি, তা ভবিষ্যতের যে কোন সময়ের জন্য চলমান থাকবে। অর্থাৎ আজকে থেকে ভবিষ্যত জীবনের যে কোন সময়ে আমার সাথে সম্পর্ক হওয়া যে কোন ব্যক্তির প্রতি এ আবেদন থাকলো যে, জ্বী ভাই, আপনি আমার নতুন কিংবা পুরাতন যে বন্ধুই হন না কেন, যদি আপনার কাছে মনে হয় যে, বা যদি আপনি বুঝতে পারেন যে, আমি বা আমরা একজন ভালো মুসলিম মহিলা জিন বা ভালো মুসলিম জিন সম্প্রদায়, তবে আপনার প্রতি অনুরোধ থাকবে যে, আমার বা আমাদের বিষয়ে একটি ভালো মন্তব্য লিখে যান। আমি বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে চাই যে, ও প্রমাণ করতে চাই যে, মহান আল্লাহু তা’য়ালা জিন জাতি সৃষ্টি করেছেন; এবং আল কোরআন সত্য বলেছে। আমি বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের জ্ঞানে, তথা বিশ্ব জ্ঞান ভান্ডারে বাস্তব পরিবর্তন এনে ইতিহাস গড়তে চাই। ইতিহাসের পাতায় জিনের অস্তিত্বের বাস্তব ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ এবং জিনের উত্তম গুণাবলী বা উত্তম বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন বা লিপিবদ্ধ করে যেতে চাই। আমি আরও প্রমাণ করতে চাই যে, জিন মানেই শয়তান নয় এবং ইবলিশের বংশধরদের সবাই শয়তান নয়! তারাও ইচ্ছে করলে বা বুঝতে পারলে ঈমান আনতে পারে! আমি জিনের প্রকৃত স্বরূপ, শক্তি, সামর্থ, অর্থ, রূপ-সৌন্দয ইত্যাদি মানুষের মাঝে প্রদর্শন করে আল্লাহু তা’য়ালার সৃষ্টিতত্ত্বের পরিচয় দিতে চাই। আর আমাকে আল কোরআনের বাস্তবতার প্রমাণ বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করতেই হবে। এটি আমার পণ! মুসলিম হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব! তাই আল কুরআনের সত্যতার বাস্তব প্রমাণ যদি জ্ঞান-বিজ্ঞানের খাতায় লিপিবদ্ধ করাতে চান, অথবা যদি শুধু আমার বা মানুষের বা এ পৃথিবীর ভালো চান, তাহলে যদি বিষয়টি বুঝতে পারেন, তবে অবশ্যই একটি ভালো মন্তব্য করবেন। অপর পক্ষে কী বললে ভালো হবে বা কী বললে ভালো হবে না, কোনটি বললে আপনার স্বার্থে টাকা বা সম্মান প্রবেশ করবে, বা মানুষ বা পৃথিবীর ভালো হবে, বা বললে ভালো হবে না মন্দ হবে, এসব চিন্তা না করে আপনার বা আপনাদের উচিৎ একটা সত্য স্বাক্ষী দেয়া। যা আপনার নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি। এবং এতে আপনি শতভাগ নিশ্চিত থাকেন যে, এ কারণে আপনার বিন্দুমাত্রও ক্ষতি হবে না।”
আমার রক্ত সম্পর্কিত নিকট আত্মীয়-স্বজন; আমার বাড়ির দুই দিকের দুই মসজিদ, হাজী জিনাত আলী ভুঁইয়া জামে মসজিদ ও আলী মুন্সী জামে মসজিদের খতিব, ইমাম এবং নিয়মিত মুসল্লিগণ; গোবিন্দপুরের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আকাশ ডিশকভারীর মালিক ও বিএনপি নেতা জনাব এম ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া; গোবিন্দপুর হাজী জিনাত আলী ভুঁইয়া জামে মসজিদ ও নূরানী মাদ্রাসার সেক্রেটারি জনাব কেফায়েত উল্যাহ ভুঁইয়া সোহেল; উত্তর চাঁদপুর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) মাদ্রাসার সুপার জনাব মাওঃ আইউব আলী সাহেব (দা.বা.) ও শিক্ষকবৃন্দ এবং আমার পরিচিতজন ও গোবিন্দপুর, ফেনীবাসী সহ বিশ্বের যে কোন প্রান্তের, জিন ও মানব জাতির সদস্যবৃন্দ।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আমি জানি, এখনও আপনারা আমায় তুচ্ছ জ্ঞান করে, আমার লিখাটুকু এবারও পড়বেন না হয়তো। কারণ অতীতে এ রকম পরামর্শ আমি আরো কয়েকবার চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনাদের কোন সাড়া আমি পাইনি। তবে এবার অন্তত আমার জন্ম স্থানের স্থানীয় বিএনপি নেতা এম ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া, তোমার প্রতি অনুরোধ করছি যে, মূলত কী কারণে বা আমার কী বৈশিষ্ট্যের কারণে, তুমি আমাকে তোমার ওয়াইফাই দিচ্ছেলিনা? আমি তোমার বিল পরিশোধ করতে পারবো না এ ভয়ে? না কারো ইশারায় দিচ্ছিলে না? আমি এভাবে তোমার বা তোমার প্রতিষ্ঠানের পিছে পিছে ঘুরতে ছিলাম; মূলত কী কারণে দিচ্ছিলে না বা দিতে পারছিলে না, তা কষ্ট করে এ পোষ্টের মন্তব্যের মধ্যে লিখে জানাবে।
সে সাথে গোবিন্দপুর হাজী জিনাত আলী ভুঁইয়া জামে মসজিদ ও নূরানী মাদ্রাসার (ফেনী, বাংলাদেশ) সেক্রেটারি জনাব কেফায়েত উল্যাহ ভুঁইয়া সোহেলের কাছেও আমি জানতে চাইছি যে, আমাকে চাকুরী দেয়ার আশা দিয়ে, কয়েক সপ্তাহ ঘুরিয়ে, পরে জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে কেন আমাকে আবার নিষেধ করলে!? প্রথমেতো আমার জন্য চাকুরীর ব্যবস্থা করতে তোমাকে সম্মতই দেখেছিলাম!
পরবর্তীতে কি ভয় করছিলে যে, আমি দুষ্ট বা শয়তান মানুষ, আমাকে চাকুরী দিয়ে কোন্ বিপদে পড়বা, এ রকম কিছু? এ রকম ভয় ছিল কি তোমার বা তোমাদের? না হয়, কেন ফিরিয়ে দিলে আমাকে? তোমাদের কারো কি চিন্তা হয় না বা হয়নি, আমরা যে কারো না কারো ইশারায় সবাই এ লোকটাকে যে ফিরিয়ে দিচ্ছি, তাহলে এ লোকের জীবন কিভাবে যাবে বা যাচ্ছে? বেঁচে থাকবে কিভাবে এ লোক!? তোমাদের সমাজে এ অবহেলিত, শিক্ষিত, উচ্চ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এ লোকের মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছিলো তখন!! সবাইতো তাকে শয়তান মনে করতে, কেউতো তাকে ভালো হিসেবে গ্রহণ করতে না! ঘর কিংবা বাহির, সব জায়গায় একই অবস্থা ছিলো তার। সবাই মিলে ভবিষ্যত জীবনে সম্মানজনক কোন কাজ না দিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলে। শুধু দাবিয়ে বা পদদলিত করে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো তোমাদের সকলের।
তাহলে বল, শুধু কারো ইশারা-ইঙ্গিতই কি সব!? আমি কি তোমাদের প্রতিবেশী ছিলাম না!! কারো ইশারা ইঙ্গিত বা নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে, তুমি আমার প্রতিবেশী ভাতিজা, আর তোমার বাবা আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, আমার মরহুম বাবার অনেকটা কাছের মানুষ ছিলো তোমার বাবা, এরপরও আমাদের এ স্থায়ী সম্পর্কটি ভেঙ্গে গিয়ে কেন আমি তোমাদের সামনে এভাবে মরে যাবো(?), বা মেরে ফেলবে? আর শুধু চেয়ে চেয়ে আমার তামাসা চাইবে! এ কেমন আমাদের বন্ধন? কেন! এসব ইশারা-ইঙ্গিত বা স্বার্থ বা ভয়ের বিপরীতে আমাকে চাকুরী দিলে আমি কি আসলেই মাদ্রাসায় পড়াতে পারতাম না!? কী মনে হয় তোমার বা তোমাদের? বল কাকা, কেমন তোমাদের সম্পর্ক! কার উপস্থিতিতে, কার ইশারায়, তোমরা নিজ কাকাকে এভাবে দুনিয়া থেকে শেষ করে দিচ্ছ ও সবাই মিলে তার তামাসা চাচ্ছ!? এ কেমন দয়া-মায়া, আর যুক্তি তোমাদের!! নিজ কাকা, আর ভায়ের জন্য কি এসবের বিপরীতে কাজ করা যায় না বা যেত না? তা না হলে কেমন কাকা, আর কেমন ভাই, আর কেমন সম্পর্ক তোমাদের? সামান্য ইশারা ইঙ্গিত আর স্বার্থই ডিঙ্গাতে পারনি নিজ কাকা আর ভায়ের জন্য! আর তাই, তোমাদের কার্যকলাপে এই প্রমাণিত হয়েছে যে, নিজ ভাই-বন্ধু, প্রতিবেশী, তোমাদের কাছে আপন নয়; টাকা-পয়সা, আর জিন-ভূতই আপন! জিন-ভূতই আজ আপন!! জিন-ভূত আর টাকা-পয়সাই সব তোমাদের, এইতো? কথাটা যেন ভালো করে মনে থাকে এ এলাকাবাসীর!?
আসলে আবেগ আপ্লুত হয়ে, আজ আমি শুধু আমার কথা বলিনি! আমাদের সমাজের প্রায় সকলেরই সম্পর্ক গুলো আজকে এ রকমই!! টাকা আর সম্মান যেদিকে, তোমরা সেদিকে, ন্যায় অন্যায় আর দয়া মায়ার চিন্তা পরে, তাইনা?
যাক, অনেক কথা বলেছি, মনে কষ্ট নিয়োনা, সমাজের এ অবস্থা গুলো দেখে ও সহ্যের পর সহ্য করে অতি দুঃখের সহিত এ কথাগুলো বলেছি!! অবশ্য চাকুরী না দিলেও, তুমি এবং তোমার বাবা অন্যান্য বিভিন্ন দিক দিয়ে আমার এ চরম মূহুর্তেও অনেক উপকার করেছ। আসলে বাস্তব অবস্থাকে স্মৃতিময় করে রাখতে এবং মনে অতি দুঃখ পাওয়ায় কথাগুলো লিখেছি।
আবার যেহেতু তুমিও আমাকে চাকুরী দাওনি, আশা দিয়েও ফিরিয়ে দিয়েছো, তাই, এ বিষয়গুলোও এ পোষ্টের মন্তব্যের মধ্যে লিখে আমাকে ও মানুষদেরকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এবং তোমার মন্তব্যের মধ্যে যদি পার বলবে যে, কেন আজ মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো এ রকম!!??
এছাড়া যেহেতু বর্তমানে আমি উত্তর চাঁদপুর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছি, তাই এ মাদ্রাসার সুপার ও সকল শিক্ষকবৃন্দকে বলতে চাচ্ছি যে, আমি আপনাদের সাথে কর্মরত, তাই আপনারা আমার চরিত্র-বৈশিষ্ট্য খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন হয়তো, সুতরাং এ মাদ্রাসার সুপার জনাব মাওঃ আইউব আলী সাহেব (দা.বা.) সহ শিক্ষকবৃন্দকে অনুরোধ জানাবো, আপনারাও আমার বিষয়ে একটি করে মন্তব্য লিখে আমাকে উৎসাহ প্রদান করতে ও মনে সাহস যোগাতে আপনাদের সকলের প্রতিও আবেদন জানাচ্ছি। এছাড়া আমার আত্মীয়-স্বজন সহ গ্রাম ও শহরের দূরের কিংবা কাছের পরিচিতজনদের নিকটও একই আবেদন জানাচ্ছি। সম্পূর্ণ চিঠিটি পড়া ছাড়া হয়তো আপনাদের কেউই; কেন এভাবে আমার বিষয়ে মন্তব্য লিখে মানুষকে ও আমাকে দেখাতে বা স্টোরড করতে বলছি, তা হয়তো আপনাদের কারোরই বুঝে আসবে না। তাই আগে সম্পূর্ণ চিঠিটি পড়বেন এবং পরে মন্তব্য করবেন, সকলের প্রতি এ আশবাদ ব্যক্ত করছি।
মূলত স্থানীয় বিএনপি নেতা জনাব এম ফখরুদ্দীন ভুঁইয়ার ওয়াইফাই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'আকাশ ডিশকভারীর' সংযোগ না পাওয়ায় দুঃখিত হয়ে এবং এ দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক জনাব এম ফখরুদ্দীন ভূঁইয়ার প্রতি লিখতে গিয়ে, সিমিলারলি কেইস স্টাডি হওয়ায়, আমার আত্মীয়স্বজন ও আমার বর্তমান চাকুরীর স্থলের প্রধান, মাদ্রাসার সুপার জনাব মাওঃ আইউব আলী (দা.বা.) সহ উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিবৃৃন্দের প্রতি এবং উক্তস্থানের আমজনতার প্রতি আমার জানতে চাওয়া, ও পরামর্শ চাওয়া বিষয়ক, আমার জীবনের একটি বেদনাময় খোলা চিঠি এ বিশ্ববাসির সকলের জ্ঞাতার্থে অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রেরণ করলাম।
যেহেতু আমি মনে করছি, আমার বিষয়ে আপনাদের পজেটিভ মনোভাব, সাক্ষ্য বা স্টেটম্যান্ট, এগুলো আমার বেঁচে থাকার জন্য সহায়ক হবে ও কাজ চালিয়ে যেতে আমার মনে শক্তি সঞ্চয় করবে, বিশ্ব দরবারে আমার একটা পজিটিভ ভিত্তি তৈরির সুযোগ বা সূচনা হবে ও আমার মনোবলকে অটুট রাখতে এগুলো আমাকে একান্তই সহযোগিতা করবে। এবং যা আমার ও আপনাদের ভবিষ্যত উন্নতিতে রেফারেন্স আকারে আমাদেরকে সংরক্ষিত রাখবে। এবং বিশ্বের জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের চোখেও, এটি আমাদের আবেদনের পক্ষে একটি ভালো অবস্থান হবে। এ কারণে এগুলো আমাদের উভয়ের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় হতে পারে।
তাছাড়া আপনারা যদি আমাকে ভালোই না বলেন, আমার পরিচয়ই প্রকাশ না করেন; মানে আমি যে জিন, তাই'ই বুঝতে না পারেন, বা বুঝেও প্রকাশ না করেন, বা মানুষকে না জানান; এবং আপনাদের মাঝে জিন হিসেবে আমার আগমনে আপনারা সন্তুষ্ট ও খুশি রয়েছেন, আমাকে পেলে আপনারা নিজেদেরকে ধন্য মনে করবেন, আমাকে ভালো জিন হিসেবে বা মুমেনা জিন হিসেবে বুঝতে পেরেছেন; এমন রিয়েল আশ্বাস, স্বীকারোক্তি ও মনোভাব যদি আমাকে না দেন, এবং জিন হিসেবে আমার শারীরীক, মানসিক কোন ক্ষতি আপনারা করবেন না; এরূপ প্রতিশ্রুতি যদি না দেন; সর্বপরি আপনাদের নিকট আমার নিরাপত্তা জনিত ব্যবস্থাপনায় ও এ বিষয়ক কর্মে কোন ত্রুটি থাকবে না, মানে এর সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব আপনাদের; এ ধরনের বাস্তব কথা ও সত্য অঙ্গীকার আমি সহ দেশবাসিকে যদি না জানান; তাহলে আমি কার কাছে আসবো, কেন আসবো, কিভাবে আসবো? তা আপনারাই চিন্তা করুন!?
আর তাই এম ফখরুদ্দীনের কারণে লিখাটির সূচনা হলেও, আমার বিষয়ে আপনাদের স্ট্যাটমেন্ট দেয়া, এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হতে পারে ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে। তাই আমার বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে ও স্ব-জ্ঞানে, আপনি যা বুঝেন, আমার এ শারীরিক ও মানসিক এ সমস্যা টিকে আপনি যা মনে করেন, তা লিখে আমাকে একটি মন্তব্য প্রদান করতে আপনাদের সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।
না হয় বলুন, আপনাদের সামনে আমি কি এভাবে শেষ হয়ে যাবো? বর্তমানে শেষ হতে আমার আর বাকি আছে কী!? আপনাদের অনেকে কি আমার উপর জুলুম বা আমাকে অবহেলা করেননি!? এখনও যদি আপনারা আমাকে কে কী মনে করেন, এ ধরনের লিখিত একটি সত্য রিভিউ না দেন, তাহলে এটা কি মানুষ হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব হলো? তাহলে আপনারা আমার কেমন আত্মীয় হলেন? কেমন আপনজন হলেন? কেমন বন্ধু-বান্ধব হলেন? তাছাড়া আপনারা কি সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করবেন না!? তবে যদি লিখেন, তাহলে ধরুন বুঝেন একটি, কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে কোনটি লিখা উচিৎ, এ রকম ভেবে আরেকটি বা উল্টো কিছু লিখলেন, এ রকম করবেন না! আপনি আমাকে যা বুঝেন, ঠিক তাই লিখবেন! এছাড়া আপনাদের মাঝে আমি জিন হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইলেও, আমার ছোট বেলা থেকে সুদীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর জীন হিসেবে আমার কোন অস্তিত্বই আপনারা খুঁজে পাননি! তাই না? আমিতো মানুষই ছিলাম! এখন না হয় আমি জিন হিসেবে আবির্ভূত হলাম! বা হতে চাইছি! তাহলে নিজেদের একজন মানুষকে আপনারা কিভাবে এভাবে শেষ করে দিচ্ছেন? আপনারা কি খবর রেখেছেন(?), আমার পরিবার, ছেলে-মেয়ে, আমি নিজে, কী খেয়ে পরে বেঁচে আছি? এবং আমার এ বিষয়টি মানব স্বাস্থের বা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বা স্রষ্টার সৃষ্টি তত্ত্বের কোন্ শাখা তাহলে!? এবং রোগ বলেন, আর জিন বলেন, শরীরের মধ্যে আরেকটি জীবাণু বা প্রজাতি নিয়ে বয়ে বেড়াতে আমার কি কোন কষ্ট হয় না!? আপনাদের দেশে বা এ মহাবিশ্বে স্বাস্থ্য বিষয়ক নাকি, মানুষদের অনেক গুলো প্রতিষ্ঠান আছে না? কিন্তু কই! আমার আগমন বা উদ্ভবের আজ প্রায় ২৫ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে!? কই আপনাদের সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য, বা প্রতিষ্ঠান সমূহ? আর কেন এখনো তাহলে আপনারা আমার জন্যে একটা মন্তব্যও লিখতে পারবেন না? এসব বিষয়ে আপনাদের কি কোন চিন্তা হয় না? আমাকে বুঝি দাবিয়ে রাখা বা বিভিন্ন ভাবে জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন করে শেষ করে দেয়াটাই আপনাদের জ্ঞানে ধরেছে!? তাহলে এতো দিন যেভাবে আমায় মেরে ফেলার নীতি ও কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন; এখনো তাই কি অব্যাহত রাখবেন!? আপনাদের কি কোন জ্ঞান বুদ্ধি হবে না! আমার মতো এ রকম মানুষের দেহে সুস্পষ্ট জিনের বহিঃ প্রকাশ, আপনারা বিশ্বের আর কোথাও অন্য কোন মানুষের দেহে দেখেছেন কিনা? তাহলে আমাকে আপনাদের কী করা উচিৎ? দাবিয়ে বা পদদলিত করে রাখা উচিৎ? যেভাবেই হোক মেরে ফেলা উচিৎ? না বিশ্বদরবারে পরিচিত করা উচিৎ!?
তাহলে আমার বিষয়ে আপনি যা বুঝেন, এ রকম একটি মন্তব্য লিখতে আপনার অসুবিধা কোথায়? আমিতো বলছি না যে, আপনি আমাকে ভালো হিসেবে বুঝতে না পারলেও, আপনি আমাকে ভালো হিসেবে মন্তব্য লিখে বিশ্বকে জানান!
আমি জন্মেছি এ দেশে, ছোট বেলা থেকে বেড়ে উঠেছি আপনাদের সাথে এবং এখন পর্যন্ত আপনাদের সাথেই বসবাস করছি, তাহলে আমার বিষয়ে বিশ্বের মানুষ ও জিনদেরকে জানাবে কে বলেন!?
আপনাদেরকে আরো জানাতে চাই যে, এ লিখা ও এ চিঠিটি আমি লিখতে চাইনি, কারণ আপনারা আমার কোন লিখা বা ভিডিও পড়তে বা দেখতে রাজী নন; যা ইতিপূর্বে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আপনারা গত বেশ কয়েক মাস ধরে হয়তো লক্ষ্য করেছেন আগের মতো অনলাইনে আমার কোন লিখা বা ভিডিও নাই। এবং আর খুব একটা লিখবো বলেও মনে হয় না। তবে এবার শুধু নিজের শরীরে থাকা অনুজীব বা জিন কর্তৃক বাধ্য হওয়ায় আজকের লিখাটুকু লিখতে বাধ্য হলাম।
তাই প্রথমে আজকে যে কারণে লিখা আরম্ভ করেছিলাম তা বলছি, শুনুন, ইতিপূর্বে জনাব এম ফখরুদ্দীন ভুঁইয়া সাহেবের ওয়াইফাই সংযোগ আমার প্রতিষ্ঠান, বন্ধন ফাউন্ডেশনে গত প্রায় ৩/৪ বছর ধরে ছিলো। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার আত্মীয়স্বজন সহ একান্ত আপনজনদের আগ্রহ ও সাডা না পাওয়ায়, বরং তাদের কাছ থেকে বিরোধিতা পাওয়ায় এবং অন্যান্য কারণে, যদিও কিছুদিন হলো আমি এ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী ভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও আমার অন্যান্য কাজে ওয়াইফাই এর প্রয়োজন ছিলো।
তাই ওয়াইফাই সংযোগ অব্যাহত রাখলেও, মাঝে দিয়ে আমার কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, আমি সাময়িক ভাবে সংযোগটি আর সচল রাখতে পারিনি। বর্তমানে আমার আবার ওয়াইফাই সংযোগের প্রয়োজন হওয়ায়, গত রোজার ঈদের কমপক্ষে এক সপ্তাহ পূর্ব থেকে এ পর্যন্ত অনেকবার আবেদন করেও আমি সংযোগ পাইনি বা পাচ্ছি না। বরং তার এবং তার কর্মচারীদের বিভিন্ন কথার মাঝে আমি ছলনা খুঁজে পেয়েছি এবং হয়েছি অপমাণিত। যেমন, ঈদের আগে একদিন তাদের দুইজন কর্মচারী আমার ঘরে লাইনটি লাগাতে এসে, হয়তো আমার নিজ শরীরের নেগেটিভ ইঙ্গিত পেয়ে বা আমার বাড়ির অন্য কারো বেড ইঙ্গিত পেয়ে তখন তাদের একজন আমাকে বললো, আপনার আগের তারটি নষ্ট হয়ে গেছে এখন আপনাকে ডাইরেক্ট করে দিতে হবে এবং আরেকজন বললো অনুঃ করে দিতে হবে, মানে পিছনে করে দিতে হবে। তখনই আমার মনে হয়েছিলো তাদের কথার মাঝে কেমন যেন অন্য কোন কিছুর ইঙ্গিত বহন করছে। মানে তারা আসলে লাইন লাগাবে না।
এরপর থেকে কয়েকবার ফখরুদ্দীনকে ব্যক্তিগত ভাবে বলেছি এবং যতবারই তাদের অফিসে গিয়েছি, ততবারই তারা আমায় কালকে আসবো, পরশু আসবো, এ রকম আশ্বাস দিয়ে আজ প্রায় একমাস হলো একবারও আসেনি। এছাড়া যতবারই ফোন করেছি তার কর্মচারীরা আমার মোবাইল খুব একটা রিসিভ করেনি। তার উপর গত কিছু দিন আগে একবার রিসিভ করলেও, আমি যখন বললাম, ঠিক কী কারণে আমাকে আসলে সংযোগটি দেয়া হচ্ছে না? তখন তাদের থেকে আমি একটু গরম মেজাজ অনুভব করি এবং এ সময় কেউ একজন বলে যে, ফখরুদ্দিন ঢাকা গেছে; অথচ সেদিনই বিকেলে আমি ফখরুদ্দিনকে নতুন বাজারে দেখতে পেয়েছি।
যাক ফখরুদ্দীন! এ ধরনের ছলনা মার্কা ব্যবহার আমার নিজ ঘর সহ প্রায় সর্বত্র আমাকে আজ বহু বছর ধরে সইতে হচ্ছে এবং এর কারণ হিসেবে বর্তমানে আমার নিজ শরীরেরই নেগেটিভ ইশারাকেই দেখতে পাচ্ছি; যা এখন আমি বুঝতে পাচ্ছি। তার মানে আমি হয়তো মুখে বলেছি, কিন্ত আমার চোখ, মুখ বা হাত বা আঙ্গুল দিয়ে আমি নিজেই হয়তো নিষেধ করেছি। তাই আমি স্থায়ী ভাবে মনে কষ্ট নিইনি। এখন তুমি শুধু আমাকে একটি মন্তব্য লিখে দিলেই হবে যে, তোমরা কি আসলে আমার মৌখিক আবেদন পেলেও আমার হাত বা চোখ বা ইত্যাদি থেকে কোন নেগেটিভ সিগনাল পাও? যার জন্য আমি মুখে আবেদন করলেও তোমরা অনেক সময়ই আমার চাহিত বিষয়টি দিতে পারনা? বিষয়টি পরিষ্কার করার অনুরোধ জানাবো!
এখন কথা হচ্ছে, তোমরা যখন আমাকে লাইন দাওনি বা দিবে না (সদিচ্ছা থাকলে এতোদিন লাগার কথা ছিলো না), তাই আমি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ফেলেছি। তাই এখন আমি আবার না বললে, তাহলে আমার এখানে আর লাইন লাগাতে আসবে না।
এ রকম আরেকটি ব্যবহার পেয়েছি, গোবিন্দপুর হাজী জিনাত আলী ভুঁইয়া জামে মসজিদ ও নূরানী মাদ্রাসার সেক্রেটারি জনাব কেফায়েত উল্যাহ ভুঁইয়া সোহেলের কাছ থেকে। তার মাদ্রাসায় একজন শিক্ষক নিয়োগ দিবে শুনে, আমার সংসার টিকিয়ে রাখতে এবং সন্তানদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে তার কাছে ছুটে গিয়েছিলাম চাকুরি চাইতে। কী করবো! নিয়তি আমাকে এ রকম করেছে! না হয় এ এলাকার মানুষেরা জানে, আমি এ রকম ছিলাম না। আমারও ছিল একটি সম্ভাবনাময় সুন্দর ভবিষ্যত!
যাক, চাকুরী চাইতে গেলে, এতে সে প্রথমে রাজি ও খুশি থাকলেও, এবং আমাকে কিছু দিন ঘুরালেও, পরে হয়তো আমারই কোন অদৃশ্য ইশারায় আমায় সে চাকুরিটা দেয়নি! দেখুন আমি কিন্তু স্পষ্ট করেই জানি যে, সে এবং তার বাবা আমার কল্যাণ ও উন্নতি চায়। তাই তার কাছ থেকেও আমি জানতে চাই যে, এবং তার মাধ্যমে অন্যান্য মানুষদেরকেও জানাতে চাই যে, আসলেইকি আমি মুখে একটা বলি, কিন্তু ইশারা ইঙ্গিত বা ভাব ভঙ্গিমায় আরেকটি প্রকাশ করি? আমার এ স্বভাবটি সত্য কিনা!? যদি সত্য হয়, তাকেও এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে একটি মন্তব্য প্রকাশ করে, বলতে ও বিষয়টি মানুষদেরকে জানাতে অনুরোধ করবো যে, কেন সে আমায় চাকুরী দিতে পারেনি! এটা কি আমার বাড়ির পাশের মাদ্রাসা ছিলো না!? আমার কি এতে হক ছিলো না! তাছাড়া এখন কি আমার প্রাণ যায় যায় অবস্থা নয়!? এ অবস্থায় একজন প্রতিবেশী হিসেবে আমার প্রতি তার কি কোন দায়িত্ব নেই!? আমি বিপদে পড়েইতো গিয়েছিলাম, না হয় আমার কি যোগ্যতা একেবারেই নেই? এই এলাকার অনেক গুলো ছাত্রের প্রাইভেট টিউটর কি আমি ছিলাম না!? তাহলে কিসের প্রভাবে আজ আমি এমন হলাম? তার মন্তব্যের মধ্যে এ বিষয়গুলোর একটি সত্য উত্তর পেতে চাই! এবং জাতিকেও বুঝাতে চাই যে, আমাকে হয়তো জিন জাতি গ্রাস করেছে!
হ্যাঁ, এখন আসি এ চিঠি লিখার মূল উদ্দেশ্যে। এ বিষয়ে আমি তেমন বেশি বর্ণনা দিবো না। কারণ আপনারা সবাই আমাকে চিনেন ও জানেন। যেহেতু আজ প্রায় সুদীর্ঘ ২৫ বছরে আমার আচার আচরণে প্রমাণিত হয়েছে যে, আমার সাথে এবং আমার শরীরে এক বা একাধিক মহিলা জিন বা একটি পুরো জিন সম্প্রদায় থাকে। যে কারণে আপনারা জানেন, আমি আজ নিজ বংশীয় বন্ধন থেকে অনেকটা বঞ্চিত।
একেবারেই একাকী জীবন আমার, চরম অবহেলিত ও অনেক ক্ষেত্রেই জুলুমের শীকার। এবং আমার অর্থ, জমি জমা, চাকুরী, রাজনীতী, মানে মূল্যায়িত হওয়ার মতো আমার কিছুই নেই। অসহায়ত্বের আর সীমা পরিসীমা নেই আমার! অল্প কিছু জমি-জমা যা ছিলো, তা এ জিনজাতকে তাড়াতে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে।
নতুন কেউ আমার বিষয়ে জানতে চাইলে, তাহলে আমার ব্লগ সমূহের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আমার লিখা কন্টেন্ট সমূহ পড়লে, অনায়াসে বুঝে যাবেন।
আমাকে বুঝতে আপনারা নিম্নোক্ত লিংক সমূহে ক্লিক করে, আমার পূর্বে লিখিত কন্টেন্ট সমূহ পড়তে পারেন-
এবং
এই যে আমার সাথে মহিলা জিন বা জিন সম্পদায় রয়েছে বলে আমার ও আমার এলাকার আম জনতার প্রচলিত যে বিশ্বাস, এ বিষয়ে আমার এলাকার মানুষজন, আপনারা এখন পর্যন্ত বিষয়টি আমাকে বা মানুষদেরকে লিখিত বা মৌখিক ভাবে জানাননি। ফলে আমি আজও বুঝতে পারছিনা যে, আপনারা বা মানুষেরা আসলে আমাকে কিভাবে দেখছেন বা আমাকে আপনারা কিভাবে মূল্যায়ন করছেন। একজন মানুষ সে কী রকম, অনেক সময়ই নিজকে নিজে সে বুঝতে পারেনা। তেমনি ভাবে কোথাও গিয়ে আমার নিজের বিষয়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যে কিছু বলবো, বা ভালো কিছু করতে চেষ্টা করবো, সে ক্ষেত্রেও প্রয়োজন পড়বে, মানুষের রিভিউ বা সমর্থন বা সাপোর্টের বা মানুষের মাঝে আমার গ্রহণযোগ্যতার। তা না হলে কথা বলতেতো আমি আত্মবিশ্বাস বা প্রাণশক্তি পাবো না! এবং মানুষও আমাকে সহজে মেনে নিবে না। নিজের পরিচয়ই যদি প্রকাশ করতে না পারি, সে ক্ষেত্রে আমি আপনাদের জন্য করবো কী, বা কী করতে পারবো বলেন!? বর্ণচোরা কি কখনো কিছু করতে পারে? আর তাই যখন অন্য মনষ্ক হই, তখন আমার নিজের কাছে, এখনো মাঝে-মধ্যে মনে হয়, হ্যাঁ রে, আসলেই কি আমার শরীরে জিন জাতির উদ্ভব হয়েছে!? মাঝে-মধ্যে এও মনে হয়, হ্যাঁ, বুঝলাম হয়েছে, কিন্তু এটা কি আমার নিজের জন্য বা বিশ্ববাসির জন্য বা চারদিকের মানুষের জন্য উপকারী হবে? না অপকারী!? এ বিষয়টি সঠিক ভাবে আমাকে ও মানুষদেরকে বুঝতে হলে, তখন অবশ্যই আমাকে ও মানুষদেরকে বুঝতে হবে, এ বিষয়ে আমার চারপাশের মানুষ আসলে কী বলছে, বা এ বিষয়ে মানুষের কাছে আমাকে কেমন মনে হয়েছে; তা বুঝার। আর মূলত এ জন্যেই, আমি আপনাদের নিকট আমার বিষয়ে একটি মন্তব্য লিখে তা জন সমক্ষে প্রকাশ করতে অনুরোধ করেছি।
এক্ষণে আমার বিষয়ে আপনি বা আপনারা যদি মন্তব্য করতে চান, তবে মন্তব্য শুধু এ প্ল্যাটফর্মেই লিখবেন; ফেসবুক বা অন্য কোথাও লিখবেন না। কারণ পোস্টটি যদিও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা হতে পারে, তবুও এর মূল পোস্ট এটিই। তাই অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মন্তব্য সমূহ হারিয়ে যাবে; কিন্তু এ প্ল্যাটফর্মের মন্তব্য সমূহ সংরক্ষিত থাকবে।
সুতরাং, যারা আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে এ পোস্টের মন্তব্য লিখবেন, তদেরকে অনুরোধ জানাবো, আপনারা মন্তব্য লিখার সময় অবশ্যই নিম্ন লিখিত প্রশ্ন/বিষয় সমূহের উত্তর প্রদান করে বা সে অনুসারে আপনার মন্তব্য লিখতে চেষ্টা করবেন। তবে আপনার মন্তব্যে নিম্নোক্ত সবগুলো প্রশ্নের উত্তর ম্যানশন করা আপনার দ্বারা সম্ভব না হলে, তবে যতটুকু সম্ভব, ততটুকু লিখে অন্তত বলুন যে, আমাকে আপনার কাছে, এই এই কারণে জিন বলে মনে হয়েছে। পারলে আমার জিনকে আপনার কাছে কেমন মনে হয়েছে, ভালো, না মন্দ, সেটিও উল্লেখ করবেন।
কিন্তু না বুঝে বা আবেগে পড়ে কোন ধরনের মন্তব্য করবেন না। আমি আপনাদেরকে এই বলে কোন কথা দিইনি যে, আমাকে একটি ভালো মন্তব্য দিলে আমি আপনাদেরকে এই এই দিবো বা দিতে পারবো। আপনারা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন, বর্তমানে আমার কাছে আমার ঘরের সদস্যদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে চাউলের টাকাও ঠিকমতো আমার কাছে নাই। তাই কেউ প্রলুব্ধ হয়ে বা লোভে পড়ে বা ভবিষ্যত জীবনে কোন কিছু আশা করে আমাকে কোন ধরনের মন্তব্য দিবেন না, বা আমার প্রতি এ জাতীয় মুখস্থ কোন আশা রাখবেন না। যেহেতু ভবিষ্যত কেউ জানে না। তাই মনের ভুলে বা কোন কারণে এ জাতীয় কোন আশ্বাসের কথা কাউকে বলে ফেললেও এসব আমলে নিবেন না। আর আমি মহান আল্লাহ তা’য়ালার সাথে চুক্তি করেও আসিনি এবং যা সম্ভবও নয়। বরং নিজ জীবনের উপর নিজেই সীমাহীন রিক্স নিয়েছি এবং আপনাদের দোয়ার মোহতাজ হয়ে আছি! এ ব্যপারে আমি সকলকে কঠোর ভাবে নিষেধ করছি যে, এসব কারণে কেউ কোন ধরনের কমেন্টস লিখবেন না। এটা শুধুমাত্র যারা আমার সাথে মিশেছেন বা মিশতে পেরেছেন, আমাকে যারা ভালো করে বুঝতে পেরেছেন, কেবলমাত্র তারা কমেন্টস লিখবেন। এমন ভাবেও কেউ কমেন্টস লিখবেন না যে, দশ জন কমেন্টস করেছে বা আপনার বিশ্বস্থ কেউ কমেন্টস করেছে, আমার বিষয়ে ভালো বলেছে, আর তাই আপনিও একটা ভালো কমেন্টস করলেন; দয়া করে এ ভাবেও কেউ কমেন্টস করবেন না।
যে আমাকে আসলে বুঝতে পারেনি, আমি এ ধরনের কাউকে আমার এ পোস্টে আমার জন্য কমেন্টস করতে নিষেধ করছি।
আবার আমি এমন কাউকে কোন ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না যে, আমাকে কমেন্টস লিখলে, বা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করলে বা আজকে আমাকে কোন কিছু দান করলে, ভবিষ্যতে আপনাকে, বা আপনার প্রতিষ্ঠানে এর চাইতে অনেক বেশি কিছু দান করবো। এ ধরনের লোভে পড়ে কেউ কোন ধরনের মন্তব্য করবেন না।
তবে মনে রাখতে হবে উপকারীর উপকার স্বীকার করা, এটা মুসলিম বা একজন ভালো মানুষ বা একজন ভালো জিন হিসাবে আপনাদের যেমন কর্তব্য, তেমনি আমারও কর্তব্য।
আর এ বিষয়ে বিশ্ব জানুক, আমার বর্তমানকার এ দৈন্যদশায় এবং একেবারেই ফকিরি ও চরম অসহায়ত্ব আর ঋণগ্রস্থ অবস্থায়; যেখানে অনেকগুলো মানুষ, এমনকি আমার আপনজনেরাও এখনো আমাকে শয়তান বলে উল্লেখ করছে; অর্থনৈতিক দূরাবস্থা ও আরো অনেকগুলো কারণে যেখানে এখনো সমাজের প্রায় সবগুলো মানুষ আমাকে নিয়ে তামাসা চাচ্ছে বা এখনো যেখানে আমার সাথে তেমন কারো ভালো সম্পর্ক নাই (এপ্রিল ২০২৬ ইং); সেখানে আমার পক্ষে, আমার এ পোস্টের যে কমেন্টস গুলো মানুষেরা লিখেছে (যদি কেউ লিখে, বর্তমান সময়ে), তা কখনোই মানুষদেরকে প্রলুব্ধ করে, বা লোভ দেখিয়ে বা যে কোন ভাবে বাধ্য করে, এমনকি কোন সার্ভিস দিয়ে আদায় করা হয়নি। এগুলোর সবগুলোই মানুষের অন্তর থেকে প্রদান করা শতভাগ রিয়েল কমেন্টস।
প্রশ্ন/বিষয় সমূহ নিম্নরূপ-
১। মন্তব্যের শুরুতে আপনার পরিচয় এবং আমার সাথে আপনার সম্পর্ক কী তা লিখুন। এরপর আপনি আমাকে গভীর পর্যবেক্ষণ করে বা ভালোভাবে বুঝে-শুনে স্ব-জ্ঞানে স্বাধীন ভাবে মন্তব্য প্রদান করছেন, এ বিষয়টি উল্লেখ করবেন।
২। আমার মন, শরীর ও ব্রেনে কি জিনের উদ্ভব হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে আপনি যা বুঝতে পারেন ঠিক তা লিখুন। দেখুন আপনি যদি হ্যাঁ উত্তর দেন, তবে এটি বর্তমান বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের বিপরীত হবে! জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপরীত কথা বলার সে রকম ভাবে বুঝতে পারলেই কেবল হ্যাঁ উত্তর দিবেন।
৩। যদি আপনি জিন আছে বলে বিশ্বস্থ ও আশ্বস্থ হন, তবে আপনার কাছে মনে হয়েছে কি, এরা মহিলা জিন? যদি মহিলা জিন বুঝতে পারেন, তবে লজ্জ্যার কিছু নেই, শালীনতা ও ভদ্রতা বজায় রেখে, আপনি বলুন যে, এ বিষয়টি আপনি কিভাবে বুঝতে পারলেন! এবং জনাব/জনাবা, আপনি কি একজন মহিলা বুঝতে পেরেছেন (?),না মহিলা জিনদের বিশাল একটি গোষ্ঠী বুঝতে পেরেছেন? না, এক বা একাধিক পুরুষ জিন বুঝতে পেরেছেন? না, পুরুষ মহিলা মিলে জিনদের একটি পুরো সম্প্রদায় বুঝতে পেরেছেন? দয়া করে আপনি কী বুঝেছেন, কিভাবে বুঝেছেন, আপনার মন্তব্যের মধ্যে এ বিষয়গুলো ক্লিয়ার করবেন! তবে এতো কিছু না বুঝলে, যতটুকু বুঝেছেন, ততটুকু লিখুন।
৪। উত্তরে যদি আপনি হ্যাঁ বলেন, তবে এ জীনকে বা এ জীন সম্প্রদায়কে কি আপনার কাছে ভালো বলে মনে হয়েছে এবং কেন বা কোন্ যুক্তিতে আপনি এদেরকে ভালো বলছেন তার উল্লেখ করবেন? স্মরণ রাখবেন আমার কাছে মানুষ এখনো প্রায় ৭ লক্ষ টাকা পাবে (এপ্রিল ২০২৬ ইং এর হিসাবে)। আজ প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে এখনো এ টাকা দেয়ার কোন ওয়ে আমি করতে পারিনি। এবং আমার আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে অনেকগুলো মানুষ এখনো আমাকে শয়তান জিন বা অকর্মা মনে করে। অতএব আমাকে ভালো বলার আগে একটু চিন্তা ভাবনা করে বলবেন। আবার ভালো না বললেও তা আমার জন্য হয়তো শুভ হবে না।
৫। আপনি যদি আপনার মন্তব্যে, জিন আছে বলে স্বীকৃতি দেন, তবে আপনি কি বুঝতে চেষ্টা করেছেন যে, আমার শরীরে এদের উদ্ভবের বা আগমনের উদ্দেশ্য কী? তারা কি আসলে আমি সহ মানুষদেরকে শুধুই কষ্ট দিতে চায়? না, তাদের রয়েছে আমাকে এবং মানুষদেরকে নিয়ে ভালো কোন পরিকল্পনা? এককথায় এ জিন বা জিন সম্প্রদায়ের আগমনের উদ্দেশ্য বুঝতে চেষ্টা করার জন্য আপনাকে সবিনয়ে অনুরোধ করছি এবং তাদের উদ্দেশ্য যদি বুঝতে পারেন, তবে আপনি যা বুঝেছেন, তা আপনার মন্তব্যের মধ্যে লিখতে আহবান জানাচ্ছি।
৬। আমার শরীরে উদ্ভব হওয়া এ জিনেরা কি আমার জন্মগত সাথী(?), অর্থাৎ আমার সাথে একই সাথে, একই শরীরে এ পৃথিবীর মাটিতে জন্মিত? এরা বা এদের বয়স সম্পর্কে কি আপনার কোন আইডিয়া হয়েছে? অর্থাৎ এর বা এদের বয়স কত হতে পারে বলে আপনি মনে করেন? এদের বংশ পরিচয় কী? অথবা সে বা তারা কি, আমার জন্মের সময়তেই আমাকে গ্রাস বা আসর করা? না, আমার জন্মের পরে কোন একসময় আমাকে আসর করেছে বা গ্রাস করেছে? তাহলে এরা আমায় কেন গ্রাস বা আসর করেছে? অমাকে নিয়ে এদের কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে? সে বা এরা যে জিন, এ বিষয়টি যদি আপনি বুঝতে পারেন, তবে এ সব বিষয় সমূহও বুঝতে চেষ্টা করে মন্তব্যের মধ্যে লিপিবদ্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি।
৭। আপনি যদি বুঝতে পারেন যে, আমার শরীরে জিন আছে, তবে আপনি কি এ বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন, এরা কি সবাই মুমেন/মুমেনা জিন? না, শয়তান জিনও আমার শরীরে রয়েছে। বাকী অন্যান্য মানুষের মতো এ রকন না, এক্সট্রা কোন শয়তান জিনের কথা বলছি, যেমনটি এরা আমার শরীরে এসেছে। অর্থাৎ মুুমেন/মুমেনা জিন ব্যতিত আমার শরীরে কোন শয়তান জিনের উপস্থিতি টের পেয়েছেন কিনা? পাইলে মন্তব্যের মধ্যে তা শেয়ার করবেন।
৮। আপনারা কি আমার চরিত্রে এ জাতীয় বৈশিষ্ট্য দেখেছেন যে, আমি মুখে এক রকম বললেও ইশারা-ইঙ্গিত বা ভাব-ভঙ্গিমায় এর বিপরীত বলি? অথবা ইশারা-ইঙ্গিত বা ভাব-ভঙ্গিমার মাধ্যমে বা বিভিন্ন কৌশলে আপনাদেরকে এমন কোন প্রশ্নের উত্তর দিই যে, যা আমি হয়তো নিজের জ্ঞানেই বুঝতে পারি না। মানে আমার শরীর থেকে অন্য কেউ হয়তো উত্তর দেয়, যা আমার ব্রেন হয়তো বুঝতে পারেনা বা বুঝতে পারলেও আমার অজান্তেই কাজটি, মানে উত্তর দেয়ার বিষয়টি ঘটে; অর্থাৎ আপনি আমাকে কিভাবে জিন বলে শনাক্ত করলেন বা স্বীকৃতি দিলেন; সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সহজ ভাবে ও পরিষ্কার করে বলতে চেষ্টা করবেন।
৯। আপনি যদি আমার শরীরে জিন সাব্যস্থ করেন, তবে প্রিয় ভাই/বোন, আপনি একটি বিষয় কি চিন্তা করেছেন, এটি মানব স্বাস্থ্য ও এ পৃথিবীর জন্য একটি বিরল দৃষ্টান্ত। তাই নয় কি? তাছাড়া আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল কোরআনের ভাষাকে সত্য রূপে প্রদর্শন করবো এবং বিজ্ঞানের ভাষাকে ভুল প্রমাণিত করবো। সুতরাং আমাদের এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতীক ভাবে প্রতিষ্ঠিত কোন্ কোন্ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারি। এবং এ ক্ষেত্রে আমাকে বা আমাদেরকে কী কী করতে হবে! আপনার জানা থাকলে দয়া করে আপনার মন্তব্যের মধ্যে আমাকে এর একটা সহজ গাইড লাইন দিয়ে ধন্য করবেন।
১০। আপনারা যারা বুঝতে পারছেন যে, আমার শরীরে জিন আছে, তাদের নিকট আমি একটি বিষয় জানতে চাই যে, আমার শরীরে জিন থাকা অবস্থায় আপনারা আমার শারীরিক, মানসিক ও ব্রেনগত অবস্থা কী রকম দেখতে পাচ্ছেন? ব্রেনের প্রকৃত অবস্থা এখন কী? আমার অনেক সময়ই ঘুম হয় না। মাঝে মধ্যে সারা রাতে ২/৩ ঘন্টা ঘুম যাই। আজ অনেক বছর হলো থাইরয়েডের ঔষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি, ডায়াবেটিসের ঔষুধ খাইনা, আর মানসিক রোগের ঔষুধ বন্ধ করেছি যে তো আজ প্রায় ১৫ বছরের কম না। অথচ ডাক্তার বলেছিলো এ ঔষুধগুলো আমাকে হয়তো আমার মরণ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে বা অন্তত বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত খেয়ে যেতে হবে। ডান পায়ের কার্যকারিতা অনেকটা কমে গেছে আমার। আপনারা যারা আমার মসজিদের সাথী তারা নিশ্চয়ই দেখতে পেয়েছেন, আমি কেমন ভাবে মহিলা আর বুড়াদের মতো নামাজ পড়ি। নামাজের সময় প্রায়ই এ পা'টি আমার ব্যথা করে।
আবার কোন মানুষকে সাকসেস করতে হলে তো, যখন যে কাজ তখন সে কাজ করতে হয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রেতো চারদিকের মানুষ ও বিভিন্ন পশু পাখি ইত্যাদির শব্দ এবং তাদের মন-মানসিকতা গুলো আমাকে এটাক করে। এবং মনে মনেই বা ইশারা ইঙ্গিতে এগুলোর উত্তরও সচেতন বা অচেতন ভাবে দিয়ে যাই। এতে এবং হয়তো অন্য আরো একাধিক কারণে অনেক সময়ই আমার মাথা কামডায়, মাথা ধরে থাকে; আমার শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও অনেক সময় খুব কামডায়, চুলকায়, ধরে থাকে, কখনো কখনো মনে হয় অবস হয়ে আছে, আবার অনেক সময় শরীরের কোথাও কোথাও প্রচন্ড ব্যাথা পাই, আর পেটের রোগতো লেগেই আছে আমার ইত্যাদি এবং ব্রেন ও মন-মানসিকতাকে হয়তো কখনো কখনো অস্বাভবিক বলে মনে হয়। যখন টেনশন একটু বেশি থাকে, তখন দেখি অনেক পরিচিত বিষয়ও অনেক সময় ভুলে যাই। বা কারো স্বার্থে জিন কর্তৃক হয়তো ভুলিয়ে দেয়া হয়।
আসলে মানুষ নিজের বিষয় ও প্রকৃত অবস্থাতো অনেক সময় নিজেই বুঝতে পারেনা, তাই আপনাদের নিকট আমার এ জিজ্ঞাস্য। আমার শরীর, মন ও ব্রেনের এখন কী অবস্থা? আমি কি সুস্থ আছি? আমার ব্রেন কি স্বাভাবিক আছে বা ঠিক আছে?
কারণ অনেকগুলো মানুষ ইতিপূর্বে আমাকে পাগল বা মানসিক রোগী, চাপাবাজ, ভন্ডামী করছি ইত্যাদি বলে আমায় তোহমত দিয়েছে। এতে নিশ্চয়ই তাদের কাছে আমাকে হয়তো ঐরকম কিছু একটা লেগেছে, তাই হয়তো বলেছে। আবার কেউ কেউ না বুঝে বা অনুমান সন্দেহ করে বা হিংসা বা শত্রুতা করেও বা কারো দ্বারা মিসগাইড হয়েও বলতে পারে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, বাস্তবেই আমার শারীরিক, মানসিক ও ব্রেনগত অবস্থা কী রকম তা আমি এবং মানুষদের ও জিনদের জানা প্রয়োজন। আর তাই যারা আমার শরীরে জিনের উপস্থিতি রয়েছে, এ বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন, তারা দয়া করে আপনাদের মন্তব্যের মধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে এবং মানুষদেরকে এর একটি পরিষ্কার ধারনা দেয়ার চেষ্টা করবেন।
১১। আমার বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি এখন কী কাজ করলে বা কিভাবে জীবন-যাপন করলে পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে খেয়ে পরে সম্মানজনক ভাবে বেঁচে থাকতে পারবো এ বিষয়টি উল্লেখ করবেন? ও কিভাবে আমার ঋণ সমূহ শোধ করতে পারবো বলে আপনি মনে করেন; অর্থাৎ আমায় কিছু নছিহত করবেন? কারণ আর কত উপোষ মরতে পারবো বা জুলুম করে যাব!
১২। আমার সাথে থাকা এ মহিলা জিনকে বা জিন সম্প্রদায়কে বাস্তবে তাদের নিজস্ব অবয়বে বা মানব রূপে আমাদের পাশে, আমাদের সাথে নিয়ে আসতে আমাকে বা আমাদেরকে কী করা উচিৎ? এবং এটা কি সম্ভব? সম্ভব না হলে কেন নয়? কোরআন-হাদীসে কি জিন জাতি মানব রূপে বা তাদের নিজস্ব রূপে মানুষের নিকট উপস্থিত হতে নিষেধ আছে? তা না হলে কোরআন-হাদীস কি অসুম্পূর্ণ? এ বিষয়ে আপনার মতামত লিখবেন।
১৩। জনাব এম ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া ও জনাব কেফায়েত উল্যাহ ভূঁইয়া সোহেল আপনারা কেন আমায় ওয়াইফাই সংযোগ দেননি ও কেন আমায় চাকুরী দিবেন বলেও দেননি তা বলুন। প্লিজ চুপ করে থাকবেন না। বা অন্যান্য মানুষদের মতো আমাকে মিথ্যা করে, বা ছলনা করে অন্য কিছু বুঝিয়ে দিয়েন না! এ রকম অপমাণ মূলক ব্যবহার বা ছলনাতো আমার সাথে আরো অনেকেই করেছে, আমি উদাহরন হিসেবে আপনাদের দুজনের নাম উল্লেখ করলাম। এর মাধ্যমে জাতি বুঝুক আসলে মূল সমস্যা কী বা কোথায়! যেহেতু মানবজাতির বেশির ভাগ সদস্যই আজ যে কোন কিছু সিউর করে বুঝতে পারলেও, এমনকি কোন কিছু আমলে পরিণত করে ফেললেও, তারপরও তাদের পক্ষীয় কারো ইশারা-ইঙ্গিতের কারণে ঐ সত্য কথাটিও তারা বলেনা বা ধামাচাপা দেয় বা দিতে চায়। যেমন আমার জীবনে ঘটতেছে; অনেকেই এ সব বিষয়ে আমার সাথে অনেক সময় মিথ্যা বলেছে বা ছলনা করেছে এবং অনেক সময় আমাকে করেছে চরম অপমাণিত। তাই একই ভাবে যদি আপনারাও সত্য কথাটি গোপন রাখতে চান, অর্থাৎ বুঝেও আমাকে জ্বীন হিসেবে যদি স্বীকৃতি না দিতে চান, তবে বুঝিয়ে বলুন, আমার কী দোষ ছিলো! আমার সাথে এ রকম ব্যবহার করে ছিলেন কেন!?
এ রকম প্রশ্ন করলে আমার নিকট আত্মীয় থেকে শুরু করে সমাজের অনেকগুলো মানুষকে করতে পারি। কিন্তু শুধু আপনাদেরকে করলাম! আমারওতো রক্ত-মাংস আছে ভাই! এসবে আমি কি কোন ব্যাথা পাইনি! না আমি অপমাণিত হইনি!
তাই বুঝিয়ে বলুন, কেন আপনারা এবং আমার ঘর, বাড়ি, বংশ, সমাজ সহ ছোট-বড়, ভালো-বখাটে, ধনী-গরীব সকলে আমার সাথে এ রকম করেছিলেন বা করে যাচ্ছেন (এপ্রিল ২০২৬)। এর প্রকৃত কারণ কী!!
প্রিয় ভায়েরা, এখানে আপনারা যারা এ পোস্টের মাধ্যমে আমাকে কমেন্টস করবেন, আপনাদেরকে আমি আশ্বস্থ করছি যে, আমার প্রতি খুব ঘোরতর অসম্মানজনক কোন মন্তব্য না হলে, তাহলে আপনাদের কোন কমেন্টস এর কোন প্রতি উত্তর আমি দিবো না।
এবং বিশ্বাস করেন আমি ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক ভাবে কারো মনে কষ্ট দিতে এ পোস্ট লিখিনি।
ফলে আপনারা স্বাধীন ভাবে, আমাকে যে যেমন মনে করেন, আপনার কমেন্টস এর মধ্যে তা লিখতে পারেন।
আমি চাই আমার জিন গঠিত বিষয়টি বা আমার শারীরীক, মানসিক অবস্থার প্রকৃত কারণটি উদগঠিত হোক; মানুষ জানুক, বিশ্ব বুঝুক; আসলে আমার কী হয়েছে! প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে এটি সহায়ক হোক বা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক। ও আমার দৈন্যদশার এ অবস্থা সমূহ স্মৃতি বন্ধী হয়ে থাকুক।
এবং আমার শরীরে জিন বা জিন সম্প্রদায়ের আগমন ঘটেছে বা জিন বা জিন জাতির উদ্ভব হয়েছে; জিন বা জিন জাতির উপস্থিতির বা জিন বা জিন জাতি বাস্তবেই রয়েছে, এর অস্তিত্বের প্রমাণ স্বরূপ বা প্রত্যক্ষ দর্শন হিসেবে বিশ্ব জ্ঞান ভান্ডারে এ বিষয়টির যুক্তি প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হিসেবে মানুষের কমেন্টস সহ হয়তো পুরো পত্রটি পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় হতে পারে।
তাই এ পত্রটি, এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমি লিখেছিলাম ও প্রকাশ করেছিলাম।
কাউকে ঘায়েল করা বা নিজের পান্ডিত্য প্রকাশ করা বা যে কোন দিক দিয়ে আমার ক্রেডিট প্রকাশ করা, এটা আমার উদ্দেশ্য নয়।
আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, এ পোস্টটির লিংক যাকে দেয়া দরকার বলে আমার কাছে মনে হবে বা যাকে দিলে তিনি আমায় একটি ভালো কমেন্টস দিবেন, এ ধরনের ব্যক্তি বা ব্যক্তিবৃৃন্দের ইমো, হোয়াটসএপ, ম্যাসেঞ্জার বা অনলাইনের অন্য কোন মাধ্যমে, ইনশাআল্লাহ্ তার নিকট প্রেরণ করবো এবং সময় সময় এটি ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হতে পারে।
জ্বী, এখন কেউ যদি মন্তব্য লিখতে চান, তবে বুঝে-শুনে, চিন্তা-ভাবনা করে উপরোক্ত সম্পূর্ণ পত্রটুকু পড়ে এরপর লিখবেন। কারণ আপনাদের মতামত বা মন্তব্যের ভাষার উপর নির্ভর করবে, জিন হিসেবে বা মানুষ হিসেবে আপনাদের এরিয়াতে আমার বা আমাদের আসার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা! বা আপনারা আমাকে বা আমাদেরকে আসলেই চান কিনা! অথবা চাইলে কতটুকু চান, বা কী জন্য চান, বা আমি বা আমরা আসবো কিনা, বা আসলে, কখন আসবো, বা আমাকে আসতে হবে কিনা, বা কখন আসতে পারবো, অথবা জিন হিসেবে বা মানুষ হিসেবে আমাকে কী করতে হবে, বা কী করতে হবে না, বা কী করলে আপনারা খুশি হবেন, আর কী করলে আপনারা খুশি হবেন না, অথবা আপনারা আমায় কী করতে বলেছেন বা বলতেছেন, আর কী করতে নিষেধ করছেন বা করতেছেন ইত্যাদি বিষয়গুলো।
দেখুন, বর্তমানে যেখানে আমার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার কোন ভাল ব্যবস্থা নেই; চরম অভাব চলছে আমার। সেখানে এর বেশি আর লিখে আপনাদের ধৈয্যের বাঁধ ভাঁঙ্গতে চাই না এবং আমার দ্বারাও আর লিখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এমনিতেই অনেক লিখেছি। মন-মানসিকতা, অর্থনৈতিক ও শারীরিক এ অবস্থায় যে এতটুকু লিখেছি বা লিখতে পেরেছি, এটাও মহান আল্লাহু তা’য়ালার অশেষ মেহেরবানি ছাড়া আর কিছু না। যারা নিকটে আছেন, তারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই।
তাই আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। সকলে ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন, সুস্থ থাকুন। শুভ হোক আপনাদের সকলের জীবন।
বিঃদ্রঃ আপনারা উপরে দেখতে পেয়েছেন, এ চিঠির প্রকাশকাল এপ্রিল ২০২৬ ইং। অতএব এ সময়ের পর ভবিষ্যত জীবনের যে কোন সময়ে যারা আমার সাথে বা আমার শরীরে জিন আছে, এ বিষয়টি বুঝতে পেরে, আমার এ চিঠির উপরোক্ত আবেদন অনুসারে মন্তব্য বা মতামত বা স্বীকারোক্তি লিখবেন, তাদেরকে বুঝে নিতে হবে যে, চিঠিটির ভাষা ও এর বিবরণ সমূহ এই সময় ও আমার এ সময়কার অবস্থা অনুযায়ী লিখিত হয়েছে। কিন্তু এর আবেদন, আমার ইন্তেকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে পরবর্তী যে কোন সময়ে, বর্তমানকার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে, এ চিঠির ভাষা ও বিবরণে কোন কিছুর পরিবর্তন আনয়ন করা হবে না, অর্থাৎ কোন কিছু মুছে ফেলা হবে না ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা। হ্যাঁ, যদি বিশেষ প্রয়োজন পড়ে, তবে সময়ে সময়ে নতুন ডাটা সংযোজন করা হতে পারে। আশা করি বিষয়টি বর্তমান সময়ের পরবর্তীতে পঠিত চিঠিটির পাঠক সমাজ বা পরবর্তী যে কোন সময়ের মন্তব্যকারীগণ সহজে বুঝে নিবেন। সবাইকে ধন্যবাদ।
উপরোক্ত পত্র প্রেরণের পরিপ্রেক্ষিতে আপডেট লেটারঃ
‘আমার চরম সিদ্ধান্ত সমূহ’
(এ সিদ্ধান্ত সমূহ চিঠির শেষের দিকে রয়েছে)
তাংঃ ০১ মে ২০২৬ খ্রি.
প্রিয় আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিতজন এবং ফেনীসহ বিশ্ববাসী-
দেখুন, জিন হিসেবে আমার মানব শরীরে, আমার উদয়ন ঘটেছিলো সেই ২০০১ সনে। তখন আমার আত্মীয়-স্বজন সহ আপনারা আমায় শয়তান/ইবলিশ হিসেবে শনাক্ত করে আমার উপর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও আর্থিক ভাবে অকথ্য ও সীমাহীন নির্যাতন, অত্যাচার, জুলুম করলেন। কত গুণিন-বৈদ্য, তাবিজ-তুমার, ঔষুধ, হাসপাতাল, এবং আমার উপর শক্তি প্রয়োগ! পরিশেষে আমায় না তাড়াতে পেরে, আপনারা সকলে মিলে এক চরম সিদ্ধান্ত নিলেন যে, যেহেতু আমি ইবলিশ এবং যেহেতু আমি মানুষের শরীরেই অবস্থান করছি, তাই আমায় হত্যা করা যাবে না; তবে জীবনে জিন হিসেবে আমায় সম্মানজনক কিছু করতে দেয়া হবে না। ঔষুধ খাইয়ে খাইয়ে শরীরের মধ্যে জিন যাতে উদ্ভব হতে প্রয়োজনীয় শক্তি-সামার্থ না পায়, বা উঠতে না পারে, সে অবস্থা সৃষ্টি করে রাখতে হবে; তার মানে আমাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে দূর্বল থেকে দূর্বলতর করে দাবিয়ে রাখতে হবে। ও আমাকে পদদলিত করে, অপমানের পর অপমান করে, তুচ্ছ-তাচিছল্য করে, আমার সাথে মাতবরী মূলক ব্যবহার করে আমাকে দাবিয়ে, হীন, ছোট করে, আমার সৎ সাহস এবং মন-মানসিকতা ও কলিজা ভেঙ্গে দিয়ে কোনমতে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যেহেতু আপনারা আমাকে আপনাদের জন্য হুমকি বা ভয় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন!
এবং বুঝ হওয়ার পর আমি দেখলাম, আপনারা আপনাদের উপরোক্তসে সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করতে থাকলেন। আপনজন হয়েও আপনাদের এমন নিষ্ঠুর ও দূর্ব্যবহারে আমার মন-প্রাণ দিন দিন ভেঙ্গে যেতে থাকলো। আত্মীয়-স্বজন সহ গ্রামের একটি লোক আমায় একবারও বলেননি যে, এটা জিনের কারণ, জিনকে পরাস্থ করার কৌশল, যার জন্য আপনারা এতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনারা আমায় শুধু বলতেন, ঔষুধ খা, যত দিন বাঁচস, তোকে ঔষুধ খেয়ে যেতে হবে।
যারা ছিলেন আমার একান্ত নিয়ারেস্ট, এই তারাই কিভাবে আমায় অপদস্থ করেছিলেন! সে সব ফিরিস্থি আজ আর দিচ্ছি না। তবে অল্প কিছু লিখে নিজের মনে শান্তনা খুঁজছি! আমার মন-মোগজকে ভেঙ্গে আপনারা কি খান খান করে দেননি!? আবার কৌশল হিসেবে আপনারা সমাজের মধ্যে, মানুষ ভেধে প্রচার করলেন, আমি পাগল-মানসিক রোগী হয়ে গেছি। মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েও কি শান্তি পেয়েছি!?
আমার বিষয়ে তাঁর মতো করে আমাকে ইবলিশ জিন বা দুষ্ট মানুষ হিসেবে বুঝে নিয়ে মুয়াজ্জিন বা ঈমাম সাহেব হুজুর আমার মাথার উপরের ফ্যানটা বন্ধ করে দিয়েছেন। শুক্রবার দিন যখন অনেক আগে সওয়াবের আশায় মসজিদে গিয়েছি, তখন মোয়াজ্জিন আমায় খারাপ উদ্দেশ্য প্রণোদিত মনেকরে বলেছেন, ও আপনি বুঝি সওয়াবের আসায় এসেছেন!? মসজিদে সুললিত কন্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করা হলে, আপনারা সম্মান না করে, আমার তামাসা চাইতেন। যার কারণে আমি মসজিদে কোরআন তিলাওয়াত বন্ধ করে দিয়েছি। নিয়ত করেছিলাম জীবনে যত দিন বাঁচি প্রতি রমজানের শেষ দশক ইতেক্বাফ করে যাবো, কিন্তু আপনাদের তামাসা চাওয়া-চাওয়ির কারণে আমি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমি সেটিও বন্ধ করে দিয়েছি। আবার পরবর্তীতে জীবনের যে কোন সময়ে যখনই আপনাদের সম্মুখে জিন হিসেবে পরিচয় প্রকাশ করেছি, তখন যে কোন কারণেই হোক না কেন হয়তো আপনাদের কেউ কেউ আমায় সামান্য মূল্যায়ণ করেছেন (তাও গত কয়েক বছরের মধ্যে, ২০২৬ ইং), কিন্তু যখনই আমি মানুষ হিসেবে আমার পরিচয় প্রকাশ করেছি, তখন আপনারা কিভাবে আমার সাথে অপমান মূলক ব্যবহার করেছেন; মনে পড়ে আপনাদের? অথচ আপনাদের বুঝে ধরেনি, মানুষতো আসলে একজনই আমি; তাহলে যে ব্যবহারে জিন সম্মান পাবে, সে একই ব্যবহারে মানুষ কেন অসম্মানিত হবে? আপনাদের এসব ব্যবহারের জন্য আপনারা কি একটুও দায়ী না? আপনারা সবাই মিলে আমায় লাথির পর লাথি মারছেন এবং মেরে চলেছেন, এতে আপনাদের কারো কোন দোষ হয়না বা হয়নি, অথচ আমি কাউকে সামান্য পা দেখালেও আপনারা সবাই মিলে আমায় ঝাপড়ে ধরেন, আমার মহা দোষ ধরেন? আচ্ছা আমরা না হয় শয়তান হলাম, আপনাদের এসব ব্যবহারে আপনারা কেমন মানুষ বলেন!? ইয়াতিম শিশু আর অসহায় গরীবদের জন্য দয়া হতো, কিন্তু তাদের দিকেও তাকাতে পারতাম না, উপহাস করতো। শাসনের ছলে কখনো যদি ছোটদের দিকে অথবা শিশু ভাতিজাদের দিকে তাকাতাম, তখন তারা উল্টো আমায় পাল্টা চরম অপমান মূলক দৃষ্টিপাত ও ব্যবহার করে আমার মাথাই খারাপ করে দিত। আমি যেন বাড়ির ও সমাজের উচ্ছিষ্ট মানুষ!!
মাইন্ড করবেন না, সমাজে আপনারা আমার বিষয়ে মিস গাইড ও ব্লাক ম্যাসেজ প্রদান করতেন। আর এতে বালক শ্রেণীর ছেলেরা ও রিক্সা ওয়ালা ও মূর্খ টাইপের মানুষেরা কি এতো কিছু বুঝতো! কেমন ব্যবহার করে ছিলো তারা আমার সাথে!? অথচ আপনারা এতে মজা পাইলেন, তামাসা চাইলেন! কিন্তু একবারও ভাবলেন না, এ তো আমাদেরই ভাই, আমাদেরই প্রতিবেশী, আমাদেরই আপনজন!
দেখুন, আমার ঘাড় ভেঙ্গে দিতে, মন-মোগজ ভেঙ্গে দিতে, আমাকে রাত ২/৩টা পর্যন্ত শক্ত মোটা রশি দিয়ে বেঁধে রেখে আমার রক্ত চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়ে আমাকে এক রুমে আঁটকিয়ে রাখলেন। একই উদ্দেশ্যে আমাকে এক রুমে তালাবন্ধি করে রাখলেন একটানা প্রায় ৮/১০ দিন। ধমক দিয়ে বললেন, তোর দাঁড়িতে আগুন ধরামু, আমার মেচওয়াক কেড়ে পুকুরের মাঝে ফেলে দিলেন, বেশি বেশি দোয়া-দরুদ পড়লে ধমক দিয়ে বলতেন, এতো কী পড়স! আমি কোরআন শরীফ একটু বেশি তিলাওয়াত করার কারণে আমার হাত থেকে কোরআন শরীফ কেড়ে নিয়েছিলেন। আমি খাটে ঘুম যাওয়ার পর, নিচে আমার পায়ে পরার জুতোর উপর কোরআন শরীফ রাখলেন, যাতে ঘুম থেকে উঠে জুতা পরতে গিয়ে কুরআন শরীফকে লাথি মারি! এতো অতিরিক্ত করার কারণে আমার দিলে কি একটুও কালো দাগ পড়েনি বুঝি!? জ্বী, চেয়েছিলেন আপনাদের প্রতি ভয় সৃষ্টি করতে, যাতে আপনাদেরকে নম নম করি! আপনাদের কাছে সবসময় যেন দূর্বল থাকি! অবশ্য অনেকটা সফলও হয়েছেন। নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, আপনাদেরকে দেখলে আমি যেন একেবারেই হিম হয়ে যাই! কিন্তু কাজটা কি ভালো হয়েছে? এভাবে উদ্বমতা হারিয়ে, নিস্তেজ হয়ে দুনিয়ার কোন কাজ হবে!? দুনিয়ার কোন কাজ দরকার? না, আপনারা আমার আব্বা বা মোডল হওয়া দরকার? জানিনা কোনটা আপনাদের দরকার মনে করে আমার সাথে এমনটা করলেন! অথবা কিভাবে আমাকে শয়তান রূপে চিহ্নিত করলেন!? আর আজ আমি যদি ফেইলিউর হই, তবে আপনাদের এসব কর্মকান্ডের দায়ে আপনারা কি কাল কেয়ামতের মাঠে একটুও দায়ী হবেন না!?
এবং এরপর আমি নিজেও এমন কিছু কথা ফেসবুকের মাধ্যমে লিখলাম যে, যে জিন ও মানুষের বিয়ে জায়েজ, আমি সামর্থবান হলে ৪ বিয়ে করবো, দাসী রাখবো এবং আমি আরো লিখলাম একই বিছানায় স্ত্রীদের সাথে বা দাসীদের সাথে, প্রত্যেকের সামনে, একসাথে সহবাস বা গ্রুফ সেক্স করা জায়েজ। আর আমার এ আগ্রহ বা মনোভাব যখন আমার চোখে, মুখে ও ইঙ্গিত বা ভাব-ভঙ্গিমায় প্রকাশ পাচ্ছিলো, তখন আমার প্রতি আপনাদের ব্যবহার কেমন ছিলো!? বাড়ি বা ঘরে বা এ সমাজে কিভাবে বেঁচে ছিলাম আমি!?
আপনাদের শত অত্যাচার সয়েছি! এবং যার ফলশ্রুতিতে আজ আমার ও আমার সংসারের সদস্যদের জীবন প্রায় বিপন্ন; আমরা আজ এক চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছি।
আর এখন আপনাদের ব্যবহারিক মনোভাব অনুযায়ী, আপনাদের ব্যাপক মানুষের মৌন সমর্থন ও কিছু লোকের মৌখিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, যেহেতু আপনাদের কিছু লোক আমাকে মুখেও বলেছেন যে, আমি জিন; তখন আমি উপরোক্ত পত্রের মাধ্যমে আপনাদের নিকট আবেদন করেছিলাম, আপনারা আমার বিষয়ে যে, যা বুঝতে পেরেছিলেন, ঠিক সে মন্তব্যটি লিখে বিশ্বের জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের প্রতি আমার জন্য একটি দলিল বা স্বাক্ষী রেডি করে দিতে যে, আসলে কেন আমার বৈশিষ্ট্য এ রকম অস্বাভাবিক হয়ে গেছে! বা গিয়েছিলো বা আসলে আপনারা কেন আমার সাথে এ রকম ব্যবহার করেছিলেন এবং আমার উপরোক্ত পত্রে আপনাদের প্রতি আমি অনুরোধ করে ছিলাম, আপনাদের কাছে যদি মনে হয় যে, আমার শরীরে জ্বীনের উদয়ন ঘটেছে বা পৃথিবীতে এটা জিন জাতির আত্মপ্রকাশ বা এভাবে এভাবে আমি বা আমরা এটিকে জিন হিসেবে সনাক্ত করতে পেরেছি। তখন আপনাদের কেউ আমার উপরোক্ত পোস্টটির একটা মন্তব্য পর্যন্ত লিখেননি।
এটা আমি এ জন্য চেয়েছিলাম যে, একদিকে যেমন মানুষ নিজের পরিচয় নিজে পুরোপুরি বুঝার কথা না! বা নিজে কী, সঠিক ভাবে সেটা নিজে বলতে পারেনা!! ঠিক তেমনি আমি যখন বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা বা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে লিখিত ভাবে বিষয়টি জানাবো, তখন আমার বিষয়ে আপনাদের দেয়া এ স্বাক্ষী বা মন্তব্য বা সে্টটম্যান্ট; জিন হিসেবে আমার একটি দালিলিক প্রমাণ পত্র হিসেবে ঐ পরিপত্রের সাথে দাখিল করতে পারবো। এবং নিজেও বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝতে পারবো ও আত্মবিশ্বাসের সহিত কাজ চালিয়ে যেতে পারবো!
কিন্তু আমার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও আলেম সমাজ যখন এ বিষয়ে মুখই খুলেননি, একটি মন্তব্যও লিখেননি; তখন আমি হতাশ হয়েছি, মনে দুঃখ পেয়েছি। তাহলে আপনারা কেন আজ প্রায় সু-দীর্ঘ ২৫টি বছর আমায় এতো কষ্ট দিলেন, আর আজ সে কথাটি বলতেও পারলেন না!? বা বলতেও নারাজ! তাহলে আপনারা আমার কেমন স্বজন!!
আমি আমার আত্মীয়-স্বজন সহ আমার এলাকার প্রায় ৪০ জন মানুষের নিকট উপরোক্ত পোস্টের লিংক ইমোতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা কেউ উত্তর দেননি! তাহলে এখন আমি দেশি বা আন্তর্জাতিক কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে বা জানান দিতে, আমি যে জিন হিসেবে এ মহাবিশ্বে উদয় বা প্রকাশিত হয়েছি, বা আগমিত হতে চেষ্টা করছি; আমার পরিচয় প্রকাশ করার জন্য বা মহান রবের সৃষ্টিগত পরিচয় প্রকাশের জন্য, তথা সর্বশক্তিমান আল্লাহু তা’য়ালার পরিচয় প্রদান করার জন্য বা মানুষের জন্য কল্যাণকর নেয়ামত নিয়ে আসার জন্য; এখন এর স্বপক্ষে আমি কী দলিল পেশ করবো, আপনারা বলেন!? ইতিপূর্বেও আমি আপনাদের নিকট, এ বিষয়ে আপনাদের সাপোর্ট বা সমর্থন চেয়েছিলান। কিন্তু তখনও আমি আপনাদের থেকে কোন সাড়া পাইনি!
হয়তো আপনাদের কথা হলো, আমি এক মহা শক্তিধর ইবলিশ জিন! তাই আমাকে কোন ধরনের সহযোগিতা আপনারা করবেন না, শুধু বাধা দিবেন, দাবিয়ে রাখবেন। তাছাড়া আপনাদের আরো চিন্তা হচ্ছে আমার মতো এমন গেঁও, আনকালচার্ড অল্প শিক্ষিত মানুষের দ্বারা এসব কখনোই সম্ভব হবে না! আর তাই আপনারা আমার ওয়াইফাইটা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন, যাতে বাহিরের কারো সাথে আমি যোগাযোগ করতে না পারি; কারণ যেহেতু আমি কাফেরী মতবাদ প্রকাশ করছি, আমি মোরতাদ হয়ে গেছি, তাই আমাকে বেঁধে রাখাই আপনারা উত্তম বলে মনে করছেন হয়তো! অথবা আপনারা এ ভেবেও আমাকে ওয়াইফাই না দিতে পারেন যে, আমার কাছে ভাত খাওয়ার টাকা নেই, আমি ওয়াইফাই দিয়ে করবো কী, কিছু পারলেতো আগেই করতে পারতাম! তাহলে বার বার আবেদন করার পরও কেন ওয়াইফাই সংযোগ দিচ্ছে না আমায়!? কিন্তু ওয়াইফাই কর্তৃপক্ষের স্মরণ রাখা উচিৎ ছিলো, প্রথমে এ ওয়াইফাই লাইন আনতে তারা আমার কাছ থেকে মনেহয় ৩/৪ হাজার টাকা নিয়েছিলো, আর এখন আমি মাসে ৫০০ টাকাও দিতে পারবো না!? যাক তাদের মনের খবরতো আর আমি জানিনা!!
এখন কথা হচ্ছে, আপনাদের ফতোয়ায় আছে, জিন এবং মানুষের বিয়ে নাজায়েজ, হারাম; এছাড়া আপনাদের বিজ্ঞানীরা বলছেন জিন বলতে কিছু নেই। এছাড়াও আমি বলছি, স্ত্রীদের সাথে এবং দাসীদের সাথে একই বিছানায়, একই সময়ে সহবাস জায়েজ বা তাদের সাথে গ্রুপ সেক্স জায়েজ; অপরদিকে আপনারা বলছেন, এটা শুধু হারামই নয়, কাট্টা হারাম। আমি জানি, হয়তো আমার সাথে জিন থাকাতে আপনারা আমাকে শুধু মৃত্যু প্রায় করে রেখেছেন, না হয় এতো দিনে হয়তো আপনাদের কোন একটা দল আমাকে মোরতাদ ঘোষণা করে জেন্তই মেরে ফেলতেন! যেহেতু ইসলামে মোরতাদের শাস্তি হচ্ছে, হয় বেঁধে বা আঁটকিয়ে রাখতে হবে, না হয় মেরে ফেলতে হবে।
এবং যেহেতু হারাম হচ্ছে ফরজের বিপরীত। তার মানে আপনারা যাকে হারাম ফতোয়া দিচ্ছেন, আমি তা মানছিনা, বরং আমি তা অবজ্ঞা করে, না মেনে, তাকে জায়েজ ও সওয়াবের কাজ বলছি। দেখুন, ইসলামী শরিয়তের একটি আইন হচ্ছে, কোন মুসলমান যদি কোন হারামকে হালাল মনে করে, তবে সে যদি জেনে বুঝে ও সুস্থ মস্তিষ্কে এটা করে, তাহলে তার ঈমান থাকে না, সে কাফের এবং ধর্মদ্রোহী বা মোরতাদ।
তাহলে আমার প্রতি আপনাদের এমন গুরুতর নেগেটিভ মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এবং চিরদিন এ অসুস্থতা ও অর্থনৈতিক ফকিরি অবস্থা নিয়ে আমি কিভাবে আপনাদের সাথে বসবাস করবো, আর কিভাবে বাঁচবো, আপনারা বলেন?
যে শিশু ভাতিজা, আমাকে সম্মান করার কথা; সে শিশু ভাতিজা আমাকে তুচ্ছ্য-তাচ্ছিল্য করছে; অপমানজনক ভাবে দৃষ্টিপাত করছে, এখন পর্যন্ত আমার দিকে চোখ রাংঙ্গিয়ে থাকছে বা ভাষা-ব্যবহার করছে। আমাকে তার সমান সমান মনে করে, বাহুবল দেখাচ্ছে, আমাকে তার আপনজন মনে করতে পারছে না। আমার সাথে সে অপমানজনক ব্যবহার করছে! আমি তার বাবার ভাই, অথচ আমার বিষয়ে তার সমান সমান ও অপমানজনক চিন্তা! তাদের সকলের এ রকম অগ্রহণযোগ্য ও অপমাণজনক মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বাড়ির দিকে ঢুকতে এখন আমি ইতস্তত করি, চুপিসারে ঢুকতে চাই, নিজকে বিব্রতবোধ ও অপমাণিতবোধ মনে করি।
আবার আমারই ভাই, অথচ আমাকে দেখছে তারা ছোট ও খাট চোখে এবং আমার সাথে চলছে তারা অনেক অনেক দূরত্ব বজিয়ে! আমার যে কোন সম্মানজনক কাজের বিরোধিতা করে। আমার বাবার পুকুর থেকে আমার বসত ঘরের জন্য যখন ভিটি বাঁধাই করতে অল্প কিছু মাটি আনতে যাই, আর আমারই বড় ভাই আমাকে আনতে দেয় না, আমার লেবারকে জোর পূর্বক তুলে দেয়; আর এ অবস্থায় আমি মজলুম হিসেবে বাড়িতে আমার পক্ষে কেউ কথা বলার থাকে না, তখন আমার ভাইদের কাছে আমি গ্রহণযোগ্য আছি বলে কি আপনারা মনে করেন!? রাস্তার পাশে আমার সমিতির ঘর দিতে প্রথম যে দিন ইট আনি ও রাস্তার পাশে ফেলি, তখন আমারই বড় ভাই বাড়ি থেকে তেড়ে আসে এবং লেবারদের সাথে অনেক অনেক বকা-বকি ও রাগা-রাগি করে। তার ওজুহাত হচ্ছে, আমার কিছু ইট তার নাইচ্ছা গাছের (পাট শাক, ৮/১০টি) মধ্যে পড়েছে। আসলে এটা ছিলো তার হিংসা ও গায়ের জোরের এবং আমার প্রতি তার বিরোধিতার বহিঃ প্রকাশ! যে ভাতিজাকে ছোট বেলায় কোলে নিয়েছি, আদর করেছি, সে ভাতিজার কাছে কোরআন তিলোয়াতের একটি ভিডিও শেয়ার করলে, সে বলে, নেক্সটটাইম আমার কাছে এ ধরনের কোন কিছু শেয়ার করবেন না! ভায়ের ঘরে মাকে দেখতে গেলে, ভাবী বলে কেন ঘন ঘন আসি, করনার জীবানু আসতেছে!
যে মহিলাদেরকে আমি দূর্বল মনে করে, তাদের হক আদায়ে সচেষ্ট হতে চাচ্ছি, তাদের হয়ে কথা বলতে চাচ্ছি, তারাই অতিরিক্ত পর্দার কথা বলি, নির্লজ্জ্যতার কথা বলি ইত্যাদি অযুহাতে আমাকে ঘরে রেখে তালা মেরে দিচ্ছে এবং এর নেতৃত্ব দিচ্ছে আমারই বোন! এবং অনেক সময়ই তারা আমার সাথে পর্দাতো করছেই নাা, বরং আমার সামনে আমাকে মুখ ভেংচি কাটছে, আমি ভাসুর হয়েছি ইত্যাদি কথা বলছে, মাথা নিচু করে পাচায় তাকাতে ইঙ্গিত করছে।
না বললেই নয়, রাত ১১/১২ টায় যখন স্ত্রী সহবাসে থেকেছি, ঠিক তখন আমার ভাবি এসে জানালায় পিঠতে থাকে ও আমার বউকে অনবরত ডাকতে থাকে। আমরা কেউ জবাব না দিলে, এবার আমার বড় মেয়ের নাম ধরে ডাকতে থাকে অনরগল। এবং ফেসবুকে বিষয়টির সাধু ভাষায় প্রতিবাদ করলে, পরদিন সকালে আমার ভাই তার ছেলে সহ এসে আমার সাথে মার মুখি অবস্থান গ্রহণ করে ও উত্তপ্ত ব্যবহার করে!
আমার সম্পত্তিতে আমি থাকি; অথচ আমার জেঠাতো ভাই আমাকে শাসায় ও বলে, তুই বেশি করতেচস, তুই বাড়ি থেকে বের হ!
যে আলেমকে আমি সবচাইতে বেশি সম্মান করি, অথচ তিনি ও তারা এবং আমার আত্মীয়-স্বজনেরাই আমাকে বলছে কাফের! করছে দূর দূর! ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমি মুমেন, অথচ সকলের মাঝে আমি কাফের হিসেবে সাব্যস্থ!
যে স্ত্রীর কাছে শান্তি পাওয়ার কথা ছিলো, সেই’ই তার বেঁচে থাকার স্বার্থে, খাওয়া পরার স্বার্থে, তার ভাসুর ও ভাবীদেরকে করছে অতি সম্মান, আর আমাকে করছে নির্লজ্জ্য অপমান। যেভাবে আমার মাথা গরম হয়ে যাবে, যেভাবে করলে আমার কাছ থেকে অপমানজনক ব্যবহার বেরুবে, আমি অপমাণিত হবো, সেভাবে ব্যবহার করছে, যাতে আমাকে দাবিয়ে রাখা যায়, যাতে বাড়ির অন্যান্যদেরকে খুশি করে রাখা যায়!
আলহামদুলিল্লাহ, আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়ি, এবং আগে যেখানে মানুষ আমাকে অনেক সময় আযান দিতে, ইকামত দিতে এবং সময় সময় নামাজের ঈমামতি করতে আহবান জানাতো, সেই ক্ষেত্রে এখন মানুষ আমাকে যেন এসবে সহ্যই করতে পারছে না, আমার কাছ থেকে যেন ফাতিহা সূরাটিও শুনবেনা আর! যার কাছে দ্বীনের তেমন কোন জ্ঞান নেই, সেও ইকামত দিচ্ছে, আর আমি তুচ্ছিত হয়ে, মসজিদের সর্ব বামে বা সর্ব ডানে বসতে বাধ্য হচ্ছি! কারণ আমার প্রতি মানুষের গ্রহণ যোগ্যতা নেই এবং আমাকে মানুষ অযোগ্য ও পাপী মনে করছে। মসজিদে বেশি বেশি কোরআন তিলোয়াত করলে, নামাজ পড়লে সে হওয়ার কথা সম্মানিত, অথচ আমি হই তামাসার পাত্র!
তার উপর আমার কাছে এখনো মানুষ প্রায় ৭ লক্ষ টাকা পাবে এবং যা দিতে পারছিনা আজ প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে, যার জন্য এ সমাজে বসবাস করতে আমার নিজেরই মন মরা!
(সঠিক অবস্থা ও ঘটনা বোঝার স্বার্থে অল্প কিছু তুলে ধরলাম!)
এভাবে বিভিন্ন কারণে আমার আত্মীয়-স্বজন এবং আমার এলাকার মানুষগুলো আমায় এড়িয়ে চলে; ধনী গোচের এবং আমার কাছের মানুষগুলো ও আলেম সমাজ আমাকে তাদের সাথে সম্মানজনক ভাবে মিশতেই দেয় না, আমার সাথে তারা অনেক দূরত্ব বজিয়ে চলে, আমি তাদের সাথে চললে, তাদের সাথে কথা বললে যেন তাদের সম্মান হানি হয়, তাদের যেন মান-ইজ্জত চলে যায়! কোন প্রয়োজনে তাদের নিকট ফোন করলে, তারা ফোনতো ধরেইনা, অনেক সময়ই উল্টো ফোন কেটে দেয়!
শুনুন ভায়েরা, আমি যেখানেই গিয়েছি বা যেখানেই থাকছি, আমার নিজ জন্মস্থান বলেন কি বাহিরের কোথাও বলেন, চাকুরির প্রয়োজনে অনেক মাদ্রাসায় ও অনেক স্থান বা এসব স্থানের অফিস-আদালতে আমি গিয়েছি, আপনাদের থেকে ফতোয়া আনতে কয়েকটি মাদ্রাসা ও সরকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনেও গিয়েছি, সকল জায়গাতেই আমাকে মাথা নিচু করে, আপনাদের-মানুষদের পা চেয়ে চেয়ে, আপনাদেরকে কুর্ণিশ করে করে, নতজানু হয়ে, আপনাদেরকে ও আপনাদের আইন-কানুনকে আব্বা ডেকে ডেকে মাথা নুইয়ে নুইয়ে, আপনাদের শিশু-বুড়ো সকলের থু থু গিলতে গিলতে এবং ২৪ ঘন্টা আপনাদের নজরবন্দী হয়ে, কোনমতে আধমরা হয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে বা হচ্ছে।
কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, জিন হিসেবে আমি এসেছি আপনাদেরকে আমার আইন অনুযায়ী আপনাদের জীবন চালাতে, আপনাদের আইন অনুযায়ী মাথা নুইয়ে নুইয়ে আমার জীবন চালাতে নয়; মানে আপনাদের চলমান আইন সমূহকে আমার দ্বারা যটটুকু সম্ভব কোরআন-হাদিস অনুযায়ী সংশোধন করতে।
সব মিলিয়ে আপনাদের এ রূপ বিরূপ ও নিষ্ঠুর ব্যবহারে গত ২৫ বছরে আল্লাহর রহমতে আমার যথেষ্ট জ্ঞান হয়েছে যে, মুসলিম বিশ্বের কোথাও হয়তো আমাকে গ্রহণ করা হবে না। ফলে মুসলিম জনগণের মাঝে জিন হিসেবে আলাদা ভাবে আমি হয়তো কোন দিনই আসতে পারবো না। তবে ভয় পাবার কারণ নেই, আমি যদি কোথাও চলেও যাই, সেটা প্রকাশ্যেই যাবো। এবং যারা আমার কাছে টাকা পাবেন বা বিভিন্ন সময়ে আমার উপকার করেছেন বা এখনো করছেন, আমি এ ধরনের সকল ব্যক্তি বা ব্যক্তিদ্বয়ের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবো ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা।
তবে আমার মনে হয় ইংরেজ সমাজ আমার এ সব মানসিকতা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মেনে নিতে পারে। কিন্তু কথা হচ্ছে, তারা আমার এ অল্প কয়েকটি মাসআলাকে সামাজিক ভাবে মেনে নিলেও, ইসলামের অন্যান্য হাজারো মাসআলাকে তারা মেনে নিবে না। এবং তাদের সমাজ-সংস্কৃতিতে, যেখানে নিকটে হয়তো মসজিদও নেই, যেখানকার মানুষ প্রায় অর্ধ-উলঙ্গ, এরূপ একটি পরিবেশে ১০০% ইসলাম মেনে সর্বোত্ততম ইবাদত করা অনেকটাই অসম্ভব। আবার মুসলিম জাহানে আমার এ মাসআলা সমূহকে জায়েজ বলা এবং আমাকে পদবী ছেড়ে দিয়ে চেয়ার দিয়ে দায়িত্ব দেয়া, তা শক্তি প্রয়োগ ব্যতিরেকে হয়তো কিছুতেই সম্ভব হবে না বা কেউ মেনে নিবে না।
আবার আমি জন্মভূমি থেকে হিজরত করতে পারি, যেহেতু তা সুন্নাত। কিন্তু নিজ সম্প্রদায় ত্যাগ করে চলে যাওয়া, তাহলেতো আমি কাপূরুষ! মুসলিম কি কাপূরুষ হতে পারে!?
তবে যেতে পারি শুধু এক যুক্তিতে, আর সেটি হচ্ছে যদি কোন আগুনের বাসিন্দা, মানে যারা অমুসলিম বা নাস্তিক, তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে বা করবে, আমার জিন যদি এ রকম কিছু পারবে, যদি তার কাছে এ রকম মনে হয়, এ বিষয়ে যদি তার সৎ সাহস থাকে, তাহলে যদি এসব ফলপ্রসু দাওয়াতি কাজ মক্কায় মসজিদে হারাম শরীফের পাশে বসে সম্ভব না হয়, তাহলেই কেবল ইংরেজ দেশে যাওয়াটাকে আমি সমর্থন করতে পারি এবং আমি এতে প্রস্তুত রয়েছি।
তবে আমি মনে করি আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্সতার এ দিনে মসজিদে হারাম শরীফের পাশে এক ভবনে থেকেই পুরো পৃথিবী পরিচালনা করা এবং এর সমস্ত কাজ সম্পাদন করা সম্ভব!
যাক আমার সব কিছু জিনের বা জিন সম্প্রদায়ের ইচ্ছার, তারা রাজি থাকার উপরই নির্ভর!
তাই সব কিছু বিবেচনা করে আমার মুক্তি কোন্ পথে আমি নিজেই জানি না।
অন্যদিকে এতোদিনে আমি যা দেখলাম আমার চারপাশের মুসলিমদের সবচাইতে বড় একটি মূর্খতা হচ্ছে, ওরা আমার কাছ থেকে শুধু জিন চায়। জিনকে ভয় করে হোক বা লোভে পড়ে হোক বা কৌতুহল বশে হোক, যখনই আমি জিন হিসেবে জনাব আরিফের শরীরে দৃশ্যমান হই বা মাইন্ড করবেন না, আপনাদের মতো জ্ঞানহীন বা মূর্খদেরকে বুঝাই, শুধু তখন আপনারা আমায় মূল্যায়ন করেন, কিন্তু যখনই আমি মানুষের বেশে, একজন স্বাভাবিক মানুষের মতো করে দৃশ্যমান হই, তখন আপনারা আমায় মূল্যায়নতো করেনই না; উল্টো অপমানের চরম সীমায় পৌঁছিয়ে দেন। আপনাদের কেউ বুঝতে পারেন না যে, আমরা মানুষ হই বা জিন হই, আমরা একজনই। একটিই শরীর আমাদের। জিন হিসেবে যখন আমরা আপনাদেরকে বুঝাই, তখন মানুষটি যায় কোথায় বলেন (?), আবার মানুষ হিসেবে যখন আপনাদেরকে বুঝাই, তখন জিনটি যায় কোথায় বলেন!? আমাদেরকি ব্রেন একটি নয়!? জিন হিসেবে হোক বা মানুষ হিসেবে হোক, আমরা যেভাবেই উদিত হই না কেন, আমরা ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা উভয়ে উভয়কেই বুঝতে পারবো। শুধু আপনাদেরকে বুঝাতে গিয়ে বা আপনারা যা বুঝেন, সে হিসেবেই আপনারা আমাদেরকে এরূপ দেখতে পান বা দেখাতে হয়। না হয় এ লিখনির মধ্যে এতো কিছু কিভাবে লিখেছি বলেন?
তাছাড়া মানুষের সাথে, মানুষের মাঝে কাজ করতে হলে মানুষের মতো হয়ে কাজ করতে হবে! জিন হিসেবে রোগীর বেশে বা পাগলামি করে করে অথবা মানসিক রোগীর মতো থেকে থেকে কি কোন কাজ করা সম্ভব হবে!?
কিন্তু অতীব আশ্চর্যের বিষয়, যখনই আমরা মানুষ হিসেবে উদিত হতে চাই বা উদিত হই, তখন আপনারা কোন কাজতো দিতে চানই না, উল্টো মনে হয় আমাদের মুখে চুন-কালি লাগিয়ে দিবেন, এ রকম অবস্থা!
আচ্ছা আপনারা কি আমাকে জিন হিসেবে অস্বাভবিক বা পাগল বেশে দেখতে চান (?), না, সুস্থ সবল একজন মানুষ হিসেবে দেখতে চান!? আপনাদের কবে জ্ঞান হবে?
আমি কি এতোদিন আপনাদেরকে জিন হিসেবে পরিচয় দিইনি?
এখন আপনাদের উচিৎ আমাকে একজন যোগ্য মানুষ হতে সহযোগিতা করা, কিন্তু আপনারা তা না করে, এখনো শুধু তামাসাই চান।
তাহলে আপনাদের সাথে আমি কিভাবে থাকবো, আর কিভাবে কাজ করবো? বা আপনাদের বা আমার উন্নতি করবো! আবার আমাকে জিন হিসেবে মানুষের শরীরে যদি উদিত হতেই হয়, এবং কোন কাজ যদি করতেই হয়, তবে অবশ্যই বাকি দশ জন মানুষের মতোই আমাকে থাকতে হবে। আমার পরিচয়তো আর আপনাদেরকে কম দিইনি, তাইনা!?
এছাড়া আপনাদেরকে যখন কোন সহজ সত্য বিষয়েও যদি আমি না বোধক ইঙ্গিত দিই, আপনারা সকলে সে না’য়ের উপরেই দায়েম ও কায়েম থাকেন; ফলে অসত্যই বা যা সঠিক নয়, এরূপ বিষয়ই কি কায়েম হবে!? বা আপনারা কি আমার প্রকৃত বন্ধু হবেন না কখনো! যা হলে ভালো হবে, তাই কি হবে না!?
বলেন আপনারা কি সবাই একচেটিয়া আমায় অনুকরণ করতে চান? আপনাদের এতো উদ্ভট বন্ধুতো আমি নই!
শুনুন, আমি যদি আপনাদেরকে সত্য ও সঠিকটিকে না বলি, আর আপনারা যদি তখন, আমার না বোধককে ডিঙ্গিয়ে হ্যাঁ বলতে না পারেন, তাহলে আপনাদের মাঝে আমি চিরদিন থাকলেওতো কোনরূপ কাজ হবে বলে মনে হয় না!
বলেন আমি কি আপনাদের জন্য কোন রূপ বেহেশতের বা হিরা-রত্নের জাহাজ নিয়ে নেমেছি!? নিজেদের বিবেক একধম ছেড়ে দিবেন!? তাহলে আপনাদের এমন মানসিকতা ও জ্ঞান-গরীমার মাঝে আমি কী করতে পারবো বলেন!?
আবার আপনারা জানেন, একজন মানুষের উপর যখন সমাজের বাকি মানুষেরা বছরকে বছর খারাপ আইডিয়া রাখে বা অপমানজনক ব্যবহার করে, অথবা সহযোগিতা না করে শুধু তামাসা চায়, কোনখানদিয়ে ভূল করলো, কী কী ভূল করলো, নামাজ-রোজা ইত্যাদি কিভাবে কিভাবে করলো, নামাজ কয় রাকাত পড়লো, ঠিক মতো পড়লো কিনা, কী বাজার করলো, কিভাবে হাঁটে, কী খায়, সে কী পাস করেছে, এ কয় ক্লাস পড়ে, এ সামান্য পড়ে সে কী পারবে, তার এ সব পাগলামী অথবা তাকে ঔষুধ খাওয়াইয়া দমাইয়া রাখ ইত্যাদি ইত্যাদি;
আর তার নামে এ অপপ্রচার গুলো যখন সমাজে ছড়াতে থাকে, তখন ঐ মজলুম মানুষটি পরবর্তীতে ঐ জালেম ব্যক্তিটির বা ব্যক্তিদের সাথে বা ঐ সমাজে আর কিছু না হোক, অন্তত মিলেমিশে হাসিখুশি ভাবে চলার বা ভালো কিছু করার যোগ্যতা হারায় এবং তার যোগ্যতা ঐ জালেম বা অবহেলাকারী বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল্যকারী ব্যক্তিদের নিকট বা তাদের সামনে প্রকাশ করতে সে স্বাভাবিক হতে পারে না!
বা এদের সামনে হয়তো সে তার যোগ্যতা প্রকাশ করতে পারেই না!
আমি মনে করি এটা মানু্ষের সৃষ্টিগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য! আর আমার প্রতি আপনাদের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিতো এ রকমই! আমি মিথ্যে বললে আপনারা মন্তব্যে তা লিখেন!?
অন্যদিকে আমাকে আপনারা আইনগত ভাবে প্রকাশ্যে মেনে না নিলে আমি কেন আপনাদেরকে জিন বা জিন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কোন সার্ভিস দিবো বলেন?
বর্তমানে আমরা কাফের জিন বা কাফের জিন সম্প্রদায় নই যে,
যেভাবে সেভাবে আইন-আদালত বা বৈধতা বা সকলের নিকট সম্মানজনক গ্রহণ যোগ্যতা ব্যতিত এমনি এমনি বা আমাদের দাবি পূরণ ব্যতিতই চলে আসবো বা আপনাদেরকে বা এ পৃথিবীকে সার্ভিস দেয়া শুরু করবো!?
এমতাবস্থায়, আমার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সহ আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কোন কিছু আপনারা গ্রহণ বা সম্মানতো করছেনই’না, উপরুন্ত তামাসা চেয়ে চেয়ে আমার বা আমাদের ব্রেনটাকেই দিচ্ছেন হয়তো দিনের পর দিন ডাল বা শেষ করে বা নিম্নমুখী করে।
যে জায়গাতেই গিয়েছি বা যেখানেই থেকেছি, জন্মভূমি হোক বা জন্মভূমির বাহিরে হোক, কোথাও নিজের ব্যক্তিত্ব বজিয়ে, মাথা উঁচু করে, ওয়েটপূর্ণ ভাবে চলতে পারিনি, বলতে পারিনি! সব সময় আপনাদের নিকট আপনাদের পায়ের দিকে চেয়ে চেয়ে, মাথা নত করে থাকতে হয়েছে, অসম্মানিত ফকিরি জীবন-যাপন করতে হয়েছে আমাদেরকে!
কী, সত্য বলিনি আমি!?
আপনারা বলেন, এমন একটি পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে আমি কি বাঁকি দশজন মানুষের মতো বাঁচতে পারি!?
তাই বাধ্য হয়েই চুড়ান্ত ভাবে, আপনাদের প্রতি চরম পত্র হিসেবে, আমার বেঁচে থাকার স্বার্থে, জিনকে বা জিন সম্প্রদায়কে এ পৃথিবীতে মানুষের মতো করে, আমার থেকে আলাদা ভাবে মানব শরীরে, আমার নিকট নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে আমি নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত সমূহ গ্রহণ করলাম।
মূলত আমার নিজ আত্মীয়-স্বজন ও আলেম সমাজ থেকে কেউই যখন আমার উপরোক্ত পোস্টের কোন মন্তব্য করেনি এবং যেহেতু এর আগেও আমি যখন এ বিষয়টিতে মন্তব্য দিতে বলেছিলাম, তখনও কেউ যখন দেয়নি, ঠিক তখন আমি দুঃখিত মনে নিম্নোক্ত এ সিদ্ধান্ত সমূহ গ্রহণ করেছি। কারণ নিজেরাই যখন আমাকে চায় না, তখন অপরাপর মানুষগুলো চাইলেও আমার মনে শান্তি আসবে না!
এবং এখন কেউ মন্তব্য করলেও আমার এ সিদ্ধান্ত সমূহ অপরিবর্তনীয়ই থাকবে!
বিষয়টি সর্বসাধারণকে জানানোর উদ্দেশ্যে আজ আমি আমার ফেসবুক একাউন্টে এ পোস্টটি প্রকাশ করলাম ও ফেসবুকে শেয়ার করলাম। যাতে সকলে বিষয়টি জানতে পারে এবং ভবিষ্যত জীবনে কেউ যেন আমায় দোষারোপ করতে না পারে। সবাই যেন বুঝতে পারে আমি কোন্ অবস্থা ও পরিস্থিতির শীকার হয়ে এরূপ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি!
আপনারা আরো জানেন, আমি যা সিদ্ধান্ত নিই, তা বাস্তবায়ন করি। আমি অগ্রীম ঘোষণা দিয়ে কাজ করি! এবং আমার ভিতর বাহির সব প্রকাশ্য। ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা এ হিম্মত আমারই। কারণ আমি হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর শিষ্য। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বা কোন কিছু লিখে ফেললে বা বলে ফেললে তা কর্তনের বা পরিবর্তনের ইতিহাস আমার জীবনে খুব একটা নেই।
আর আমার সিদ্ধান্তের এ বিষয়গুলো আমি আপনাদের নিকট প্রাপ্য। যেহেতু ইসলাম অনুযায়ী, কেউ একজন যখন কারো কাছ থেকে যতটুকু জুলুমের স্বীকার হয় বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তখন ঠিক ততটুকু হদ আদায়ের সে অধিকারী হয়! এ ক্ষেত্রে আজ প্রায় ২৫ বছর আপনাদের দ্বারা আমি নিগৃহীত হওয়ার পর আমি এ সিদ্ধান্ত সমূহ নিতে বাধ্য হয়েছি। যা আমি ন্যায় সঙ্গত ভাবে প্রাপ্য। এবং সম্মাসজনক ভাবে বেঁচে থাকতে আমার অবশ্য আর কোন বিকল্প পথও খোলা নাই এখন!
সুতরাং আমার নিজ থেকে ইনকাম করে হোক বা যে কোন ভাবে আমার অর্থনৈতিক সাবলম্বিতা অর্জন হলে বা জিন আসলে বা জিনের কাছ থেকে কোন ভাবে অর্থ পেলে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমি এ সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবো!
আমি যে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, তা নিম্নরূপ-
১। যে কোন ভাবে হোক, আমার অর্থনৈতিক সামর্থ হলে বা জিন বা জিন সম্প্রদায় কর্তৃক আমায় টাকা-পয়সা বা ধন-দৌলত দিলে, তখন আমি পৃথিবীর যে দেশে গেলে, আমাকে এবং আমার এ সব ধর্মীয় দৃষ্টি-ভঙ্গি ও স্বভাব সমষ্টি, ওখানকার চারদিকের মানুষেরা সম্মানের সহিত মেনে নিবে, আমি তা পৃথিবীর যেখানেই হোক, আমি আমার পরিবার নিয়ে সেখানে অথবা সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় বা মদীনায় চলে যাবো। এতে আমার আত্মীয়-স্বজন, আলেম-উলামা, প্রতিবেশী, পরিচিত বা সরকার; মানে কেউই কোন রূপ (সরাসরি বা কৌশলগত ভাবে) বাধা দিতে পারবেন না। এতে আমি কারো বাধা শুনবো না।
২। আর আমি যদি একবার চলে যেতে পারি, ২য় বার আপনাদের এ এলাকায় বা এ বঙ্গভূমে আসবো কিনা, সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয় হিসেবে থাকবে। তবে যদি কখনো কোথাও যেতে পারি এবং সেখানে যদি শান্তি পাই, আর যদি ইসলাম ধর্মের এ কয়েকটি মাসআলার বিষয়ে সৌদি আরব, বাংলাদেশ সহ মুসলিম জাহান এগুলোকে জায়েজ হিসেবে ওপেন ফতোয়া না দেয়, তবে হয়তো কোন দিনই আর ফিরে আসবো না। এক্ষেত্রে আমার মা বা ভাই-বোন বা অন্য যে কোন আত্মীয়ই বলেন বা আলেম সমাজই বলেন, বা প্রতিবেশি বলেন বা যেই’ই বলেন, আমাকে ফিরে আসতে কোন ধরনের আবেদন, অনুরোধ, চেষ্টা, তদবীর, দাওয়াত বা কোন ধরনের কৌশল কিছুই করতে পারবেন না। আমি সব কিছু অগ্রাহ্য করবো। কারণ আমি মনে করি, আল কোরআন যাকে জায়েজ করেছে, আপনারা তাকে নাজায়েজ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উল্টো আমাকেই কাফের সাব্যস্ত করে রাখছেন এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমার সাথে যে সব ব্যবহার করেছেন, তার হদ বা ক্ষতিপূরণ স্বরূপ আমি নিজ বাসভূমে না আসলে এটা আমার জন্য অন্যায় হবে না।
মনেরাখতে হবে, আমার এ জেহাদ আল কোরআনের জন্য! আল কোরআনের বাণীকে বাস্তব দেখতে ও দেখাতে পারার জন্য ও এ বাণী যে সর্বকালের মানুষের জন্য অশেষ উপকারী তা প্রমাণ করার জন্য। এবং কোরআনের বাণী যে শাশ্বত, শুধু কোন এককালের জন্য নয়, তা বোঝানোর জন্য।
৩। কী কী ফতোয়ায় ইসলামী স্কলার গণ জায়েজ হিসেবে ফরমান জারি করলে আমি আমার স্বদেশ-ভূমে বা মুসলিম জাহানে ফিরে আসবো বা আসতে পারি, বা আসলে আমি কোন্ কোন্ ফতোয়ায় হ্যাঁ বোধক বা ওকে চাই, তা জানতে আপনারা বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকায় এবং ইউটিউব, ফেসবুক এসব প্ল্যাটফর্মে চোখ রাখবেন। আমার কাছে টাকা হলে আমি এসব অনলাইন ও অফলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে সহ পুরো বিশ্ববাসীকে তা জানিয়ে দিবো।
৪। চিন্তা করুন, আমার কাছে মানুষেরা এখনো প্রায় ৭ লক্ষ টাকা পাবে। দেখুন, যারা আমার সব চাইতে কাছের লোক, আমার ভাই-বোন, নিকট আত্মীয় বা আলেম সমাজ বা তাদের কেউ; অর্থাৎ আমার আপনজনদের বা আলেম সমাজের তেমন কেউই কিন্তু এ টাকার এক টাকাও পাবে না। তাহলে ইহা সুস্পষ্ট যে, আমার সাথে আমার নিকট আত্মীয় বা আলেম সমাজের তেমন কেউ নেই বা ছিলো না। আমার মহান রব তাদেরকে ধন দিয়েছে, জ্ঞান দিয়েছে তাদেরকে মোটা মানুষদের সাথে, শুধু ধনীদের সাথে মিশতে, তাদের পাশে থাকতে, শুধু সমানে সমানে লোকদের সাথে জীবন-যাপন করতে।
আমি দেখেছি, একটু বিত্তবান না হলে, একদিকে যেমন আত্মীয়দেরকে পাওয়া যায় না, ঠিক তেমনি হুজুরদেরকেও পাওয়া যায় না!
এভাবে আমি গরীব বিধায় আমার নিজেদের কাউকে আপন করে, আমার দূর্দিনে আমার সঙ্গে আমি পাইনি। এমনকি আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও আপনাদের সাথে সম্মান ও মর্যাদার সহিত চলতে পারিনি। ফোন করলেও আপনারা অনেক সময় আমার ফোন ধরেননি বা ফোন কেটে দিয়েছেন।
আপনারা পেট ভরে খেয়েছেন, আমি ও আমার পরিবারের সদস্য গণ অনেক সময় প্রায় অভূক্তই থেকেছি বা থাকতে হয়েছে।
অতএব, এ বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত হচ্ছে, যেহেতু আমার অভূক্ত অবস্থায় আমি আপনাদের থেকে খেতে পাইনি, মহান রব জিনের মাধ্যমে হোক বা যেভাবে হোক যদি আমাকে ধনী করে, তাহলে কেউ আমাকে দাওয়াত দিবেন না; আমি কারো দাওয়াত খাবো না।
হাদিয়া, তোহফা কিছুই দিবেন না। এসব আমি গ্রহণ করবো না।
যেহেতু আমার দূর্দীনে যখন আমার প্রয়োজন ছিলো তখন আমায় কেউ দেননি। আর এখন আমার কাছে যদি থাকে, তাহলে আপনার টাকা দিয়ে আমি কী করবো বলেন?
আবার এখন মূলত আপনিতো আমাকে দিবেন না, আপনিতো আসলে ধান্দা করার জন্যই দিবেন!
আমার এতো সম্মানের প্রয়োজন নেই ভাই! আপনাদের টাকা-পয়সা, আর সামাজিক মর্যাদা নিয়ে আপনারা থাকেন!
জীবনে আপনাদের কেউ কখনো ফুলের মালা দিতে আসিয়েন না আমায়!
অবশ্য এ কথা গুলো আপনাদের ব্যবহারে অতীষ্ট হয়ে এর আগেও আমি আমার অন্য পোস্টে বলেছিলাম।
আপনারা লক্ষ্য করছেন কিনা জানিনা, যেহেতু ইসলামের নিয়ম হচ্ছে, রাস্তার ডান দিক দিয়ে হাঁটা। তাই আমি রাস্তায় হাঁটতে সবসময় ডান দিক দিয়ে হাঁটি বা হাাঁটার আপ্রাণ চেষ্টা করি। কিন্তু আপনাদের নিয়ম হচ্ছে, আপনারা সবাই মুখস্তই বাম দিকে হাঁটেন, বামদিকে গাড়ি-ঘোড়া সব কিছু চালান। এতে হাইরোড়ে ডানদিকে চলা আমার দ্বারা কিছুতেই সম্ভব হয় না। আর গ্রামের রোড়ে ডান দিকে চলতে চেষ্টা করলেও, আপনাদের বাম দিকে চলার অটো অভ্যাসের কারণে আমার বিপরীত দিক থেকে আসা লোকটিকে বা লোকদেরকে আমাকে ডানদিক থেকে ছেড়ে বাম দিকে চলে যেতে হয়; না হয় আপনারা মনে করেন, আমি মোডল, আমি ইবলিশ, না হয় আমি আপনাদেরকে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছিনা কেন!? আপনাদের মাথায় নাই যে, আসলে ডানদিকে চলা এটাই ইসলামী তরীকা, বরং আমরাই ভুল পথে আছি!
মনেকষ্ট নেবেন না, আপনাদের এ দুনিয়ার সব কিছুই এখন বামাবর্তে ঘুরছে! আর আমিও আপনাদের মতো করে বামাবর্তে চললেই, আমাকে তখন আপনারা ভালো বলছেন! বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, গত ২৫ বছরে আমার সাথে এ রকম অহরহ ঘটনা ঘটেছে!! যা আপনাদের অনেকে হয়তো বুঝতেও পারেননাই যে, আমি কেন আপনাদের সাথে এ রকম ব্যবহার করেছি বা করেছিলাম!
কিন্তু আপনাদের সাথে বামে ঘুরতে, বামে চলতে আমি পারবো না!! যেহেতু ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমি আল্লাহু তা’য়ালার প্রতিনিধি!
বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, একটা ইবলিশ টাইপের মানুষ আর একটা আল্লাহ ওয়ালা মানুষ প্রচন্ড রোদের মধ্যে পথ চলতে গিয়ে, শয়তান টাইপের লোকটা শয়তানী করার খেয়ালে, ভালো লোকটিকে বলছে, চল সামনের পুকুরটিতে গোসল করি। এবং উভয়ে গোসল করতে নেমে ইবলিশ লোকটি বলছে, একডুবে কথক্ষণ থাকতে পারবা, প্রতিযোগিতা হোক! এতে উভয়ে ডুব দিলে দুষ্ট শয়তানটি সাথে সাথে উঠে ভালো লোকটির জামাগুলো পরে ও তার নিজের জামা গুলো হাতে নিয়ে লোকালয়ে চলে যায় এবং নিজের জামাগুলো কোন একজায়গায় ফেলে মানুষের সাথে মিশে যায়! আর মানুষ না বুঝে ও ভালো লোকের পোষাক দেখে সবাই তাকে ভালো বলে গ্রহণ করে নেয় ও সম্মান করে। অন্যদিকে প্রকৃত ভালো লোকটি অনেক্ষণ পানির মধ্যে ডুব দিয়ে থেকে এবং পরে তার পোষাক না পেয়ে, মানুষের নিকট উলঙ্গ বেসে গিয়ে একেবারেই মন্দ লোক সাব্যস্ত হয় ও পিছার বাডি, আর জুতার বাডি তার ভাগ্যে জুটে!
আসলে ভায়েরা, আপনাদের মাঝে আজ আমার অবস্থাও অনেকটা ঠিক এরকমই!
তাই কিছুই করার নেই। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমি আজ প্রায় ২৫টি বছর আপনাদের মাঝে শেষ হয়ে যাচ্ছি! পঁচে যাচ্ছি! আমার কাছে এখন বাঁকি আছে আর কী!। অতএব আমিও বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে জিনের সহযোগিতায়, জিনদের থেকে, যদি আমার মহান রব আমাকে সামর্থবান করে, তবে আমিও বৃহৎ স্বার্থে আপনাদের মতো আচরণ করবো! বা আচরণ করতে বাধ্য হবো! বা সময়ে সময়ে হলেও কারো কারো সাথে করতে হতে পারে! এবং এতে অনেক সময় হয়তো বেহুশির কারণে আপনাদের সাথে আমি ভালো আচরণ করতে নাও পারি!
যেমন দেখুন, বর্তমানে যে কোন কাজ করাতে মনিবগণকে প্রায় মোডলের মতো, দাম্ভিক বা অহংকারীর মতো থাকতে হয় বা বাস্তবেই থাকে ও ব্যবহার করতে হয়, এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নতির স্বার্থে অবশ্যই কঠিন ও কার্যকরী শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হয়, না হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ঠিকমতো কাজ করে না বা দায়িত্বে অবহেলা করে এমনকি প্রতিষ্ঠানের পবিত্র আমানত খেয়ানত করে, বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ চুরি করে এবং দলাদলি বা গ্রুপিং করার মাধ্যমে এক বা একাধিক লোক বৈধ বা অবৈধ ভাবে ভোগ করে, আর অন্যান্য এক বা একাধিক লোককে ঠকায় বা তাদের হক নষ্ট করে বা তাদের ওপর জুলুম করে।
এ সব রোদ কল্পে ঠিক আমিও যদি কোন কাজ হাতে নিই, তাহলে আমাকেও হয়তো সময় সময় এ রকম দাম্বিকতা বা কাজের গুরুত্ব বা অপরাধের গভীরতা অনুযায়ী এর চাইতেও বেশি দাম্বিকতা বা কঠোরতা করতে হতে পারে!
আর এতেও আমার কিছু করার নেই। এটা আপনাদেরই সমাজের শিক্ষা! আপনারাই সমাজকে এভাবে গড়েছেন! আর আপনাদের সমাজে আমাকে কিছু করতে হলে আমাকেওতো এ রকমই হতে হবে, তাই না?
আসলে এটা আমার চরিত্র নয়, বা আমার চরিত্র ছিলো না! বা আমাকে এ রকম হতে বা উপস্থিত এ রকম ব্যবহার করতে আপনারাই বাধ্য করেছেন! এটা আপনাদেরই কর্ম দোষের ফল, আপনাদেরই সিস্টেমের কারণে আপনারা আমার কাছ থেকে আজ এ রকম প্রাপ্য হচ্ছেন।
কী করবো! আপনাদের চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, ও সিস্টেমের কারণে অনেক সময়ই হয়তো নিজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না! এবং কাজ চালানোর স্বার্থে আমাকে হয়তো এ রকম করতে হবে! আর তখন আপনারা আমার ভুল ধরলে চলবে না; আপনাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে, আমি আজ সু-দীর্ঘ ২৫ বছর কম জুলুমের শীকার হয়ে এ রকম হইনি! অথবা আপনাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে, কাজ চালানোর স্বার্থে বর্তমান যুগের মানুষদের ও দুষ্ট জিনদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে হয়তো আমি এ রকম হয়ে গেছি!
তাই আপনাদেরকে আগাম ইঙ্গিত দিচ্ছি যে, একান্ত প্রয়োজন না হলে, আমার কাছে সব সময় সব কিছু নিয়ে আসবেন না বা আমাকে শুনাবেন না, বা সাধারণ কাজ সমূহে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন না! বাকি দশ জন যেমন আমার সিস্টেমের নিকট আবেদন করবে বা করে, আপনিও ঠিক সেভাবেই আবেদন করবেন ও আপনার কার্জ সমাধা করবেন! এতে আমাকে জানানোরও দরকার নেই।
আর আত্মীয়, আপনজন বা দেশি বা পরিচিত, এ সব দাবী নিয়ে যদি আমার সাথে যোগাযোগ করতে চান, তাহলে হয়তো আপনার ভালো হওয়ার চাইতে খারাপই হয়ে যাবে! বা হয়ে যেতে পারে! যেহেতু আমাকে এ রকম আপনারাই বানিয়েছেন।
আর তখন আমি ভালো মানুষ নই, ভালো মানুষের আচরণ কী হওয়া উচিৎ, এ সব বললে চলবে না! এখানে ভালো মানুষের চরিত্রের সাথে আমার এ ধরনের ব্যবহার সমূহের (যদি সংগঠিত হয়ে যায়) কোন সম্পর্ক নেই বা থাকবে না। এটা হবে সু-দীর্ঘ কাল ধরে আমার সাথে আপনাদের জুলুম, প্রতারণা ও অসাহায়ত্ব মূলক কর্মের প্রতিফল! মহান রব সিস্টেমেটিক্যালী ভাবে সৃষ্ট আমার এ সব ব্যবহার ও কর্মের পাপ থেকে আমায় মাফ করুন (যদি হয়ে যায়)। আমি আমার মালিকের নিকট, তার প্রতি ভয় করে, আমার এসব অনাকাংঙ্খিত ব্যবহার থেকে আগাম মাফ চাচ্ছি!
আর শুধু বন্ধুত্বের খাতিরে কেউ কুশলাদি বিনিময়ের জন্য বা দোয়া-খায়েরের জন্য বা কোন রূপ হাদিয়া, তোহফা বা উপহার দেয়ার জন্য বা আমাকে দাওয়াত দেয়ার জন্য, আমার সাথে, আপনিই যেই হন না কেন, কোন ধরনের যোগাযোগের বা চেষ্টা-তদবীর, ফোন কিছুই করবেন না, এ সুযোগ আমি আপনাদের কাউকে দেবো না। এবং বার বার এ কাজ করার চেষ্টা করলে হয়তো আপনি ব্লক হয়ে যেতে পারেন। যেহেতু আজ ২৫ বছর যে আপনারই পাশে আমি মরতে বসেছিলাম, আপনি তখন আমার কী খবর নিয়েছেন বা কতটুকু নিয়েছিলেন বলেন (?), উল্টো আমার দীর্ঘ সময় আপনারা লস করিয়েছেন, আমায় মজলুম বানিয়েছেন, আমায় মরতে বসিয়েছেন।আর এখন আপনি আমার আপনজন হয়েছেন, আমার জন্য আপনার প্রাণ পোডে, তাই না!?
এছাড়া আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও, রাসূলের (সাঃ) সুন্নাত পালনের মাধ্যমে আলেমের মতো জীবন-যাপন করার পরও এখন যখন আপনার বা আপনাদের সাথে চলতে পারিনি, কাল আমার কাছে সামর্থ এলে, আল্লাহু তা’য়ালা যদি দেয়, তাহলে আমাকে আপনাদের কোন মজলিসে আহবান বা দাওয়াত করবেন না।
যেহেতু আমি নিজে গরীব, অসহায়, দূর্বল, মজলুম; তাই ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমি চিরদিন, দুনিয়া ও আখিরাতে এদের সাথেই থাকবো।
এবং যেহেতু এখন আমাকে, আমার ফোনকে আপনি গুরত্ব দেননি, ফোন ধরেননি, ফোন কেটে দিয়েছেন; ঠিক আমিও যদি সামর্থবান হতে পারি, আপনার ফোনও ঠিক এভাবেই গুরুত্ব দিবো না, সরাসরি কেটে দিবো।
এবং আজ আপনি যখন আপনার সাথে আমাকে মিশতে দেননি বা অসম্মানিত বোধ করেছেন, ঠিক আমিও সামর্থবান হলে আপনার বা আপনাদের সাথে একই ব্যবহার করবো।
দেখুন, আমার সালামের উত্তর অনেক সময়ই আপনারা দেননি, বা শুনিয়ে দেননি, ঠিক পরবর্তীতে আমিও আপনাদের সালামের উত্তর শুনিয়ে দিবো না।
আমি গরীব ও অসহায় বলে প্রায় সবসময় আপনাদেরকে আমাকেই আগে সালাম দিতে হয়েছে, আমি খুব একটা আপনাদের থেকে আগে সালাম পাইনি, (আপনাদের এহেন ব্যবহার আমার প্রতি তাচ্ছিল্ল্য বা হেয় মানসিকতার কারণে হয়েছে)
অতএব যদি আমার মহান রব আমায় সামর্থবান করে, তখন আমিও আপনাদেরকে আগে সালাম দিবো না।
এবং আমার অন্যান্য সিদ্ধান্ত সমূহও আমি বাস্তবায়ন করবো।
দেখিয়েন তখন আমায় হাদিসের বরাত দিয়েন না; বা হাদিসের বাণী শুনাইয়েন না। আর এটা হবে শুধুই আমার প্রতি আপনাদের দূর্ব্যবহারের প্রতিফল। এখানে হাদিস মানা বা না মানা বা আমল না করার সাথে আমার এ সব সিদ্ধান্তের কোন সম্পর্ক নেই।
তাছাড়া আপনাদের অনেকেই সালাম আদান-প্রদান করেনতো শুধু ভয়ে বা লোভে বা কিছু প্রাপ্তির আশায় বা শুধু বিনিময়ের কারণে!
আর আমার মহান রব আমায় যদি তাওফিক দেয়, তখন আমার এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কালে, আশা করি তখন আপনারা আমার দোষ ধরতে পারবেন না।
অন্যদিকে প্রতিবেশী, সমাজ, পরিচিত, ফেনীবাসী ও দেশবাসীকে লক্ষ্য করে বলছি, দেখেন বাড়িতে শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকতে না পেরে, ঘুমাতে না পেরে রাস্তার পাশের ঘরটিতে থাকছি, অথচ এখানেও অনেক সময় বালক ছেলেরা এসে মোবাইলে এটা সেটা খেলার নামে,গল্প-গুজবের নামে আমায় ডিস্টার্ব দিচ্ছে। প্রায় সময়ই বালক ও শিশু ছেলেরা চারদিক থেকে কূ কূ শব্দ করছে। খেলার মাঠে বালকেরা একজন একজনকে বলছে, হাফপ্যন্ট পরে খেলার জন্য, একজন একজনকে খেলার জন্য ডাকছে, এরাতো আসলে অন্য বালককে ডাকছে না, এরা আমকেই অপমান করছে, আমাকেই বলছে।
আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি এ শব্দ গুলো, এ শিশু ছেলেরা আমাকে তিরষ্কার করেই করছে। কারণ আমি এমন কিছু কথা বলছি, যা মুসলিম সমাজে বা ইসলামে যে জায়েজ হতে পারে, এবং মানুষের জন্য যে উপকারী হতে পারে, তা এখানকার মানুষ হয়তো স্বপ্নেও চিন্তা করতে পারে না!
তাই তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন বা অন্য কারো কাছে শুনে তারা আমাকে এ অপমান গুলো করে যাচ্ছে।
আবার বড়রা অনেক সময় আমার এ অফিস ঘরের কাছে এসে থু থু ফেলছে, কাশি দিচ্ছে; বা বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কথা শুনাচ্ছে, আসলে এসব আমাকেই ঘৃণ করে করছে।
তাই আপনাদের প্রতিও আমার কথা হচ্ছে, আপনারাও যদি কখনো আমার মহান রব, আমাকে সামর্থবান করেন, তাহলে আপনারাও কখনো কোন কিছু পাওয়ার জন্য, আপনি আমার পরিচিত, আপনি আমার প্রতিবেশী বা ফেনীবাসী বা দেশবাসী, এ পরিচয় গুলো দিবেন না।
কারণ আমি যখন মরতে বসে ছিলাম, ঠিকমতো খাওয়ার পাইনি, পরনের কাপড় পাইনি, তার উপর বাচ্ছা ছেলে কতো গুলো দিয়ে বা মূর্খ টাইপের কতগুলো মানুষ দিয়ে, আমায় বিভিন্ন ভাবে অপমান করিয়েছেন; কখনো আমার বিষয়ে তদেরকে ভালো শিক্ষা দেননি, তাহলে আজ কোন যুক্তিতে এবং কোন অধিকারে আমাকে আপনার এসব ধান্দা মূলক কথা-বার্তা বলবেন!?
আপনার বা আপনাদের অধিকারতো তখনই শেষ হয়ে গেছে, যখন আমি আপনার পাশেই মরতে বসেছিলাম, আর আপনি আমার কোন খবরই রাখেননি তখন! উপরুন্ত আমাকে কষ্ট দিয়েছেন!
হ্যাঁ, আমার নিকট আপনার যদি কখনো প্রয়োজন পড়ে, তাহলে পৃথিবীর অন্যস্থানের মানুষ যেমন আমার সিস্টেমের নিকট আবেদন করবে, ঠিক আপনিও সেভাবেই আবেদন করবেন। সাবধান! ঘূর্ণাক্ষরেও আমার নিকট ফোন করবেন না বা ফোন করে আপনার পরিচয় দিতে যাবেন না। আমি সরাসরি আপনার ফোন কেটে দিবো; তবে যারা আমায় উপকার করেছে, কেবল তারা ছাড়া।
হে আমার গ্রামবাসী, ফেনীবাসী ও দেশবাসী কথাগুলো ভালো করে মনে রাখবেন!
তাহলে বলেন, আপনি যদি আমায় আপনই মনে করেন বা করতেন, তাহলে গত প্রায় ২৫টি বছর আমি যখন মরতে বসেছিলাম, তখন কোথায় গিয়েছিলেন আপনি (?), আর কোথায় গিয়েছিলো আপনার হৃদয়!!??
আমি ভূল বললে আপনি আমায় যুক্তি দেখান। আর এটা হচ্ছে আমার প্রতি আপনার বা আপনাদের কর্মের বা ব্যবহারের প্রতিফল। এখানে প্রতিবেশীর হক বা বন্ধুুত্বের হক বা পরিচিতের হকের কোন সম্পর্ক নেই।
আমার এ আইন, আপনি আমার ভাই-বোন হোন বা আলেম সমাজের কেউ হোন বা প্রতিবেশীদের কেউ হোন, অথবা নিকট কিংবা দূরবর্তী আত্মীয় হোন বা যেই’ই হোন, সকলের জন্য সমান ভাবে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ আমার কাছে কিছু চাইতে বা আমার সাথে মিশতে আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে, অতীতে আপনি আমার সাথে কেমন ব্যবহার করেছিলেন?
যাক, আপনাদের অনেকের কাছে আমার এ সিদ্ধান্ত সমূহ শুনতে খারাপ লাগলেও, আশা করি আমি কোনরূপ বিচার বহির্ভূত বা অন্যায় সিদ্ধান্ত নিইনি। এবং আমার প্রতি আপনাদের নির্মম, নির্দয় ও এরূপ নিষ্ঠুর ব্যবহারের কারণেই আজ আমি উপরোক্ত এ সিদ্ধান্ত সমূহ নিতে বাধ্য হয়েছি।
আজ এ পর্যন্ত। সকলে ভালো থাকুন।
নিবেদক,
সৈয়দ (সিদ্ধান্তকৃত, পরিবর্তনের অপেক্ষায়) আরিফ উল্যাহ


0 Comments