১। চাকুরীচ্যূত করাঃ
২০০১ ইং সনে প্রথম যখন আমরা জনাব আরিফকে আসর বা ঘ্রাস করি, তখন তিনি নারায়গঞ্জ জেলার বন্দর থানায় একটি এমপিও ভূক্ত হাইস্কুলে বিএড স্কেলে, মানে সিনিয়র বেতন স্কেলে ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদে শিক্ষকতা করতেন। আমাদের আগমণে বা আমাদের প্রকাশ্য হওয়ার কারণে তাকে চাকুরিটা ছেড়ে দিতে হয়েছিলো। এবং বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর নিকট সীমাহীন নাজেহাল হতে হয়েছিলো। কারণ প্রথমিক অবস্থায় তারা বুঝে উঠতে পারছিলো না যে, কেন আরিফ স্যার সকলের সাথে এ রকম অস্বাভাবিক আচরণ করছে; যেহেতু তখন আমাদের উপস্থিতি কেউ বুঝতে পারছিলো না! অথচ এর আগে তিনি সকলের নিকট সুনামের সহিত অবস্থান করছিলেন! এতে তিনি চাকুরী হারানোর সময় এবং এ সেসনে আমাদের ভার বহন করতে গিয়ে ও ঐ এলাকার মানুষদের দ্বারা অনেক জটিল ও কঠিন ভাবে অত্যাচারের শীকার হন। তবে অনেকগুলো লোক তখনো বুঝতে পারছিলেন যে, এটা আরিফ স্যারের শরীরে জিনের আসর বা তার শরীরের মাধ্যমে জিন জাতির উদ্ভব ছাড়া আর কিছু না!
২। উচ্চ শিক্ষা ও ভালো চাকুরী পাওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ করাঃ
২০০০ ইং এর পর থেকে দেশে অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো। তিনি যেহেতু মোটামুটি ভাল একটা চাকুরী করতেন, তাই তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী গ্রহণের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে পারতেন এবং যে মন-মাইন্ড এর মানুষ ছিলেন তিনি, হয়তো এটা তিনি করতেনও!
আবার তার যে মেধা ও সৎ সাহস ছিলো, এবং যে শিক্ষাগত যোগ্যতা তার বর্তমান ছিলো, এর দ্বারাই তার ঐ চাকরিটি পরিবর্তন করে আরো ভালো চাকরি তিনি হয়তো ধরতে পারতেন!
কিন্তু আমাদের আগমণে আমরা যখন তাকে ঘ্রাস করি, তখন তার দ্বারা আর এর চাইতে আরো উন্নত চাকরী ধরা অথবা উচ্চ শিক্ষার কোন সুযোগ গ্রহণ করা, এটা তিনি আর করতে পারেননি। অর্থাৎ আমরা তার ক্যারিয়ার অপারচুনিটি ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগকে চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছিলাম! এবং তাকে বরাবর ব্যাকওয়ার্ডে ফেলে দিয়েছিলাম!
৩। বড় ভাই, ভাবী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বোঝার পাত্র হওয়াঃ
যখন তিনি চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে চলে এলেন, তখন তার খাওয়া, পরা ও ঔষুধ খরচ সহ সবকিছুতে তার বড় ভাই-ভাবীদের বোঝার পাত্র হলেন তিনি। কারণ তার বাবা তখন প্রায় বার্ধ্যকে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং তার বাবার কোন রুজি-রোযগার ছিলো না তখন! তাও তার বড় ভাইয়ের ঘরে নয়, তার মেঝ ভাইয়ের ঘরেই থাকতেন, খেতেন! তার মানে তার বড় ভাই এর আগ থেকেই তার মা-বাবা থেকে পৃথক ঘরে থাকতেন ও পৃথক রান্না করে খেতেন! মানে তার বাবার সংসারও একেবারে একীভূত ছিলো না ও পুরোপুরি শান্তিতে যাচ্ছিলো না!
ফলে তিনি তার মা-বাবার সাথে মেজ ভায়ের ঘরে থেকেছিলেন তার নিকট নির্ভরশীল হয়ে!
আরিফের ভায়েরা খুব একটা ধনী ছিলেন না!
এ অবস্থা ও পরিস্থিতিতে তার ব্যক্তিত্ব ও সম্মান গিয়েছিলো প্রায় ধুলোয় মিশে! এবং জ্ঞান গিয়েছিলো খর্ব হয়ে! তার উপর তিনি একটু বেশি আল্লাহ্ আল্লাহ্ করতেন, একটু বেশি ধার্মিক ও আমলি থাকতে চাইতেন, পর্দার বিধান মানতে চাইতেন! যার জন্যেও তাকে কষ্ট করতে হয়েছিলো অনেক বেশি!
তার এ অসহায়, বন্ধীত্ব ও নির্ভরশীল জীবনের জন্য দায়ী ছিলাম আমি ও আমরাই!!
৪। নিজ বড় ভাইগণ কর্তৃক ও নিকট আত্মীয় পরিজন কর্তৃক শয়তান হিসেবে চিহ্নিতকরণ ও তার উন্নতিতে তাদের বাধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ জনিত কষ্টঃ
এদিকে অনেক পরে হলেও আরিফের ভাই গংয়েরা তার বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ বিবেচনা করে বুঝতে পারলেন আরিফকে জিন শয়তানে ধরেছে! এতে তার ভায়েরা ছিলো শিক্ষিত, তাই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে একটু দেরী হলেও সিদ্ধান্তটি ভূল ছিলো না বলে তারা নিশ্চিত ছিলেন!
এদিকে যেহেতু সে তার ভাইদেরকে মানে না, তাহলে এটা ইবলিশ ছাড়া আর কিছু না, এ বিষয়ে বাড়ির ও প্রতিবেশিদের প্রায় সবাই নিশ্চিত হলেন!
আর এর পরই শুরু হলো জিন তাড়ানির নামে তার উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার ও নির্যাতন।
মানে তার সাথে ও অন্যান্য সকলের সাথে এক ভয়ংকর স্নায়ুবিক যুদ্ধের! যেহেতু আরিফ তাদের কারো নেতৃত্ব মানতে রাজি না! তাছাড়া তাবিজ ঝুলানো, তাবিজ খাওয়া, সকলের মাতবরী আর ছলনা মার্কা ব্যবহার ইত্যাদিতো রয়েছেই! যা উপরে বর্ণনা করা হয়েছে!
এবং এতে তিনি যখন বেশি দূর্বল হয়ে যেতেন, তখন তার মন, ব্রেন ও শরীরকে চিকিৎসার নামে দূর্বল করে রাখতে তারা জনাব আরিফকে বারে বারে ভর্তি করালেন প্রাইভেট মানসিক হাসপাতালে!
কিন্তু সমস্যা বাধছিলো এর খরচ নির্বাহ করতে গিয়ে।
যতটুকু জানি, এ খরচ নির্বাহে আমার বড় ভাইয়ের সিদ্ধান্ত ছিলো, আমাদের ৩ ভাইয়ের জমি পৃথক করে আরিফ যা পাবে, তা থেকে বিক্রি করে এ খরচ নির্বাহ করা হবে!
কিন্তু মেজ ভাই ও বাবার সিদ্ধান্ত ছিলো, না বাবার নাম থেকেই, মানে মফস্বল থেকেই বিক্রি করা হবে!
এবং এভাবে মেজভাইয়ের মতামতকে কার্যকর করেই আমার তাবিজ-তুমার আর গুণিন-বৈদ্য খরচ বা হাসপাতাল খরচ বা ঔষুধ খরচ নির্বাহ করা আরম্ভ করলেন আমার বাবা!
আর জমি কিনলেন শুধু মেজ ভাই!
যার পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো আমার বড় ভাই আমার উপর ক্ষুদ্ধ হন এবং হয়তো এখান থেকেই অথবা জিন হিসেবে আমাদের মন-মানসিকতা অনুমান করেই, আমার উপর তার প্রতিহিংসার সূত্রপাত ঘটে। আর এ প্রতিহিংসা শুধু যে জিনো উপর তা কিন্তু নয়, তার ছোট ভাইয়ের উপরও, কারণ একই শরীরতো!
এবং শেষ পর্যন্ত তার ও তার কোন আত্মীয়দের কারো সাথেই আমি সু-সম্পর্ক বঝায় রাখতে পারিনি! ওনারা আমাকে সহ্য করতে পারতো না! এবং এ কারণে তাদের সকলের পক্ষ থেকে সইতে হয়েছিলো একধরনের মানসিক নির্যাতন!
এবং তাদের সামাজিক চেইন রক্ষায় একপর্যায়ে বাড়ির ও সমাজের প্রায় সবাই চলে গেলেন আমার বিপক্ষে! কারণ আমার বড় ভাই, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন ও তার ছেলে মেয়েরাও সরকারী-বেসরকারী মোটামুটি ভালো ভালো পদবী ধারী ছিলেন।
অর্থাৎ সামাজিক ভাবে ও অর্থনৈতিক ভাবে আমার বড় ভায়ের পরিবার মোটামুটি শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত ছিলো!
পরিশেষে যখন কেউ আমাদের এ জিন বা জিন সম্প্রদায়কে তাড়াতে বা হত্যা করতে পারছিলেনই’ না, তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন, যেহেতু এটি জিন শয়তান, আর তাই আরিফ ভবিষ্যতে যদি কখনো জিন হিসেবে সুস্থ হয়ও, তখন তাকে কোন ধরনের সম্মান জনক কাজে বা গুরুত্ববহ কোন কাজে সহযোগিতা করা হবে না বা এ ধরনের কোন কাজ করতে তাকে কোন ধরনের সাপোর্ট দেয়া হবে না এবং যে কোন উপায়ে হোক তাকে দাবিয়ে বা নিপিড়ীত করে রাখা হবে। যেহেতু তার মন সকলে বুঝে গিয়ে ছিলেন!
এভাবে তাকে তার নিজ পরিবার ও বংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা, অসহায় করা, গরীব ও ফকির বানানো, বাড়িতে ও সমাজে তাকে খারাপ ও বোকা মানুষ হিসেবে উপস্থাপিত করে রাখা এবং ভবিষ্যত জীবনের তার উন্নতিতে বাধা; অর্থাৎ এক চরম মানসিক ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রাখার পিছনে মূলত জিন হিসেবে দায়ী আমি বা আমরাই!
আর মুমেন হিসেবে আপনজন হারানোর এ ব্যাথা, আর চাপা কান্না বুকে নিয়ে আল্লাহু তা’য়ালার অশেষ রহমতে বেঁচে থাকতে হয় বা হচ্ছে জিন হিসেবে আমাদেরকে, মানে আরিফ ও তার সঙ্গী জিনদেরকে!
এভাবে মরার আগেই যদি কেউ মরে দেখতে পারেন, তবে সে হয়তো আমার এ চরম কষ্টের কিছুটা আঁছ করতে পারবেন!
সুতরাং নিজ আপনজন কর্তৃক ঘৃণিত হওয়ার, আপনজনকে না পাওয়ার এবং অসহায় হওয়ার এই যে যন্ত্রণাদায়ক মানসিক কষ্ট এর পূর্ণ দায় আমরা স্বীকার করলাম! আমাদের উপস্থিতিতেই মূলত তিনি আত্মীয়-স্বজন হারা ও তাদের চোখে ঘৃণিত হয়ে গিয়েছিলেন।
৫। বিয়েতে যৌতুক গ্রহণ জনিত কষ্ট এবং স্ত্রী কর্তৃক দূঃব্যবহার, পারিবারিক কলহের সৃষ্টি ও সন্তানদের ভালো ভবিষ্যত না দেখার বিষয়ে ভয় জনিত কষ্টঃ
জনাব আরিফের বয়স যখন ৩১/৩২ বছর হয়ে গেলো, তখন অনেকের পরামর্শে বা অনেকের মুখে তাকে মানুষের জীবন সম্পর্কে কিছু জটিলতার কথা বলায়, তখন তিনি বিয়ে করতে রাজি হলেন। কিন্তু তার বাবা যদিও কোন রকম করে তার থাকার ঘরটি করে দিলেন তাকে, তখনো তার পাকের ঘরটি করা হয়নি বিধায় এ কাজে তিনি সাহস পাচ্ছিলেন না!
দেখুন বিয়ে নিয়ে প্রত্যেক সচেতন সু-পুরুষেরই থাকে কিছু না কিছু প্ল্যান। যেহেতু মানুষের জীবনের উন্নতি-অবনতির প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে ঐ মানুষটির বিয়ের উপর! তিনি কাকে বিয়ে করলেন বা কোন বংশে বিয়ে করলেন, ইত্যাদি বিষয়ের উপর!
তাই এ বিষয়ে জনাব আরিফেরও ছিলো কিছু প্ল্যান! তা না হলে তিনিও অনেক অনেক পূর্বেই বিয়ে করে সৌদি কিংবা ইউরোপে চলে যেতে পারতেন! এ রকম অনেক অপার যৌবনে তিনি পেয়েছিলেন! এসব তিনি প্রত্যাখান করে তার মতো করেই তিনি এগুচ্ছিলেন।
কিন্তু তিনি কি জানতেন, ভবিষ্যতের কোন এক সময় তার শরীরে আমরা উদিত হবো, এবং তার সমস্ত প্ল্যান লন্ড-ভন্ড করে দেবো!? জানতেন না! ফলে যে আরিফ যৌতুকের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্ছার; সে আরিফই তার বিয়েতে যৌতুক নিলেন। তার ইচ্ছা না থাকলে, তাহলে কিভাবে ঘটলো বিষয়টি!?
তাকে কিছু লোক শিক্ষা দিয়েছিলো বিয়েতে মেয়ের বাবা যদি উইলিংলি কোন টাকা বা সম্পদ দেয়, তবে তা জায়েজ, তা যৌতুক হবে না!
তখন তাকে তার বর্তমান খালা শশুর বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তার পাকের ঘর নেই বলে, তাদের স্ব-ইচ্ছায় পাকের ঘর করে দেয়ার জন্য টাকা দিলে তিনি বিয়ে করবেন বলে কথা দিলেন! তিনি তার খালা শশুরকে এও বললেন, যৌতুক মনে করলে কোন টাকা দেয়ার দরকার নেই! তার খালা শশুর এতে রাজি হলেন! এবং যথারীতি বিয়ে হয়ে গেলো! অন্য কোন পাত্রী তিনি দেখলেন না, জীবনে একটিই পাত্রী দেখলেন এবং ঐ একজনকেই বিয়ে করলেন!
বিয়েতে তাকে তার শশুর দেড় লক্ষ টাকা দিলেন! পাকের ঘরও করা হলো! কিন্তু জনাব আরিফ বুঝতে পারলেন না যে, এ তরীকাটিতেও যৌতুকই হয়েছে!! তাকে একটি লোকও বুঝিয়ে দিলেন না যে, এ তরীকাতে বিয়ে করে মেয়ের বাবার কাছ থেকে টাকা নিলেও তা হয়তো যৌতুকই হবে!
বুঝতেই পারছেন, তার ভালো চাকুুরী নেই; তাকে মানুষ শয়তান ওয়ালা বলে; পাকের ঘরটি পর্যন্ত নেই! নিলেন যৌতুক! তাহলে তিনি কেমন বিয়ে করলেন!?
কিন্তু যারা বিয়ে দিয়েছেন, তারাওতো রিক্স নিয়েছেন! কারণ জিন হিসেবে আমরা তখন সকলের নিকট শয়তান হিসেবে পরিচিত ছিলাম! কিন্তু আমার এ খালা শশুরটি অনেকটা দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে বিয়েটা সম্পন্ন করালেন! অর্থাৎ আমরা যে ভালো হতে পারি তা তিনি অনুমান করতে পারলেন! এবং বিয়ে দিয়েছেন মূলত আমাদেরকে বিবেচনা করেই! আর জিন হিসেবে আমরাও জনাব আরিফ সাহেবকে অনেকটা বেহুশের মতো করে বিয়ে করিয়ে নিয়ে আসি!
তাছাড়া একটা ভালো পরিবার বা অভিভাবক কি, শয়তান ওয়ালা একটা মানুষের নিকট বিয়ে দিতে পারে!? যাকে সবাই দূর দূর করতেছে, এমনকি তার নিজ রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়রাই! যার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে সবাই বাধা বা অসহযোগিতা করবে এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে, এ রকম একজন মানুষের নিকট বিয়ে দিতে কে রাজী হবে!?
আমাদেরকে গভীর ভাবে বুঝতে পারলে হয়তো দিবে! কিন্তু ঐ সময়ে আমাদেরকে সে রকম ভাবে বুঝার পরিস্থিতি তখন কোথায় ছিলো!?
এ যৌতুক ওয়ালা বিয়ের পর আরিফ সাহেবকে কি, তার সমাজ, আল্লাহ ওয়ালা হিসেবে মেনে নিলো(?) বিয়ের অল্প কয়দিন আগেওতো এই আরিফ সাহেব, মসজিদে ঈমামের অনুপস্থিতিতে নামাজ পড়াতেন, মানুষকে বিভিন্ন সূরা কেরাত মাস্ক করাতেন! আর বিয়ের পর মানুষ তাকে পাপী হিসেবে সাব্যস্ত করলো!
অপরদিকে আপনারাই চিন্তা করুন, একটা এডুকেটেড মানুষ ও হাই মন-মাইন্ডের মানুষ, একটা অশিক্ষিত মানুষের সাথে, মানে তার বউ এর সাথে তার একান্ত ব্যক্তিগত জীবন পরিচালনা করতে গিয়ে, এ আরিফ সাহেব কি তার দাম্পত্য জীবনে খুব সুখে জীবন-যাপন করছেন তাহলে?
তার উপর তার এ স্ত্রী সহ বাড়ির সবাই তাকে শয়তান হিসেবে চিহ্নিত করে, তার বিরুদ্ধে ঐক্যজোট হয়েছিলো তাকে তাড়াতে বা তাকে দাবিয়ে রাখতে! তার পুত্র কন্যা গুলো বুঝি সব হাফেজ আলেম হলো, বা হবে এবার!?
দুনিয়াবী আর যৌতুক মার্কা নারীর গর্ভে বুঝি আলেম ফয়দা হতে পারে!? তাহলে জীবনে তার যে স্বপ্ন ছিলো তা অংকুরেই শেষ হয়ে গেলো না!?
দেখুন, তাদের নির্ণীতকরণ অনুযায়ী, দুষ্ট জিনের, মানে আমাদের কত ক্ষমতা! আমার বউ অন্য বাড়ি থেকে এসে সকলের আপন হয়ে গেলো; আর আমি নিজ রক্ত হয়ে সকলের পর, এমনকি শত্রুর মতো হয়ে গেলাম!
আমার ঘরে আমার স্ত্রীর সাথে প্রায় আমার তর্ক বিতর্ক লেগেই থাকে! আর যখন আমি বিরক্ত হয়ে বলি যে, আমার কী ভাগ্য! আমারই বাড়িতে আমার পক্ষে একজনও বলার নেই যে, আরিফের ঘরে এতো তর্ক বা কথার শব্দ হয় কেন!? শুধু এ কথা বললেই, আমার বউ কিন্তু বিড়ালের মতো ঠান্ডা হয়ে যেতো!
তখন আমার বউ বলে, বলবে কেন! তারা কি দেখছে না, কার দোষ আর কার গুণ!
তখন আমি বলি, হ্যাঁ এ বাড়িতে সব চাইতে খারাপ মানুষ আমি, কারণ আমার রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়-স্বজনেরাইতো আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে! আর সব চাইতে ভালো মানুষ তুমি ও তোমরা সকলে!! এ জন্যেই কি তোমাকে ওরা কিছু বলে না তাহলে!?
শুনেছি স্ত্রীরা স্বামীকে খুশি করতে নাকি সাজ-গোছ করে, স্বামীর সামনে নিজকে সুন্দরী হিসেবে, নম্র-ভদ্র হিসেবে উপস্থাপন করে! যাতে স্বামীর মন পায় ও স্বামীর কাছে ভালো লাগে, যাতে সংসার সুখের হয়, যাতে স্বামী অন্য কোন পাপে না জড়ায়!
আর আমার স্ত্রী আমার কাছে আসতে, এসব করাকে ঘরের বাকিদের কাছে নিজকে লজ্জিত মনে করে! সে আমার কাছে বরং মলিন ও পুরোনো কাপড় পরে!
পিরিয়ড়ের সময় মাঝে মাঝে ভালো জামা পরতে দেখেছি! মাঝে-মধ্যে রাতে দেখেছি সে উদোম শুয়েছে, কিন্তু আমি তখন তার পাশে শোয়ার পর, এক পর্যায়ে বুঝলাম তার এখন পিরিয়ড় চলছে! অবশ্য পিরিয়ড়ের সময় এমনিতেই কচিৎ সে উদোম শোয়!
দুনিয়ার স্ত্রীরা স্বামীকে সন্তুষ্ট ও খুশি রেখে নিজকে ধন্য মনে করে, আর আমার স্ত্রী ঘরের ও বাড়ির বাকিদেরকে সন্তুষ্ট ও খুশি রাখতে পারলে নিজকে ধন্য মনে করে!
তার এ ধরনের প্রত্যেকটি ব্যবহার ছিলো আমার জন্য কষ্টের!
ছেলে-মেয়েদের খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, লেখা-পড়া, নামাজ-কোরআন, আচার-ব্যবহার, শালীনতা ইত্যাদি বিষয়ে আরিফ সাহেব তার স্ত্রীকে প্রায়ই বকা-ঝকা করেন! কারণ এ সব বিষয়ে তার স্ত্রীর জ্ঞানে রয়েছে যথেষ্ট কমতি বা ঘাটতি! আর বকলে তার স্ত্রী তার সাথে বাক বিতন্ডা করেন!
যেহেতু তার স্ত্রীর বিদ্যা-শিক্ষা বা জ্ঞানের গভীরতা না থাকায় তিনি একদিকে যেমন সঠিক বিষয়গুলো জানেন না, অপরদিকে তিনি তার স্বামীকে মানেন না বা বাড়ির অন্যদের কৌশলের বলি হিসেবে তিনি তার স্বামীকে বোকা মনে করেন! বা বিভিন্ন ভাবে কষ্ট দিয়ে যান! বিয়ের আজ প্রায় ১৮ বছরেও তিনি তার স্বামীর প্রতি ভালো আইডিয়া জন্মাতে পারেননি! সামান্য পান থেকে চুন খছলেই তিনি তার স্বামীকে অবিশ্বাস ও সন্দেহ করেন! হয়তো তিনি তার স্বামীর শরীরে জিন থাকায় এরূপ করেন। কিন্তু জিন তার স্বামীর শরীরে থাকায়, এ কষ্টটা তার স্বামীর গায়েই লাগে!!
এহেন পরিস্থিতিতে আরিফ সাহেব যখন তার স্ত্রীকে বা সন্তানদেরকে বকেন (কিন্তু বর্তমানে তিনি সামান্যও মারেন না বা শারীরিক আঘাত করেন না, ফলে তাকে ডিনাই করার যথেষ্ট সুযোগ পায় তারা!!), তখন তারাও আরিফ সাহেবকে খারাপ মনে করেন! অথচ আরিফ সাহেব নিজ সন্তান ও স্ত্রীর উন্নতি কল্পে বকে যান বা সংসারে স্ত্রীর বুঝে ধরে না এ রকম কাজ করেন; আর পরিনামে পরিবারের সকলের নিকট দোষী সাব্যস্ত হন তিনি!
তার মানে জনাব আরিফ সাহেব তার অভাব ভিত্তিক সাংসারিক উন্নতির বিষয়ে প্রতিনিয়তই মানসিক টেনশনে ভূগেন!! এবং সংসারের বাকি সদস্যগণ দ্বারা অপমানের স্বীকার হন!
হ্যাঁ, আমি আবারও বলি, আমার বাড়ির একটা লোকও যদি আমার বউকে একবারের জন্যও বলতো যে, আরিফ ঘরের মধ্যে সে এতো বকা-ঝকা করে কেন রে! তাহলেও হয়তো আমার বউ আমার এতো কথার প্রতি উত্তর দিতো না! আমাকে একটু হলেও ভক্তি-শ্রদ্ধা করতো! কিন্তু আমি এমনই জিন হলাম যে, নিজের বাড়িতেই নিজের পক্ষে কথা বলবে, এ রকম লোক জিন হিসেবে আমার একজনও নেই! যেহেতু আমরা আরিফের শরীরেই থাকি, তাই আমাদেরকে বাদ দিয়ে শুধু আরিফকে বলার কোন সুযোগও নাই!
জনাব আরিফের স্ত্রীর আরো দু’টি বৈশিষ্ট্যের কারণে জিন হিসেবে আমি অনেক অনেক কষ্ট পাই, পাচ্ছি এবং পেয়েছি। আর সেটি হচ্ছে, আমাদের সাংসারিক জীবন আজ প্রায় ১৮ বছর। আমার ৩ মেয়ে ১ ছেলে! তবুও তার একটি খারাপ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখন পর্যন্ত জিন হিসেবে বা মানুষ হিসেবে আমি তার আপন বা তার নিজের বা আন্তরিক মানুষ হতে পারিনি! আমি যেন তার প্রতিপক্ষ, প্রতিদন্ধী, মানে সে একগ্রুপ আর আমি মনে হয় অন্যগ্রুপ!
তার আরেকটি খারাপ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তার ভাই, বোন, ভাইদের বউ, বাবা, মা এদের বিষয়ে কোন কথা, যেন সে শুনতেই পারে না! অমনি বেড মাইন্ড করে! এবং মনে করে যে তারা হলো তার আপন মানুষ আর আমি হলাম তার পর! তখন আমার সাথে খুব কষ্ট দায়ক আচরণ করে!
একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিষ্কার ভাবে বুঝা যাবে!
অল্প কয়দিন আগে সে তার ভাই, ভাইর বউ, বাবা, মা এদেরকে দাওয়াত করেছিলো! আমাকে বলেওনি! আমিতো আগেই বলেছি আমার সংসারে সে স্বাধীন! এখানে যা ইচ্ছা সে করতে পারে!
মেহমানেরা আসার পর ১ রাত ২ দিন ছিলো! আমার স্ত্রী মোটামুটি ভালো রান্না বান্না করেছে, অথিতি আপ্যায়ন করেছে এবং নিজের মানুষদেরকে পেয়ে অনেকটা আবেগী হয়ে গিয়েছে! ও অনেক খুশি ছিলো!
আমি তাদের কারো প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলাম না, বরং আমি খুশি ছিলাম! কারণ তার মেহমান মানে আমার মেহমান!
সাধারণত অর্থনীতির এ অবস্থায় খুব কম পুরুষই এতো খরচের বিষয়ে মানসিক ভাবে সন্তুষ্ট থাকতে পারে! আমি ব্রড মাইন্ডেড মেন হওয়ায় আমার ভিতর কোন অসোন্তোষ ছিলো না!
কিন্তু মেহমানেরা যখন চলে গেলো, তখন তাকে জিন হিসেবে আমি আমার মনের দুঃখ থেকে বললাম, “তোমার আপনজনেরা চলে গেছে!?”
আমার এ কথার পর, এই যে সে রেগে গেলো, পরবর্তী ৪/৫ দিন আমার প্রতি তার সঠিক হুশ ফিরে আসেনি! এবং তখন সে আর কিছু বুঝতে রাজি না!
না হয় যে লোকটি মেহমানেরা থাকা অবস্থায় কোন অসোন্তোষ দেখায়নি, সে এখন এ কথা কেন বলছে, এটা কি তার মেহমানদের প্রতি অসোন্তোষ(?), না আমার প্রতি তার দুঃখের বহিঃপ্রকাশ!?
আসলে আমি বলেছিলাম, গত প্রায় ১৮ বছরেও মনোগত দিক থেকে আমি তার আপন হতে পারিনি; অথচ তার সবচাইতে আপন ভাবার কথা ছিলো, তার মা বাবার পর আমাকে! কিন্তু সে আমাকে এখনো প্রতিপক্ষ ভাবে (২০২৬ ইং)! এখনো আমাকে তার আপন মানুষ ভাবতে পারে না!
আমার সাথে কথা কাটাকাটির সময় আমি নিজকে ওয়েটলেস করে, বিষয়টা কয়েকবার বলেছি!
এরপরও তার হুশ ফিরে আসে না যে, লোকটা (মানে আমি) তার নিজের রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দেরকেও এখন আন্তরিক ভাবে ঠিক মতো আপন করে পাচ্ছে না এবং আমাকেও আপন করে পাচ্ছে না! মনের দুঃখ থেকে সে কথাটা বলেছে!
তার এ দু’টি বৈশিষ্ট্যের কারণে সাংসারিক জীবনে আমি অনেক সময়েই কষ্ট পেয়েছি!
আর এখন কাগজের মধ্যেও আমার এসব ইতিহাস বা মনের কথা লিখে আমার কী লাভ!? যেহেতু আপনারা জানেন, আমার স্ত্রী এমন কোন শিক্ষিত লোক বা বড় মন ওয়ালা মানুষ নয় যে, আমার এতো বড় লিখা সে পড়তে পারবে! এতো বড় লিখা সে হয়তো ৩০ দিনেও পড়তে পারবে না! আর কষ্ট করে রাত দিন সময় দিয়ে পারলেও, এ লিখা পড়ে সে এর অগা-ডগা বা মর্মার্থ হয়তো কিছুই বুঝবে না!
তাহলে আপনাদের অনেকে হয়তো আমাকে বলবেন, তবে আমি লিখি কেন? জি, এসব আমি লিখি একদিকে যেমন আমি নিজকে প্রকাশ করতে চেষ্টা করছি বা নিজের পরিচয় দিচ্ছি; ঠিক তেমনি এ দেশের অন্যান্য নারীদেরকেও শিক্ষা দিতে চেষ্টা করছি! কারণ এ দেশের বেশির ভাগ নারী-পূরুষের মানসিকতা এ রকমই!
নিজের বাড়িতেই নিজে পরবাসী হয়ে থাকা, নিজের বউয়ের কাছেই নিজকে খাটো বা অযোগ্য চোখে দেখা, এ সব মানসিক যন্ত্রণার মাত্রা কতটুকুরে ভাই!?
আমি অত্যন্ত দুঃখের সহিত জানাচ্ছি যে, আমি এতোই দুষ্ট জিন হলাম, আমার ঘরে আমার বউ বড় সুন্দরী বা বড় শিক্ষিত না হয়েও আমার সাথে তর্ক-বিতর্ক করে, আর আমার নিজ ভাই, ভাবী, ভাতিজা সহ বাড়ির সবাই এতে খুশি থাকে, ওরা আমার এ তর্ক, আমার এ অপমান উপভোগ করে! তারা আমার স্ত্রীকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়! লাই দেয়! যেহেতু আমাকে সবাই দাবিয়ে রাখতে চায় ও খাটো চোখে দেখে!
এ পরিস্থিতিতেও আমি প্রতিদিন আমার ঘরে প্রবেশ করতে সালাম দিয়ে প্রবেশ করি, ঘরের ভিতরে গিয়ে আমার স্ত্রীকে সালাম করি; আর তার এ মগজ সৃষ্টি হয়না যে, না হয় স্বামীকে আমার সালাম করা দরকার আগে এবং এটা ইসলামী তরীকা!
হ্যাঁ, ইসলামের এ তরীকার আমল নেই শুধু আমাদের বাড়িতে নয়, আমাদের দেশেও খুব একটা নেই!!
আমি আমার স্ত্রী সন্তানদেরকেও আমার মতো সালাম দিতে বলি কেন, এতে তারা আমার উপর বিরক্ত হয়, যা আমি বুঝতে পেরেছি; কারণ পরিবেশ অনুযায়ী তাদের মুখে সালাম আসে না বা আসতে চায় না এবং বাড়িতে আর কেউ এভাবে সালাম দেয় না! তাই তাদেরকেও আজ এতো বছর সালাম দিয়ে যাওয়ার পরেও ওরা আমাকে মুহাব্বত ও সুন্নাতে আমল হিসেবে আগে সালাম দিতে পারে না!
আপনি আশ্চর্য হবেন, যে স্ত্রীর সব দায়-দায়িত্ব আমাকে বহন করতে হবে, এবং করতে হচ্ছে, যে স্ত্রী আমারই বাড়িতে থাকে; অর্থাৎ মাথার ছাদ ও পায়ের মাটি সবই আমি; যে স্ত্রী আমার বাড়িতে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে, আমার ঘর এবং আমার বাড়িতে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে; আমি কিছুই বলি না! কারণ স্ত্রী হিসেবে এটা তার অধিকার! ইচ্ছে করলেই তার ভাই, বোন, ভাবী সবাইকে নিয়ে বাবার বাড়ির মতোই আমোদ ফূর্তি করতে পারে এবং করে, যেহেতু আমি বাড়ি খুব একটা যাই না, যেহেতু আমি সহজ সরল!
আমার রাস্তার পাশে একটা ঘর আছে আমি এখানে একাকী থাকি! তবুও কিন্তু সে স্ত্রী আজও আমাকে প্রিয় ভাবতে পারেনি! আমাকে আন্তরিক মানুষ বিবেচনা করতে পারে নাই! আমাকে অবমূল্যায়ন করার কারণে, সে আমার মন বুঝে না এবং আমাকে ভূল বুঝে বা তারমত করে বুঝে, আমার মুখে মুখে তর্কা-তর্কী করে আজও!!
আসলে আমি জানি, আমি তার ভাই বোনদের মতো কেউ নই! তাই যতক্ষণ না আমি ভালো ইনকাম করতে পারবো, ততক্ষণ আমার ভালোবাসা সে গ্রহণ করবে না এবং আমায় ভালোবাসবেও না!
আমার সাথে তার ভালোবাসার সম্পর্ক হচ্ছে আমার কাছে টাকা থাকা! চারপাশের লোকেরা আমায় সম্মান করা! এটাই এ অসভ্য আর ঘুনে ধরা সমাজের নিয়ম!
আর এ অবস্থায় আমি তাকে ভালোবাসা, বা তার প্রতি সরল হওয়ার মানে হচ্ছে, তার নিকট আমি দূর্বল বিবেচিত হওয়া, আমি সোজা বিবেচিত হওয়া (২০২৬ ইং)! সে আমাকে দেখে তিতকিরির হাসি হাসা!
আসলে ওরা দুনিয়াবী সিস্টেমের মানুষ, বেঁচে থাকার তাগিদে আজকে যেমন আমার স্ত্রী, বাড়ির বাকিদের সাথে তাল মিলিয়েছে; ঠিক তেমনি জিন হিসেবে আমি যদি ঠিক মতো তাকে তার দুনিয়ার চাহিদা, ভাত কাপড়, গহনা-অলংকার ইত্যাদি ঠিক মতো দিতে পারতাম, এবং আমার মন ও পরিচয় প্রকাশ করতে পারতাম তাহলে আমার স্ত্রী (ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমি কিন্তু মহিলা জিন, হয়তো জনাব আরিফের স্বাপেক্ষে এভাবে বলছি) আমারই পূজা করতো হয়তো! আর এখন তার বুদ্ধিতে ধরে না, আমি আসলে তার কে? তাই আমার বিরুদ্ধে দল পাকায় সে!
চিন্তা করুন তো, আমি তার সম্পূর্ণ খরছ বহন করি বা করতে হবে, তার সকল দায়-দায়িত্ব ও ভবিষ্যত রিক্স আমার, অথচ সে আমায় দেখতে পারে না! আমায় আপন মনে করে না! আমার বিরুদ্ধে, আমাকে অসম্মান বা অপমানের মধ্যে রাখতে বাড়ির অন্যদের সাথে একজোট হয়! এতে নাকি সে এ বাড়িতে সুখে বসবাস করার ওয়ে খুঁজে পাবে!
একজন নারীর প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, তার স্বামীর সম্মান রক্ষা করা, সকলের উপরে তার স্বামীকে স্থান দেয়া এবং অন্যান্যদের চাইতে স্বামীকে বেশি ইজ্জত করা!
আর আরিফ সাহেবের ক্ষেত্রে তার স্ত্রী তার নিজের ভাত, কাপড় ইত্যাদির চিন্তায় সকলের নিকট তাকে অপমাণিত করে রাখে! এবং স্বামীকে দাবিয়ে, অপমাণিত করে বাড়ির অন্যান্যদের খুঁশি করে রাখতে পারলেই যেন তার ক্রেডিট, তার বিজয়!! সে এ বাড়িতে তার স্থান পাকাপোক্ত করতে পারলো!
আপনি কী পরিমাণ বুজর্গ মানুষ?? এ বিষয়টি আপনার কয় দিন সহ্য হবে ভাই!? আজ যদি আপনার স্ত্রী আপনার সাথে এ রূপ ব্যবহার করতো, তাহলে আপনি কি এ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে পারতেন? বা করতেন!? কিন্তু আমি আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছি, জীবনে আমি কখনো বউ তালাক দিবো না!
এবং আমি আপনাদেরকে আরো একটি আগাম তথ্য দিই, যদি কোন না কোন ভাবে আমি ধনী হতে পারি, তাহলে আমার এ স্ত্রীই বলবে, তুমি আমার প্রাণের চাইতেও প্রিয় স্বামী, এ দুনিয়ায় তোমার চাইতে প্রিয় আমার আর কেউ নেই!
এবং এ কথা গুলো বলবে না শুধু, আমার চাইতে যে এ দুনিয়ায় তার আর কেউ নাই, এবং আমার যে কখনো কোন দোষ ছিলো না, আর সে যে এতো দিন আসলে আমার চাইতে বেশি আর কাউকে ভালোবাসে নাই, এসব প্রমাণ করতে গিয়ে হয়তো নিজ হাতের আঙুলই কেটে ফেলবে! বা এর চাইতেও আরও সিরিয়াস কিছু করেও আমাকে তার মন বুঝাতে পারে!
উপরে আমি বলেছি যে, আমি প্রতিদিন ঘরে প্রবেশ করে আমার বউকে সালাম করি! কিন্তু আমার স্ত্রী মাঝে মাঝে আমার সালামের উত্তর দেয় না! বলে সবসময় কি শুনিয়ে উত্তর দিতে হবে নাকি!
কিন্তু আমি যদি কোন ভাবে না কোন ভাবে ধনী হতে পারি, তাহলে আমি অনেকটা নিশ্চিত যে, আমার স্ত্রী, আমি যেভাবে প্রতিদিন তাকে সালাম করে গেছি, হয়তো এর বেশিই আমাকে সালাম করবে! এবং তাসবীহ, তাহলীল, কোরআন তিলাওয়াত সবই করবে! এবং প্রমাণ করতে চাইবে যে, সে আল্লাহু তা’য়ালাকে অনেক অনেক ভালোবাসে!
কিন্তু আসলে তখন আমার কাছে টাকা থাকবে বিধায়, এভাবে সে আমার মন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালাবে! আর বর্তমানে সে আমার যে দোষ গুলোকে দোষ হিসেবে সনাক্ত করে, সংসারের মধ্যে আমার সাথে তর্কা তর্কি করছে, তখন কিন্তু এর চাইতে বেশি কিছু করে ফেললেও তখন এগুলো তার কাছে দোষই মনে হবে না!
কিন্তু প্রিয় পাঠক! আপনারা কি দেখছেন না, আপনারা কি এখনো বুঝেন নাই, আসলে তার প্রিয় কে? স্বামী হিসেবে আমি? না টাকা হিসেবে আমার বাড়ির ধনী লোকজনেরা?
আমার মনে হয় এ মহাবিশ্বের প্রায় সবগুলো নারীই এ রকম!! বরং এর চাইতেও আরো অনেক নিচ প্রকৃতির!!
যাক, দোয়া করি আমার স্ত্রী ও আমার স্ত্রীর মতো মহিলারা তার বা তাদের স্বামীদের কাছ থেকে এভাবে সুখ পাক! আর সুখে থেকে হলেও তারা নিজেদের স্বামী ও প্রিয় রবকে চিনতে পারুক ও তাঁকে মেনে চলুক!
মূলত অন্তকরণ আজ আমার অনেক অনেক ব্যাথায় ভরা! আমি না পেয়েছি বা না পাচ্ছি আমার রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়দের আন্তরিকতা বা বন্ধুত্ব! আর না পেয়েছি আমার স্ত্রীর ভালোবাসা বা তার আন্তরিকতা! পেয়েছি শুধু সবার কাছ থেকে অবহেলা আর সকলের দূর দূর মানসিকতা; তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য আর ধিক্কার! এ মহাবিশ্বে কারো সাথে যে অন্তরের কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য ভাবে বলে নিজের মধ্যে শান্তি খুঁজে পাবো, বা একটু শান্তিতে রেস্ট নেবো, সে লোক আমার একজনও নেই! তাই লিখে অন্তত নিজকে প্রবোধ দিচ্ছি; কেউ পড়ুক আর নাইবা পড়ুক!
আমি বড় একা!! তাই আমার আজ এতো লিখা!!
একবার ভাবুনতো, আপনাকে যদি অন্য কেউ তাদের পছন্দে, মানে আপনার পছন্দ অপছন্দকে কোন রূপ মূল্যায়ন না করে বা আপনাকে যাদুগ্রস্থ করে বা আপনাকে দূর্বল থেকে দূর্বলতর করে, কারো সাথে বিয়ে পড়িয়ে দেয়, তখন হুশ আসার পর, আপনার কাছে কেমন লাগবে!? সহজে মেনে নিবেন আপনি!? বা কতটুকু মেনে নিতে পারবেন!?
আর আমার ক্ষেত্রেও ঠিক এ বিষয়টিই ঘটেছে!
আমার জিনেরা আমাকে অনেকটা বেহুশ করেই বা আমাকে পরিস্থিতির স্বীকার করেই আমাকে এ বিয়ে করিয়েছে!
কিন্তু আমি সবই মেনে নিয়েছি বা মেনে নিতে হয়েছে!
আবার এখন (২০২৬ ইং) আমার স্ত্রী ও বাড়ির অন্যান্যরা আমার সন্তানদের কাছে মহা সাধু থাকতে চায়। সব কিছু অস্বীকার করে! যেন আমাকে তারা কিছুই করেনি! খুব সম্মান করেছে!! আমি শুধু বিনা কারণে বা খারাপ হওয়ার কারণে আমার সন্তানদের মায়ের গায়ে হাত তুলেছিলাম!
আর আমার সন্তানদের বয়সও হয়নি যে, তারা সহীহ্ বা আসল বিষয়টি নিজ থেকে বুঝবে!
অতএব, দোষ না করে উল্টো মজলুম হয়েও নিজ সন্তানদের কাছে নিজেই দোষী সাব্যস্ত হয়ে আছি!
এ মানসিক কষ্টের মাত্রা কতটুকু বলেন!?
আমি সত্য অস্বীকার কারীকে একেবারে দেখতেই পারি না! এরা আমার জানের দুষমন! কারণ এরাই অহংকারী!
আর এখন আমার বউই কোন সত্য স্বীকার করতে রাজী না! তার কোন দোষ, কোন ভূল বা কোন বিরূপ পরিস্থিতি কিছুই সে স্বীকার করবে না! বা করছে না! কারণ আমার সন্তানদের মাঝে আমি দোষী, আর সে মহা সাধু! না হয় তার ক্রেডিট টিকছে না!
বাড়ীর অন্য কেউতো আমার পক্ষে কথা বলবেই না! কারণ তারা সবাইতো আমাকে দাবিয়ে রাখতেই বদ্ধপরিকর!
ঘটনাক্রমে যদি আমার মা প্রতিবেশীদের কারো সাথে বলে যে, আরিফের বউ আরিফকে মানে না বা মূল্যায়ন করে না! অমনি আমার বউটা আমার মায়ের বিপক্ষে অবস্থান নেয়! আমার সামনে আমার মায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বার্তা বলে!
কিছু বলতে পারিনা, কারণ এ জন্যে যদি আমার বউ আমার মায়ের ঠিকমতো খেদমত না করে!?
আমার ছেলে মেয়েদের কাছে বা যে কোন মানুষের কাছে আমার বউ সহ বাড়ির সবাই যেন মহা সাধু!
ভাই, এখন আমার বউটা যদি এটুকুও স্বীকার করতো যে, আপনাকে সবাই শয়তান বলে, আপনাকে অযোগ্য বলে, আমি তাদের পক্ষাবলম্বন না করে কী করবো তাহলে!? আমারওতো এ বাড়িতে বেঁঁচে থাকতে হবে!? এ রকম যুক্তিপূর্ণ কথা বলে, পরিস্থিতির আলোকেও যদি সে নিজের দোষ স্বীকার করতো, তাহলেও আমি নিজকে প্রবোধ দিতে পারতাম! নিজের মনকে বুঝাতে পারতাম যে, না আমার বউ সত্য অস্বীকারকারী নয়, আমার বউয়ের মাঝে অহংকারের বীজ নেই!!
কিন্তু বউয়ের এসব কারেক্টার না দেখে, বরং দেখিতেছি সে বরাবরের মতোই সত্য অস্বীকার করে চলেছে (২০২৬ ইং)।
তাহলে যেখানে সত্য অস্বীকারকারী আমার জানের দুশমন, সেখানে নিজ বউ যদি হয়, সত্য অস্বীকারকারী! তাহলে আমার মানসিক অবস্থা কেমন হয়!? তাও এ সত্য অস্বীকার করে বা করতে গিয়ে নিজের সন্তানদের কাছে পিতাকে, মানে আমাকে করে রাখছে দোষী এবং এবং আরিফ সাহেবের নিজ মাকে করছে অপমান বা তাকে সেবা থেকে করছে বঞ্চিত!
জ্বি, হ্যাঁ তার স্ত্রী সহ সকলেই সত্য স্বীকার করবে, সকলেই জ্বি হুজুর করবে, সকলেই একেবারে সরল আপনজন হয়ে যাবে, কখন জানেন?
যদি আরিফ সাহেব ধনী হতে পারে বা তার এ জিন জাত, মানে আমি বা আমরা, মানব রূপে দুনিয়ায় আসতে পারি! অর্থাৎ যখন দেখবে যে বাহু বলে আর টিকবো না, এবার মনে হয় মিথ্যা কথা বলে বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আর রক্ষা নেই!! বা এখন মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার আর দরকার নেই!
কিন্তু সে ভাগ্য কি আরিফ সাহেবের হবে!?
কেউ এখানে মাইন্ড করবেন না ভাই! যেহেতু আমার প্রকৃত সত্য অবস্থা আমাকে তুলে ধরতে হবে!
আমি আগেও বলেছি কাউকে অপমান করার জন্য আমি এ কন্টেন্ট লিখছিনা!
আজ যদি আপনাদের কারো জীবনে আমার মতো এ বিষয়টি ঘটতো, তাহলে আপনাদের বউ’রা কী আপনাদের প্রতি খুব বেশি অনুগত থাকতো!? ভক্তি-শ্রদ্ধা করতো! নিশ্চই না! হয়তো আপনাদেরকে ছেড়ে চলেও যেতো!
কারণ যে স্বামী, তার স্ত্রী সন্তানদের পেটের ভাত যোগাতে পারে না, পরনের কাপড় দিতে পারে না, অসুখ হলে ঠিক মতো চিকিৎসার খরচ দিতে পারে না; তার উপর মানুষেরা যাকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করে না; মানুষেরা তাকে শয়তান ওয়ালা বলে চিহ্নিত করে এবং বাড়ির সবাই তাকে নিপীড়িত করে রাখতে চেষ্টা করে; সে স্বামীকে তার স্ত্রী সম্মান করবে, মেনে চলবে; এটা আমার বাড়ি বা ঘরের মধ্যে নয় শুধু, দুনিয়ার কোথাও হতে পারে বলে মনে হয় না!
আমার মনে হয় যেসব মেয়েরা একটু শিক্ষিত বা রূপবতী বা আধুনিক মন-মানসিকতার এবং যাদের বাবা ধনী; সেসব মেয়ে আমার এরূপ পরিস্থিতিতে আমার সাথে ঘর-সংসার করবে বলে মনে হয় না!
আর এ সব কিছু বিবেচনায় আমার স্ত্রী, অন্তত আমাকে ছেড়ে যে চলে যায়নি, এটাওতো আমার সৌভাগ্য!
কী করবো! আমার কোপালের লিখনতো আমাকেই ভোগ করতে হবে, তাই না!?
বাঙ্গাল আর বেকার হয়ে, ও শয়তান ওয়ালা হয়ে কোথায় পাবো আমি এতো হাফেজ-আলেম আর বুজর্গ স্ত্রী!! অন্য কোন মেয়ে হলে হয়তো সে এতো কিছু চিন্তা না করে, এতো দিনে আমাকে ছেড়েই চলে যেতো!
কারণ কিসের আশায়, বা কোন্ শুভ ভবিষ্যতের আশায়, সে আমার সাথে সংসার করবে!
যেখানে জিন হিসেবে আরি ও আমরা যে ভালোও হতে পারি, তা আমার বাড়ির কোন মানুষ এতো দিন তাকে বিন্দুমাত্র বুঝতেও দেয়নি! অথবা তারা নিজেরাও বুঝেনি! কারণ মানুষের একটা কমন জ্ঞান হলো জিন মানেই খারপ! জিন মানেই শয়তান!
যদিও উপর দিয়ে অনেকে বলে যে, ভালো জিনও আছে!!
এখন (২০২৬ ইং) না হয় প্রতিবেশিদের দু’একজন বলছে যে, আমরা শয়তার জিন নই! আমাদের দ্বারা হয়তো অনেক অনেক ভালো কিছুও হতে পারে!
যেখানে নিজের রক্তের ভাই, শত্রুর মতো হয়ে গেলো, যেখানে পুরো দেশ-দুনিয়া একজন মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল্য করলো, শয়তান হিসেবে বয়কট করলো; সেখানে স্ত্রী হিসেবে তাকে এতো দোষারোপ করে ক্ষতি ছাড়া কী লাভ হবে আমার?
মানুষতো প্রায় সবাই এ রকমই হয়!! ১০০০ মানুষের কারেক্টার বিশ্লেষণ করলে হয়তো একজনও পাওয়া যাবে না এর বিপরীত!
অতএব এটা আমার কোপাল ছাড়া আর কিছু না! আমার কোপালের যন্ত্রণাতো আমাকেই সইতে হবে! এটাইতো স্বাভাবিক!
আপনারা যারা জ্ঞানবান রয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারবেন, মানুষের বিয়ে নামক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ অধ্যায়টিতে জনাব আরিফ সাহেবকে তাহলে কী পরিমাণ কষ্ট, অপমান ও অধপতনে ফেলা হয়েছে তার জীবনে! এবং তিনি সবকিছু কিভাবে মেনে নিয়েছেন! ও সহ্য করছেন! একটু চিন্তা করুন তাহলে!?
তাহলে যৌতুক নামক তার এই যে ওপেন সামাজিক কবীরা গুনাহ, এর বেড বা খারাপ আসর বা মন্দ ক্রিয়া কি তার ব্যক্তিগত, সাংসারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে পড়বেনা!? এবং এটা কি তার সকল উন্নতির একটা বড় বাধা হবে না!? এক কথায় এভাবে করে আমরা (জিন ও মানুষ মিলে) কি তাকে আটলান্টিক নামক গুনাহের মহা সাগরে ফেলে দিইনি!? এ গুনাহের চরম বাধাকে সহ্য করে বা ডিঙ্গিয়ে বিপরীত দিকে চলে কি তার সন্তান দিগকে মানুষ করতে হবে না তাকে? বা তার যে কোন উন্নতি করতে হবে না তাকে?
বা সাংসারিক এ গুনাহ নির্ভর বৈপরীত্ব্য জীবন অতিক্রম করে তবেই কেবল আল্লাহকে পেতে হবে না তাকে?
এ আধ্যাত্মিক বিষয়টি হয়তো সবার বুঝে ধরবে না! কারণ চারদিকেতো প্রায় সবাই শুধু নাদানের দল! নাদান কি মানুষের জীবন পরিক্রমার এসব জটিল ও সত্য থিওরি কখনো বুঝবে?
অতএব সবমিলেয়ে তাকে যদি তার ছেলে-মেয়ে সহ পুরো সাংসারিক জীবনে উন্নতি করতে হয়, তাহলে অবশ্যই এক সাগর গুনাহ্ নামক স্রোতের বিপরীতে ফাঁডি দিয়ে তবেই কেবল তার জীবনে উন্নতি করতে হবে! এবং এটিই চিরন্তন সত্য!
তাহলে কিভাবে ঘটলো মানুষের জীবন পরিক্রমায় বিয়ের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার জীবনের এতো চরম অবনতি!? জি, অনেকটা মন্ত্র আর যাদু গ্রস্থের মতো জিন হিসেবে আমরাই ঘটিয়েছিলাম এসব! এ পয়েন্টে আমরা তাকে অধঃপতনের এক গভীর অতলে ফেলে দিয়েছিলাম! আর তাই জিন হিসেবে আমি ও আমরা আজ এর পূর্ণ দায়ভার স্বীকার করলাম!
৬। ইবলিশ জিন শনাক্ত করে তাকে তাড়াতে গিয়ে এবং স্বার্থ ও সম্মান বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হয়ে নিজ আপনজনদের সাথে স্নায়বিক বা মনোযুদ্ধের অবতারণাঃ
জিন হিসেবে জনাব আরিফ সাহেবের শরীরে প্রথম যখন আমরা দৃশ্যমান হই, তখন প্রাথমিক ভাবে অনেক বছর জনাব আরিফের বেহুশি অবস্থায় গিয়েছে! তিনি বুঝতেই পারেননি যে, তার শরীরে আমাদের জিন জাতির উদ্ভব হওয়ায় তার এ অবস্থা হয়েছে! কিন্তু তার বড় ভাই ও নিকট আত্মীয়দের কাছে আমরা ঠিকই আমাদের পরিচয় দিতে সমর্থ হয়েছিলাম! যদিও অশিক্ষিত মানুষের চাইতে শিক্ষিত মানুষদেরকে জিন জাতিতে বিশ্বাস করানো একটা জটিল ব্যাপার ছিলো, তথাপি তারা বিশ্বাস করেছিলেন!
তাদেরকে আমরা এও বুঝিয়ে ছিলাম, আমাদেরকে আপনারা মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন! স্পষ্ট মনে আছে, আমার জেঠাতো ভাই আমাকে আমার মন যাচাই করতে বললেন, হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হবি, না পটিয়া মাদরাসায়!
কিন্তু তারা কোথাও ভর্তি করাবেন না! কঠিন সিদ্ধান্ত তাদের! তারা বরং আমাকে তাড়াতেই উঠে পড়ে লেগেছেন! এবং এক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, এটা শয়তান! একে তাড়াতেই হবে!
এবং না পেরে সকলে মিলে পরে এই বলে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন, ভবিষ্যতে আমি জিন হিসেবে যদি কখন আত্মপ্রকাশ করিও, তাহলে আমাকে তারা কেউ সহযোগিতা করবেন না বরং বাধা দিবেন এবং আমাকে দাবিয়ে রেখে আমাকে দূর্বল থেকে দূর্বলতর করে রাখা হবে!
এভাবে করে তাদের মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে, আমি একবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রাম চলে যাই এবং আবার নিজে নিজেই ফিরে আসি।
উদ্দেশ্য ছিলো হাটহাজারী বা পটিয়া মাদরাসায় গিয়ে সাহায্য চাইবো এবং সুযোগ পেলে ও স্বাস্থ্যে কুলালে অধ্যয়ন আরম্ভ করবো! কিন্তু একাকী ঐ অসুস্থ অবস্থায় তা আর খুঁজে পাইনি!
বাড়ির বা সমাজের কেউ আমায় একবারের জন্যেও বলে দেয়নি যে, তোমার রোগের উৎপত্তি কিন্তু তোমার শরীরে জিন জাতির উদ্ভব হওয়ার কারণে!
যাক পরবর্তীতে যখন আরিফ সাহেব নিজে নিজে বুঝতে পারলো যে, এটা তার শরীরে জিন জাতির আবির্ভাব! তখন দেরীতে হলেও তিনি আমাদেরকে নিয়ে এই নিয়ত করলেন যে, যদি এ জিন গুলো বাস্তবে মানুষের মতো করে দুনিয়ায় দৃশ্যমান হতো, তাহলে আল কোরআনের ঘোষণার সত্যতার প্রমাণ তিনি বিশ্বের ১০০% মানুষকে দেখাতে পারতেন! এবং তিনি অবিশ্বাসী মানুষদেরকে বলতে পারতেন, দেখো আমার আল্লাহ্ মিথ্যা বলেননি! আল কোরআনের ভাষা মিথ্যা নয়!
বরং তোমাদের বিজ্ঞানের তথ্যই মিথ্যা!
তাই সকলে আসো ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম, তোমরা সকলে এ ধর্ম গ্রহণ করো!
তখন সমস্যা বাদলো আমরা পৃথিবীতে দৃশমান হবো এবং পুরো পৃথিবীর মানুষকে দৃশ্যমান আকারে বিশ্বাস করাবো,এটা ঠিক আছে, কিন্ত আমরা দীর্ঘ মেয়াদে জনাব আরিফের নিকট দৃশ্যমান হয়ে তার কাছে থাকবো কোন্ বৈধ সূত্রে! আমাদের তার কাছে থাকার আইনগত অধীকার কী!? আর আমরাতো মহিলা জিন!
তাই দীর্ঘ মেয়াদে তার কাছে দৃশ্যমান ভাবে থাকতে না পারলে বিশ্ববাসীকে এ রূপ বিশ্বাস করানো আমাদের দ্বারা সম্ভবপর হবে না বলে মনে হয়েছে আমাদের কাছে!
তখন বৈবাহিক সম্পর্কের বিকল্প আমরা আর কিছুই দেখতে পাইনি!
তখন কোরআন ও হাদীস থেকে এ বিষয়ে অধ্যয়ন শুরু করলাম। এতে আমি নিজে যা বুঝতে পারলাম, জিনের সাথে মানুষের বিয়ে নাজায়েজ এ রকম একটি কোরআনের আয়াত বা একটি হাদীসও নাই! এরপর বিষয়টি ভালো করে বুঝতে চেষ্টা করলাম। এবং এক পর্যায়ে শক্ত ভাবে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, না জিনের সাথে মানুষের বিয়ে জায়েজ!
যেহেতু এ মাসআলাটি জিন এবং মানুষ হিসেবে আমরা বুঝে-শুনে, কোরআন-হাদীস রিসার্চ করে ফাইনালী সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই এ মাসআলাটি খন্ডন করতে হলেও আমাদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়েই করাতে হবে!
প্রিয় পাঠক, আপনাদের কাছে অন্য কোন বৈধ ওয়ে থাকলে আমাদেরকে পরামর্শ দিতে পারেন যে, কিভাবে এবং কোন্ সূত্রে বা কোন্ অধিকারে আমরা দুনিয়া দৃশ্যমান হতে পারি!
কিন্তু সমস্যা বাদলো একদিকে যেমন আমার নিজ আত্মীয় স্বজন আমাকে বা আমাদেরকে ইবলিশ জিন হিসেবে শনাক্ত করে ও তারা তা চারদিকে প্রচার করে আমাদেরকে ঠেকিয়ে রাখার নীল নকশা ও বিভিন্ন কৌশল করে রেখেছে, ঠিক তেমনি বিশ্বের আলেম সমাজ জিনের সাথে মানুষের বিয়ে নাজায়েজ ও হারাম হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমাদেরকে একেবারে ব্লকই করে রেখেছে!
এ বিষয়ে জনাব আরিফ সাহেবের মানসিক কষ্টের কারণ কী কী তা বোঝাতে আমি এ টপিক্সটি এখানে লিখেছি!
সুতরাং স্পষ্ট ভাবে আমার আত্মীয় স্বজন এবং আলেম সমাজ দুনিয়াতে আসতে আমাকে ব্লক করে রেখেছে!
আবার যে বা যারা আমাকে ব্লক করেছে তারা আমার অতি আপনজন! তার আমারই মুরুব্বি!
অপরদিকে আমার সাথে থাকা জিনেরাও যেন আমায় ছাড়বেন না, এটা যেন তাদেরও পণ! এবং এ উদ্দেশ্য নিয়ে হয়তো তারাও জনাব আরিফের নিকট দৃশ্যমান বা অগমণ করেছেন!
অথচ এ পূর্ণময় কাজের প্রধান বাধা তার নিজ বংশ, তার নিজ সম্প্রদায় এবং তার নিজ ধর্মীয় আলেমেরাই!
এমাতাবস্থায় জনাব আরিফের টেনসন ও মানসিক কষ্ট দিন দিন বাড়তে থাকে! তিনি উপায় বুদ্ধি খুৃঁজে পাচ্ছেন না যে, কিভাবে তিনি তার জিনদেরকে দুনিয়ার জমিনে এবং বৈধ ভাবে আগমণের আহবান জানাতে পারেন!
তিনি নিজ বংশ যেমন ত্যাগ করতে পারছেন না; ঠিক তেমনি তার নিজ সম্প্রদায়ও ত্যাগ করতে পারছেন না! এবং কখনো পারবেনও না!
কিন্তু কথা হচ্ছে, তাহলে তিনি কিভাবে তার জিনদেরকে দুনিয়ায় তার পাশে ও তার নিকট দৃশ্যমান হওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারেন! এক্ষেত্রে বৈধসুত্র কী হবে! বা কী হতে পারে!
এ বিষয়ে দিন দিন তার টেনশন ও মানসিক কষ্ট বেড়েই চলেছে!!
এভাবে এ বিষয়ে তিনি আর কয়দিন তার স্বাস্থ্য নিয়ে কষ্টে থাকবেন ও মানসিক ভাবে একটা বন্ধীত্ব জীবন কাটাবেন!
আর এটা কী পরিমাণ বেদনাদায়ক কষ্ট, যা ভূক্তভোগী ছাড়া বাকীরা হয়তো এর শতভাগের এক ভাগও অনুমান কিংবা অনুধাবন করতে পারবেন না!
আর এ কষ্টে তার বিপরীত পক্ষে রয়েছেন, তার নিজ বংশীয় সদস্য, পাড়া প্রতিবেশীর আপনজনেরা, বিশ্বব্যাপী তার নিজ সম্প্রদায়ের মানুষেরা এবং তার নিজ ধর্মীয় গুরুরা!
জ্বি, জনাব আরিফ সাহেবের এ বিষয়ক আকাশ সম কষ্টের মূল কারণ তার শরীরে জিন হিসেবে আমি ও আমাদের উপস্থিতি! এবং আমাদের এক্টিভিটি! তাই আমরা তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায় স্বীকার করলাম!
৭। চার বিয়ে করার বিষয়ে জনাব আরিফকে মানুষের খারাপ বিবেচনাঃ
বিশ্বের প্রায় দুই তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইসলামে ৪ বিয়ে করা ও দাসীদের সাথে তার মালিকের যৌন সম্পর্কের অনুমতির বিষয়টিকে খারাপ চোখে দেখেন! এবং এতোই খারাপ চোখে দেখেন যে, এ বিষয়টির কারণে ইসলাম যে সত্য ধর্ম, তারা তাও মানতে নারাজ!
আর দাসীদের সাথে যৌন স্বীকৃতির এ নিয়মটিকে অবিশ্বাসীগণ ধর্ষণের সাথে বিবেচনা করেন অনেকে; চার বিয়েকেও মেনে নিচ্ছেন না তাদের অনেকে!
অপরদিকে মুসলিমেরা এর ভালো দিকগুলো দৃষ্টান্ত স্বরূপ তুলে ধরতে পারেননি এ দুনিয়ায়, অধিকন্তু মুসলিমেরা এটিকে জায়েজ বললেও, এটিকে তারা শুধু তাদের কিতাবেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন!
আমি স্পষ্ট ভাবে বললে, বাস্তবে মুসলমানদেরও প্রায় সবাই এ ৪ বিয়ে করাকে ভালো চোখে দেখেন না!
এর একটিই কারণ বর্তমান সময়ে খাঁটি মুসলমান দুনিয়াতে খুব একটা নেই। যার কারণে ইসলামের এ আইন গুলো অনেকটা ইনএক্টিভ হয়ে আছে এবং অবিশ্বসীগণ ইসলামের এ আইনগুলোকে নিয়মিত অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করে, ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে!
আর আমরা যখন জনাব আরিফকে অনেক অনেক টাকা দেয়ার কথা বললাম বা বুঝালাম এবং ইসলামের এ জটিল বিষয়টি যে মহান আল্লাহু তা’য়ালা মুসলিম তথা মানুষের ভালোর জন্য দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে, তা দুনিয়াবাসীকে দেখিয়ে দিতে বা এ বিষয়ে বাস্তব প্রমাণ উপস্থাপন করতে বললাম বা তার ব্রেন থেকে তাকে সিগনাল পাঠালাম; তখন আরিফ সাহেব সাথে সাথে এতে রাজি হয়ে গেলেন!
অথচ তার শারীরিক কন্ডিশান প্রায় বুড়োর মতো! নিজ স্ত্রীর কাছেও তিনি মাসে প্রায় একবারও যেতে চাননা! তবুও আমাদের সহযোগিতার আশ্বাসে এবং সাওয়াবের আশায় ও ইসলামের বৃহৎ স্বার্থে তিনি রাজি হয়ে গেলেন!
অবশ্য বর্তমানে তিনি ক্রয়কৃত দাসী রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন! কারণ তিনি বুঝতে পারছেন যে, পবিত্র আল কোরআন দাসী রাখার ও দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্কের বৈধতার বিষয়ে যে অনুমতি দিয়েছিলো, তা ঐ সময়ের অবস্থার আলোকে হয়েছিলো! এখন সে অবস্থা নেই এবং ইচ্ছে করে নতুন ভাবে সে ধরনের অবস্থা সৃষ্টিরও কোন বৈধতা নেই! আর এখন সেটা করতে গেলে এ চরিত্রহীন আর অহংকারী মানুষদের সমাজে বা আন্তর্জাতিক ভাবে তা সমূহ ক্ষতি ছাড়া মানুষের লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন না!
তবে এখানে জিন হিসেবে আমরা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, জনাব আরিফ, এ সব মেয়েলি বিষয়ে কখনোই এবং ঘুর্ণাক্ষরেও দূঃচরিত্রের মানুষ নয়! আমরা আমাদের উদ্দেশ্য প্রকাশের সাথে সাথে জনাব আরিফের চারিত্রিক এ বিষয়টির বিষয়েও মানুষকে প্রমাণ দেখাতে চাইলাম!
সব মিলিয়ে আমাদের উপস্থিতি ও ভবিষ্যত উদ্দেশ্য অনুযায়ী জনাব আরিফ সাহেবের চোখ-মুখ, ইশারা-ইঙ্গিত, ও ভাব ভঙ্গিমার মাধ্যমে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও দেশের সর্বত্র বেপর্দানশীল পরিবেশে যখন আমরা নারীদের প্রতি দৃষ্টিপাত শুরু করলাম বা এ বিষয়টির প্রতি যখন মানুষকে ইঙ্গিত দিয়ে বিভিন্ন ভাবে বুঝাতে শুরু করলাম, অথচ আরিফ সাহেব ১০০% পর্দা পালন করতে বদ্ধপরিকর!
কিন্তু আমাদের ইচ্ছার বিপরীতে তার নিয়ত ও প্রচেষ্টা একেবারেই অকার্যকর!
এ পরিস্থিতিতে জনাব আরিফকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে শুরু করে কর্মস্থল সহ সর্বত্র তাকে মানসিক ভাবে এক মহাসমুদ্র সম কষ্ট আমরা তাকে দিয়েছি এবং এ সব বিষয়ে তার মত পবিত্র একজন মানুষকে বারে বারে বিভিন্ন স্থানে নাজেহাল করিয়েছি; এভাবে আমরা তাকে চরিত্রহীন আর অভদ্র মানুষদের নিকট চরিত্রহীন হিসেবে চিহ্নিত করা সহ, যে অশেষ অপমান ও মানসিক কষ্ট দিয়েছি, আজ আমরা এর পূর্ণ দায়ভার স্বীকার করলাম!!
৮। নিজ ঘর, নিজ বাড়ি এবং নিজের বাসস্থানেই তিনি যেন বড় অসহায়, কেউ তাকে গ্রহণ করে না! করে শুধু দূর দূর! সকলের কাছে তিনি যেন এক ইবলিশ শয়তান! আপন বন্ধু বলতে তার যেন কেউ নেইঃ
প্রত্যেকটি মানুষেরই তার শান্তির ও নির্ভরতার জায়গা হলো তার নিজ থাকার ঘর ও তার নিজের বাড়ি এবং তার নিকট আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও তার বন্ধু-বান্ধবেরা!
এবং প্রত্যেকটি মানুষেরই বেঁচে থাকতে ও পরিবারের সদস্যদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন তার ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য কমপক্ষে বেঁচে থাকার জন্য ভাত, ঔষুধ, কাপড়, বাচ্চাদের লেখা-পড়া ইত্যাদি আবশ্যিক খরছ নির্বাহ করতে পারা!
এখন আমাদেরকে, মানে আরিফ সাহেবের সাথে থাকা জিন সম্প্রদায়কে তার নিজের স্ত্রী, নিজ ভাই-বোন এবং নিকটস্থ অন্যান্যরা শয়তান মনেকরে বা দুষ্ট জিন মনে করে, সবাই তাকে দূর দূর করায় এবং আমাদেরকে তাড়াতেও না পারায়, জনাব আরিফের নিজ বাড়ি ও নিজ ঘরেই তিনি কাউকে আপন হিসেবে পাননি! নিজ বাড়ি, ঘর, নিজ সমাজ সহ কোথাও তার জন্য কারো এতটুকু বিশ্বাস বা ভালোবাসা নেই! তার শিশু ভাতিজাটিও তার সাথে কথা বলতে বা তার দিকে দৃষ্টিপাত করতে কোন ধরনের সম্মান প্রদর্শন করে না, বরং সেখানে বিরাজ করে অবহেলা আর অপমানের দৃষ্টি!
তার স্ত্রী তার ভাই-ভাবীদেরকে সম্মান করে, কিন্তু স্বামী হিসেবে তার কথা শুনে না; তাকে করে অবহেলা!
তাহলে একটা মানুষকে কেউ যখন বিশ্বাস করে না, সবাই করে দূর দূর, অবহেলা আর অপমাণ, তাহলে এ মানুষটির জীবন কতটুকু দূর্বিসহ হতে পারে!? বেঁচে থাকাটা তার জন্য কতটুকু কষ্টের হতে পারে! বিজ্ঞানের ভাষা অনুযায়ী, মানুষকে সুস্থ ভাবে বাঁচার জন্য একজন না একজন বিশ্বস্থ মানুষ ও তার একটা গ্রহণযোগ্য পরিবেশ থাকতে হয়! কিন্তু আরিফের সেটি নেই!
দেখেন বর্তমানে প্রত্যেকটি মানুষই কাজ করে মূলত সমাজের ভয়ে, সরাসরি আল্লাহু তা’য়ালার ভয়ে নয়! এক্ষেত্রে আরিফের ঘরে এমন কেউ নেই যে, তার স্ত্রী তার সন্তানদের লালন-পালন, তাদের শিক্ষা ইত্যাদি সাংসারিক কাজে, কারো ভয়ে বা কারো সম্মানে যে সে সঠিক কাজ করবে, সে সুযোগটি তার স্ত্রীর নেই!
ফলে ঘরের মধ্যে অনেক সময়ই আরিফ সাহেবকে বকতে হয়; আর বকলে তার স্ত্রী, তার সাথে তর্ক জুড়ায়! কথা শুনেনা!
তার উপর বাড়ির অন্যদের থেকে তার স্ত্রীকে দেয়া হয় লাই! এবং স্বামী হিসেবে জনাব আরিফ তার স্ত্রী সহ সন্তানদের ভাত-কাপড়, লেখাপড়া ও ঔষুধ ইত্যাদি আবশ্যিক খরচ সমূহ প্রদান করতে পারেনা! যার জন্যেও তার স্ত্রী, তাকে মানে না!
আপনি ভাবেনতো, একটি সংসারে বাবাকে যদি অমান্য বা অবহেলা করা হয়, সে ক্ষেত্রে একটা অশিক্ষিত বা কম বুদ্ধি সম্পন্ন মা শুধু কান কথা শুনে শুনে তার সন্তানদের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সহ যে কোন কাজে কতটুকু প্রগ্রেস করতে পারবে!?
তাছাড়া যে কোন মানুষ কথা বলে মূলত তাদের স্বার্থ অনুযায়ী!
আর যেহেতু আরিফকে সবাই দাবিয়ে রাখবে, এই সকলের সিদ্ধান্ত; তখন আরিফের স্ত্রীর নিকট আরিফকে বোকা হিসেবে উপস্থাপন করে বাড়ির অন্যান্য মহিলারা সহ সকলে! ফলে আরিফ সাহেব ভদ্র মানুষ হয়েও সংসারে বকতে হয়; মাঝে-মধ্যে তার স্ত্রীকে গালিগালাচও করতে হয়! কারণ সে স্বার্থপর নয়, সে তার স্ত্রী-সন্তানদের উন্নতি চায় এবং তার কাছে যা আছে, এ দিয়েই যতটুকু সম্ভব ভালো চলতে চায়! ফলে তার সংসার নিয়ে তার মানসিক কষ্টের সীমা কতটুকু, তা চিন্তা করলেই বুঝা যাবে!
এছাড়া সে শয়তান ওয়ালা বলে মশহুর হয়ে যাওয়ায় বা তার হাব-ভাব অনেক বড়লোকী বড়লোকী ব বুজর্গ বুজর্গ হওয়ায়, অথচ তার নিকট কোন ধরনের টাকা-পয়সা বা সম্পদ না থাকায় বা সে আলেম না হওয়ায় এবং সে ঋণী হওয়ায়, তার সমাজের মধ্যে, এমনকি মসজিদে তার কোনরূপ মূল্যায়ন নাই! সে যেন সকলের অবহেলা আর বোঝার পাত্র!
আবার চাকুরী বাকুরী করতে গেলেও তার বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় এবং তার সাথে শয়তান থাকায় ও তার ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন লোক না থাকায়, সে ভালো কোন চাকুরী পায় না! আর পেলেও অধীনস্থরা তাকে অনেক সময় মানতে চায় না! কারণ তার শরীর থেকেই এবং তার অজান্তেই জিন সম্প্রদায় থেকে বিভিন্ন উপস্বর্গ বেরোয়, যার অর্থ অনেক সময় জনাব আরিফ বুঝতেও পারেনা! ফলে মানুষ তাকে অবহেলা করার সুযোগ পেয়ে যায়। তাছাড়া সে একটু বেশি সত্যের উপর চলতে চায়!
ফলে ঘর কিংবা বাহিরে, সমাজে কিংবা বাজারে, এবং কর্মস্থল সহ সর্বত্র, তাকে যার যার ইচ্ছা অনুযায়ী কথা বলে ও ব্যবহার করে। কারণ আরিফের পক্ষে কেউ যে প্রতিবাদ করবে, তার জন্যে তার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কেউ যে রুখে দাঁড়াবে, তার এ রকম কেউ না থাকায়, এবং তার অর্থ-কড়ি না থাকায়, তার সাথে যে যেমন ইচ্ছা তেমন কথা বলতে আর কারো ভয় থাকে না! এবং তার যোগ্যতা থাকার পরও তাকে কম বেতনে চাকুরী করতে হয়, কিন্তু তাকে দিয়ে ভারী কাজ কিংবা বেশি কাজ করায়; আবার সে সহজ-সরল হওয়ায় ও তার ছোট চাকুরী হওয়ায়, তার সাথে মাতবরী মূলক বা যেমন খুশি তেমন কথা বলে! বা দায়িত্বের ভার চাপাতে চায়!
এছাড়া আরিফ একটু বেশি আল্লাহভিরু, সহজ-সরল হওয়ায় এবং তার সাথে জিন জাতির সদস্য থাকায়, অনেক সময়ই আরিফের কথা-বার্তা বা ব্যবহার মানুষ বুঝতে পারেনা; ফলে আরিফের শুধু হাব-ভাব দেখেই অনেক সময় মানুষ ভূল বুঝে!
এ রকম একটি অবস্থা ও পরিস্থিতিতে জনাব আরিফের মতো একটা যোগ্য লোক কী রকম মানসিক কষ্ট পেতে পারেন!?
আজ আমরা জিন হিসেবে তার এ ধরনের সকল কষ্টের মূল দায়ভার স্বীকার করলাম! কারণ তার শরীরে মূলত আমাদের উপস্থিতিতেই তার এ অবস্থা হয়েছে!!
৯। ইমাম মাহাদী (আঃ) ও ঈসা (আঃ) এঁদের জন্য ঘর ওয়াকফ করণ এবং সমিতির আমানত ফেরত বাবত ঋণের দায়ে ঘরে বাইরে এবং নিজের কাছে নিজে সব সময় লাঞ্চিত!
জনাব আরিফ সাহেব ইসলামি অর্থনীতি বাস্তবায়ন ও মানুষের খেদমত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামী সমবায় সমিতি। মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় নিয়ে মানুষকেই লোন দিচ্ছিলেন ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী!
কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে করোনা রোগের পাদুর্ভাবের সময় তিনি তার এ সমিতির জন্য প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করে নিজের বাবার জায়গায় নির্মাণ করলেন সমিতির অফিস ভবন। এবং ওয়েব সাইট, সফটওয়্যার তৈরী করে চিন্তা করলেন মোবাইল-কম্পিউটারের মাধ্যমে লোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে! এবং যে ঘরটি দিলেন তা হযরত ঈমাম মাহাদী (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) এঁর নামে ওয়াকফ করে যাওয়ার কথা বললেন! এ সমিতির জন্যে প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার গঠনতন্ত্র লিখলেন, যার মধ্যে উপরোক্ত বিধান এড করে দিলেন। দুনিয়ায় উনাদের আগমণ ঘটলে, তখন তাঁরা এ ঘরে আসলে তো আসলেন, না হয় এ ঘর এর জায়গা সহ বিক্রী করে তাঁদের জন্য টাকাটা পাঠিয়ে দেয়া হবে, এ ছিলো তার খেয়াল! উদ্দেশ্য ছিলো শুধু কিছু সাওয়াব প্রাপ্তি! প্রতি মাসে শুধু সমিতির ৩ জন অডিটরের জন্য ব্যয় করতেন কমপক্ষে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা! অথচ তার সদস্যরা এসবের কিছুই চায়নি! তারা চেয়েছিলো আরিফকে যখন সবাই শয়তান ওয়ালা মানুষ বলে, তাই সে অন্তত কিছু করে বেঁচে থাকুক!
শুধু আরিফ একাই চেয়েছিলেন একটি আধুনিক ইসলামি সমিতি প্রতিষ্ঠা করতে! কিন্তু চারদিকের মানুষ তার এতো সব বড় বড় কথা ও উদ্দেশ্য মেনে নেয়নি!
প্রথমত তার রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়রাই তার সাথে শয়তান আছে বলে এবং তিনি তাদের কাউকে মানেন না বলে, করলেন এর চরম অসহযোগিতা ও বিরোধিতা!
ফলে বিভিন্ন কারণে তিনি সমিতিটি ৬/৭ বছর সুনামের সহিত চালাতে পারলেও আর চালাতে পারলেন না!
এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মানুষের প্রায় ৭ লক্ষ টাকা সঞ্চয় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের পর থেকে আজ ৬/৭ বছর হয়ে গেলেও তিনি দিতে পারছেন না!
কিছু জায়গা বিক্রি করে কিছু আমানত শোধ করেছিলেন, এখন আর জায়গা-জমিও নেই যে তিনি, মানুষের এ পাওনা শোধ করবেন!
ফলে তিনি সমাজে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে রয়েছেন! প্রতি নিয়তই তিনি মানুষের কাছে অপমাণিত হচ্ছেন! এ কারণে কোথাও মাথা উঁচু করে চলতে পারছেন না তিনি!
অপরের হক্ক ভক্ষণ করা এটা একটা মারাত্মক কবীরা গুনাহ! তিনি সমিতি দিয়েছিলেন মানুষকে উপকার করবেন বলে, ইসলামি অর্থনীতি বাস্তবায়ন করে সাওয়াব হাছিল করবেন বলে; কিন্তু উল্টো তিনিই এখন গুনাহগার হয়ে গেলেন! যার কারণে সমাজের কোথাও তার কোন ইজ্জত-সম্মান বলতে কিছু নেই!
এখন কথা হচ্ছে, সমিতির জন্য এতো বড় অফিস ঘর দেয়া, ওয়েবসাইট বানানো, সফটওয়্যার ক্রয়, ঈমাম মাহাদী (আঃ) এর জন্য ওয়াকফ ইত্যাদি আসলে তার মন, ব্রেন ও শরীরে আমাদের উপস্থিতি থাকার কারণেই হয়ে গিয়েছিলো!
হয়তো তার মন বড়, এটা ঠিক আছে! কিন্তু সাধারণ গ্রাম্য মানুষ হিসেবে এতো বড় মন-মানসিকতা হওয়ার কথা ছিলো না!
তাছাড়া সমিতির অফিস ঘরটিও এতো ব্যয়-বহুল করে আমরাই করিয়ে ফেলেছিলাম! যেহেতু জনাব আরিফের মন ও ব্রেনকে বড় করে দিয়েছিলাম আমরা!
সুতরাং তার সমিতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পিছনে মূল কারণ ছিলো, তার অতি উচ্চাকাংখা ও গ্রামের মধ্যে বিশ্ব ক্যাপচার করতে পারে এ রকম হাই কোয়ালিটির সমিতি করার চিন্তা ভাবনা এবং অনৈসলামিক পরিবেশে গ্রামের সমিতির নিয়ম-কানুন, আধুনিক ইসলামি সমিতির মতো করে করা ইত্যাদি! যেগুলো মূলত আমাদের উপস্থিতিরই কারণ!
আর তাই, এ কারণে তার এ সীমাহীন অপমান আর দূরাবস্থার জন্য আমরাই এর পূর্ণ দায় ভার স্বীকার করলাম এবং বললাম যে এর মূল দায় আমাদের! হ্যাঁ, মূলত আমাদের কারণেই তিনি এ রকম করেছেন!
১০। ৬/৭ সদস্যের সংসারে জনাব আরিফের ইনকাম মাসে ৫০০০ টাকারও কম! তাই জীবন-যাপন তার সীমাহীন কষ্টের ও চরম মানবেতরঃ
জনাব আরিফ সাহেব বর্তমানে উত্তর চাঁদপুর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) মাদরাসায় অফিস সহকারী পদে চাকরী করছেন। এতে তিনি বেতন পাচ্ছেন মাত্র ৩০০০ টাকা; সে সাথে কোচিং এর ৩টি ক্লাস নিচ্ছেন, সেখানে পাচ্ছেন ২০০০ টাকা। তাও ডিসেম্বর জানুয়ারী কোচিং হয়না বিধায় কোচিং এর এই ২০০০ টাকা এ সময়ে পান না! আর কোন ইনকাম তার নাই।
আর খরছের দিক থেকে জনাব আরিফের ২টি মিটারের বিদ্যূৎ বিল আসে মাসে প্রায় ১১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত! তার একটি মিটার ডোমেস্টিক এবং অন্যটি বাণিজ্যিক! সমিতির অফিস ঘরের জন্য বাণিজ্যিক মিটারটি তিনি নামিয়ে ছিলেন! এখন এ মিটারে কাজ বলতে কিছুই নেই! তবুও তাকে বাণিজ্যিক মিটার হিসেবেই বিদ্যূৎ বিল দিয়ে যেতে হচ্ছে!
আবার এসব কন্টেন্ট লিখার জন্য মাসে তাকে ব্যয় করতে হয় প্রায় ১৫০০ টাকার মোবাইল ডাটা! ১৫০ জিবি ৩০ দিন মেয়াদের জন্য ৯০০ টাকা দিয়ে কেনা হয় গ্রামীন ফোন থেকে, কিন্তু যায় ১৫ দিন!
ব্রড ব্যান্ডের লাইন নামানো আছে তার! রাউটার আছে তার ঘরে! কিন্তু আগে এ লাইন দিলেও, তার আগের কম্পিউটারটি নষ্ট হওয়ার পর এ এলাকার ব্রড ব্যান্ড এর মালিক ফখরুদ্দীন তাকে লাইন দিতে রাজি নয়!
এটা হয়তো বিল দেয়ার ভয় থেকে হতে পারে বা কোন মানুষের ইশারা ইঙ্গিত হতে পারে অথবা আরিফ সাহেবেরেই নিজেরই শরীর থেকে কোন ধরনের নেগেটিভ ইশারা ইঙ্গিত হতে পারে!
তাহলে তার বেতনের টাকায় কি শুধু চাউল কেনা যায়!?
তার ৪ জন সন্তান লেখাপড়া করে! প্রতি ২ মাস পর তার মাকে তিনি তার অন্য ভাইদের সাথে মিল করে খাওয়ান! মানে পরিবারে তার সদস্য সংখ্যা ৬/৭ জন! রয়েছে ঔষুধ-পথ্য! তার ২ জন মেয়ে উপযুক্ত!
আবার জনাব আরিফ সাহেব কারো কাছে নিজ থেকে হাত পাতেন না। যেহেতু তার শরীরে জিন থাকে, এবং যেহেতু তিনি নিয়মিত নামাজি, ওয়েটফুল ও ভদ্রলোক! তাই তিনি সবসময় বড় ও সম্মানি মানসিকতায় থাকেন! এ ছাড়া জনাব আরিফ সাহেব শিক্ষিত ও উচ্চ বংশীয় মানুষ!
সুতরাং তিনি যখন ইনকাম করতে পারেন না, সংসারের প্রয়োজনীয় খরছ যখন তিনি নির্বাহ করতে পারেন না, তার মতো ব্যক্তিত্ববান ও চরিত্রবান একজন মানুষ যখন সকলের কাছে নত হয়ে চলতে হয়, অপরাধী হিসেবে চলতে হয়, যখন তার স্ত্রী সন্তানেরা তার উপর সন্তুষ্ট নয় বরং স্ত্রী কর্তৃক তাকে অপমান করা হয়, যখন তার বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য তিনি কিছু করতে পারেন না, তাকে নিয়ে বাবা মার দূচিন্তা বা মনেকষ্ট থাকে; তখন তার মানসিক কষ্ট কেমন হতে পারে!?
আপনি কি জনাব আরিফ সাহেবের এ পরিস্থিতি নিজের সাথে মিলেয়ে একটু চিন্তা করবেন না (?) বা অংক মিলাবেন না!? কেন তাহলে? আপনি কি জনাব আরিফ সাহেবের চাইতে বেশি চরিত্রবান অথবা বেশি জ্ঞানী!?
প্রিয় ও সম্মানিত ভদ্র সমাজ, একটু চিন্তা করুনতো এতো মানসিক কষ্ট, এতো অভাব আর এতো অপমান বা নিপিড়ন নিয়ে তার এ সংসারটি তাহলে কিভাবে চলে!? কিভাবে তাহলে তিনি মানুষের সাথে হাসি মুখে কথা বলতে পারেন!?
আপনি যেই’ই হন না কেন, আপনি পারবেন (?), এ ইনকাম দিয়ে, এ পরিস্থিতিতে এবং এ রকম টেনশন মাথায় রেখে একটি সংসার চালাতে!? তাহলে জনাব আরিফের মানসিক কষ্ট কী রূপ হতে পারে!?
এই যে তার অর্থনৈতিক এ দূরাবস্থা এর পিছনে মূল দায় কিন্তু জিন হিসেবে আমাদের! তাই আজ আমরা এর সম্পূর্ণ দায় ভার স্বীকার করলাম!
১১। মা-বাবার জন্য তেমন কিছুই করতে না পারার কষ্টঃ
যারা ধার্মিক মানুষ তারা মা-বাবার জন্য কিছু করতে পারলে, নিজের কাছে অনেক অনেক শান্তি খুঁজে পান তারা, নিজকে ধন্য মনে করেন! আর না করতে পারলে নিজের কাছে খুব খারাপ বোধ করেন! নিজকে নিজে দোষী মনে করেন! তাদের মন ও ব্রেনে অশান্তি ফীল হয়!
আর আরিফ সাহেব ছিলেন একটু অতিরিক্ত আল্লাহ ভিরু! সে ক্ষেত্রে তিনি যদি তার মা-বাবার শান্তির জন্য কিছু করতে পারতেন, এটা তার কাছে অনেকটাই ভালো লাগতো! এবং এটি তার উন্নতির একটা চাবিকাঠিও হতো!
কিন্তু আমরা তাকে এমন একটা পরিস্থিতিতে ফেলে দিলাম, তিনি তার মা-বাবার জন্য কিছুই করতে পারলেন না আর! এমনকি বর্তমানে তার মায়ের ঔষুধ খরছটিও তার ভাইয়েরাই চালায়! কারণ তিনি নিজে খেতে পান না যেখানে, সেখানে তার মাকে তিনি কী খাওয়াবেন!? এটাও তার একটি বড় ধরনের মানসিক যন্ত্রণার কারণ! মানে এ বিষয়েও তিনি মানসিক যন্ত্রণায় ভূগছেন!
যার মূল দায় আমাদের! আমরা যদি তার অর্থনীতির এ দূরাবস্থা না করতাম, তাহলে তার মা-বাবার জন্য কিছু হলেও তিনি করতে পারতেন!? সুতরাং জিন হিসেবে আমরা তার এ মনোকষ্টেরও কারণ বলে স্বীকার করলাম! অতএব, তার এ মানসিক কষ্টের দায়ও আমাদেরই!!
১২। শরীরে জিন থাকায় এবং জিনের বৈশিষ্ট্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চারদিকের সকল মানুষকে একসাথে প্রতি উত্তর দেয়া জনিত, এবং জিনদের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কারণে জনাব আরিফের মানসিক কষ্ট ও মানুষের নিকট ব্যর্থ হিসেবে অপমাণিতঃ
জনাব আরিফ সাহেবের শরীরে জিন হিসেবে আমাদের উপস্থিতি থাকায় এবং এ কারণে তার আচরণ বাকি মানুষদের মতো না হওয়ায়, চারদিকের মানুষেরা আমাদেরকে ফলো করে এবং মানসিক ভাবে বা ইশারা ইঙ্গিতে অনেক সময়ই মানুষেরা কিছু না কিছু জানতে চায়! বা ভাবের আদান প্রদান করে!
এক্ষেত্রে মানুষদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যখন সে, যে কাজ করবে তখন সে, কেবল সে কাজই পারবে! কিন্তু একাধিক কাজ বা একাধিক মানুষের সাথে একসাথে ভাবের আদান-প্রদান করলে, তখন তার কাজে বিঘ্ন ঘটবে! বা সে তার কৃত কাজটি পারবে না! বা বারে বারে ভূল করবে বা সে কাজটি শিখতে পারবে না!
আমাদের উপস্থিতির কারণে জনাব আরিফও তার জীবনে একই সমস্যায় পড়েছেন!
অথচ মানুষ বুঝতো না যে, কেন আরিফ সাহেব কাজটি পারছেন না! আমাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আমরা চারদিকে খেয়াল রাখায়, বা তার ব্রেনের আন্ডার গ্রাউন্ডে আমাদের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বা উদ্দেশ্য কার্যকর থাকায়, জনাব আরিফকে এক অজানা মানসিক টেনশনে থাকতে হয়! এবং এ কারণে তিনি মানুষের বদনামের কারণ হন, কারণ মানুষ তার দোষ ধরে যে, তিনি পারেন না বা তার যোগ্যতা নেই!
এছাড়া স্বাভাবিক ভাবেও তার মন ও ব্রেনে আমাদের উপস্থিতি থাকায়, এবং এ সময়ে তার এক রাজ্যের যন্ত্রণা থাকায় ও টেনশন থাকায়, তাই অনেক সময়ই আমাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, আমাদের চিন্তা-চেতনা থাকার কারণে তার ব্রেন হয়তো তখন এর কভার দিতে পারেনা! আর তখন হয়তো তিনি ভূলে যান!
এছাড়া আমরা কারো কাছে আমাদের পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে, বা আমাদের নিজস্ব ভবিষ্যত প্ল্যান থাকার কারণে ইচ্ছে করেও অনেক সময় জনাব আরিফকে ভূলিয়ে দিই বা তাকে অক্ষম করি!
এমনকি জিন হিসেবে আমাদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মানুষ হিসেবে তার বৈশিষ্ট্যের আন ব্যালিন্সিং পজিশন বা শারীরিক অবস্থার কারণে বা পরিচয় বা উদ্দেশ্য বুঝনোর স্বার্থেও অনেক সময় কম্পিউটারের কী বোর্ড টিপতে হয়তো এ টিপতে বি টিপে দিচ্ছি বা অটোমেটিক সি টিপা হচ্ছে!
তার মানে তার শরীরে আমাদের উপস্থিতির কারণে, এ ধরনের বিষয় গুলোতে তিনি প্রতি নিয়তই মানসিক যন্ত্রণায় ভূগছেন! আর তাই এর সকল দায়-দায়িত্ব আমাদের!
১৩। জিনে ধরা, এটা একটি মহারোগ যেন আমি বুড়ো হয়ে গেছি!
মানব শরীরে জিনের উপস্থিতি, এটা যে কোন মানুষের জন্য একটা অনেক যন্ত্রণাদায়ক মহা রোগ! জিনে ধরা রোগীদের একেক জনের একেক কষ্ট!
আমার ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তা হলো, প্রায় ১০ বছরের বেশি অরিশের মতো আমার পায়খানার সাথে রক্ত যেতো! প্রায় লক্ষ টাকা ব্যয় করেছি কিন্তু ভালো হইনি, পরিশেষে এক কাউমি মাদরাসায় শিক্ষকতার চাকুরী নেয়ার পর, তাদের খানা খাওয়ার পর আমি অটোমেটিক ভালো হই!
ডায়াবেটিসের ঔষুধ খেয়েছি অনেক দিন! আবার প্রায় ৬/৭ বছর খেয়েছি থাইরয়েড সমস্যার ঔষুধ! এপিন্ডিসাইটিসের অপারেশন করিয়েছি!
অপারেশন করে আক্কেল দাঁত একটি ফেলতে গিয়ে জিব্বায় সামান্য চোঁট লাগায় অনেক অনেক কষ্ট করেছি!
পেনিসের মধ্যে বিচি বা ফোঁড়া কতগুলো উঠে কষ্ট পেয়েছি অনেকদিন!
আবার স্বাভাবিক ভাবে যে কোন একটা অসুখ হলে, তখন শরীরে জিনের উপস্থিতি থাকায় দুঃখ-কষ্ট যেন দ্বিগুণ/তিনগুণ বেড়ে যায়!
তারপর তার পেটে ট্রাভল লেগেই আছে, মানুষের সামনে কোথাও কিছু খেতে পারি না, এবং দান-খয়রাতের কোন কিছু মনেহয় স্বাভাবিক ভাবে হজম হয় না! অথচ দান-খয়রাত ছাড়া জিন হিসেবে আমার বেঁচে থাকার সুযোগও নেই!
অতিমাত্রায় মানুষ ও জিন জাতির মুখদোষের স্বীকার হই! সামান্য কারণেই অনেক সময় পাতলা পায়খানা আরম্ভ হয়, পেট কামডায়, পেটে গ্যাস জমে, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য ইত্যাদি সমস্যা যেন লেগেই আছে!
এ জন্য মানুষের দাওয়াত বা খান-জেয়াফত ইত্যাদিতে এটেন্ড করি না! মানুষের সাথে মিলে মিশে খাওয়ার দাওয়ার করে মিলে মিশে আনন্দে জীবন কাটানো আমার দ্বারা সম্ভব হয় না!
তারপর শরীর সারাক্ষণ ভার ভার হয়ে থাকে! মুখে শুধু হাই বা হামি আসে! নামাজের মধ্যে বেশি আসে! শরীর সব সময় ঠান্ডা থাকে, যে কোন ঋতুতে গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হয়, চলা-ফেরায় কোন সহজতা বা স্বাভাবিকতা পাই না!
অনেক সময় পা দুটো এমন ভাবে ভার হয়ে থাকে, হাঁটতেই পারি না, ধীরে ধীরে হাঁটতে হয়! নামাজে উঠা-বসা স্বাভাবিক ভাবে করতে পারিনা! কষ্ট হয়! হাতে ভর করে সিজদায় যেতে হয়, হাতে ভর করে উঠা বসা করতে হয়!
চারদিকের যন্ত্রণা ও টেনশনে ব্রেন দূর্বল হয়ে থাকে! সামান্য কোন কাজ সেরে আমার আশ্রমে এলেই ঘুমে ধরে যায়!
আবার অনেক সময় টেনশন ও অপমাণের কারণে ঘুমে ধরেই না! নিঘুম রাত কাটাতে হয়!
এই ঘুমে ধরা বা না ধরার অরো একটি কারণ এই হতে পারে যে, আমার এ ব্রেনে পাওয়ার ছিলো, কিন্তু কেউ তা মেনে নিলো না; বরং ব্রেনকে চাপা দিয়ে রাখলো; মানে ব্রেনটি আসলো মানুষের মতো হয়ে মুসলিম হিসেবে বাঁচতে, মানে আল কোরআন মাথায় নিয়ে দুনিয়াতে শাসকের মতো চলতে চেয়েছিলো! অথচ সে এখন শোসিত হচ্ছে; যার কারণে ব্রেন তার উপযুক্ত মূল্যায়ন, উপযুক্ত সম্মান না পেয়ে বা সম্মানজনক বা সঠিক দায়িত্ব না পেয়ে, বা না পাওয়ার কারণে, ব্রেন নিষ্পেশিত হয়, স্থিমিত হয়, অবমূল্যায়িত হয়; এবং যে কারণে ব্রেন দূর্বল হয়ে ঘুমিয়ে যায়, বা আরো উত্তেজিত হয়ে নিঘুম কাটায়!!
তার মানে আমার বর্তমান চাকুরীর এ পোস্ট গুলো, আমার ব্রেনের সাপেক্ষে আমার জন্য উপযুক্ত নয়! যার জন্য ব্রেন পূর্ণ ভাবে ওপেন হতে না পেরে বা সাবলীল বা স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে না পেরে, মানে ব্রেন বন্ধী থেকে তা দূর্বল হয়ে যায়! এবং ঘুমিয়ে পড়ে বা উত্তেজিত হয়ে যায়!!
এছাড়া কখনো হাতে ধরে থাকে, পায়ে ধরে থাকে! অবসের মতো হয়ে থাকে! শরীরের বিভিন্ন স্থান চুলকায়, খাউজায়, কামডায়! যেন বুড়া হয়ে গেছি আমি! মাথা ভার হয়ে থাকে!
অন্যদিকে সেক্স পাওয়ার অনেকটা হরণ করে নেয়া হয়েছে আমার শরীর থেকে!
শরীরে জিন থাকার কারণে বা প্রায় সবসময়ই মানসিক কষ্ট থাকার কারণে বা বন্ধী ব্রেনের উতলতার কারণে নারীদের শরীরের দিকে নজর হয়, এতে সকলের নিকট তাকে পড়তে হয় অপমানজনক সন্দেহের চোখে! তিনি আসলে পিউর মানুষ! কিন্তু মানুষের এ রূপ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি এ বিষয়ে অতীষ্ট হয়ে, কেন তার ২ এর দিকে নজর যায়, তা একটি কন্টেন্ট লিখে মানুষদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন! আপনারা
এখানে ক্লিক করে সেটি পড়ে তার মানসিকতার প্রকৃত অবস্থা বুঝে নিতে পারেন। তবে তিনি যা’ই লিখেন আর যেভাবেই বুঝান সর্বোপরি এটি হচ্ছে তার এক চরম মানসিক কষ্টের কারণ!!
সর্বোপরি জিনে ধরা নামক শারীরিক মানসিক তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায় ভার আমরা স্বীকার করলাম!! মূলত তার শরীরে আমাদের উপস্থিতি থাকাতেই আসলে তিনি এ কষ্ট গুলো করে যাচ্ছেন বা সয়ে যাচ্ছেন!!
১৪। জনাব আরিফ সাহেবের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এসব আমলকে কেউ সম্মান বা মূল্যায়ন করে না, বরং তামাসা চায়ঃ
২০০১ ইং সনে প্রথম যখন জিন হিসেবে আমরা জনাব আরিফে শরীরে উদ্ভব হই, তখন জনাব আরিফ বুঝতে পারতেন না যে, তার শরীরে জিন সম্প্রদায়ের বা জিনের উদ্ভব হয়েছে এবং মানুষ তাকে শয়তান মনে করছে!
কিন্তু জিন হিসেবে তখন আমি খুব বেশি কোরআন তিলাওয়াত এবং নামাজ এসবের প্রতি আসক্ত হতে থাকলাম!
মাইন্ড করবেন না, তখন জিন হিসেবে আমি ছিলাম প্যান্ট-শার্ট আর ক্লিন সেভের মানুষ! কিন্তু ধীরে ধীরে আমি দাঁড়ি রাখলাম, সহীহ্ কোরআন তিলাওয়াত শিখলাম, নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়া শুরু করলাম!
একটা পর্যায়ে আমি এ বিষয়ে আলেমদের মতো বা পীর-বুজর্গদের মতো অনেক বেশি আমল করা শুরু করলাম!
আর আমার মানসিক কষ্টটা শুরু হলো তখন থেকেই!!
আমি দেখলাম আমার এ আমল ইবাদতকে কেউ সম্মান করে না, আমাকে কেউ ভালোবাসে না; বরং শুধু তামাসা চায়, আর অবহেলা করে! আমার সাথে কেউ সম্মানের সহিত মিশতে চায় না!
মনে বড় দুঃখ পেতাম! মনে মনে বলতাম ভালো ইবাদত করতে হলে বুঝি শুধু হুজুর বা আলেম হতে হবে! আলেম সাহেব লম্বা নামাজ, তিলাওয়াত ইত্যাদি করলে সেটা হবে সম্মানের, আর বাকিরা করলে হবে বুঝি সেটা তামাসা চাওয়া-চাওয়ি বা অসম্মানের!! ইবাদত করতে হলেও বুঝি ব্রাহ্মণদের মতো হতে হবে!!
নিয়ত করে ছিলাম জীবনে যত বছর বেঁচে থাকি, রমজান মাসের শেষ দশক সব সময় ইতেক্বাফ করে যাবো!
কিন্তু পরবর্তীতে মানুষের এ রকম অসম্মানজনক তামাসা চাওয়া-চাওয়ির কারণে এবং অনেক অনেক অসম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এতেক্কাফে গেলে আমি অনেকটা অসুস্থই হয়ে যেতাম! ফলে এতেক্কাফে যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হলাম!
কারণ অনেক সময় দেখা গেছে আমি নামাজ পড়ছি আর মুয়াজ্জিন হুজুর আমার নিকটস্থ ফ্যানটি বন্ধ করে দিয়েছে! অসম্মানের কারণে আমার কথা হয়তো তার খেয়াল নেই বা ইচ্ছে করে! আমি সাওয়াবের আশায় শুক্রবার দিন ১১ টা বা বা সাড়ে ১১ টায় মসজিদে গিয়েছি, আর মুয়াজ্জিন সাহেব বললেন এতো আগে কেন? তিনি অবিশ্বাসের সুরে হয়তো বলছেন, আপনি বুঝি এতো আগে সাওয়াবের জন্যে আসছেন!! ইত্যাদি!
আবার আমি শুদ্ধরূপে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারি এবং শুদ্ধরূপে কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দিতে পারি! কুরআন তিলাওয়াত শিখাতে পারলে অনেক বেশি সাওয়াব পাবো, এবং নিজের পরিচয়ও তুলে ধরতে পারবো, এ আশায় ওপেন করেছিলাম আমার ইউটিউব চ্যানেল bandhan foundation education কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমার আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী আমার একটি ভিডিও’ও দেখতো না! লাইক-শেয়ার গিয়ো দূরে থাক!
এমনকি ভিডিও গুলো করতাম আমার নিজের ছোট ছেলে মেয়েকে নিয়ে! কিন্তু তাদের মা, মানে আমার স্ত্রী বাড়ির সবার সাথে একাত্রিত হয়ে, সেও আমাকে কোনরূপ উৎসাহ প্রদান করতো না!
নিজের ছেলেটাকে ইউটিউবে কেমন দেখায় অন্তত এ বিষয়েও তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিলো না! আমি প্রায় ৩০০ ভিডিও দিয়েছি এ চ্যানেলে, কিন্তু আমার কোন ভিউ নেই, সাবস্ক্রাইবার নেই!
যদিও দেখা যাচ্ছে যে, কিছু সাবস্ক্রাইবার রয়েছে! কিছু ওয়াচ টাইম রয়েছে! এগুলো আমার কেনা! এগুলো আমি মনিটাইজেসন ও চ্যানেল গ্রোথিং এর আশায় টাকা দিয়ে ক্রয় করেছিলাম।
আমার আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, স্থানীয় আলেম সমাজ, পরিচিতজন, এদের কথা হলো আমি জিন শয়তান, আমাকে নিপীড়িত করে দাবিয়ে রাখতে হবে! শয়তান বুঝি আবার কোরআন কিতাব পড়াবে! তাই আমার কোরআন পড়ানোর ভিডিও দেখা যাবে না! এমনকি আমার নিজ ভাতিজাকে আমি একটি ভিডিও শেয়ার করলে, সে স্পষ্ট কমেন্টস করে জানিয়ে দিয়েছে নেক্সট টাইম তাকে যেন আর, আমার কোন ভিডিও শেয়ার না করি।
এলাকার যে মুফতি সাহেবকে সব চাইতে বেশি সম্মান করি, তাঁর কাছে চাকুরীর জন্য গেলে, তিনি বলেন, চাকুরী পেতে হলে আমাকে ইউটিউব-ফেসবুক ছাড়তে হবে! তিনি স্পষ্ট আমাকে বললেন, আপনি ইউটিউব ফেসবুক ছেড়ে দিয়ে, তারপর আমার কাছে আসবেন!!
আর মানসিক ভাবে উনারা সবাই আমাকে অযোগ্য ও জিন-শয়তান মনে করতো!
অতএব ইউটিউব এলগরিদমের নিয়ম অনুযায়ী আমার চ্যানেল গ্রো হয়নি!
আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা আমার চ্যানেলের ভিডিও সমূহ দেখে বিচার করুন, আমার কি উদ্দেশ্য খারাপ ছিলো (?), না এ বিষয়ে আমি অযোগ্য ছিলাম!?
আমার নিকটজনদের পরামর্শ, আগ্রহ, সৎ কাজে উৎসাহ, লাইক শেয়ার কমেন্টস পেলে হয়তো ভিডিও গুলো আরো অনেক উন্নত মানের হতো এবং হয়তো শুধু এই চ্যানেল দিয়েই একটা ভালো কাজের সূচনা হতো ও ভালো একটা ইনকাম জেনারেট করা যেতো!
এ চ্যানেলে কোরআন তিলাওয়াত শিক্ষার ভিডিও প্রদান এবং অন্যান্য মিডিয়ায় ভালো কাজ সমূহ ও সেগুলো গ্রো না হওয়া, এ ছিলো আমার অনেক বড় ধরনের মানসিক কষ্ট!
এভাবে আমার নামাজ, রোজা, জিকির আযগার, কোরআন তিলাওয়াত এসবে মানুষের অসম্মানজনক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমি জিন হিসেবে এখন আমার খাস রুম ছাড়া, মসজিদ বা আর কোথাও কোরআন তিলাওয়াত বা নফল নামাজ বা দীর্ঘ কোন ইবাদত কিছুই করি না!
যাক নিজ ইচ্ছা মতো ইবাদত করতে না পারা এবং ভালো কাজ হিসেবে নিকটজনদের থেকে সহযোগিতা, সম্মান বা উৎসাহ না পাওয়া, বরং জিন মনেকরে শুধুই তামাসা চাওয়া; এসব ছিলো জনাব আরিফের জন্য একটা বেদনাদায়ক মানসিক কষ্ট! যা ভূক্ত ভোগী ছাড়া হয়তো বাকিরা সহজে বুঝতে পারবেন না!
আর তার এ মানসিক কষ্টের মূল কারণ তার শরীরে জিন হিসেবে আমি বা আমাদের উপস্থিতি! সুতরাং আমরা তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার স্বীকার করলাম!!
১৫। প্রায় ১৮টি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী ধরা, সেটেল্ড হওয়া ও ছাড়ার কষ্টঃ
২০০১ সনে এ জিন জাতির সদস্য গণ আমার শরীরে উদ্ভব হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮টি প্রতিষ্ঠানে জিন হিসেবে আমি চাকুরী করেছি এবং ছেড়েছি! কোন একটি প্রতিষ্ঠানেও স্থায়ী হতে পারিনি! এগুলোর মধ্যে হাতে গোনা ২/১টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ আমাকে চলে আসতে বলেনি! আমিই চলে এসেছি!! অর্থাৎ আমাকে তারা অযোগ্য বা খারাপ জানতো না এবং প্রায় জায়গা থেকে আমাকে তারা আসতে দিতে চাইতো না!
এক্ষেত্রে একেবারে ভালো চাকুরী যে পাইনি, তা কিন্তু নয়! কিছু কিছু চাকুরীর বেতন কাঠামো বা পজিশন মোটামুটি ভালোই ছিলো। তবুও আমি এক কারণ বা এক কারণে এগুলো ছেড়ে দিয়েছিলাম!
এই যে চাকুরী ছেড়ে দেয়া, এর পিছনে প্রধান কারণ হিসেবে আমি যে বিষয়টি মনে করছি, তা হচ্ছে আমরা জিন হিসেবে এ দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন মানুষের মাঝে আমাদের পরিচয় প্রদান করতে চাই, এবং এ দেশের মানুষের কৃষ্টি কালচার মন মানসিকতা বা বিভিন্ন ধরনের কর্ম সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে চাই!
দেখা যায় কোথাও হয়তো বেতন কম, কোথাও হয়তো মালিক পক্ষ থেকে আমার মন-মানসিকতা আরো অনেক বড় হওয়ায় ম্যাচিং গত সমস্যা, কোথাও হয়তো প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারী গণ আমার ছোট চাকুরী, কিন্তু বড় মানসিকত, এ বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না, ফলে আমার সাথে অসম্মানজনক ব্যবহার করছেন বা আমি বেশি আল্লাহ আল্লাহ করি, যার জন্য হয়তো তারা ম্যাচিং হতে পারছেন না বা আমি হয়তো বেশি সহজ সরল, যার জন্য আমার উপর বেশি কাজের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন বা দিতে চাচ্ছেন অথবা এ কারণে যা ইচ্ছা তা বলছেন বা যার যার মতো করে আমার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করছেন, ইত্যাদি কারণে হয়তো আমি চাকুরী গুলো ছেড়ে দিয়েছি বা দিচ্ছি!
তবে একটা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী ধরা, এরপর সে চাকুরীর কাজ-কর্ম সম্পাদনে মালিক পক্ষের গ্রীণ সিগনাল পাওয়া, সে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারী-কর্মকর্তাদের সাথে নিজকে মানিয়ে নেয়া বা তাদের সাপোর্ট পাওয়া এবং সর্বপরি ঐ প্রতিষ্ঠানের সকলের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া, এ বিষয় গুলো মেইনটেনেন্স করে একটি চাকুরীতে কোন এমপ্লয়কে স্বাভাবিক হওয়া একেবারেই সহজসাধ্য বিষয় নয়!
যেহেতু আপনারা জানেন, ছোট হোক বড় হোক যে প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, ঐ প্রতিষ্ঠানে চাকুরী ধরা যেমন জটিল তেমনি কাজে স্বাভাবিক হওয়া আরও জটিল!
কারণ বিশ্বে কোন একটি প্রতিষ্ঠানও নেই যে, যেখানে নতুন কর্মচারীকে কেউ সহজে ছাড় দিবে বা তাকে সহজে বিশ্বাস করবে, বা পুরাতন কর্মচারীদের, তাদের যে প্রতিষ্ঠানিক স্বার্থ বা সম্মান বা ইনকাম তা ছেড়ে দিয়ে, নতুন কর্মচারীকে এসবের দায়িত্ব দিবে!
সুতরাং যে কোন প্রতিষ্ঠানেই নতুন কর্মচারীর জন্য যে কোন চাকুরী/কর্মেই অন্যান্যদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা বা তার নিজের কাছেও স্বাভাবিক করে নেয়া নিস্বন্দেহে অনেকটাই জটিল!!
আর এ বিষয়ে আমার বেলায় অন্য মানুষদের চাইতে এটা কমপক্ষে আরো ১০০ গুণ বেশি জটিল ও কষ্টদায়ক ছিলো! যেহেতু জনাব আরিফ সাহেবের সাথে জিন জাতির সদস্য হিসেবে আমরা থাকতাম, আমাদের পরিচয় প্রদানের চেষ্টা করতাম!
আর মানুষেরা হয়তো প্রথম প্রথম এর কিছুই বুঝতো না!
আবার পৃথিবীর মানুষের জন্য এ বিষয়টি একেবারেই নতুন ছিলো! এছাড়াও আমি অন্যান্য মানুষের চাইতে একটু সহজ সরল ও ভিন্ন মানসিকতার মানুষ হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারন করেছিলো!
এক্ষেত্রে আমাকে প্রায় ১৮টি প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে কষ্ট আর ধৈর্জের সহিত জায়গা করে নিতে হয়েছিলো!! হাতে গোণ ২/১টি প্রতিষ্ঠান বাদে এ বিষয়ে প্রায় প্রতিটা প্রতিষ্ঠানেই সফল হয়েছিলাম!
আবার আপনারা যারা চাকুরীজীবী তারা নিশ্চয়ই জানেন যে, একটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি গ্রহণযোগ্য কর্মচারীর প্রত্যেকেরই থাকে ঐ প্রতিষ্ঠানে তার নির্দিষ্ট কিছু কর্ম পরিচালনার দায়িত্ব! যা তার অবর্তমানে, তার ঐ কর্মের বিষয়ে মালিক পক্ষ হয়তো সমূহ ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হতে পারে!
এ জন্যে চাকুরী ছেড়ে দেয়াটা আরেকটা জটিল কাজ! তাছাড়া মালিক পক্ষ সহজে ছাড়তে চায় না, যাকে কম বেতন দিয়ে বেশি কাজ আদায় করা যায়, বা তার প্রতিষ্ঠানে যার প্রয়োজন রয়েছে, এ রকম সহজ-সরল কাউকে! তখন তারা বিভিন্ন ধরনের ফন্দি ফিকির করে এবং প্রয়োজনে যে ছেড়ে দিতে চায়, তার সাথে শক্ত, রুক্ষ ও অমানবিক ব্যবহার করে! বা তার ন্যায্য পাওনা গুলো আঁটকিয়ে রাখে!
অন্যদিকে কোন প্রতিষ্ঠান হতে হয়তো কোন কারণে চাকুুরী ছেড়ে দেয়া হলো; কিন্তু চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পর, আর চাকুরী মিলছে না! চাকুরী আর পাচ্ছি না। তখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে অনেক অনেক কষ্টে বা ক্ষুদা তৃষ্ণায় আর টেনশনের মাঝে দিন কাটাতে হয়!
একটা পুরুষের তার সংসার চালানোর প্রয়োজনীয় ইনকাম না থাকা বা কোন কর্ম না থাকা, এটা কতটুকু কষ্টের আর মানুষের নিকট তিরষ্কারের, এটাও ভুক্তভূগী ছাড়া বাকিরা সহজে বুঝবেন বলে মনেহয় না!
অতএব চাকুরী ধরা আর ছেড়ে দেয়া, এটা একেবারেই কোন সহজসাধ্য বা সাধারণ কাজ নয়!
সেক্ষেত্রে জিন হিসেবে এ পর্যন্ত আমি প্রায় ১৮টি চাকুরী ধরেছি ও ছেড়েছি! আর এর মাধ্যমে আমারা হয়তো আমাদের প্রাথমিক পরিচয় প্রদান করেছি বা একটু আভাস হলেও দিয়েছি!
কিন্তু মানুষ হিসেবে মহিলা জিনদের এ রূপ পরিচয় প্রদান কাজে জনাব আরিফ সাহেব বা তার পরিবারের সদস্যদের কী রূপ মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক কষ্ট হয়েছে, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন!
আর তাদের পরিচয় প্রদানের নিয়মতো যারা আমাকে চিনেন ও জানেন তারাতো বুঝেনই, এটা একটু অস্বাভাবিক বা দুই দুই সিস্টেম!
যেখানে আমাকে মানুষদের নিকট বিভিন্ন ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয় এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে মানুষ হয়তো বুঝতে পারে যে, না আরিফ সাহেব আসলে ভালো মানুষ, কিন্তু তার সাথে হয়তো জিন বা কিছু একটা রয়েছে!!
সর্বোপরি জনাব আরিফ সাহেবের এই যে কষ্ট, তা আমরা জিন হিসেবে তার শরীরে উপস্থিত থাকায় এবং মূলত হয়তো আমাদেরই কারণে এর সূত্রপাত হয়েছে বিধায় আজ আমরা এর পূর্ণ দায় স্বীকার করলাম!!
১৬। জিনকে বিয়ে করতে চাওয়ায় এবং স্থানীয় আলেম ও অন্যান্য মুসলমানদের থেকে ভিন্নতর পদ্ধতিতে ইবাদত করায় চারপাশের মানুষ দ্বারা মানসিক নিপিড়ন ও অপমানের কষ্টঃ
করোনা রোগের প্রাদূর্ভাবের সময় আমার বড় ভায়েরা আমাকে বাধ্য করলো, বাড়িতে নামাজ পড়তে! আমাকে দাবীয়ে রাখার উদ্দেশ্যে ওরা তখন আমার সাথে মাতবরী মূলক ব্যবহার করতো! মানে মসজিদে গেলে উনারা স্বাধীন ভাবে পারবে, কেউ বাধা দেয়ার নাই! আর আমি যেতে চাইলে, তা পারবো না, কারণ সরকার নিষেধ করেছে!
আর আমরা জিন হিসেবে তখনো আরিফের পক্ষে প্রতিবাদ আরম্ভ করিনিতো তাই! সুতরাং জনাব আরিফকে তা মেনে নিতে হলো!
যাক জিন হিসেবে আমাকে ইমামতি করতে দেয়া হলো।
আমি আবার আমার এলাকায় ভারতীয় উপমহাদেশের নিয়মানুযায়ী যেভাবে ইবাদত করে আমি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ভিন্নতর নিয়ম অনুসরণ করি!
যেমন মসজিদে যখন ইমাম সাহেব প্রত্যেক ফরজ নামাজের শেষে আল্লাহুম্মা আমিন বলে দু’হাত তুলে মুনাজাত ধরেন, আমি তখন আয়াতুল কুরসি পড়ি! পরে কখনো মুনাজাত করি, আর কখনো করি না! আবার আমি যদি কখনো ইমামতি করি, তাহলে আমি ফরজ নামাজের শেষে সবাইকে নিয়ে হাত তুলে একযোগে মুনাজাত করিই’ই না!
যাক নামাজ শেষে যখন আমি মুনাজাত করছি না, তখন আমি তাদের সকলের কাছেই নিন্দনীয় হলাম ও সবাই আমাকে ইমামতি থেকে সরিয়ে দিলো!
তখন আমি অনেকটা তাদের ভয়ে ভয়ে মসজিদে যেতে থাকলাম!
রাতে বিতিরের নামাজের তৃতীয় রাকাতে সূরা মিলানোর পরে দোয়ায়ে কুনুতে হাত উত্তোলন করি এবং দুই রাকাতের পর দরমিআনি বৈধকে বসিনা! মানে, দরমিয়ানি বৈঠক করি না আমি! আবার অনেক সময় দুই রাকাত নামাজ অন্যান্য নামাজের মত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলি! আবার এক রাকাত নামাজ পড়ি ও দোয়ায়ে কুনুতে হাত উত্তোলন করি! আবার মাঝে মধ্যে এখানকার মানুষদের মতোও পড়ি!
জিন হিসেবে আমার মতো এখানে না ইমাম সাহেব পড়েন, না কোন মুসল্লি পড়েন! ফলে আমি যেন তাদের নিকট আতংক! কী শুরু করছি আমি! আমি কমিউনিটি মানি না! সামনের দিনগুলোতে কী করবো আমি আল্লাহু তা’য়ালা জানে!
জিন হিসেবে (আসলে এগুলো আরিফ সাহেবেরই স্বভাব) আমি কখনো তাসবীহ্ এর ছড়ায় তছবীহ্ যপীহ্ না! হাতের করে পড়ি! আমি কখনো কবর যিআরতে নামাজের মতো করে হাত বাঁধি না! আমি কখনো হুজুরদের সাথে একাত্রিত হয়ে খতম পড়িনা এবং সেখান দিয়েও আমি অর্থনৈতিক ভাবে বঞ্চিত হই! মাদরাসায় চাকুরী করা কালীন হুজুরেরা অনেক খতম পড়েন, কিন্তু আমি পড়ি না! হুজুরেরা অনেক দাওয়াত খান, সম্মানী পান; কিন্তু আমি কোন দাওয়াত খাইনা, আর সম্মানীও পাই না! আমার পেটে ট্রাবল করে ও অন্যান্য আরো অনেকগুলো কারণে আমি দাওয়াত খাই না! কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝে না, কেন আমি দাওয়াত খাই না! হুজুরদের অনেকে কবর যিয়ারত করে টাকা নেয়, কিন্তু আমি এসবের ধারে কাছেও যাই না! কোরআন তিলাওয়াত করে হুজুরেরা বা যে কেউ সাদাকাল্লাহুল মাওলানাল আযীম বলে, আর আমি কখনো বলি না!
এছাড়া আমি বিশ্বের সকল হুজুরের এবং সকল মাসআলার কিতাবের বিপরীতে বলছি যে, জিনের সাথে মানুষের বিয়ে জায়েজ! আর তারা সকল মুফতি ও সকল মাদরাসায় বলছে, নাজায়েজ! এবং আমি আমার সাথে থাকা মহিলা জিনকে জায়েজ হিসেবে বিয়ে করতে চাই! অথচ তারা এ বিষয়ে আমাকে সম্মান গিয়ে দূরে থাক, তাদের মাসআলা অনুযায়ী তাদের মাঝে আমি যেন কাফের আর মোরতাদ!
সুতরাং সব মিলিয়ে সমাজের বিপরীত বা মানুষের ধর্মীয় চিন্তা-চেতনার বিপরীত বা আপময় মানুষের ধর্মীয় নিয়ম-কানুনের বিপরীত একজন মানুষ সমাজে বসবাস করতে হলে, তাকে কী পরিমাণ বিড়ম্বনা বা মানসিক কষ্ট সইতে হয়, তা চিন্তা করে দেখতে পারেন! আপনি যদি তার এ কষ্ট না বুঝতে পারেন, তবে নিজে একবার চিন্তা করে দেখুন না! জনাব আরিফ সাহেবের এ মানসিকতায়, উপরে উল্লেখিত তার এ কর্মগুলো করে, আপনি তার এ সমাজে বসবাস করতে পারবেন কিনা!! নিজের দিকে চিন্তা করে দেখুন! আপনার সাহস আছে কিনা, তার মতো করে এভাবে চলার!!
যেখানে তার আত্মীয়-স্বজন ও আলেম সমাজ মিলে কিভাবে তাকে দূর্বল করে রাখা যাবে সে ফিকির করে; তার উন্নয়ন মূলক কোন কাজে সহযোগিতা করে না, উপরুন্ত বাধা প্রদান করে, কারণ সে বাকী দশজনের মতো আমল করে না! সে নাজায়েজকে জায়েজ বলে!
হ্যাঁ, তার এতো অধিক পরিমাণ মানসিক কষ্টের কারণ তার শরীরে আমাদের উপস্থিতি থাকা! এগুলো মূলত জিন হিসেবে আমাদেরই দাবী! আমাদের দাবী হওয়াতেই জনাব আরিফ সাহেব এ রকম হয়ে গিয়েছিলেন। তাই তার এ ধরনের সকল মানসিক যন্ত্রণার দায়-দায়িত্ব আমরা স্বীকার করলাম!!
১৭। একজন মুমেন হিসেবে অনৈসলামিক পরিবেশে চলার কষ্টঃ
জনাব আরিফ সাহেবের আরো একটি কষ্টের কথা এখন লিখবো, যা তার এলাকার প্রায় ১০০% লোকই একজন খাঁটি মুমেনের জন্য এটাও যে একটা চরম কষ্ট, হয়তো আপনি বা আপনারা আপনাদের গড়া অনৈসলামিক পরিবেশে অভস্ত্য বিধায়, তা বুঝতে পারবেন না!!
অথবা আমরা খাঁটি মুমেন হতে পারি কিনা, এটা আপনারা বুঝতে পারছেন না বা মেনে নিতে পারছেননা হয়তো! এ কারণে আমাদের এ কষ্টটি আপনাদের বোধগম্য হবে না হয়তো!
তাই আমি ২/১টি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা বুঝাতে চেষ্টা করছি।
ধরুন, যেখানে পর্দা মান্য করা হয়নি এমন পরিবেশে, মানে ছেলে মেয়ে একসাথের মাদরাসা বা স্কুলে বা কলেজে আরিফ সাহেব ক্লাস করাচ্ছেন! একটি উপযুক্ত মেয়ে পা নাড়াচ্ছেন বা মেহেদী হাতে তার সুন্দর প্রদর্শন করছেন বা তার উন্নত বুক বা সুন্দর ছুল নিয়ে ক্লাস করছেন।
আর আরিফ সাহেব হয়তো সেদিকে তাকিয়েছেন সাদা পাঞ্জাবী নিয়ে বা দাঁড়ি টুপি নিয়ে! তখন মেয়েটা বুঝলো যে, অন্য মানুষের দৃষ্টি আর আরিফ সাহেবের দৃষ্টির মধ্যে তপাত রয়েছে! তার মনে প্রশ্ন জাগবে, এর কারণ কী?
বর্তমান সমাজিক জ্ঞান অনুযায়ী মানুষের কারেক্টারে যা খারাপি অবস্থা!! এ অবস্থায় মেয়েটি তার পা বার বার নাড়াবে! এবং এ থেকে হয়তো সৃষ্টি হয়ে যাবে হাত নাড়ানি, চোখ টিপাটিপি ইত্যাদি! তখন আরিফ সাহেবকে বুঝতে চেষ্টা করবে মেয়েটি, না হয় ভালো কিংবা খারাপ বিবেচনা করে বিভিন্ন ভাবে প্রলুব্ধ করবে, বা উত্তেজিত করবে তাকে!
এতে আরিফ সাহেবের কারেক্টারে না হোক, ব্রেনের ক্ষতি হবে!
অন্যদিকে আবার তিনি পর্দা মানতে গিয়ে এবং আমরা তার শরীরে উপস্থিত থাকার কারণে ও আমরা আমাদের পরিচয় প্রদান করতে বা বেপর্দান পরিবেশকে শাস্তি প্রদান করতে মেয়েদের বিভিন্ন অঙ্গের দিকে আমরা নজর করি বিধায় এবং এ কারণে মেয়েরা এতে শালীন বা ভদ্র না হয়ে বরং এতে প্রলুব্ধ হয়ে, ঐ অঙ্গটি আরো বেশি করে নাডায়! বা ছেলেমেয়েদের মাঝে তখন এক ধরনের মানসিক চঞ্চলতা সৃষ্টি হয়!
যা জনাব আরিফ সাহেবের জন্য একটি চরম মানসিক যন্ত্রণার কারণ! আর এ কারণে জনাব আরিফ সাহেব তার যৌবন বয়সে কখনো মেয়েদেরকে প্রাইভেট পড়াতেন না এবং মহিলা মাদরাসায় বা গার্লস স্কুলে শিক্ষকতার জন্য দরখাস্ত করতেন না!
এবার ধরুন, জনাব আরিফের সুন্নাতি নিয়মানুযায়ী তিনি রাস্তার ডানদিক দিয়ে হাঁটছেন, তখন বিপরীত দিক থেকে বাঁ দিকে হাঁটায় অভস্ত্য একজন ব্যক্তি বাঁ দিকে হেঁটে জনাব আরিফের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন! এতে জনাব আরিফ সুন্নাতের প্রতি মুহাব্বত হিসেবে, চাচ্ছেন যে, লোকটি বা ভদ্র মহিলাটি সরে যাক, আর জনাব আরিফ যাতে ডানেই হাঁটতে পারেন! জি, ভদ্র লোকটি সরে গেলো, কিন্তু জনাব আরিফকে ভদ্রলোকটি গাদ্দার হিসেবে চিহ্নিত করলো! অথবা জনাব আরিফকে হয়তো বাধ্য করা হলো বাঁ দিকে হাঁটার জন্য!
আর আরিফ সাহেব, তার প্রতি ভদ্রলোকের মানসিক অবস্থা হয়তো বুঝলেনও না! কারণ সুন্নাতের মুহাব্বাতে এবং মানুষের ভালোবাসায় তিনি ছিলেন বিভোর! অপরদিকে ভদ্রলোকের এটা যে ইসলামী রীতি ছিলো এবং ইসলামি রীতি হওয়ার জন্যেই জনাব আরিফ এ রকম করেছেন, এ বিষয়ে হয়তো ভদ্রলোকের কোন জ্ঞানই নেই! অথবা এসব কারণে অনেক সময় জনাব আরিফ সুন্নাত বাদ দিয়ে চলছেন, তিনি পারছেন না সুন্নাতি জীবন-যাপন করতে! কিন্তু একটা কষ্ট তার থেকে যাচ্ছে!
উপরোক্ত উদাহরণটি বর্তমান সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেয়া যায়!
আবার ধরুন, যারা সৎ লোক; সত্যনিষ্ঠ ও আল্লাহ ওয়ালা লোক; তাদের মানসিকতা এমনিতেই একটু বড় ধরনের থাকে। কারণ যারা আল কোরআনের ধারক ও বাহক হবে, তারা কখনো শোষনের জন্য হতে পারে না, তারা শাষক শ্রেণীরই হবে! এটা স্বাভাবিক!
কিন্তু প্রায় সব মালিক পক্ষই তার কর্মচারী তার থেকে বড় মানসিকতার থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানে যারা বেতন বেশি পায় এ রকম কোন কর্মচারী তার চাইতে অল্প বেতনের কর্মচারীকে, মানে আরিফকে বড় বা সম্মানী হিসেবে মেনে নিবে না! আর জনাব আরিফের ক্ষেত্রেও এটা একটা সমস্যা!
তার এ উচ্চ মানসিকতা প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ বা অন্যান্যরা মেনে নিতে পারে না বিধায় তিনি সব সময় একটা মানসিক চাপে থাকেন। বড় এবং প্রেস মানসিকতার হয়েও তাকে ছোট হয়ে বা ভৃত্যের মত চলতে হয়, যা তার জন্য একটি বড় ধরনের মানসিক কষ্ট!!
এছাড়াও প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই মালিক পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক এবং কর্মচারীদের ব্যক্তিগত স্বার্থে নিয়ম বহির্ভূত ইনকাম বা অবৈধ ইনকামের একটা ধান্দা থাকে এবং কর্মচারী কর্মকর্তাদের আচরণগত দিকটাও অনেক ক্ষেত্রেই অনৈসলামিক হয়; এসব বিষয়ে জনাব আরিফ সাহেবকে তারা সহ্য করতে পারে না! ফলে জনাব আরিফ সাহেবকে এসব প্রতিষ্ঠানে একটা চরম মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়!
অর্থাৎ বর্তমান সময়কার এ সমাজ ব্যবস্থায় ইসলাম বহির্ভূত পরিবেশে চলতি গিয়ে জনাব আরিফকে প্রায়ই মানসিক টেনসনে থাকতে হয়!
আসলে জনাব আরিফের দেহে জিন হিসেবে আমাদের উপস্থিতির কারণেই তিনি এ ধরনের বিষয় গুলোতে এতো কষ্টে ভোগেন; না হয় হয়তো যদিও তার মনমানসিকতা বড়, তবুও এতো বড় হওয়ার যুক্তি ছিলো না! ও এ বিষয়ে তিনি এতো বেশি মানসিক টেনশনে ভূগতেন না!
তাই যেহেতু তার শরীরে আমাদের উপস্থিতিতেই এতো কষ্ট হচ্ছে তার; সুতরাং তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার জিন হিসেবে আমি ও আমরা স্বীকার করলাম!
১৮। ভদ্রলোকী ও বড়লোকী মনমানসিকতার মাঝে টাকা-পয়সা ও কোন সম্পদ না থাকার ফলে সৃষ্ট অসহায়ত্বের কষ্টঃ
বর্তমানে জনাব আরিফের কাছে, ঘর আর বাড়িতে সামান্য একটু জায়গা ছাড়া, তাও সর্বমোট হয়তো ১৫/২০ শতক হতে পারে, আর কোন জায়গা জমি বা ব্যাংক-ব্যালেন্স বা অন্য কোন সম্পদ নাই! তার কোন চাকুরি-বাকুরি নাই এবং রয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ঋণ! সংসারে আছে তার ৬/৭ জন সদস্য! তার সর্বমোট মাসিক ইনকাম মাত্র ৫০০০ টাকা! তার কোন আত্মীয়-স্বজনের সাথে ভালো কোন সম্পর্ক নাই তার!
একটি রিক্সাওয়ালাকে যদি ডাকেন, তিনি শুনেন না, প্রয়োজনে সিএনজি ওয়ালাকে তাকে তুলতে বললে তিনি তার সিএনজি থামান না!
কেউ তাকে কোন ধার-উদার দেন না! এলাকার কোন দোকানদার তাকে বাকি-বকেয়া দেন না!
কাউকে সালাম দিলে গুটি ২/১ জন ছাড়া তার সালামের প্রতি উত্তরটা পর্যন্ত তারা শুনিয়ে দেন না!
শুধু তার কাছে টাকা নাই বা তারা আর তাকে ভেলুএবল মনে করছেন না বলে এভাবে সবাই অবহেলা করছেন!
আর এভাবে তিনি সকলের নিকট তুচ্ছ, অবহেলিত আর অপমাণিত হচ্ছেন!!
কিন্তু এ অবস্থায়ও তার মন-মানসিকতায় তিনি যেন একজন বড় ধনী, শিক্ষিত ও উঁচু মানের লোক! মানুষের নিকট ওয়েট-লেস হিসেবে চলতে বা কারো কাছে কোন কিছু চাইতে তিনি পারেন না! সকলের কাছে তিনি সম্মানী থাকতে চান!
আবার তার চাল-চলন ও ব্যবহার এমন যে, যেন তিনি একজন বড় মাপের আলেম! অথচ তার কোন ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, কোন ধর্মীয় সার্টিফিকেট নাই!
তবে তিনি নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়েন, তার ঘরে তিনি প্রতি নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং তিনি যেন সত্যের একনিষ্ঠ সাধক! ইসলামের বড় বড় মাসআলা নিয়ে কথা বলেন! একজন বড় মাপের বুজর্গের মতো জীবন-যাপন করতে চেষ্টা করেন!
আর মানুষ তাকে সম্মানী ও দামী হিসেবে মান্য করার কোন উপকরণ খুঁজে পাননা বিধায় তাকে কেউ মানেন না! সম্মান করেন না!
তবে এটা সত্য যে, তার এ রূপ বড় লোকী ভাব ভঙ্গিমা বা বা আলেম আলেম ভাব ধারার কারণেই তার চাকুরী হয় না; বা হলেও তিনি মানসিক ভাবে অনেক অনেক বড় লোক হওয়ায় তখন, এ চাকুরী চালিয়ে নিতে বা অন্যান্যরা তাকে মেনে নেয়ার বিষয়ে, এটা তার একটা মস্ত বড় মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়! এবং অনেক জায়গা থেকে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার বা চাকুরী চলে যাওয়ার মূল কারণ ছিলো তার এ রূপ বড় লোকী ভাব!
এবং সমাজের মধ্যেও তার এ রূপ বড় মানসিকতার কারণে তাকে মানুষ বিভিন্ন কাজে কারবারে বয়কট করে এবং অসম্মান করে চলে!
জি, এটা সত্য যে, যদিও তার মন বড়, তবুও তার মন মানসিকতা ও শরীরের মধ্যে জিন হিসেবে আমাদের উপস্থিতি থাকাতেই আসলে তার মন আন ব্যালেন্সিং ভাবে এতো বড় থাকে! যার জন্য মূলত সরাসরি আমরাই দায়ী!
মন ও ব্রেনে বড় লোকী ও ফরহেজগারীর বীজ বা মানসিকতা; অথচ এর কোন উপকরণ না থাকা; না টাকা-পয়সা, না অন্যকিছু!
তাই স্পষ্ট ভাবে এটা তার একটা বড় ধরনের জীবন যন্ত্রণা ও পীড়াদায়ক মানসিক কষ্টের কারণ!
সুতরাং তার প্রতি মানুষের এতো এতো অবহেলা এবং এ ধরনের বড় লোকি ও ফরহেজগারীর যন্ত্রণা ও এ জাতীয় সকল মানসিক কষ্টের দায়ভার জিন হিসেবে আমি ও আমরা গ্রহণ করলাম!
১৯। চারদিকের মানুষ কর্তৃক কালারিং বা নজরবন্দী করে রাখার কষ্টঃ
দোকানে বলেন কি, বাজারে বলেন; সমাজে বলেন কি কোন অনুষ্ঠানে বলেন; সর্বত্র শিশু থেকে বুড়া পর্যন্ত যার যার জ্ঞান অনুযায়ী মানুষ জনাব আরিফের দিকে নজর করছেন! তাকে নজরবন্দী করে রেখেছেন!
যেহেতু তিনি জিন ওয়ালা, যেহেতু তিনি সহজ-সরল ও বাকি মানুষদের থেকে তার স্বভাব একটু ভিন্ন, যেহেতু মানুষ তার কাছে অনেক টাকা পাবে, যেহেতু তার ইনকামের সাথে জীবন পরিচালনার সাথে কোন সামাঞ্জস্য নেই; আবার তিনি পরহেজগার মানুষ; এছাড়া অনেকের চোখে যেহেতু যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও তিনি কোন কাম কাজ করছেন না! এবং যেহেতু তাকে নিজ আত্মীয় স্বজন দেখতে পারে না!
তাই মানুষ তাকে কালারিং করে রাখছে! এবং ইহা অনেকের কাছে কৌতূহলও বটে! আর এই কালারিং হওয়ার কারণে তিনি যেখানেই যে কাজ করছেন, পাশ্ববর্তী মানুষ গুলো তার দিকে খেয়াল করছেন! এটা কেউ পজেটিভলি করছেন, আবার কেউ নেগেটিভলি করছেন!
এ অবস্থায় অনেক সময় কেউ কেউ তাকে উপমা বা তিপ্পনি কেটেও বিভিন্ন কথা-বার্তা বলছেন বা ব্যাঙ্গার্থক অঙ্গ-ভঙ্গি বা শব্দ করে তাকে করছেন অপমান! এ জন্য তিনি জনসমাগমে বা কারো দাওয়াতেও খুব একটা যেতে চান না! এবং এ কারণে অনেক সময় একাকিত্বেও ভোগেন!
এতে আরিফ সাহেব জনসমাগমে যান কিংবা একাকী থাকেন, উভয় ক্ষেত্রেই তার ব্রেন আক্রান্ত হচ্ছে! তিনি স্বাভাবিক ভাবে তার দৈনন্দিন কাজ কর্ম সম্পাদন করতে পারছেন না! অনেক সময় তিনি তার কাজে ভূল করছেন বা প্রয়োজনীয় কোন কিছু ভূলে যাচ্ছেন! অথবা তার উপস্থিত কাজটি তিনি পারছেন না বা পারবেন বলে মনেও হচ্ছে না তার!
এ অবস্থা ও পরিস্থিতিটি জনাব আরিফের জন্য সমাজে স্বাভাবিক ভাবে সকলের সামনে কোন কাজ সঠিক ভাবে সম্পাদন করা বা কারো সাথে ভালো ব্যবহার করা অনেকটাই কষ্টের!
আসলে এই যে তিনি কালারিং হওয়া, এবং মানুষেরা তাকে ফলো করা, ও তাকে একটা মানসিক কষ্টের মধ্যে ফেলা, এটা তার শরীরে জিন হিসেবে আমাদের উপস্থিতির কারণেই হয়েছে বা হচ্ছে!
অতএব তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার আমরা গ্রহণ করলাম!
২০। একই বংশীয় সদস্য হিসেবে কোটিপতি ও অসহায় হত দরীদ্রের মত জনাব আরিফের একসাথে বসবাসের ক্ষেত্রে মেচিং বা ব্যালেন্সিং জনিত কষ্টঃ
বাড়িতে আমার ভায়ের ইনকাম আনুমানিক মাসে প্রায় লক্ষ টাকার উপরে। আমার ভাই, ভাতিজা, ভাতিজী সকলেই মোটামুটি সম্মানজনক ভালো চাকুরী করে! কারো বেতন আনুমানিক ৪০,০০০ টাকার কম নয়। বরং তাদের সকলের ইনকাম এর চাইতে অনেক বেশি! তাছাড়া প্রায় সবাই সরকারী চাকুরী করে! আমার মরহুম বাবা আমাকেও লেখাপড়া করিয়ে ছিলেন। আমার ভাইদের চাইতে আমার লিখাপড়া কোন অংশে কম নয়! আমার মন মানসিকতাও তাদের চাইতে ছোট নয়! বরং অনেক অনেক বড়! আমি আবার আমল গুজার ও সত্য নিষ্ঠ মানুষ!
অথচ আমার ইনকাম ও অবস্থাতো আপনারা উপরে পড়েছেন! এ অবস্থায় বাড়িতে যে কোন কাজ, কথা-বার্তা, পারিবারিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আত্মীয় স্বজনদের আসা যাওয়া, বিভিন্ন প্রয়োজনে পাড়া প্রতিবেশীদের আসা-যাওয়া; ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাকে চরম অপমানের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়!
কারণ আমিওতো তাদেরই বাড়ির এবং তাদেরই বংশীয় সদস্য! আমার যৌবন কালেতো আমার সম্ভাবনা তাদের চাইতেও বেশি ছিলো বলে মানুষ আত্মবিশ্বাসী ছিলো!
আর এখন তাদের পরিবারের সদস্যরা কতকিছু খাচ্ছে, সুখ স্বপ্ন দেখার সুযোগ রয়েছে বা টেনশন ফ্রি ভাবে জীবন কাটাচ্ছে! আর তাদেরেই সামনে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের খাদ্য যোগাতে পারছিনা! নূন্যতম মৌলিক চাহিদা যোগাতে পারছিনা!
৩০ কেজি চাউল আনতে আমার স্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছে! স্বল্পমূল্যে সরকারী টিসিবি মাল কিনতে বাজারে যাচ্ছে! ইত্যাদি!
সুতরাং সব সময় আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদেরকে খাট, ছোট ও ভৃত্যের মতো অনেক অনেক নিম্নমূখী ও কষ্টের জীবন-যাপন করতে হচ্ছে!
এছাড়া সমাজের মধ্যেও যারা একসময় আমাকে অনেক সম্মান করতো, মানে আমার কাছে পড়েছে বা গরীব ছিলো বা ছোট ছিলো এবং আমাকে সম্মান করতো! আজ তাদের সামনেই আমাকে নতজানু হয়ে চলতে হয়!
আমার এ অবস্থা ও পরিস্থিতি; আমার জন্য অনেকটাই মানসিক যন্ত্রণার কারণ!
ছোট বেলা থেকে আমি যদি অযোগ্য বা বিকলাংঙ্গ হতাম বা লেখাপড়া না করতাম বা আমার বাড়ির মানুষেরা, মানে আমার আত্মীয়রা অতো প্রতিষ্ঠিত না হতো; তাহলে হয়তো আমার এতো মানসিক কষ্টের কারণ নাও হতে পারতো!!
জ্বি, আরিফ সাহেবের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য, শিক্ষা, ধার্মিকতা, পারিবারিক স্ট্যাটাস ও অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী তার যে মানসিক কষ্ট ও জীবন যন্ত্রণা, এর মূল কারণ তার শরীরে আমাদের উপস্থিতি! মূলত আমরা যদি তাকে এভাবে আসর না করতাম, তাহলে হয়তো তার এ অবস্থা হতো না!
আর তাই তার এ ধরনের সকল কষ্টের জন্য আমরা এর পরিপূর্ণ দায় স্বীকার করলাম!
২১। এক জাতির শরীরে আসর করে, অন্য জাতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ জনিত, মানে মানব শরীরের মাধ্যমে জিনের পরিচয় প্রকাশ বা জিনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন জনিত কষ্টঃ
অফিসে বলেন কি বাড়িতে, দোকানে বলেন কি বাজারে, সর্বত্র তিনি কারো সাথে হয়তো তার প্রয়োজনীয় কোন কথা বলছেন, বা কারো সাথে ব্যবহার করছেন; অথবা হয়তো কোথাও চাকুরীর জন্য গেছেন; অথবা রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন; এমতাবস্থায় তিনি হয়তো কোন লোকের কাছে কোন কিছু আবেদন করছেন বা কোন কিছু বুঝাচ্ছেন বা কোন কিছু চেয়েছেন; এ গুরুত্বপূর্ণ সময় গুলোতে তার জিন তারই শরীরের ভেতর থেকে তার হাত, মুখ, চোখ ইত্যাদির মাধ্যমে আকার-ইঙ্গিতে এমন কিছু বুঝান যে, তিনি আর তার চাহিত বিষয়টি হয়ত পান না! বা তাকে মানুষেরা দূচ্ছরিত্র হিসেবে সনাক্ত করে! বা ভূল বা বিপরীত বুঝে!
একজন মানুষ, সে যতই জ্ঞানী বা শিক্ষিত বা বুদ্ধিদীপ্ত হোক; যতক্ষণ না তার মানসিক অবস্থা তার ভাব প্রকাশের অনুকূলে না হবে, ততক্ষণ তাকে মানুষ কোন কাজে গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না!
কোন কাজ পেতে বা কোন কাজ চালিয়ে নিতে এমনকি সমাজে ভদ্র ভাবে মানুষের সাথে বসবাস করতে মানুষের মানসিক অবস্থার এ দিকটি যে কতটুকু প্রভাব ফেলে তা ভূক্তভোগী ছাড়া দ্বিতীয় কেউ এ বিষয়ে সম্যক বুঝবেন বলে মনে হয় না! তার মানে যে কোন কাজ পাওয়া বা সে কাজ সম্পাদন করার জন্য মেইন প্রয়োজন মানুষের মানসিক অবস্থা!
আর জনাব আরিফ সাহেবের মন, ব্রেন ও শরীরে জিন হিসেবে আমাদের অবস্থান থাকায় তিনি এ বিষয়ে সিরিয়াসলি কষ্টে আছেন! জিন হিসেবে আমরা আমাদের উপস্থিতি জানান দিতে বা আমাদের পরিচয় প্রদান করতে এ জাতীয় উল্টা-পাল্টা ডিরেকশন হয়তো দিতে পারি!
এবং এ কারণে মানুষ প্রায় তাকে ভূল বুঝতেছেন; শুধু এ কারণে এ পর্যন্ত অনেকেই তার বিরোধী হয়ে গেছেন! আপনজন বা বন্ধু মানুষ শত্রু হয়ে গেছে!
তিনি হয়তো বুঝাতে চেয়েছিলেন একটি, কিন্তু মানুষেরা বুঝে গেছে অন্যটি! আবার হয়তো তিনি কিছুই বুঝান নি, কিন্তু তার হাব ভাব বা ইশারা-ইঙ্গিত লক্ষ্য করে তার বিপরীত কিছু একটা বুঝে, পূ্র্ব থেকেই তাকে ব্লক মেরে রেখেছেন! বা তার বিরোধীতা শুরু করেছেন! বা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন!
দু’এক জায়গা থেকে এ কারণে তার চাকুরী চলে গেছে! কেউ কেউ শত্রুতা পর্যন্ত করছেন শুধু এ কারণে!
আসলে আরিফ সাহেবের মন সনাক্ত করার ক্ষেত্রে মানুষের নিকট বিষয়টার বিবেচনা শুধু তার ইশারা-ইঙ্গিত আর হাব-ভাব ছাড়া আর কিছুই না! এসব ক্ষেত্রে প্রমাণে বসলে আসলে কেউ তার কোন অপরাধ প্রমাণ করতে পারবেন না!
এ বিষয়টা নিয়ে জনাব আরিফ সাহেব চরম কষ্টের মধ্যে আছেন! কারণ তিনি নিজকেই বুঝাতে পারছেন না সঠিক ভাবে! এবং বিনা কারণেই নিকটজন বা তার প্রয়োজনীয় যে কারো সাথে তার ফ্রিকশান বেঁধে যাচ্ছে অনেক সময়!
তাছাড়া সব চাইতে বড় কথা হচ্ছে, অনেক সময় মানুষেরা বুঝতেই পারছেন না যে, এটা তার নয়, বরং তার সাথে থাকা জিনেরেই ইঙ্গিত! আর মানুষেরা আরিফ সাহেবের ইঙ্গিত মনে করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করছেন!
আবার অনেক সময় এমনও হচ্ছে, আরিফ সাহেবের মত, এক রকম, কিন্তু তার জিনের মত, আরেক রকম! মানুষ বুঝতেই পারছেন না যে, আসলে এভাবে আরিফ সাহেব রাজি নাই! এ রাজি থাকা তার জিনের! তার নয়!
যেমন তিনি হয়তো কোন বেপর্দান পরিবেশে গিয়েছেন, বা এ ধরনের স্কুল বা মাদরাসায় পড়াচ্ছেন! এ সময়ে কয়েক জন মেয়ের সাথে হয়তো আরিফ সাহেবের সাথে থাকা জিনদের একটা সখ্যতা গড়ে উঠেছে! ফলে তারা এ বন্ধুত্বকে পুঁজি করে আরিফ সাহেবের জিনের সাথে, মানে আরিফ সাহেবকে একটা ওয়েটলেস বা মশকরা সিটোয়েশানে নিপতিত করেছে! আবার এভাবে পুরুষেরাও অনেক সময় জনাব আরিফের জিনের সাথে সখ্যতা করে জনাব আরিফ থেকে ফায়দা লুটে নিতে চাচ্ছে! বা নিচ্ছে!
আর এ অবস্থা গুলো জনাব আরিফকে বিষণ ভাবে কষ্ট দিচ্ছে! এ অবস্থায় জনাব আরিফ অনেক সময় তার জিনের বিপরীত কিছু করতে পারছেন না! এখানে তার দোষ হচ্ছে তিনি এ রকম নারী কিংবা মানুষের সামনে অথবা এ রকম পরিবেশে গিয়েছেন কেন?
কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক অবস্থায় অনেক সময় তাকে যেতে হচ্ছে! আর গেলেই যেহেতু মানুষেরা আজ বেপর্দান ভাবে চলতে অভ্যস্ত বা পর্দা কাকে বলে তা হয়তো জানেও না এবং প্রায় প্রতিটা মানুষই সুবিধা সন্ধানী, তাই প্রতি নিয়তই আরিফ সাহেবকে এ ধরনের বিডম্বনার ক্ষতির শীকার হতে হচ্ছে!
মানুষকে দেয়া জিনের এ ধরনের ইঙ্গিত সমূহ, অনেক সময় আরিফ সাহেব বুঝতে পারেন এবং অনেক সময় বুঝতে পারেনও না!
ফলে মানুষটি কেন জনাব আরিফের বিরোধীতা করছে, তা অনেক সময় জনাব আরিফের বুঝেও ধরে না!
ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে, সম্পূর্ণ বিনা কারণেই আরিফ সাহেব দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন! বা সম্পূর্ণ ভূল বা মিথ্যা ভাবেই তার কারেক্টার খারাপ বিবেচনা করা হচ্ছে বা তাকে কারো বিরোধী বা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বা হচ্ছে!!
তার মানে শত্রু না হয়েও শত্রু হিসেবে পরিগণিত হচ্ছেন! বিরোধী না হয়েও বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন!
আর বিষয়টা এতোই মারাত্মক যে, ভূক্তভোগী ছাড়া সকলে হয়তো বিষয়টা যে একজন মানুষকে কী পরিমাণ কষ্ট দিতে পারে, তা নাও অনুধাবন করতে পারেন বা বুঝতে পারেন!
অতএব যেহেতু জনাব আরিফের শরীরে আমাদের উপস্থিতির কারণে বা আমাদের বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি এ মহা কষ্টে পড়েছেনে; তাই তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায় ভার জিন হিসেবে আমরা গ্রহণ করলাম!
২২। যোগ্যতার অবমূল্যায়ন জনিত কষ্ট, অর্থাৎ শিক্ষিত ও উচ্চ ব্যক্তিত্বের মানুষ হিসেবে শুধুমাত্র ৫০০০ টাকা বেতনের নিম্ন পদবীধারী হওয়ার কষ্টঃ
জনাব আরিফ সাহেবের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য, শিক্ষা-দীক্ষা, বংশীয় স্ট্যাটাস, ধর্মীয় ইলম-আমল, মন-মানসিকতা; সব মিলিয়ে তিনি একজন যোগ্য, আধুনিক ও ব্রড মাইন্ডেড ম্যান! এটা তাকে যারা দেখেছেন, তার সাথে যারা মিশেছেন তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন!
কিন্তু বর্তমান সময়ে তার বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় এবং তার শরীরে জিনের উদ্ভব হওয়ায় ও সুযোগ পেলেই কর্মচারীদেরকে খাটানোর মানসিকতা থাকায়, তিনি এখন তার উপযুক্ত মতো তেমন কোন চাকুরী পাচ্ছেন না! যে চাকুরী গুলো তিনি পাচ্ছেন এগুলো অনেক অনেক নিম্ন মানের!
যেমন এখনও যে চাকুরীটা করছেন তিনি, এখানে তার বেতন মাত্র ৫০০০ টাকা এবং পদবী হচ্ছে, একটি গ্রাম্য মাদরাসার অফিস সহকারী বা ক্লার্ক! আর কিছু নাই’ই বললাম!!
তাহলে প্রিয় পাঠক, আপনারা যারা জনাব আরিফকে চিনেন বা জানেন, তারা বলেন, এতো কম বেতনের এ রকম কোন চাকুরী, এটা কি আসলেই জনাব আরিফের জন্য উপযুক্ত হয়েছে!? হয়নি! কিন্তু না হলেও তাকে করতে হচ্ছে! এবং বয়স বেড়ে যাওয়ার পরে এ পর্যন্ত যে কয়টি চাকুরী তিনি করেছেন, এর বেশির ভাগই এ ধরনের নিম্ন মানেরই ছিলো!
একজন যোগ্য এবং উচ্চ মানসিকতার মানুষ, এতো নিম্ন চাকুরী করার মানে হচ্ছে, তার যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন করা! গুণের কদর না করা! তার হাত-পা, একটা অদৃশ্য শিকলে বেঁধে রাখা এবং এটা একটা চরম আকারের মানসিক কষ্ট!
যা হয়তো হঠাৎ করে আপনারা বুঝবেন না!
যদি আপনি বড় কোন পোস্টে চাকুরী করেন, তাহলে নিজকে এ রকম একটি চাকুরীতে বিবেচনা করে চিন্তা করলে তাহলে হয়তো কিছুটা বুঝতে পারেন!
এ ধরনের চাকুরী গুলোতে যেহেতু আরিফ সাহেবের যোগ্যতা অবরুদ্ধ থাকে, তাই তার সঠিক যোগ্যতায় তিনি কাজ করতে পারেন না! ফলে মানুষ তার সঠিক পরিচয় বুঝতে পারেন না। এবং তার বিষয়ে হয়ত বিভিন্ন মন্তব্য করেন!
আসলে তার জীবনে এ রকম পরিস্থিতির সৃজন হওয়া এবং তার মন ও ব্রেনে এ রিলেটেড কষ্ট সমূহ, এটা জিন হিসেবে তার শরীরে আমাদের উপস্থিতি থাকার কারণেই এ বিষয়ে তার জীবনে তিনি এতো কষ্ট করছেন। এ জন্য এ ধরনের তার সকল কষ্টের দায় ভার আমরা গ্রহণ করলাম!
২৩। ছেলের বয়সী সহকর্মীদের সাথে সমান বিবেচিত হয়ে, এবং শরীরে জিনের উপস্থিতি নিয়ে, কাজ করতে গিয়ে মেচিং জনিত কষ্টঃ
যেহেতু আরিফ সাহেবের বয়স বেশি, আরিফ সাহেবকে দেখতে অনেকটা মানান সই লাগে, মানে বড় অফিসার অফিসার মনে হয়, যেহেতু তার সাথে জিনেরা থাকে এবং যেহেতু তার যোগ্যতা রয়েছে; তাই সমাজের বা চাকুরে রত তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী গণ, বিশেষ করে কম বয়সি কর্মচারী গণ জনাব আরিফের সাথে কথা বলতে প্রথমেই থ্রেড দিয়ে বা অবহেলা বা অনেকটা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বা নির্দেশ মূলক কথা বার্তা বলেন!
তাদের ধারনা হয়তো তিনি তাদের কথা বার্তা শুনবেন না, বা তিনি নিজকে বড় মনে করেন বা তিনি খারাপ লোক বা তাকে দেখতেই অফিসার মনে হয়, অথবা প্রতিষ্ঠানের ক্লাইন্ট বা ভোক্তা সাধারণ বা ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকের কাছে নিজকে আরিফ সাহেবের চাইতে উপরে বা তারা বড়, ভোক্তা সাধারণ আরিফ সাহেবের চাইতে আপন বা আন্তরিক, ভোক্তাদেরকে বা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী বা তাদের অভিভাবকদেরকে তাদের নিজেদের বিষয়ে এ পরিচয় দিতে চান তারা এবং নিজকে ওয়েটফুল করতেও হয়তো তারা এ রূপ ব্যবহার করেন!!
অতএব যে কারণেই হোক তারা জিন হিসেবে আমার সাথে কথা বলতে প্রথমেই সোর্সে কথা বলে!
এ সোর্সে কথা বলার আরো একটা কারণ এই হতে পারে যে, মানব জাতির বেশির ভাগই জিন জাতীর সদস্যদেরকে খারাপ, ধূরন্ধর ও অহংকারী বা দুষ্ট মনে করে!
এছাড়া আরো একটা কারণেও মানুষ এ রূপ ব্যবহার করতে পারে যে, মানুষদের অনেকেই তাকে সত্যের উপর শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত মনে করে বা কেউ কেউ অতি আবেগী বা উগ্র বা একেবারেই পিউর বা একেবারেই পুরোনো সিস্টেমের মানুষ ইত্যাদি মনে করে!
ফলে জনাব আরিফ তাদের কথা অথবা আবেদন, নিয়মবহির্ভূত বা স্বার্থাম্বেষী মনে করে হয়তো নাও শুনতে পারেন, এই ভয় থেকেও কেউ কেউ প্রথমেই থ্রেড দিয়ে কথা বলতে পারেন!
তবে যে কারণেই বলেন না কেন, এটা জনাব আরিফের জন্য অপমান বা একটা চরম মানসিক কষ্টের কারণ!
মানুষ দ্বারা জনাব আরিফ এভাবে অপমাণিত হওয়ার মূল কারণ তার শরীরে আমাদের উপস্থিতি ব আমাদের ক্রিয়েটিভিটি! যেহেতু আমাদের উপস্থিতিতেই জনাব আরিফ এ ধরনের কষ্টে পড়েন, তাই তার এ কষ্ট সমূহের দায় ভার জিন হিসেবে আমি ও আমরা গ্রহণ করলাম!
২৪। প্রাইভেসী রক্ষা না করে সব ওপেন করে মানুষের নিকট পরিচয় প্রদান মূলক জীবন-যাপন করার কষ্টঃ
প্রত্যেক মানুষের তার ব্যক্তিগত যে কোন বিষয়ের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে থাকে তার নিজস্ব গোপনীয়তা বা প্রাইভেসী রক্ষার স্বাতেন্ত্রীকরণ! অথবা ভবিষ্যতের দিকে তার প্ল্যান বাস্তবায়নে অথবা তার কথা ও কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে থাকে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা!
যেহেতু একজন মানুষের মন অপর মানুষ বুঝতে পারেনা, তাই সমাজে বা দেশে বা তার চারপাশে বিভিন্ন ধান্দাবাজ বা শত্রু-মিত্র থাকায় যে কোন মানুষ সম্মানের সহিত বা নিরাপত্তা মূলক ভাবে তার কাজ সমূহ চালিয়ে নিতে পারেন!
কিন্তু জনাব আরিফের ক্ষেত্রে ঘটে এর উল্টো!
জনাব আরিফের মনে কী, মগজে কী, তার প্ল্যান কী, ইত্যাদি তার মন ও ব্রেনের মধ্যে কোন একটি বিষয়ে কী কী আছে, সব তার সাথে থাকা জিনেরা মানে আমরা তার শরীর থেকে উৎসারিত আকার-ইঙ্গিত, ভাব-ভঙ্গিমা, কথা-বার্তা, হাঁছি-কাশি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশ করে দিই! এবং অনেক সময় জিন হিসেবে আমরা নিজ মুখেই বলে দেই!
শুধু তাই নয়, কোন বিষয়ে যদি আমাদের কোন ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জিং প্ল্যান থাকে, যেগুলো সাধারণের নিকট প্রকাশ করলে হয়তো তখন না বুঝে মানুষ আমাদেরকে বাধার সম্মুখিন করবে এবং আমাদের শত্রুরা বা কাজটির বিষয়ে মানুষের ভূল বোঝাবুঝির কারণে আমাদের মিত্ররাও কাজটি হয়তো হতে দিবে না, তারা এ রকম পণ করে!
এভাবে উপহাস বা তিরষ্কারের শীকার হয়েও কাজটি হয়তো হয় না!
এ ধরনের ক্ষেত্রেও জিন হিসেবে আমরা শুধু আম জনতাকে জানাইনা, আমরা আরিফ সাহেবের চারপাশের সকল মানুষকে এই বলি যে, আমি অমুক কাজ করবো, তোমাদেরকে জানিয়ে দিলাম! এবং কাজটি বড় ধরনের হলে আমরা মিডিয়াতেই ঘোষণা দিয়ে দিই এবং বলি এভাবে অগ্রীম ঘোষণা দিয়ে কাজ করা, এটা কেবল আমাদেরই দুঃসাহস!
পৃথিবীতে আর একটা মানুষও পাবে না তোমরা, যে শত্রু-মিত্রের বাধার তোয়াক্কা না করে, বা মুখদোষ, কালোযাদু, জিন শয়তান ইত্যাদির ফরোয়া না করে, তার মন ও ব্রেনে থাকা সবকিছু এভাবে ওপেন প্রকাশ করে!
আমরা আরও বলি, আমি হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) এঁর শিষ্য! আর তাই আমি এ রকম করি!
এবং জিন হিসেবে আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়া দুঃসাহসিক ও চ্যালেঞ্জিং বিষয় সহ সব কিছুই আমরা অগ্রীম ঘোষণা দিয়ে কাজ করি!
ও জিন হিসেবে আমাদের কারণে জনাব আরিফ এতোই সরলতা প্রকাশ করেন যে, যদিও জিনেরা ইহাকে সাহসিকতা বলে, মানুষ কিন্তু তার এ স্বভাবটিকে সরলতা হিসেবেই দেখতে পায়!
সরলতা একটা অনেক বড় মহৎ গুণ, কিন্তু জনাব আরিফ সাহেব যখন কোন গরীব বা যে কোন ভাবে দূর্বল কাউকে বা শুধু ভালোবাসার কারণে কোন মানুষের প্রতি তার নিজস্ব গুন অনুযায়ী যখন তিনি উদার হন বা সহজে কোন কিছু কাউকে দিয়ে দেন; তখন তার ভালোবাসার বা এ দূর্বল মানুষ গুলো, তার উদারতা বা ভালোবাসার কোন মূল্যতো দেয়’ই না, উল্টো মিথ্যা কথা বলে, বিভিন্ন কৌশল করে জনাব আরিফের নিকট বিভিন্ন ধান্দা খুঁজতে থাকে! এবং তাকে সোজা মনে করে, সরল মনে করে তাকে একটা বাড়তি বিড়ম্বনায় ফেলে!
তার সরলতা, উদারতা, ও অর্থহীনতার কারণে তার স্ত্রী, পরিবার, সমাজ থেকে শুরু করে, তার অফিস সহ সর্বত্র কেউ তাকে এক ফোঁটা ভয়, ভক্তি, শ্রদ্ধা, সম্মান করে না! বরং অনেক সময় তার যে একটা ওয়েট আছে এবং তিনিও যে একজন ব্যক্তিত্ববান ও সম্মানী লোক সমাজের বা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ লোকগুলো তা বুঝতে পারে না!
ফলে অনেক সময়ই মানুষগুলো তার চাইতে অনেক অনেক নিম্ন শ্রেণীর মানুষদেরকে তারই সামনে তার চাইতে বেশি ইজ্জত সম্মান করে! আর তাকে করে অবহেলা বা অপমাণ!
এভাবে তার প্রতি মানুষের হাজারো অপমানের একটি কারণ তার অযোগ্যতা নয়, কেবলই তার অতি সরলতা!
সুতরাং, এসব কারণে জনাব আরিফ সাহেব ভীষণ কষ্টে থাকেন এবং তাকে সবসময় চার পাশের মানুষদের নিকট অবমূল্যায়িত হয়ে থাকতে হয় ও যে কোন বিষয়ে যে কারো নিকট প্রশ্নের সম্মুখিন হয়ে জীবন-যাপন করতে হয়! কারণ তাকে সহজ-সরল পেয়ে যে কেউ যে কোন প্রশ্ন করতে বা তার বিষয়ে মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না বা তাদের মুখে আঁটকায় না!
হ্যাঁ, জনাব আরিফের শরীর, মন ও ব্রেনে জিন হিসেবে আমাদের উপস্থিতি থাকার কারণেই তার চরিত্র বৈশিষ্ট্য এ রকম কষ্টদায়ক, নিরাপত্তাহীন ও অপমানজনক হয়েছে!
অতএব তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার আমরা গ্রহণ করলাম!
২৫। চিত্ত বিনোদন বা ব্রেনের বিশ্রাম না রাখা বা ব্রেনের উপর প্রেসার ফেলা জনিত কষ্টঃ
চিত্ত বিনোদন বা ব্রেনের বিশ্রাম বা মনের খোরাক, এটা মানুষের একটা মৌলিক চাহিদা!
কিন্তু জনাব আরিফের চিত্ত বিনোদন গিয়ে দূরে থাক, তার এ ৪৯ বছর বয়সেও তাকে সেই ২০ বছর বয়সের ওয়ার্কারদের সাথে মিশেই, এবং তাদের মতো হয়েই অল্প দু’একটা টাকা ইনকাম করতে হয়!
তার এ বয়সের লোকেরা সাধারণত বস হয়ে, টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স বা সম্পদ জমিয়ে, স্ট্যান্ডার্ড ঘর-বাড়ি করে সুখে জীবন-যাপন করে! আর এটা এ বয়সেরও চাহিদা!
অথচ আরিফ সাহেবকে ২০ বছর বয়সির মতো চিন্তা করতে হয়! একটা ৪৯ বছর বয়সী যোগ্য মানুষ, ২০ বছর বয়সীদের সাথে মিশে, ইনকাম করার মানসিকতা রাখা বা তাকে তাদের মতো বিবেচনা করা, তাদের সাথে একসাথে মিশে কাজ করা, এটা জনাব আরিফের জন্য একটা মানসিক কষ্ট!
এ বয়সে জনাব আরিফকে একদিকে যেমন, ছোট-খাট কাজের বা ইনকামের ধান্দা করতে হচ্ছে, ঠিক তেমনি তার পরিবারের সদস্যদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং আত্মীয়, প্রতিবেশী, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজ-কর্ম বা এ বিষয়ক ব্যালেন্স ঠিক রাখতে প্রতি নিয়তই বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে! অথচ তার সহকর্মীদের এ ধরনের কোন জীবন-জটিলতা বা এ বিষয়ক কোন কর্ম নেই! অনেক সময় তারা এ সব বুঝেও না হয়তো!
সে সাথে মানুষকে বেঁচে থাকার আবশ্যকীয় উপাদান বা মৌলিক চাহিদা হিসেবে চিত্ত বিনোদন বা ব্রেনের বিশ্রাম বা মনের খোরাক বলতে তার কিছুই নাই! বরং সেখানে রয়েছে সীমাহীন টেনশন আর অপমাণ!
অনেক সময় এমনও হয়েছে ছেলের বয়সি কেউ হয়তো মনে করেছে যে, জিন হিসেবে আমি বোধ হয় তাকে দেখতে পারি না বা আমি বড় লোকী দেখাচ্ছি, বা কোন ভাবে না কোন ভাবে আমি তার ক্ষতি করতে পারি, এই তার সন্দেহ! আসলে সে ছেলের বয়সি হওয়ায় এবং জিন হিসেবে আমি উচ্চ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ হওয়ায় কোন ক্ষেত্রে হয়তো তাকে এডিয়ে গেছি! আর তখনই সে আমার প্রতি মাইন্ড করে বসে আছে!
বয়সের ও ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিক চাহিদা থেকে এ রকম মানসিক অবস্থা প্রত্যেক সু-মানুষেরই হয়!
আর তখন সে প্রকৃত বিষয়টা না বুঝে, শুরু করেছে জিন হিসেবে আমার সাথে শত্রুতা! এবং একমুখ দু’মুখ বা একচোখ দু’চোখ করে এটা হয়তো মশহুর হয়ে গেছে! বলেন, এগুলো কি আমার মানসিক কষ্ট নয়?
এছাড়া যেহেতু জনাব আরিফের শরীরে জিন থাকে এবং তিনি অর্থহীন ও অসহায় তাই সারাদিনের যে কোন কাজেই বা যে কোন কারো সাথে ব্যবহারেই তাকে মানসিক চাপে থাকতে হয়!
সুতরাং, সব মিলিয়ে তার জীবনের এ অবস্থা হয়েছে জীন হিসেবে তার শরীরে আমাদের আসর করা ও আমাদের উপস্থিতি থাকার কারণে!
সুতরাং তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার আমরা গ্রহণ করলাম!
২৬। আরিফ সাহেব অসহায় ও শক্তিহীন হওয়ায়, তাকে নিপীড়নকারীগণ তার সামনে নত না হয়ে বরং তাকে অসম্মান করে চলা জনিত কষ্টঃ
আরিফ সাহেবের জিন তাড়ানোকে কেন্দ্র করে বা তাকে সহজ সরল পেয়ে গত প্রায় ২৬ বছরের মধ্যে অনেকে তার প্রতি বিভিন্ন ভাবে জুলুম করেছে বা অপমান করেছে বা অবহেলা করেছে। এতে আরিফ সাহেবকে তারা যন্ত্রণাদায়ক কষ্ট দিয়েছে বা দিয়ে চলেছে।
আর এখন জিন হিসেবে আমরা যখন তার পক্ষে প্রতিবাদ করেছি, তখন তাদের অনেকে হয়ত এই ভয়ে আছে যে, না জানি এবার কী হবে!
মানুষ সাধারণত নিজের অপকর্ম স্বীকার করতে রাজী না!! যতক্ষণ না তাকে বাধ্য করা হয়! অনেক সময় মানুষ, সে যে অপকর্ম বা ভূল কর্ম করেছে, তা বুঝতেও সে পারেনা!
এমতাবস্থায় জনাব আরিফ সাহেবের দিকে কেউ সন্দেহের চোখে চাচ্ছে! কেউ ঘাড় তেডামি মূলক ব্যবহার করছে! যেন সে আরিফ সাহেবের প্রতি জুলুম করার পরেও, আরিফ সাহেবকেই তার বা তাদের নিকট নতজানু হয়ে চলতে হবে! যেন সকলের মাঝে সে একজন সাধু মানুষ!
এছাড়া কেউবা বিভিন্ন কৌশল মূলক ব্যবহার করছে!
আবার আমার প্রতি যারা দোষ করেনি, তারাও আমাকে মার্ক ও হাই লাইট করে কৌতূহলী মনোভাব বা সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে চাচ্ছে ও কালারিং করে রেখেছে!
বন্ধুত্বপূর্ণ, সরল, বিশ্বাসী অথবা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে কেউ তাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে না!
কিন্তু জনাব আরিফ সাহেবের টাকা হলে যে এসবের দিকে তিনি কোন ভ্রুক্ষেপই করবেন না, তা হয়তো তারা বিশ্বাসই করতে পারছেন না।
এবং জনাব আরিফ সাহেবের নিকট যে টাকা হতে পারে, প্রায় বেশির ভাগ মানুষ এসব বিশ্বাস করতে পারছেন না!
এই যে এ অবস্থায় মানুষের এ ধরনের কষ্টদায়ক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি, এর মধ্য দিয়ে সমাজে ঐ মানুষদের সাথে বসবাস করা, এটা অনেকটা কষ্টের!
সুতরাং তার এ কষ্টের মূল কারণ আমরা তার শরীর, মন ও ব্রেনে অবস্থান নেয়ার কারণে হয়েছে! তাই আমরা তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার গ্রহণ করলাম!
২৭। চোখের সামনে সন্তানদের ইয়াতিম আর মিসকিনের মতো অবহেলিত জীবন-যাপন করতে দেখা জনিত কষ্ট এবং তাদেরকে হাফেজ-আলেম বানানোর জন্য চেষ্টা করতে না পারা বা সামর্থ না থাকার কষ্টঃ
জনাব আরিফের রূহ অনেকটা তার সন্তানদের মাঝে! অর্থাৎ তিনি তার সন্তানদেরকে এতো বেশি আদর করেন যে, ও তিনি তাদের প্রতি এতোই আশা করতেন যে, তার খুবই ইচ্ছা ছিলো তার ছেলে মেয়ে উভয়েই মান সম্মত এবং সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য হাফেজ ও আলেম হবে; আর তিনি সেভাবেই তাদেরকে পরিচালিত করতেন! এবং তারা মাদরাসা ও সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে মানুষের সেবা করবে, এটা তার স্থায়ী সিদ্ধান্ত ছিলো।
আর এভাবেই তার আশা ছিলো তিনি পরকালে গিয়েও অনেক অনেক সাওয়াব পেতে থাকবেন!
তিনি মনে করেন, কোন মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সম্পদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে ঐ মানুষের নেক সন্তান! কোন জাহানেই এর উপরে কোন সম্পদ নেই বলেই তিনি বিশ্বাস করেন!
কিন্তু টাকার অভাবে বর্তমানে শুধুমাত্র তার তিনটি মেয়ে ও একটি ছেলেকেও মানুষ করতে তিনি পারছেন না!! এমনকি দু’বেলা ভাতও ঠিক মতো খেতে দিতে পারছেন না তিনি!
যে ছেলে মেয়েদেরকে তিনি তাদের ছোট বেলায় এতো আদর-যত্ন করে বড় করেছেন এবং বুকে লালন করেছিলেন এক রাস সপ্ন! আজ বড় হওয়ার পর সে ছেলে-মেয়েরা তার সামনেই ইয়াতিম আর মিসকিনের মতো জীবন-যাপন করছে!
শুধু তাই নয়, জনাব আরিফ সাহেবের কাছে টাকা না থাকায় এবং তার আপন জনেরাই তাকে দাবিয়ে বা নিপিড়ীত করে রাখার কৌশল করায় তার আদরের সন্তানদেরকেও তাদের চারপাশের মানুষগুলো তুচ্ছ আর অবহেলিত করে রাখছিলো বা রাখতে চেয়েছিলো এতো দিন!
যেমন পাশে ওয়াজ মাহফিল হবে, বা পাড়ার মসজিদে কোন খানা-পিনার আয়োজন আছে; আর রান্না-বান্না বা খানাপিনার আয়োজন বা ব্যবস্থা আমাদের বাড়িতে হচ্ছে! এমতাবস্থায় আমার ছেলেমেয়েদেরকে শুধু চেয়ে চেয়ে থাকতে হয়েছে!
আমি অনেক সময় ভেবেছি মাহফিলের এতো এতো দামী দামী লোককে খাওয়ালে সাওয়াব হবে, আর আমার ইয়াতিমের মতো বাচ্চাদেরকে খাওয়ালে সাওয়াব হবে না!? তখন আমি নিজ মনে তাদের চিন্তা আর মানসিকতার তারিফ করেছি!!
এছাড়া মাহফিলের স্টেজে এলাকার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কতো স্ব-সম্মান ও আদর মুহাব্বতের সহিত হামদ নাথ ইত্যাদি বলেছে, আর বাচ্চারা অনেক খুশি থেকেছে! আনন্দিত হয়েছে!
আর সে ক্ষেত্রে আমার ছেলেমেয়েরা অবহেলিত, অনাথ ও অসম্মানিত ছিলো! এবং অনেক সময়ই তাদেরকে মাইক হাতে দেয়ার জন্য স্টেজে সুযোগ দেয়া বা আহবান করা হয়নি!
আবার বাড়িতেও অন্যান্য ঘরের ছেলেমেয়েরা কতো খানাপিনা করতে পারছে, সকলের সামনে বড় গলায় সকলের নিকট প্রশংসিত ভাবে আনন্দের সহিত মিশতে পারছে, খেলাধুলা করছে; কারণ তাদের বাবা পয়সাওয়ালা ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত; আর সেক্ষেত্রে আমার ছেলেমেয়েরা তেমন কিছু খেতেও পারছে না এবং প্রায় অভূক্তই থাকছে!
আরিফ সাহেবের সন্তানদেরকে নিয়ে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে না পারা এবং তার চোখের সামনে তার সন্তানেরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল্য ও মিসকিনের মতো হওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে অভূক্ত থাকা; এটা তার জন্য একটা চরম আকারের মানসিক কষ্ট!
আর তার এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী আমি ও আমরা যারা জিন হিসেবে তার শরীরে আসর করেছি ও বসবাস করছি! মূলত আমাদের কারণেই তিনি এ অবস্থায় নিপতিত হয়েছেন!
অতএব যেহেতু আমাদের কারণে তার ও তার সন্তানদের এ পরিস্থিতি হয়েছে, তাই আমি ও আমরা এর সকল দায়ভার গ্রহণ করলাম!
২৮। শরীরে জিন আছে শুনলে চাকুরী না দেয়া এবং চাকুরীচ্যূত জনিত কষ্টঃ
বর্তমানে চাকুরে নিয়োগদাতা কর্তৃপক্ষের ও যে কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দের যা মানসিক অবস্থা, এতে আরিফ সাহেব যদি বলেন যে বা তারা যদি কোন ভাবে বুঝতে পারে যে, জনাব আরিফের সাথে জিন আছে বা তার শরীরে জিন জাতীর উদ্ভব হয়েছে! তাহলে তাকে আর কেউ চাকরী দেবে বলে মনে হয় না! বরং চাকরী দেয়ার থাকলেও হয়তো আর দেবে না! উপরুন্তু তাকে পাগল বা মানসিক রোগী ভাববে অথবা বাড়তি একটা ঝামেলা মনে করে তারা চাকরী দেবে না!
কিন্তু একটা চিরন্তন সত্য হচ্ছে, জিন জাতি আল্লাহু তা’য়ালা সৃষ্টি করেছেন এবং এদেরকে মানুষের উপর আসর করার বা মানুষের শরীরে অবস্থান নিয়ে বসবাস করার সে যোগ্যতা এবং অবস্থা ভেদে সে অনুমতি বা সে অধিকার তিনি তাদেরকে দিয়েছেন!
এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা আল্লাহু তা’য়ালার সৃষ্টিতত্ত্ব অনুযায়ী একটি স্বাভাবিক সিস্টেম!
তবে এ জিন বা জিনেরা চাকুরী প্রার্থীর শারীরিক ও মানসিক কী অবস্থা করেছে বা তারা কী আসলে ভালো ও মুমেন জিন কিনা, না দুষ্ট ও শয়তার জিন, তা দেখার বিষয়!
যেহেতু জিনেরা খুব সহজে ও স্বাভাবিক ভাবেই কোন একজন মানুষের শরীরে আসর করতে পারে, এবং শরীরের উন্নতি অবনতি দুটিই ঘটাতে পারে!
তাহলে কোন জিন সদস্য যদি কোন মানুষের শরীরে আসর করেও, তাহলে ঐ মানুষটি আর চাকরী পাবে না কেন?
জিনে আসর করার পর ঐ মানুষের যোগ্যতা বাড়ছে না কমছে, সেটি দেখে অথবা তার শারীরিক বা মানসিক অবস্থা কী রকম রয়েছে, সেটি দেখে বিষয়টি বিচার করতে পারে! কিন্তু ঢালাও ভাবে তাকে চাকরী না দেয়া বা কোন চাকুরীরত প্রার্থীকে আসর করলে তাকে চাকুরীচ্যুত করা, এটা কি যৌক্তিক?
যাক, দুনিয়াতে ভালো জিন সাধারণত মানুষকে আসর করতে দেখা যায় না, এ কারণে হয়তো মানুষের মাঝে এ নেতি বাচক ভাব ধারার বা বুঝ-ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে!
এখন জনাব আরিফ সাহেব বর্তমানে যে চাকুরী করছেন, এখানে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ মোট ৫০০০ টাকা পান! যা আপনারা এর আগে শুনেছেন! তাহলে দুনিয়াতে বাঁচতে হলে তাকে অবশ্যই আরো অনেক বেশি বেতনে তাকে চাকরী ধরতে হবে এবং তিনি অযোগ্য লোকও নন!
কিন্তু কোথাও আবেদন করলেই, তারা তার শরীরে জিনের আসর, বা তার শরীরের মাধ্যমে জিন জাতির উদ্ভব, এ বিষয়টি দেখেই হয়তো তাকে চাকুরী দেবেন না!
অপর দিকে জিনদের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত তাকে কোন ধরনের আর্থিক ব্যবস্থা দেয়া হয়নি!
এদিকে তার সংসার, ছেলে-মেয়েদের ভরন-পোষণ যেন আর চলছেই না! সংসারের জন্য বা ছেলে-মেয়েদের জন্য তিনি তেমন কোন খরছ করেন না! তবুও ঋণের বোঝা যেন বেড়েই চলেছে! মাদরাসায় সুপার হুজুর গত রমজানের সময় তাকে তার প্রাপ্য বেতন দেয়ার পরও আরো অতিরিক্ত ১৪০০০ টাকা পেতেন! রমজানে এলাকার কিছু লোক তাকে সহযোগিতা করেছিলো! তিনি চান না, তারপরও তারা নিজ থেকে দিয়েছিলো! এখন তিনি আবার পাবেন ১২০০০ টাকা! এখন আর রমজানও নাই যে মানুষেরা দিবে! আরিফ সাহেব উনার মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের ফিস-বেতন কালেকশান করেন!
এ অবস্থায় বেশি বেতনে তার একটি চাকরীর অথবা অন্য যে কোন ভালো ইনকাম তার একান্ত প্রয়োজন!
তাই তিনি প্রতিনিয়তই এ বিষয়ে টেনশনে ভূগছেন যে, জীবন নিয়ে তিনি কী করবেন বা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কিভাবে বেঁচে থাকবেন!? কিভাবে তার স্ত্রী সন্তানদেরকে বাঁচিয়ে রাখবেন!
আবার কোথাও চাকুরী বা কোন কর্ম করতে গেলেও কি তার জিনেরা এতে রাজি থাকবে কিনা, এ বিষয়টি নিয়েও তিনি যথেষ্ট শঙ্কায় আছেন! যেহেতু তার জিনেরা তার শরীরেই অবস্থান করে, তাই ঐ কর্মটি বা চাকুরিটি কি তারা করবে? বা তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ঐ কর্মটি তারা পারবে কিনা!?
আবার জিন জাতির এ সদস্যরা যে এখন থেকে জনাব আরিফের শরীরে লুকিয়ে বা তাদের পরিচয় গোপন করে থাকবে, তা কিন্তু না; তার শরীরে জিন জাতির আত্মপ্রকাশের মূল কারণই হচ্ছে, বিশ্ববাসীকে জিন জাতির পরিচয় প্রকাশ করা! তাহলে সে ক্ষেত্রে তাদের লুকিয়ে থাকার বা ঘাপটি মেরে থাকার বা মিথ্যে কথা বলার প্রশ্নেই উঠে না!
এ সব কিছু নিয়ে এবং জনাব আরিফ সাহেবের জীবনে বেঁচে থাকা নিয়ে তিনি প্রচন্ডতম মানসিক কষ্টে রয়েছেন!
আর তার এ টেনশনের মূল কারণ, তার শরীরে আমি ও আমাদের উপস্থিতি এবং আমাদের ক্রিয়েটিভিটি!
অবএব যেহেতু আমাদের কারণে তিনি এ ধরনের চরম মানসিক কষ্টে পড়েছেন, তাই আমরা তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায় ভার গ্রহণ করলাম!
২৯। যারা স্নেহধন্য ও যাদেরকে ভলোবাসেন, তাদের দ্বারাই জনাব আরিফ অপমাণিতঃ
বাড়িতে শিশু ভাতিজা, নারী সম্প্রদায়, এলাকার অবোধ বালক শ্রেণী, গরীব ও অসহায় শ্রেণী, রিক্সা ওয়ালা, চায়ের দোকানের মিচিয়ার এরা যার যার অবস্থান ও সম্পর্ক অনুযায়ী জনাব আরিফের ছিলেন স্নেহ ধন্য, দূর্বল, দয়াদ্র ও সম্মানিত!
কিন্তু তাকে দাবিয়ে বা নিপিড়ীত করে রাখতে গিয়ে, বড়দের গীবত-চোগলখুরী ও অপকৌশলের বলি হিসেবে এবং তারা নিজেরাও জনাব আরিফকে না বুঝার কারণে, তার এ স্নেহ ধন্য ও দূর্বল শ্রেণীটিই জনাব আরিফের সাথে যে অপমান মূলক ব্যবহার করে গিয়েছেন তা হয়তো জনাব আরিফ খুব সহজে ভূলতে পারবেন না!
তারা দূর্বল, ছোট ও আন্তরিক হওয়ায় তাদেরকে জনাব আরফ কিছু বলতেও পারতেন না বা জিন কর্তৃক বাইন্ডিং থাকার কারণে বা তার ব্রেন বন্ধী থাকার কারণে বুঝাতেও পারতেন না! এবং বেশি ভদ্র হওয়ায় প্রতিবাদও করতে পারতেন না!
পরিণামে তাদের কর্তৃক চরম অপমান জনাব আরিফ সাহেবকে নিরবে সহ্য করে যেতে হয়েছে!
এ শ্রেণীর সদস্যরা কখনো জনাব আরিফের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে, আবার কখনো জনাব আরিফের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কাটছে, আবার কখনো পাশে দিয়ে বেয়াদবের মতো দ্রুত চলে গিয়েছে আবার কখনো হাঁচি-কাশি বা চালচলন ইত্যাদির মাধ্যমে বা বিভিন্ন ভাবে জনাব আরিফকে অপমাণ আর বেইজ্জতি করে গিয়েছে!
এখন যাদেরকে তিনি স্নেহধন্য মনেকরবেন বা যাদের জন্য অন্তরে দয়া-মায়া রাখবেন, তারাই যদি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল্য বা তিরষ্কার, অবমূল্যায়ন আর অপমান করে যান, তাহলে তা জনাব আরিফের জন্য চরম অবমাননাকর ও অন্তহীন মানসিক কষ্টের কারণ!
জ্বি, তার এ ধরনের কষ্টেরও মূল হেতু ছিলো জিন হিসেবে তার শরীরে আমাদের উপস্থিতি ও আমাদের কার্যক্রম!
সুতরাং তার এ ধরনের সকল মানসিক কষ্টের দায়ভার আমি ও আমরা গ্রহণ করলাম!
৩০। উপযুক্ত বাসস্থান ও সুপেয় পানির অভাবঃ
মুসলিম পরিবারের ধর্মীয় নিয়ম হচ্ছে, সন্তানদের যখন ১০ বছর বয়স হবে, তখন তাদের বিছানা পৃথক করে দেয়া। আমার ছেলের বয়স ১০ বছর পেরিয়ে গেছে িএবং আমার দুইজন মেয়ে এখন উপযুক্ত! কিন্তু তাদেরকে বিছানা পৃথক করে দেয়ার মতো এতো বিছানা আমার ঘরে নাই! তারউপর নিম্নমানের ছোট্ট একটা বাথরুম! লক্কর-ঝক্কর একটা টিউবওয়েল! চিপতে চিপতে পানি উঠে না! যাও কষ্ট করে একটু তোলা যায়, তাও অনেক আয়রন এবং লবন! যা খাওয়ার প্রায় অযোগ্য!
এতো দিন বৃষ্টি এলে পাকের ঘরে পানি পড়তো, আমার বেগম সাব তার বাপ-ভাইকে ধরে টিন পাল্টিয়ে নতুন টিন লাগিয়েছে, গাছ লাগিয়েছে! এতে আমি কিছু বলিনি! এখন একটু একটু পড়ে হয়তো! কারণ ঘর দিয়েছি অনেক দিন হয়েছে!
ঘরের বিছানা গুলো এবং রুমগুলো ভদ্রতা বজিয়ে আরামে থাকার জন্য উপযুক্ত না! ঘরে আমার উপযুক্ত মেয়েরা থাকে, তাই আমি প্রায়ই আমার স্ত্রীর সাথে সেখানে থাকি না! আমার রাস্তার পাশে একটা ঘর আছে এখানে থাকি! কিন্তু এটা কষ্টের তবুও থাকতে হয়!
ঘরে এখন সব চাইতে বেশি কষ্ট হচ্ছে পানীয় জলের। আমার মেজ ভাইয়ের ঘরে ডিপ টিউবওয়েলের সুপেয় পানি আছে। কিন্তু অনেক সময়ই আমি ঐ পানি পাইনা! আমাদের পাশপাশি ঘর! এ বিষয়ে আমার স্ত্রী বা মেয়েদেরকে বলতে বললে, তারা বলে ওনারা যখন মোটর চালায় তখন আনা লাগে! তখন আনতে বলে!
মানে নিজ থেকে বিদ্যুতের সুইচ দিয়ে মোটর চালিয়ে আমার ঘরে পানি আনার সে অধিকার আমার স্ত্রী সন্তানদের নাই! অথচ আমার এ ভাইটির দৈনিক ইনকামই গড়ে প্রায় ৫০০০ টাকা!
জ্বি, আরিফ সাহেবের এ নিম্ন মানের ঘর ও সুপেয় পানির যে কষ্ট,তা মূলত আমাদের কারণেই হয়েছে! যদি আমরা তার শরীরে এভাবে আসর না করতাম, তাহলে হয়তো তিনি এ ধরনের কোন সমস্যায় পড়তেন না! তাই আমরা তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার গ্রহণ করলাম!
৩১। যাকাত ফেতরা, সরকারী সাহায্য ও মানুষের দান-দাক্ষিণ্যে বেঁচে থাকাঃ
আরিফ সাহেব একজন উন্নত ব্যক্তিত্ববান ও চরিত্রবান মানুষ!
তার হাত, পা, চোখ, মাথা, শিক্ষা-দীক্ষা সবই আছে! আপনারা তার কথা-বার্তা ও আচার-ব্যবহার দেখলে তাকে কেউ গরীব বলবেন বলে মনে হয় না! বরং অনেক অনেক ধনীই বলবেন! কোন দিক দিয়েই তাকে অযোগ্য বলে মনে হবে না আপনাদের কাছে!
বিস্তারিত জানা ও বুঝা ছাড়া নরমালি এ দেশের কেউ তাকে বা তার পরিবারকে কোন ধরনের সাহায্য দেবেন না! সকলে হয়তো বলবে এ তো ধনী মানুষ, একে কেন সাহায্য বা ফেতরা-যাকাত দেবো!
ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা তিনি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত! ও আল্লাহ ওয়ালা মানুষ!
তার ভাই, ভাতিজা, ভাতিজী এবং বাড়ির সবাই মোটামুটি উচ্চ শিক্ষিত, সরকারী-বেসরকারী চাকরীজীবী এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত মানুষ! প্রায় প্রত্যেকেই কোটিপতি!
এমাতাবস্থায় তিনি মানুষের ভিক্ষা খেয়ে বেঁচে থাকবেন, যাকাত-ফেতরা খাবেন! মানুষের বোঝা হবেন, কোরবানীর সময় কোরবানী দিতে পারবেন না, ছেলেমেয়েরা মানুষের দিকে চেয়ে থাকবে;
তার স্ত্রীকে খয়রাতি সাহায্য হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজি চাউলের জন্য যেতে হবে, আমাকে দিন মুজুর পরিচয়ে স্বল্পমূল্যে টিসিবি পণ্য ক্রয়ের জন্য লম্বা লাইন ধরতে হবে!
এসব জনাব আরিফের জন্য অনেকটাই অসম্মানের! যা তার একটা মানসিক কষ্ট!
সুতরাং জিন হিসেবে তার শরীরে আমাদের উপস্থিতি যদি না থাকতো বা যদি আমরা তাকে আসর না করতাম, তাহলে হয়তো তিনি জীবনে এ সমস্যায় পড়তেন না! অতএব তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়-দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করলাম!
৩২। আপন ভাইদের সাথে এবং বাড়ির অন্যান্যদের সাথে সম্মানজনক সহাবস্থান না থাকাঃ
শরীরে জিনের উপস্থিতি থাকায় এবং এই হেতু জিন হিসেবে আমার অর্থনৈতিক ফকিরি অবস্থার কারণে, আমার কোন আত্মীয় স্বজনের সাথে আমার ভালো যোগাযোগ বা সু-সম্পর্ক নেই! আমি অনেকটা একলা জীবন-যাপন করছি! এবং একেবারেই অসহায় অবস্থায় আছি! যেহেতু আমাকে শয়তান হিসেবে চিহ্নিত করে, আমার স্ত্রী ও আমার ভাতিজা সহ আমার নিকট আত্মীয়রাই আমাকে করেছে বয়কট, বাধাগ্রস্থ, নিপিড়ীত, নির্যাতিত!
আসলে এগুলো নিজ পরিবার ও বংশের ব্যক্তিগত প্রাইভেসির বিষয়।
তারপরও নিজ পরিচয় দেয়ার স্বার্থে স্ত্রীর বিষয় যেমন লিখেছি, ঠিক নিজের ভাই-ভাতিজা বা বাড়ির অন্যান্যদের বিষয়ে আমার সাথে রিলেটেড অল্প কয়েকটি কর্ম সম্পর্কে সামান্য লিখিবো!
এ থেকে আপনারা বুঝে নিতে পারবেন, বাড়িতে আমি কেমন সম্মানীয় ভাবে বসবাস করছি বা বাকিদের দৃষ্টিতে আমাকে তারা কেমন সম্মান করছেন বা সম্মানীয় ভাবে দেখছেন!
বাজারে মুদী দোকান করা কালীন বড় ভাইকে অনেক দিন রিকোয়েস্ট করেছিলাম, আমার দোকানে আসতে, তিনি একদিনও আসেননি এবং আমার দোকান থেকে কোন বাজার তিনি করতেন না! বরং কেউ আমার দোকান থেকে তাদের জন্য কিছু এনেছে, তা বুঝতে পারলে, তা আমার দোকানে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে! আমি প্রায় ২ বছর দোকান করেছিলাম!
বাড়িতে আমার থাকার ঘর দেয়ার সময় বাবার নামীয় পুকুর থেকে অল্প কিছু মাটি, ভিটি ভরাটের জন্য আনার সময় তিনি আমার লেবারদেরকে পুকুর থেকে তুলে দিয়েছেন!
আমার সমিতির ঘরের জন্য সর্ব প্রথম ইট এনে সরকারী রাস্তার উপর ফেলার সময় লেবার গণ তার ৪/৫ টা পাট সবজি গাছের উপর ফেললে, তিনি বাড়ি থেকে তৎক্ষণাত এসে লেবারদেরকে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় নির্যাতন করেছেন!
বাড়িতে যখন গ্যাস এসেছে, তখন মেজভাই প্রথমে যদিও বললেন আমাকে অল্পকিছু টাকা দিতে, একটা চুলার ব্যবস্থা করে দিবেন, পরে কিন্তু আর দেননি! পরবর্তীতে আমি তাকে বললে তখন তিনি আমাকে বলেছেন ফুল টাকা দিয়ে সরকার থেকে আনতে!
মেজভাই একটি ডিপ টিউবওয়েল বসিয়েছেন, আমি এ টিউবওয়েল থেকে পাশাপাশি আমার ঘরে অবস্থিত টিউবওয়েলে সাইড লাইন দিতে বললে, তিনি প্রথমে যদিও নমনিয় ছিলেন, পরে আর দিতে রাজি হননি; আমি সমান সমান খরছ দেবো বলেছিলাম; তবুও দেননি!
এ টিউবওয়েলের পানিই এখন প্রায় আমরা খাই! যদিও আমাদের নিজেদের মোটর চালিয়ে আনার অনুমতি আমাদের নাই!
আমার এ ভায়ের ওয়াইফাই আমার স্ত্রী কন্যারা ইউজ করে, উনারা এর টাকা নেন না।
গত কয়েক রমজানে তিনি যাকাতের টাকা বাবত জনাব আরিফের স্বাপেক্ষে আমাকে ৫/১০ হাজার টাকা দান করেছেন! অবশ্য এক রমজানে ২০০০০ টাকাও দিয়েছেন! এছাড়া সারা বছর আর কোন টাকা পয়সা দেন না! বা বাজার সদাই করে দেন না!
আমি যখন সমিতি আরম্ভ করেছিলাম, তখন আমার নিজের ও জেঠাতো ভাইদের একজনও সদস্য হননি, উল্টো তারা বাধা দিয়েছেন, মানুষকে অনুৎসাহিত করেছেন!
পরে যখন বিভিন্ন মালামাল কিনেছিলাম বিভিন্ন বাজারে সাপ্লাই দিতে তখনও কোন মাল আমার কাছ থেকে আমাদের বাড়ির কেউ কিনেননি! আবার যখন মোসল্লা বানিয়ে ছিলাম পাইকারী বিক্রীর উদ্দেশ্যে তখনও কেউ কিনেননি!
রাত সাডে ১১ টা কি ১২টায় যখন স্ত্রী সহবাসে থেকেছি, তখন আমার ভাবী এসে আমার জানালায় তার যা’কে অনর্গল ডেকেই যাচ্ছেন! কোন প্রতিউত্তর না পেয়ে এবার আমার বড় মেয়েকে ডাকা শুরু করেছেন! তখন আমার মেয়েও কোন প্রতি উত্তর দেয়নি! আর আমার স্ত্রীর, এতে তার কোন ব্যক্তিত্ব হানী হয়নি! কারণ সেওতো কিভাবে আমাকে অপমান করা যায় সে চিন্তাই করে এবং সেওতো তাদের দলের! আবার সেও অতো ব্যক্তিত্ববান মানুষ নয় যে, এতে তার ব্যক্তিত্ব হানী হবে!
চরম অপমাণিত হয়ে সকালে ফেসবুকে বিষয়টা শেয়ার করার পর আমার ভাই তার ছেলে সহ এসে আমাকে অনেক অনেক বকা-ঝকা করে ও আমার সাথে মারমুখি ব্যবহার করে! আমি তখন কোন প্রতি উত্তর করিনি!
আমার জেঠাত ভাই আগে আমার সাথে অনেক মাতবরী মূলক ব্যবহার করেছিলো, যখন আমি প্রতিবাদ শুরু করেছিলাম না তখন! বা যখন আমাকে সবাই তাড়াতে চেয়েছিলো তখন!
এখন তিনি আমায় ইউপি অফিস থেকে খয়রাতি সাহায্য হিসেবে মাসে ৩০ কেজি চাউলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন! এবং মোবাইলে সরকারী সাহায্য হিসেবে প্রতি ৩/৪ মাস পর পর ১৮০০ / ২০০০ টাকার ব্যবস্থা করেছেন! এছাড়া কচিৎ মাঝে-মধ্যে ঘরে বিস্কিট বা এ ধরনের কিছু কিনে দেন!
অন্যদিকে শিশু ভাতিজারা যে, তাদের ব্যবহারে আমাকে অপমান করে চলেছিলো তাতো আগে বলেছিই!
আমার নিজ বড় ভাই কখনো আমায় যাকাত বা কোন টাকাও দেন না বা ঘরে কিছু কিনেও দেন না!
আবার জেঠাতো ভাই বড় জন ঢাকায় থাকলেও প্রতি বছর যাকাত দেয়ার সময় তিনি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আমাকে দেন!
একদিন বাড়ির সকল মহিলা মানে আমার বোন ও ভায়ের বউয়েরা এসে আমাকে আমার রাস্তার ঘরে আমি ভিতরে থাকা অবস্থায় তারা বাহির দিয়ে তালা মেরে দিয়েছে! তাদের অভিযোগ আমি ফেসবুকে এটা সেটা লিখে তাদের সম্মান নষ্ট করছি!
হ্যাঁ, আমি ফেসবুকে প্রতিবাদ করেছি, তবে কখনো একটি কথাও মিথ্যা লিখিনি! আমার মিথ্যা লিখার প্রশ্নই আসে না; কারণ আমি আসলে তাদের বিরুদ্ধে লিখছি না; তাদেরকে অপমাণ করছি না!
জিন হিসেবে আমি শুধু আমার পরিচয় প্রকাশ করতে গিয়ে, আমার প্রকাশমান সময়ে আমার সাথে মানুষের সাথে কী কী ঘটেছিলো তার একটা সত্য বিবরণ লিখে রাখছি! এখানে তাদের কারো সাথে আমার ব্যক্তিগত হিংসা বা শত্রুতা নেই!
তবে এটা ১০০% সত্য যে, মানুষের সাথে ফ্রিকশনাবেল এ কর্ম গুলোর বিষয়ে, যদিও আমি ভবিষ্যতর রেফারেন্স হিসেবে সত্য বিবৃতি লিখছি বা এটা জিন জাতির বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বাভাবিক ভাবে নিয়েছি; মানুষেরা কিন্তু আমার সাথে কোন ধরনের অভিনয় করছে না, তারা কিন্তু সত্যিই আমার সাথে হিংসাত্মক বা শত্রুতাপূর্ণ বা নিষ্ঠুর আচরণ করেছে! বা করেছিলো!
এতোক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন জিন হিসেবে বাড়িতে আমার সাথে কারো সাথে সম্মানজনক সহাবস্থান নাই! বা কী রূপ আছে!
আর থাকবেইবা কেন, আমি হলাম প্রায় ফকির, আর আমার বাড়ির লোকজন হলো প্রায় কোটিপতি! এবং তাদের দৃষ্টিতে আমি হলাম জিন শয়তান, আর তারা হলো স্বাধীন মানুষ!
নিজের ভাই-ভাতিজাদের সাথে এবং বাড়ির আপন লোকজনদের সাথে একজন মুমিন ব্যক্তির সম্মানজনক সহাবস্থান না থাকা, এটা আসলে অন্তহীন মনোকষ্ট ও সীমাহীন মনোযন্ত্রণার কারণ!
তার এ অতীব যন্ত্রণা এবং আপন লোকদের সাথে মনোমালিণ্য, বা মিলেমিশে থাকতে না পারা, এটা মূলত জিন হিসেবে তার শরীরে আমাদের প্রকাশমান হওয়ার কারণেই হয়েছে! তাই তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায় ভার আমরা গ্রহণ করলাম!
৩৩। জিনের পরিচয় প্রদান মূলক বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখা জনিত কষ্ট ও লিখতে গিয়ে আপনজনদের বাধার শিকার হওয়াঃ
যেহেতু জনাব আরিফ সাহেবের মধ্যে জিন উদ্ভব হয়েছে, এবং যেহেতু তার এ জিনদেরকে তাড়ানো যাচ্ছে না এবং যেহেতু তিনি বুঝতে পারছেন যে, তার এ জিনদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পৃথিবীতে জিন জাতির পরিচয় দিয়ে মহান রবের সৃষ্টিগত পরিচয় দেয়া! সুতরাং তার এখন প্রয়োজন তার এ জিনদের বৈশিষ্ট্য এবং তার নিজের বিভিন্ন অবস্থা মানুষদেরকে জানানো! এবং জীবনের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন অবস্থা ও পরিস্থিতি সমূহ লিখে রাখা! কারণ যদি এ জিন জাতি সত্যিই পৃথিবীতে তাদের পূর্ণ পরিচয় প্রদান করার লক্ষ্যে দৃশ্যমান হয়, তখন তার এ লিখা সমূহ হয়তো খুবই প্রয়োজনীয় হতে পারে! কারণ এর মাঝেও নিহিত রয়েছে তাদের পরিচয়!
এখন কথা হচ্ছে তিনি কখন লিখবেন, কখন তার ছেলেমেয়েদেরকে পড়াবেন, কখন চাকুরী করবেন, কখন পরিবারের সদস্যদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, ঔষুধ ইত্যাদি জোগাবেন! কখন হাট-বাজার করবেন! আবার এরই মধ্যে চারদিকে তাকে সইতে হচ্ছে অপমান, নিপীড়ন, নির্যাতন!
তার শরীরে থাকা এ জিন বা জিনদের পরিচয় প্রদান ও পরিচয় প্রদান করতে গিয়ে আপনজনদের সাথে এবং মানুষের সাথে ফ্রিকশনাবেল ঘটনা বিষয়ক একটার পর একটা প্রবন্ধ লিখেই যেতে হচ্ছে তাকে! এবং যা গত ২০০০ ইং সন থেকেই তার এ লিখা চলমান রয়েছে!
কারণ এভাবে যদি তিনি না লিখতেন তাহলে হয়তো মানুষ তার প্রকৃত অবস্থা বুঝতো না এবং তার সাথে তার আপনজন ও চারপাশের মানুষগুলো লাওয়ারিশের মতো আরো অনেক খারাপ ব্যবহার করতো এবং তার প্রতিভা ও যোগ্যতার কোন পরিচয়ও মানুষ পেতো না! ফলে তাকে সকলে অপদার্থ মনে করতো! এখনো যে মানুষ তার যোগ্যতার তেমন কিছু বুঝে, তা কিন্তু না! তারপরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কিছু লিখার ফলে বিজ্ঞজনেরা কিছুটা হলেও বুঝতে পারে! বা বুঝতে পেরেছে!
আর সব চাইতে বড় কথা হচ্ছে, তার সাথে যে জিন রয়েছে, তার শরীরে যে জিন সদস্য বা সদস্যদের উদ্ভব হয়েছে বা হতে চলেছে এ বিষয়টি মানুষদেরকে বুঝাতে পারতাম না! এবং জিনদের বৈশিষ্ট্য কী তা বোঝানোর অন্য কোন সুযোগও পেতাম না!
এছাড়া মেইনলি যে প্রয়োজনে তিনি লিখেন, তা হচ্ছে, যদি সত্যিই একদিন তার এ জিন সদস্য, তার শরীর থেকে বের হয়ে আলাদা ভাবে, মানুষের মতো হয়ে সকলের সামনে দৃশ্যমান হয় এবং বিশ্ববাসীকে তাদের পরিচয় প্রদান মূলক ও সেবা মূলক বিভিন্ন কর্ম আরম্ভ করে, তখন তাদের উত্থান জনিত এ সময়ের এক্টিভিটিজ সমূহ বা তাদের বা আরিফ সাহেবের এ বিষয়ক কর্ম বা চারিত্রিক বা স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য সমূহ এনালাইসিস করতে বা তাদের পূর্ণ পরিচয় জানতে, বর্তমান সময়ের এ কর্ম বা বৈশিষ্ট্যগত এ ইতিহাস সমূহ একান্তই প্রয়োজনীয় হবে! বা হতে পারে!
নিশ্চয়ই তার শরীরে থাকা এ জিন সদস্য একদিন মানব রূপে প্রকাশিত হবে, এ আশা বুকে ধারন করে, তিনি লিখেন! এবং শত অভাব, কষ্ট ও বাধার মুখেও লিখা অব্যাহত রাখতে সমর্থ হয়েছেন! আলহামদুলিল্লাহ!
জিন হিসেবে আমায় যারা ভালোবাসেন, বা যারা দূরদর্শিতা মূলক জ্ঞান রাখেন তারাও হয়তো বুঝতে পেরেছেন বা অন্তত অনুমান করতে হলেও পেরেছেন যে, জিন হিসেবে আমরা এ দুনিয়ায় জনাব আরিফ সাহেবের মাধ্যমে মানব রূপে প্রকাশিত হতে চাচ্ছি!
আর যদি কথার কথা আমরা জিন নাও হই, তাহলেও জনাব আরিফ সাহেবের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও ধর্মীয় এ রোগটি একটি আনকমন ও যন্ত্রণাদায়ক নতুন রোগ! যা করোনার চাইতেও মারাত্মক বলেই দেখা যাচ্ছে!
তাই ভবিষ্যত জীবনের যে কোন সময়ে যদি এ রোগ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন পড়ে, তাহলেও তার ঘটমান এ অতীত ঘটনা সমূহ এবং তার বৈশিষ্ট্য সমূহ সঠিক ভাবে জানার ও বুঝার প্রয়োজন পড়তে পারে!
ফলে তিনি কষ্ট করে হলেও তার উপর দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এ তথ্য সমূহ লিখে রাখছেন!
কিন্তু লিখে রাখতে গিয়ে তিনি তার এ অবস্থায় যা কষ্ট করছেন, তা আসলে সীমাহীন ও আশ্চয্যের এবং তা অন্য কোন মানুষের দ্বারা সম্ভব হবে কিনা, তা সন্দেহের বিষয়!
প্রথম কথা হচ্ছে, তার সংসার রয়েছে, তার নিজ এবং পরিবারের সদস্যদের ভরন-পোষণে তাকে সময় ব্যয় ও এ মৌলিক বিষয়ে তাকে টেনশন ফীল করতে হচ্ছে! তিনি প্রচন্ডতম অভাবী ও ঋণগ্রস্থ মানুষ! এবং অনেকের কাছে তিনি দুষ্ট শয়তান!
আবার লিখা চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে, তার এ অর্থনৈতিক অবস্থায় কোন প্রাইভেট পড়িয়ে যে তিনি ইনকাম করবেন, অথবা ৮/১২ ঘন্টার চাকুরী করে যে তিনি বেশি ইনকান করবেন, তাও তিনি পারছেন না!
তার মানে, এসব লিখার উদ্দেশ্যে তিনি নিজ থেকেই করছেন না বা জিন কর্তৃক তাকে করতে দেয়া হচ্ছে না!
বর্তমানে মাঝে মধ্যে এলাকার বা মাদরাসার দু’একজন প্রাইভেট পড়াতে বলেন, কিন্তু এ লিখায় বিঘ্ন ঘটার চিন্তায় তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন! নিজের ৪ জন ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করছে, তাদেরকে পড়ানো এটা তার দায়িত্ব, কিন্তু এ লিখা লিখতে গিয়ে সেটাও তিনি ঠিক মতো পারছেন না!
আবার এগুলো লিখতে গেলে কম্পিউটার, এন্ড্রয়েড ফোন, ইন্টারনেট অবশ্যই প্রয়োজন, যেখানে ব্রড ব্যান্ডের লাইনটি পর্যন্ত তাকে দেয়া হচ্ছে না, যা আমি আগে বলেছি! ফলে তিনি অনেক বেশি টাকা খরচ করে, এবং ৩৪০০ টাকা দিয়ে পকেট রাউটার কিনে, ও প্রতি মাসে প্রায় ১৫০০ টাকার মোবাইল ডাটা কিনে, এ লিখাগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন!
তার উপর ১টি মোবাইল, ১টি কম্পিউটার ক্রয়, ও এগুলো মেরামত খরচ বাবত কত খরচ হতে পারে ভাই!?
আবার বর্তমানে যে লেফটপটি দিয়ে তিনি লিখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা যে আগে টাকা থাকা অবস্থায় কিনা ছিলো তা কিন্তু না! এটি অল্প কিছু দিন আগে চট্টগ্রাম থেকে কিনেছিলেন! অবশ্য কিছু মেরামতে টাকা ব্যয় করতে হয়েছে এবং কোন মতে শুধু লিখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন! তাও মাঝে মাঝে ওভার হিটিং জনিত লকিং দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে!
এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকা, ঘুম মেরে কন্টেন্ট লিখা, লিখার জন্য তাহাজ্জুদ পড়তে না পারা, চোরের উপদ্রব, যেমন অল্প কয়দিন আগে আক্কেল দাঁত অপারেশনের কাজে চট্টগ্রাম যাওয়ার পর গাড়ি থেকে তার আগের এন্ড্রয়েড ফোনটি চোরে নিয়ে গিয়েছিলো, ইত্যাদি আনুষাঙ্গিক সমস্যাতো আছেই!
এখন কথা হচ্ছে, তার এ ইনকামে তিনি সংসার চালাবেন (?), না এসব বিষয়ে খরচ করবেন!?
স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদেরকে উপোষ রেখে, তাদের লেখাপড়ার খরচ না দিয়ে, এ বিষয়ে খরচ করা এটা আপনারা অযুক্তিক মনে করবেন!!
ঠিক এ যৌক্তিক কারণেই তার মা, স্ত্রী, শাশুড়ি, যে কোন লিখার বিপরীত অন্যায়কারী ভিকটিম মানুষেরা এবং তার বর্তমান চাকুরীর স্থলের সুপার মহোদয়; তারা সকলে বার বার এ বিষয়ে তাকে অনুৎসাহিত করছেন ও প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, কেন আমি এভাবে লিখছি!
তারা সকলে না লিখতে বলছেন! আর ভিকটিম সদস্যরাতো নিয়মিত আমার ফেসবুক আইডি ব্লক করে বা হেক করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কথা বলছেন!
এমতাবস্থায়ও তিনি তার লিখা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সংসারও চালাচ্ছেন!
ভাই, ধরলাম আপনি অনেক এক্সপার্ট ও স্ট্রং মেন! তাহলে আপনি কি পারবেন, আপনার যদি শুধু এ রকম অর্থনৈতিক অবস্থা হতো, (আরিফ সাহেবের বর্তমান মাসিক ইনকাম ৫০০০ টাকার চাইতেও কম এবং সেই ২০০১ ইং থেকে হিসেব করলেও তার মাসিক গড় ইনকাম এ রকমই হবে, এর বেশি হবে না বলেই মনে হয়।) আরিফ সাহেবের বাকি সমস্যা বা কষ্টগুলো না হয় বাদই দিলাম, তাহলেও এ অবস্থায়, আপনার সাংসারিক খরচ, পারিবারিক কাজ-কর্ম, ও দৈনন্দিন অন্যান্য আবশ্যকীয় খরচ নির্বাহ করে আবার এ লিখাগুলো চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অটল থাকতে বা চালিয়ে যেতে পারবেন আপনি!?
হিসাব করেন না একবার!? আপনার ঘাড়ে যদি এ দায়িত্ব পড়তো, তাহলে এ ইনকাম আর এ খরচের মাঝে, আর এভাবে নিয়ারেস্ট মানুষদের বাধার মুখে এ ইতিহাস রচনা করতে পারবেন!? নিজের উপর নিয়ে একটু চিন্তা করুন! কী? সাহস আছে আপনার!? থাকলেতো ভালো! কিন্তু টেনশন আর বিভিন্নমূখী বিড়ম্বনা বা কষ্ট কী রকম হবে তাহলে, এর হিসাব করেছেন!?
তাহলে আপনারা অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, তবে আপনি কিভাবে পারেন বা পারছেন!?
হ্যাঁ, এটা সত্য যে জিন হিসেবে আমি অনেক অনেক অভাবের মধ্য দিয়ে, আর সীমাহীন কষ্ট ও টেনশনের মধ্য দিয়ে দিন পার করছি! টেনশনে মাঝে-মধ্যে বেহুশের মতো হয়ে যাই! মাঝে মাঝে নিজকে নিজেই বকা-ঝকা শুরু করেছি এবং এরই মাঝে গ্রামবাসীদের দু’একজন মাঝে-মধ্যে আমাকে অল্পকিছু সহযোগিতা করেছেন! আমি কখনো কাউকে নিজ থেকে কিছু বলিনা, বা চাই না, তারা নিজ থেকেই দিয়েছিলেন! আর এভাবেই মহান আল্লাহু তা’য়ালার এক অশেষ কৃপায় আমার দিন পার হচ্ছে!
কিন্তু আরিফ সাহেব আজও জানে না, তার ভবিষ্যতের দিন গুলি আসলে কিভাবে যাবে? তার মেয়েরা আছে, তাদেরকে বিয়ে সাদি দিতে হবে। তার ঋণ আছে এগুলি অবশ্যই শোধ করতে হবে। না হয়তো, যার জন্য তিনি সবচাইতে বেশি দিওয়ানা, তাকেইতো পাচ্ছেন না!
জ্বি, আরিফ সাহেবের এ বিষয়ক এতো বেশি কষ্ট, যেহেতু তিনি আমাদের পরিচয় প্রকাশ করতে সয়ে যাচ্ছেন, তাই জিন হিসেবে আমরা তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার পূর্ণরূপে স্বীকার করলাম!
৩৪। রাস্তার পাশে একা আলাদা ঘরে থাকার কষ্ট এবং এ বিষয়ে নিয়মিত বকা শুনাঃ
জনাব আরিফ গত মাসে বিদ্যুৎ বিল দিয়েছেন বাড়ির ঘর এবং রাস্তার পাশের এখানকার ঘরের জন্য প্রায় ১০০০ করে ২০০০ টাকা!
এখন তার নিয়ারেস্ট মেন ও গ্রামেরও কিছু আপনের মতো লোকদের কথা হচ্ছে, তার এখন এমনিতে টাকা নেই, তাহলে রাস্তার এ ঘরে সে থাকে কেন? এতো খরচ না করে বরং ঘরটি ভাড়া দিয়ে দিলেও তো উপরুন্তু কিছু টাকা পেতে পারতো!
এ বিষয়ে তার মা, স্ত্রী ও গ্রামের কিছু লোক তাকে মন্দ-সন্দও বলছেন! বকা-বকি করছেন!
হ্যাঁ যুক্তি আছে বলেই তারা এ রকম বলছেন!
কিন্তু আমি জিন সদস্য হওয়ায়, আর আমার নিজের ঘর-বাড়ির সকলে আমায় দুষ্ট বা শয়তান জিন বলে চিহ্নিত করে আমাকে বয়কট করায় বা নিপিড়ীত করে রাখার কৌশল করায়, আমি তাদের সাথে বাড়িতে শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকতে পারিনা!
আমি যদি নিয়মিত বাড়িতে থাকতাম, তাহলে আমার প্রতি তাদের এ অযত্ন, অপমান ও ঘৃণাময় ব্যবহারে আমি ২/১ দিনেই হয়তো অসুস্থ হয়ে যেতাম! কারণ তারা আমায় ভালো হিসেবে দেখতে পায় না!
তার উপর সবচাইতে বড় কথা হলো, আমিতো বর্তমানে অনেকটা ফকির! বেকার, কর্ম করতে পারিনা, আমার ইনকাম নেই! জিন হিসেবে তাদের ভাত-কাপড়ের ন্যায্য চাহিদাতো আমি পূরণ করতে পারিনা!
এছাড়া আলহামদুলিল্লাহ্! জিন হিসেবে আমি খাঁটি আলেমের মতো চলতে চাই! যেখানে আমার যে ধর্মীয় মানসিক চাহিদা, এটা তারা বুঝবেও না! হয়তো মানুষ হিসেবে এতোটুকু রেঞ্জ তাদের নেই!
কথার কথা তারা যোহরের নামাজ পড়বে ৩টা কি ৪টায়, এশার নামাজ পড়বে রাত ১১টা কি ১২টায়, পর্দা ঠিক মতো মানবে না, কথায় কথায় মিথ্যা বলবে, চাপাবাজি করবে, ছলনা করবে! সম্মানতো একফোঁটা করবেই না! এভাবে আরো কত কি!
আর তাদের এ অবস্থায় আরিফ সাহেবের স্বাপেক্ষে জিন হিসেবে আমিও তাদেরকে বেশি ভালোবাসার কারণে, এবং আমার দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের প্রতি হয়তো বিভিন্ন নির্দেশ দিবো বা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবো!
আর তখন তারা আমার এসব তো মানবেনই না, উপরুন্ত আমাকে নাজেহাল বা অপমান করে ছাড়বে!
বলেন, এ অবস্থায় বাড়িতে থেকে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-ঝাট্টি করে কি দ্বীন-ধর্ম নষ্ট করবো? না আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করবো?
আর তাই এ অর্থনৈতিক চরম অবস্থায় আমাকে আলাদা থাকাটাই বেটার নয় কি?
এছাড়া আমারও একটা মন-মানসিকতা আছে! মানুষ হিসেবে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে একসাথে থাকার যে আনন্দ, মানসিক যে প্রশান্তি; জিন আসবে এ উদ্দেশ্যে বা শরীরে জিন থাকার কারণে আমাকে রাস্তার পাশে একা থাকতে হয়! ফলে আমাকে একা থাকার যে কষ্ট এবং স্ত্রী-সন্তানদের সাথে না থাকতে পারার যে কষ্ট তা সহ্য করতে হয়! আপনারা শুধু এ কষ্টটি ভোগ করেন না!? কেমন লাগে দেখেন!?
তারউপর যেহেতু আমি বা আমরা জিন সদস্য, তাহলে যে কোন বিষয়ে আমাদের আকাশচুম্বি ধারনা অথবা মানুষদের চাইতে ভিন্ন মানসিকতা আমাদের থাকতেই পারে! আচার-ব্যবহারে আমাদের ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং বর্তমান অবস্থায় যেহেতু আমার চরম অভাব ও টেনশনের শেষ নেই, তাই আমাকে তাদের চাইতে একটু ভিন্ন থাকা কি বেস্ট ওয়ে হবেনা?
কিন্তু এ ভিন্ন থাকতে গিয়ে আমাদেরকে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল গুণতে হচ্ছে, ওয়াইফাই বিল গুণতে হচ্ছে! কারণ বাড়িতে থাকলেতো ভাইয়ের ওয়াইফাই ইউজ করতে পারতাম, কোন বিল আমার লাগতো না! আবার এখানকার মিটারটিও বাণিজ্যিক মিটার! এখানকার বিল বাড়ি থেকে প্রায় ডবল!
এছাড়া ঘর গোছানো, বিছানা-পত্র ঠিক রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, টুক-টাক ঘর সম্পর্কিত কিছু মেরামত, লাইট-ফ্যান এসবের খরচ ইত্যাদি ব্যয় আমাদেরকে বহন করতে হচ্ছে!
অন্যদিকে আমরা যদি ঘর ভাড়া দিতাম তাহলে আমাদেরকে এসব কিছুই করতে হতো না! উপরুন্তু মিসকিনী অবস্থায় আমাদের কিছু টাকা ইনকাম হতো!
তবে আমরা এখানে যেভাবে লিখছি, বাড়িতে কিছুতেই এভাবে লিখতে পারতাম না এবং আমাদের জ্ঞানেও এভাবে সবকিছু ঢুকতো না! কারণ এ লিখাগুলো শুধু যে মানুষ হিসেবে আমি লিখছি, তা কিন্তু না! এগুলো আসলে অনেকটা জিনেরই অবদান!
কারণ তারা শান্ত পরিবেশে মানুষ হিসেবে আমার ব্রেন যেভাবে খুলে দিচ্ছে, জ্ঞান যেভাবে আহরিত করে দিচ্ছে, বাড়িতে কিন্তু তারা এভাবে আমায় হয়তো দিতো না!
তাহলে এ বিষয়ে মূলত জিন হিসেবে জনাব আরিফের শরীরে আমরা থাকায় এবং আমাদের পরিচয় প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি তার রাস্তার এ ঘরে থাকছেন! যার জন্যে তিনি কিছু আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন ও তার একান্ত আপনজনদের চক্ষুশূল হয়েছেন! সুতরাং তার এ ধরনের সকল ক্ষয়-ক্ষতি ও কষ্টের পূর্ণ দায়ভার আমরা গ্রহণ করলাম!
৩৫। জিন কর্তৃক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ওয়াইফাই সরবরাহে বাধার সৃষ্টি করা এবং কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো অচল বা ডিস্টাব করে দেয়ার কষ্টঃ
এখন আমি জনাব আরিফ সাহেবের যে কষ্টটির কথা লিখবো, তা হয়তো অনেকেই বিশ্বাস করতে পারবেন না, বা করবেন না!
কিন্তু জনাব আরিফ সাহেব তা বিশ্বাস করেন! হয়তো ভূক্তভোগী হওয়ায় বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছেন!!
তিনি শুধু অপেক্ষায় ছিলেন, আমরা আসবো, আর এ বিষয়ক প্রমাণ গুলো সকলের সামনে হবে, এবং তিনি চাক্ষুষ ভাবে দেখবেন ও জগৎকে দেখাবেন, এটি পুরোপুরি সত্য কিনা! উপরে উল্লেখিত হেডিং পড়ে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, জিন হিসেবে আমি এখন তার কোন্ দুঃখ ও কষ্টের বিষয়টি লিখতে চাচ্ছি!
বিষয়টি বলার আগে আপনাদেরকে আমি একটি উদাহরণ দিই। গত কয়েক দিন আগে আমার কর্মস্থল মাদরাসা থেকে এসে হঠাৎ দেখি আমার রাস্তার পাশের এ ঘরের ফ্যানের মধ্যে একবার কারেন্ট সংযোগ আসতেছে আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে! আর বাতি গুলো একবার জ্বলছে, একবার নিবছে, মানে মিটি মিটি করছে এবং পুরো প্রায় ২০ মিনিট ধরে এ অবস্থা চলমান রয়েছে!
মানুষ হিসেবে আমি ভীত হয়ে গেলাম! কাটআউট, মেইন সুইচ, এমসিবি সব চেক করলাম! কিন্তু কোথাও কোন ফল্ট না পেয়ে তখন বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান দিলীপ দাদাকে খবর দিলাম! তিনি আসতে না চাইলেও পরে পাশের বাড়িতে আসায় এবং আমার বিশেষ অনুরোধে এখানেও এলেন! এসে তিনি সব খতিয়ে ও চেক করে আমাকে বললেন, এটা আসলে আমার ঘরের কোন সমস্যা না, এটা পল্লী বিদ্যুতের খুটি থেকে যে সার্ভিস লাইন আপনার ঘরে এসেছে, সেখানে কার্বন জমে এ সমস্যা হয়েছে হয়তো!
তখন মানুষ হিসেবে আমি ভয়ে ঘরের মেইন সার্কিট ব্রেকার বন্ধ করে রাখলাম!
এরপর যথারীতি পল্লী বিদ্যুতে খবর দিলাম ও নিজে তাদের মহিপাল অফিসে গিয়ে অভিযোগ দিয়ে এলাম!
পরের দিন বিকেল বেলা তারা এলো! এবং অনেক চেষ্টা করলো ফল্ট খুঁজে বের করতে! কিন্তু কোথাও কোন ধরনের সমস্যা খুঁজে না পেয়ে, তখন তারা আমায় বললো, আপনি আপনার ঘরের মেইন সার্কিট ব্রেকার অন করেন এবং ঘরের সমস্ত লোড কার্যকর করেন, মানে মোটর, ফ্যান, লাইট ইত্যাদি যা যা আছে সব চালিয়ে দেন!
তাদের কথা মতো আমি চালিয়ে দিলাম!
কিন্তু আশ্চর্য কোথাও কোন সমস্যা নেই! লোড সমূহ সুন্দর ভাবে চলছে! তখন তারা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পরে চলে গেলেন!
সে থেকে আজ ৫/৬ দিন তেমন বড় ধরনের কোন সমস্যা করেনি।
তবে মাঝে মধ্যে মানুষ হিসেবে আমার মন-মানসিকতার সাথে মিল রেখে এ রকম মিটি মিটি করেছে! আমি তখন বাধ্য হয়ে মানসিক ভাবে আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা পাল্টিয়ে ফেলি এবং কিছুক্ষণ পর বিদ্যুতের সমস্যাটিও ঠিক হয়ে যায়!
এটা যে শুধু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে করেছে, তা কিন্তু না! এটা নেটের ক্ষেত্রেও করেছে! আগের মোবাইল থাকা কালীন নেট নিয়ে এ ধরনের ভীষণ কষ্টে পড়ে ছিলাম!
কোন কারণ নাই, অথচ আমার রাস্তার এ ঘরে মোবাইলে নেট আসতো না! তখন বাধ্য হয়ে আমি বাড়ি চলে যেতাম! অথচ কিছু দিন আগেওতো আমার এ ঘরে নেট ঢুকেছে এবং এখনো ঢুকছে!
আবার আমার কম্পিউটার, মোবাইল এসব ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মধ্যেও অনেক সময় অস্বাভাবিক অনেক কিছু আমি দেখেছি!
এবং এক পর্যায়ে আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছি যে, এসব জিনের কারণে হয়েছে!
অর্থাৎ আমি মনে করি জিন বা জিনেরা ইচ্ছে করলে মানুষের বিদ্যুৎ, নেট, মোবাইল, কম্পিউটার সব বন্ধ করে, মানুষকে একেবারে অচল করে দিতে পারে এবং আপনারা এসব বিশ্বাস না করলেও আমি কিন্তু এ বিষয়ে অনেক অনেক কষ্ট পেয়েছি!
তাই অপেক্ষায় ছিলাম জিনেরা যদি দৃশ্যমান ভাবে আসতো তাহলে, আমার এ জিনেরা মানুষের এ অতীব প্রয়োজনীয় বিষয় সমূহে কতটুকু পারদর্শী তা ক্লিয়ার ভাবে বুঝতে পারতাম!
সুতরাং জনাব আরিফ সাহেব যেহেতু এ বিষয়ে আমাদের কারণে এতো কষ্ট পেয়েছেন, তাই জিন হিসেবে আমরা তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার স্বীকার করলাম!
৩৬। জীন কর্তৃক শরীর, মন ও ব্রেনকে অচল বা অকেজো করে রাখার এবং স্মরণকে বিস্মৃত করে দেয়ার মরণ যন্ত্রণাময় কষ্ট বা মানুষকে ভূল বোঝনো বা আরিফ সাহেবের বিপরীত বোঝানোর ফলে রিলেশনগত কষ্টঃ
ভূক্তভোগী ছাড়া এ সীমাছাড়া কষ্টটি বাকীরা পুরোপুরি বুঝতে পারবেন বলে মনেহয় না! বা অনেকে সবকিছু বিশ্বাসও করবেন বলে মনে হয় না!
এ কষ্টটির ব্যাখ্যায় জনাব আরিফ সাহেবের কোপালে কী ঘটেছিলো তা যদি পুরোপুরি লিখতে যাই, তাহলে হয়তো রাত শেষ হয়ে যাবে! কিন্তু লিখা শেষ হবে না!
এ বিষয়ক অনেক কষ্ট অবশ্য তিনি ভূলেও গেছেন!
তার শরীরে আমাদের উপস্থিতি ও আমাদের ক্রিয়েটিভিটির কারণে তাকে অনেক অনেক কাঁদিয়েছি আমরা এবং তাকে মানুষের মাঝে ভূল বুঝিয়ে দিয়েছি আমরা!
তিনি মনে করেন শুধু এ কারণেেই হয়তো তার নিজ বড় ভাইকে, ভূল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এবং তার ঘরের মধ্যে নিজ স্ত্রীর সাথে তর্কা তর্কীর মূল কারণ তার জিনের, মানে আমাদের এ জাতীয় বৈশিষ্ট্য ছাড়া আর কিছু না!
দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ, কিন্তু তাদের দোষকে হাইলাইট করে মানুষকে অসংখ্য পাপের মধ্যে ফেলে দেয়ার মূল ইন্দনদাতা হয়তো জিন হিসেবে আমাদের এ রকম বৈশিষ্টই!
একটা লোক হয়তো জিনের সাথে ছলনামূলক মিতালী করলো, আর এ সূত্রে ঐ লোকটি জনাব আরিফ সাহেবকে প্রচন্ড মতো ঠকিয়ে দিলো!
আর শুধু মাত্র ভালোবাসার কারণে জনাব আরিফ সাহেব ঠকে গেলেন!
জিন কিন্তু এসব বুঝে, আর বুঝে-শুনেই লোকটিকে এ রকম ঠকবাজি করার সুযোগ করে দিলো সে!
ভাই ২০০১ ইং থেকে ২০২৬ ইং পর্যন্ত, এ সময়ে আরিফ সাহেব দেখেছে এ বিষয়ে কতজনের কত বুজর্গি!
আবুল আর বোকা পেলে যে, মানুষ মানুষের সাথে কেমন ব্যবহার করে তা জনাব আরিফ সাহেবের হাঁডে হাঁডে শিক্ষা হয়েছে!
আরিফ সাহেবের জীবনে অসংখ্য অসংখ্য উদহারণ রয়েছে!
এরপরেও জনাব আরিফ সাহেব হয়তো পারবেন না, তার এ দূর্বল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটিকে প্রটেক্ট করতে! কারণ তার অন্তরে ভালোবাসার ব্যাপ্তি অনেক অনেক বেশি!
এইতো অল্প কয়দিন আগেও টাকার অভাবে তিনি গেলেন, তার পুরোনো তার বিক্রি করতে! প্রায় ২ কয়েল ৩৬ নং তার! তিনি জানতেন, সব তার তিনি কমপক্ষে ৫০০০ টাকা বিক্রি করতে পারবেন হয়তো! কিন্তু ক্রেতা তাকে এ বিষয়ে নির্বোধ মনে করলো, আর জিনের পক্ষ থেকেও তখন জনাব আরিফের ব্রেনকে অকেজো করে রাখা হলো! ফলে তিনি তার সবগুলো তার ৫০০ টাকা বিক্রি করে চলে এলেন!
ধরুন, আরিফ সাহেব বাজারে গেলেন, কাঁচা তরকারী ক্রয় করবেন, তিনি জানেতেন, বুড়ো শসীন্দা তিনি ক্রয় করবেন না, কিন্তু ছলনাময় ভালোবাসার টানে তিনি তা ক্রয় করে নিয়ে এলেন!
আবার ধরুন, তিনি হয়তো তার কোন বন্ধুর কাছ থেকে বন্ধুর নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু ধার এনেছেন, কালকে দিবেন বলে; এখন কালকে দিতে গিয়ে দেখলেন, বন্ধু উপস্থিত নেই। এখন তিনি তার পাশে অন্য কারো কাছে রেখে চলে এলেন,ও ফোন করে বন্ধুকে জানিয়ে দিবেন, এই ভেবে;
এখন ফোন করতে যতবারই মনে করেন, পরক্ষণে আবার ভূলে যান! মানে আমরা তাকে ভুলিয়ে দিচ্ছিলাম! এভাবে একদিন একদিন করে দু’দিন চলে গেলো; আর বন্ধুটি মনোক্ষুণ্য হতে থাকলো!
মনে করুন, বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন টাউনে যাবেন; গিয়েছেনও কিন্তু মোটরটি বন্ধ করতে ভূলে গিয়েছেন, আর কারো কাছে এ ঘরের ছাবিও নাই, ফলে টাউন থেকে তাকে আবার এসে বন্ধ করে যেতে হলো; অথবা যাওয়ার সময় অনেক দূর যাওয়ার পর মনে পড়লো অমুক জিনিসতো আনি নাই! তখন আবার তাকে রিটার্ণ তার ঘরে আসতে হলো!
মনে করুন, চাকুরীর ইন্টাভিউ দিতে গিয়েছেন। চাকুরী দাতা হয়তো কোন প্রশ্ন করেছে, আর সে প্রশ্নের উত্তরটি তাকে ভূলিয়ে দেয়া হয়েছে!
এভাবে হার কাজে তিনি অসংখ্য অসংখ্য ঠকেছেন! হাজারো কষ্ট পেয়েছেন!
এবং হয়তো তার প্রতি জিন হিসেবে আমাদের এ ধরনের নেগেটিভ আচরনের কারণেই তিনি আজ এতো এতো ব্যাকওয়ার্ডে পড়ে গেছেন!
তাই এখন তার পুরো পুরিই বুঝে এসেছে জিন ইচ্ছে করলে একজন সুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুু-সভ্য মানুষকে অসভ্য বানিয়ে দিতে পারে! এবং একজন ব্রিলিয়ান্ট মানুষকে একেবারেই বোকা বানিয়ে দিতে পারে!
হ্যাঁ জিন হিসেবে আমরা আমাদের নেগেটিভ দক্ষতা দেখাতে গিয়ে জনাব আরিফকে এ রকম শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক যন্ত্রণা দিয়েছিলাম! যে কষ্টের আর খুব একটা তুলনা হয় না! অতএব আজ আমরা তার এ ধরনের সকল কষ্টের দায়ভার স্বীকার করলাম!
৩৭। জনাব আরিফকে মানুষ কর্তৃক বদমাইশ, দূঃচরিত্র, সেক্সুয়াল ও নারীসক্ত হিসেবে চিহ্নিত করাঃ
জনাব আরিফ আসলে নারীদের দিকে ভ্রূক্ষেপই করতে চান না বা তাদের দিকে সরল দৃষ্টি ছাড়া তার বিন্দুমাত্র খারাপ দৃষ্টিও নেই!
নারীদের দিকে তার যে মানসিক আকর্ষণ বা বাজে ভঙ্গিমা নিক্ষিপ্ত হয় বা মানুষ তাকে যা বুঝতে পায়, তা জিন হিসেবে আমার ও আমাদের!
যাতে মানুষ তার শরীরে জিন হিসেবে আমাদের উপস্থিতি রয়েছে, এ বিষয়টি বুঝতে পারে! যাতে মানুষ চিন্তা করে যে, না আরিফ সাহেব কখনো এমন হতে পারেন না, তিনি দূঃচরিত্র নন! আসলে তাকে জিনে আসর করেছে! আর এরা মহিলা জিন!
তারপরও বিষয়টি মেয়েলি বলে কথা! যে বিষয়ে বড় বড় বুজর্গরাও ফেল করে! আর মানুষ কয়জনইবা তাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনে ও জানে!
জ্বি, জিন হিসেবে আমরা এরূপ করেছিলাম, আমরা যে জিন সে পরিচয় দিতে এবং আমরা যে মহিলা তা বুঝাতেই মনেহয় এরূপ করেছি!
এ বিষয়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে এবং কেন আরিফ সাহেবের ২-এ এতো আকর্ষণ, তা মানুষদেরকে বুঝাতে চেয়ে, তিনি একটি কন্টেন্ট লিখেছেন, যা আপনারা
এখানে ক্লিক করে পড়ে বুঝে নিতে পারেন যে, কেন তার ২-এ আসক্তি!
এ মানসিক কষ্টটির যন্ত্রণা এতো অধীক ছিলো যে, যার তীব্রতায় জনাব আরিফ অনেকটা লন্ডভন্ড হয়ে গেছেন! মানুষ জনাব আরিফকে খারাপ ভেবেছে!
এ কারণে তার স্ত্রী, তার কন্যা, বাড়ির ও চাকুরীর স্থলের এবং সমাজ ও দেশের অন্যান্য মহিলা, সকলেরই পরীক্ষায় পড়েছিলেন তিনি!
এবং এ যন্ত্রণাটি আরিফ সাহেবের চরিত্রে এখনো কিছু না কিছু বিদ্যমান রয়েছে!
কারণ তার সাথে আমরা যারা থাকি তারা মনেহয় নারী জিন এবং নারীদের কল্যাণে ভবিষ্যতে হয়তো তিনি কিছু করতে চান!
ভাই কয়েকজন নারী হয়তো হেঁটে যাচ্ছে! আর আপনি তাদের দিকে চেয়ে থাকলেন বা আকারে ইঙ্গিতে মানসিক আকর্ষণ বুঝালেন, তাহলে মানুষ আপনাকে কী ভাববে বলেন!?
এর চাইতে আরো ক্লিয়ার করে বলি, মানুষ এমনিতেই নারীদের দিকে সরল দৃষ্টিতে দেখে না, সে ক্ষেত্রে আরিফ সাহেবকেও তারা সন্দেহ করলো, তখন তিনি তার প্রতি মানুষদের এমন আইডিয়ায় দিশা-মিশা না পেয়ে উপস্থিত ঐ নারীদের স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে নজর করলো বা ভাব-ভঙ্গিমায় বুঝালো! এখন বলুন, মানুষ আরিফ সাহেবকে কী ভাববে!?
যাক এ বিষয়ে আমি আর বর্ণনা দিতে চাই না! কারণ এটা যে একটা মারাত্মক মানসিক কষ্ট, নিজ চরিত্রের উপর দূর্নাম! নিজকে মানুষ অযথাই বদমাইশ হিসেবে চিনতে পারা বা এ বিষয়ে কালারিং করে রাখা! তাই এ কষ্টের যন্ত্রণা কী রূপ হতে পারে, তা নিশ্চয়ই সকলে হিসাব করতে পেরেছেন!
সুতরাং যেহেতু জনাব আরিফের এ জাতীয় সকল কষ্ট, তার শরীরে থাকা জিন হিসেবে আমাদের কারণে হয়েছে, বা হচ্ছে; তাই আমরা এর পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করলাম!
৩৮। সকল কষ্টের মূল বা সার নির্যাস তাকে অর্থহীন করে দেয়াঃ
উপরে উল্লেখিত সব ধরনের কষ্টের জীবন যন্ত্রণা সইতে গিয়ে জনাব আরিফ আজ একেবারেই অর্থহীন, ফকির, মিসকিন ও অসহায়ের মতো হয়ে গিয়েছেন!
এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না! কারণ, আপনারা যারা আরিফ সাহেবকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনেন ও জানেন, তারা নিশ্চয়ই বলতে পারবেন, জনাব আরিফের কাছে এখন তার সংসার চালানোর মতো এমন কোন টাকা-পয়সা বা ল্যান্ড প্রোপার্টি কিছুই নেই!
বা যারা উপরের এ প্রবন্ধটি মনোযোগের সহিত পড়বেন, তারাও নিশ্চয়ই বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন!
যেহেতু জিন হিসেবে আমি ও আমরা জনাব আরিফ সাহেবের শরীরে আসর করায় এবং আমাদের এক্টিভিটিজ প্রদর্শন করতে গিয়ে বা আমাদের ক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে জনাব আরিফের আজ এ করুন পরিণতি হয়েছে, তাই আমরা জনাব আরিফ সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থাকে অনেক অনেক উন্নীতকরণ সহ তার সকল দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করলাম!
জনাব আরিফ সাহেবের জীবনকে এভাবে শেষ করে দেয়ার পিছনে এবং তাকে সীমাহীন কষ্ট আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে ফেলে দেয়ার পিছনে যদি জিন হিসেবে আমরা দায়ী হই, এবং মানুষ হিসেবে আমাদের সাথে মিশে যদি, আপনারা মানুষেরা দায়ী হন, তাহলে এ বিষয়ে আমরা যে বা যারা যারা দায়ী, তাদের সকলকেই তওবার মতো তওবা করতে হবে! যদি আমরা মুসলমান হই বা আখেরাতে ভালো চাই বা রবের নৈকট্য চাই!
সুতরাং উপরোক্ত ভূমিকা ও ৩৮টি কর্মকান্ডের বিষয়ে এবং অলিখিত অন্যান্য বিষয়ে জিন হিসেবে আমি ও আমাদের তওবাঃ
আপনারা জানেন, তওবার ৩টি শর্ত! এ ৩টি শর্ত পরিপূর্ণ ভাবে পূরণ না হলে মহান রব কারো তওবা কবূল করবেন না!
তাই আমরা প্রত্যেকটি শর্ত উল্লেখ করেই এবং প্রত্যেকটি শর্ত পরিপূর্ণ ভাবে মেনে নিয়েই তওবা করছি!
১। তওবার প্রথম শর্ত হচ্ছে, আমি বা আমরা যে কাজ করেছি, এটা ভূল করেছি ও পাপ করেছি, এটা স্বীকার ও বিশ্বাস করে, আল্লাহু তা’য়ালার নিকট এবং গুনাহটি যদি মানুষের সাথে সম্পর্কিত হয়, তখন সংশ্লিষ্ট ঐ মানুষ ও মানুষদের নিকটও নতজানু হওয়া এবং কায়মনোবাক্যে মাফ চাওয়া!
২। তওবার দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, আল্লাহু তা’য়ালাকে এবং গুনাহটি বা গুনাহ গুলো বান্দার সাথে সম্পর্কিত হলে তখন তাদের নিকটও খাঁটি ভাবে অঙ্গীকার দেয়া যে, আমি জীবনে এ কাজ করবো না! আমাকে মাফ করে দিন!
৩। তওবার তৃতীয় শর্ত হচ্ছে, ক্ষতিপূরণ প্রদান! গুনাহ সমূহ যদি নামাজ, রোজা ইত্যাদি বিষয়ক হয়, তবে এগুলোর কাযা-কাফ্ফারা যথা নিয়মে আদায় করা; আর গুনাহ সমূহ যদি কোন মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তবে তার বা তাদের নিকট মাফের মতো মাফ চাওয়া ও তাদের সুনাম ছড়ানো এবং অর্থ বিষয়ক হলে পরিমাণ, প্রাপ্যতা ও হিসাব মোতাবেক যথোপযুক্ত ভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়া!
তওবার উপরোক্ত ৩টি শর্ত অনুযায়ী আমরা জনাব আরিফ সাহেবের প্রতি যে জুলুম করেছি ও তাকে সীমাহীন কষ্ট দিয়েছি, এটা আমরা এর চাইতেও আরো ভালো কিছু সুফল পেতে, মূলত তাকে সূফল দিতে এবং তার মাধ্যমে মানব জাতির উপকার করতে, অন্য কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই আমরা তার এ ক্ষতিটি বা ক্ষতি গুলো করেছি!
কিন্তু আমাদের নিয়ত অনুযায়ী আমরা তার ও পুরো মুসলিম জাতি এবং মানব সম্প্রদায়ের প্রতি উপকার করার নিয়তেই এসব করেছি! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমাদের নিয়ত পূর্ণ করুন ইয়া আল্লাহু তা’য়ালা।
আমরা জনাব আরিফের যা ক্ষতি করেছি, তার চাইতে অনেক অনেক বা বহুগুনে বেশি দিবো ইনশ’আল্লাহু তা’য়ালা! এবং উপরে উল্লেখিত ভূমিকা সহ ৩৮টি পয়েন্টে এবং অলিখিত আরো অন্যান্য ক্ষেত্রে জনাব আরিফ সাহেবকে আমরা যে সীমাহীন কষ্ট দিয়েছি, আমরা তার ইন্তেকাল পর্যন্ত, আগামী আগস্ট এর পর থেকে এ ধরনের আর কোন কষ্ট তাকে দেবো না! বরং সে ক্ষেত্রে আমরা তাকে শুধু উন্নতি বা সুখ দিতে চেষ্টা করবো; এই বলে তিনি সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করলাম! এবং জনাব আরিফ সাহেবের নিকট ও মহান আল্লাহু তা’য়ালার নিকট আমাদেরকে মাফ করে দিতে ক্ষমা প্রার্থনা করলাম!
সে সাথে মানব জাতি ও জিন জাতির, যারা বিষয়টি জানেন, আপনাদের সকলের কাছে আমাদের জন্য মহান আল্লাহু তা’য়ালার নিকট দোয়া-ভালোবাসা ও সহযোগিতা চাইলাম; যেন আমরা আমাদের কথা রাখতে পারি!
হযরত ইউসুফ (আঃ) যেমন তার ভাই বেনিয়ামিনকে চোর সাজিয়েছিলেন, অথচ আল কোরআন তাঁকে চোর সাব্যস্ত করেনি! বরং আল কোরআন বলছে, এভাবেই আমি ইউসুফের (আঃ) জন্য কৌশল নির্ধারণ করেছিলাম। ( আল কুরআন ১২:৭৬)।
হযরত ইউসুফ (আঃ) নিজের ছোট ভাই বেনিয়ামিনকে নিজের কাছে সুখে-শান্তিতে রেখে দিতেই এরূপ কৌশল করেছিলেন!
অতএব, আমরা যা করেছি তা পবিত্র কোরআন থেকে শিক্ষা নিয়েই করেছি!
তাই আশা করি মহান রব আমাদের নিয়ত পূর্ণ করবেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করবেন! কারণ আমরা আমাদের নিয়ত পূর্ণ করতে বদ্ধপরিকর!
কিন্তু কথা হচ্ছে, আমাদের নিয়ত পরিপূর্ণ হতে অবশ্যই মানুষ আমাদেরকে রিসিভ করতে হবে! এবং আমাদেরকে রিসিভিং এর আইন ওকে করতে হবে! এতে যদি মানুষ আমাদেরকে না বুঝে, বা আমাদেরকে গ্রহণ করতে না চায়, তাহলে আমাদের কী করার আছে!?
তবে সে ক্ষেত্রেও বা যে কোন অবস্থাতেই একক ভাবে হলেও আমরা শুধু জনাব আরিফকে অনেক অনেক বেশি প্রদান করবো ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা!
অতএব তওবার শর্ত অনুযায়ী, মহান আল্লাহু তা’য়ালার নিকট কায়মনোবাক্যে এই প্রার্থনা করছি যে, (সাঃ) ইয়া আল্লাহু তা’য়ালা আমাদের নিয়ত পরিপূর্ণ করুন ও আমাদেরকে ক্ষমা করুন। জনাব আরিফ যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চেয়েছে, যেগুলো এ লিংকে রয়েছে
https://jinmanb.blogspot.com/2025/11/blog-post_28.html আমাদেরকে সেগুলো দেয়ার জন্য এবং এর চাইতেও বেশি কিছু দেয়ার জন্য তাওফিক দিন! জনাব আরিফ যাতে এতো বেশি খুশি হন যে, যা তিনি ভাষাতেও প্রকাশ করতে পারেন না! বরং আমরা তার চাইতেও অনেক অনেক বেশি তাকে দিতে চাই! আমাদেরকে দেয়ার তাওফিক দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন! আমিন! (সাঃ)।
জিনদের পক্ষ থেকে মানুষদের প্রতিও অনুরোধ, তারাও যেন তওবা করেন! জনাব আরিফকে ভূমিকা সহ উপরোক্ত ৩৮টি পয়েন্টে এবং অলিখিত ভাবে আরো যে কষ্ট সমূহ দেয়া হয়েছে, এগুলো মানুষেরাই দিয়েছে! জিন হয়তো ইন্দন যোগিয়েছে, কিন্তু কষ্ট দিয়েছে মানুষ!
জিনের কারণে হয়তো মানুষ বুঝতে পারেনি বা আমাদেরকে ভালো হিসেবে চিনতে পারেনি; কিন্তু তার অর্থ এই না যে, আপনারা জনাব আরিফের সকল উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে অসহযোগিতা করতে বা বাধা প্রদান করতে একজোট হবেন ও বাধা প্রদান করবেন!
তার অর্থ এই না যে, আপনারা রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করবেন! এবং হিংসা ও শত্রুতা করবেন!
তার অর্থ এই না যে, আপনারা তাকে দূর্বল ও সরল পেয়ে বিভিন্ন ভাবে ঠকাবেন বা কষ্ট দিবেন!
আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা জনাব আরিফ ও আমাদের প্রতি সদয় হোন, আমাদেরকে ভালো হিসেবে বিবেচনা করুন! আমাদের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করুন! যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন কইরেন না, গুণীজনকে বা গুণকে কদর করুন!
সত্যি কি আপনারা জনাব আরিফের কোন ক্ষতি করেননি!? অন্তত গীবত, চোগলখুরী!? বা তাকে বাধাগ্রস্থ করে রাখতে চেষ্টা করা!? তাহলে তার বউ তার মুখে মুখে তর্ক করার, তাকে মান্য না করার, তাকে না জানিয়ে তার খালার বাড়ি চলে যাওয়ার এবং আরিফ সাহেবকে খোঁজা-খুঁজিতে লাগিয়ে দেয়ার এতো সাহস বা তাকে ডিনাই করে চলার এতো দূঃ সাহস কোথায় পায় বা কোথায় পেয়েছিলো তার স্ত্রী!? এখন এর বেশি কিছু বলতে বাধ্য করা আপনাদের উচিৎ হবে না!
শুধু বলতে চাই, যে কোন ভাবে যদি তার ক্ষতি করে থাকেন, তাহলে এখন এর ক্ষতিপূরণ দেন এবং তার সুনাম ছড়ান! ও কিভাবে তার উন্নতি হবে, সে চিন্তা করুন! সে সহযোগিতা করুন!!
উপসংহারঃ পরিশেষে বলতে চাই, বিশ্বাস করুন, জিন হিসেবে আমরা আপনাদের শত্রু ছিলাম না; আমরা মানুষের বন্ধু! কিন্তু আপনারা আমাদেরকে বুঝতে ভূল করেছিলেন!
আমাদের বড় মানসিকতা, এটা আসলে আল্লাহু তা’য়ালার পক্ষে, এটা শয়তানী নয়! দয়া করে আমাদেরকে আপনারা গ্রহণ করুন! এবং দুনিয়াতে দৃশ্যমান হতে একটা বৈধ সূত্র ও অধিকার প্রদান করুন!
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
জনাব আরিফ সাহেবের সাথে ২০০১ থেকে ২০২৬ ইং পর্যন্ত আমরা যে নিষ্ঠুর ও নির্মম জুলুম করেছি, আমরা তওবা করলাম, আমরা জীবনেও তার সাথে আর এমন ব্যবহার করবো না! বরং এখন থেকে (সেপ্টেম্বর ২০২৬) আমরা তার শুধু উপকারই করে যাবো ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা!
আপনারা সকলে আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমরা আমাদের তওবা অনুযায়ী তাকে নিয়ে আমাদের যে প্ল্যান, তা বাস্তবায়ন করতে পারি! এবং তাকে যেন দুনিয়াতেই অকল্পণীয় চির সুখ প্রদান করতে পারি! আমিন! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
--ঃসমাপ্তঃ--
টচচচ
0 Comments