বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
![]() |
| আত্মীয় ও হুজুরদের বিরোধিতা |
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
পোস্টটির প্রকাশকালঃ ৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
"কেন আমি আমার বড় ভাইদের নেতৃত্ব মানতে অস্বীকার করেছি এবং নিকট আত্মীয় ও হুজুরদের বিরোধিতা করেছি এবং তারা কেন আমার বিরোধিতা, হিংসা ও শত্রুতা করেছে"
আপনারা জানেন, আমার পরিচিত ও আমাদের এলাকাবাসীর বিশ্বাস মতে, ২০০১ ইং সালে, সর্বপ্রথম আমার শরীরে কতগুলো মহিলা জিন এর উদ্ভব হয়েছিলো! এবং ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে এসে, দুনিয়াতে তারা মানবাকৃতিতে আমার নিকট আমাদের বংশীয় মর্যাদা হেফাজত করণে এবং মুসলিম জাতির ও পৃথিবীর মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হতে চাচ্ছে!
এ বিষয়ে এখন আমি আর বিস্তারিত কিছু লিখছি না!
আপনাদের কারো যদি আমার বিস্তারিত ইতিহাস জানতে মন চায়, তাহলে আমার বিভিন্ন ব্লগ সাইটে প্রকাশিত অতীতের বিভিন্ন সময়ের পোস্টসমূহ পড়ে নিতে পারেন!
আজকে এ পোস্টটি সংক্ষিপ্ত আকারে লিখছি!
কারণ অতীতের বিভিন্ন সময় আমার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা সমূহ অর্থাৎ আমার আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন, বন্ধুবান্ধব তারা আমার সাথে কী রকম ব্যবহার করেছিল, তা আমি আমার বিভিন্ন ব্লগ সাইটে এবং আমার ওয়েবসাইটে আমি প্রকাশ করেছিলাম এবং তা ফেসবুকে শেয়ার করে আমি মানুষদেরকে জানিয়েছিলাম!
যদিও আমার ওয়েবসাইট সমূহ এখন আর নেই!
সেখানকার কিছু পোস্ট আমি আরাম ব্লগ সাইটে রিপ্লেস করার সুযোগ পাইনি!
তবুও উল্লেখযোগ্য ঘটনা সমূহ বা কারণসমূহ এখনো আমার ব্লগ সাইটে বিদ্যমান রয়েছে!
আজকের এ পোস্টে আমি শুধু পয়েন্ট আকারে লিখতে চাই, আমার উদ্ভবের সময়ে কেন আমি আমার আত্মীয়-স্বজনের বিরোধিতা করেছিলাম এবং এই বিরোধিতা এখনো কেন চলমান আছে ও তারা কেন আমার বিরোধিতা করেছে বা করতেছে এবং শত্রুতা করেছে বা সমর্থন করে নাই, বাধা দিয়েছে এবং সমস্ত মুসলিম জাতি কেন আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছে না বা কেন ইসলামের বিপরীত বা ইসলামী আইনে নেই এই কথা বলছে, আমি সেটি উল্লেখ করতে চাই!
অবশ্য এ বিষয়গুলো আমি এর আগে প্রকাশিত আমার পোস্ট সমূহে আমি বিস্তারিত ভাবে লিখেছিলাম, তবুও এখানে শুধু প্রধান প্রধান বিষয়গুলোই লিখছি!!
প্রথমত আপনারা আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী, তা জানতে নিম্নের লিঙ্কে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন-
https://jinmanb.blogspot.com/2026/09/blog-post.html?m=1
প্রথমে লিখছি আমি কেন আমার বড় ভাই এবং আত্মীয়-স্বজনদের বিরোধিতা করেছি-
১। যতদূর মনে পড়ে, একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় আমার উদয়নের সূচনালগ্নে সেই ২০০১ ইং সনে তখন আমার হুশ জ্ঞান ঠিকমতো ছিল না!
যেহেতু ভিন্ন একটি শক্তিশালী জাতি আমার শরীর, মন ও ব্রেনে, হঠাৎ একশন ঘটিয়েছে, তাই ঐ মুহূর্তে হয়তো, আমার বুঝ অনুযায়ী আমি সবকিছু করি নাই!
আর তাই আমার উদ্ভব সময়ে আমার মনে হয় আমার বড় ভাই, ভাবী, বা বাড়ির অন্যান্য আত্মীয় স্বজন গণ, সবাই আমাকে অবিশ্বাস করেছে, সন্দেহ করেছে এবং ইবলিশ জিন মনে করেছে; ও মনে করেছে যে, এটি একটি জিন জাতি, মানে শয়তান, মানে মানুষের শত্রু!
কারণ মানুষের স্বভাব অনুযায়ীই, মানুষ জ্বীনকে একটি আতংকের নাম, একটি শয়তানী নাম মনে করে!
এভাবে তাদের মন ও ব্রেনে পূর্ব থেকে ধারণ করা, তাদের নিজ জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, আমাকে তারা তাদের পক্ষে ভালো হিসেবে হয়তো গ্রহণ করে নিতে পারেনি; পরিণামে হয়তো তাদের আক্রমণাত্মক শত্রুপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যবহার, এবং তাদের এরূপ অবিশ্বাসময় দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে হয়তো জ্বালাতন করেছে; যার জন্য আমি মানুষ হিসেবে তাদেরকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারিনি!
যেহেতু তখন আমার ব্রেন ঠিকমতো কাজ করেনি!
যার জন্য হয়তো তখন আমি তাদের উপস্থিত বিরোধিতা করেছি!
আর এজন্য তারাও হয়তো আমার বিরুদ্ধাচারণ করেছে, বিরোধিতা করেছে, আমাকে বুঝতে পারেনি এবং শত্রু ভেবেছে!
এবং অযথাই হয়তো আমার সাথে জোরাজুরি করেছে!
যদি তাই হয়, তাহলে এটা আসলে আমার দোষ ছিল না! এটা তাদেরই দূরদর্শিতার অভাব ছিল!
এবং এতে প্রমাণিত হয়, জিন জাতি সম্পর্কে তাদের ব্রেন, ভুল আইডিয়া গ্রস্থ ছিল!
তাহলে স্পষ্টভাবেই এ দায়, কোনভাবেই আমার নয়; এটা আমার ভুল নয়, এটা তাদেরই ভুল ছিল; সুতরাং এতে তারাই অপরাধী!!
২। তারা দেখতে পেয়েছিল আমি খুব বেশি লম্বা লম্বা নামাজ পড়ি, সেজদা দিই, দীর্ঘ সময় ধরে কুরআন তেলাওয়াত করি, বিভিন্ন মাসনুন দোয়া সমূহ প্রায় সারাদিনই পড়তে চেষ্টা করি, তারা যেহেতু আমার এই বৈশিষ্ট্য দেখেছিল, তাহলে তারা আমার এই ধর্মীয় আমল-ইবাদতের কিভাবে পূর্ণতা আসবে, সেই উদ্দেশ্যে আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়ে কোরআন ও হাদিস শিক্ষায় আমাকে মনোনিবেশ করিয়ে আমাকে আলেম বানানোর প্রচেষ্টা চালালে, হয়তো আমি মানসিকভাবে খুশি থাকতাম, সন্তুষ্ট থাকতাম এবং এভাবে হয়তো আমি সুস্থ হয়ে যেতাম!!
যতদূর মনে পড়ে, আমি বলেছিলামও!
হয়তো আমি চেয়েছিলামও তাই!
আমার এখনো মনে আছে আমার জেঠাতো ভাই আমার কাছে জানতে চেয়েছিল যে, তুই কি হাটহাজারী ভর্তি হবি না পটিয়া ভর্তি হবি!?
আমি তখন তাকে কিছুই বলি নাই! কিন্তু পরবর্তীতে বাড়ীর মানুষদের অত্যাচারে এবং মাদ্রাসায় ভর্তি হবার ইচ্ছায়, আমি একাই বেরিয়ে গিয়েছিলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে এবং চট্টগ্রামে গিয়েছিলামও! কিন্তু ভর্তি হতে পারিনি কারণ আমার ব্রেন পুরোপুরি কাজ করেনি! আমি পথঘাট চিনতাম না!
কিন্তু আমার কোন আপনজন আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করায়নি! তারা আমার এইসব আমল-ইবাদত এর বিরোধিতা করেছে! আমাকে এ ধরনের আমল ইবাদত করতে দেয় নাই; বাধা দিয়েছে! আর তাই আমি হয়তো তাদের বিরোধিতা করেছিলাম!
এ পয়েন্টেও আমি অপরাধী নই! কারণ এই বয়সেও আমি হয়তো আলেম হতে পারতাম! যা আমার ভাইয়েরা বুঝে নাই! অথবা আমাকে লেখাপড়া করাতে যে খরচ, তা বহন করতে রাজি ছিল না তারা, তাই তারা আমার এ ধরনের আশা-আকাঙ্ক্ষায় কোন আগ্রহ দেখায়নি! এতেও আমি অপরাধী নই!
৩। আমার বড় ভাইকে এক চাঁদের রাতে আমি বাড়ি থেকে অনুরোধ করে রাস্তায় ডেকে এনে, বর্তমান যেখানে আমি সমিতির অফিস দিয়েছি এবং যেখানে আমি থাকছি, এই জায়গাতেই বলেছিলাম যে, ভাইয়া বাড়িতে আপনাদের এত ধরনের প্রশ্ন উত্তর, ২৪ ঘন্টা আমার সাথে যে আপনারা শুধু প্রশ্নোত্তরে ব্যস্ত রাখেন আমাকে, ইশারা-ইঙ্গিতে, মুখে এবং আমি যে পর্দা পুশিদা মেনে চলার চেষ্টা করি, আমি যে ইসলাম অনুযায়ী ১০০% চলার চেষ্টা করি, তা আমি বাড়িতে পারছিনা! আমাকে এখানে একটা ঘর করে দেন এবং বাড়ি থেকে এনে ভাত খাওয়াইয়েন; এবং যেহেতু আমি আরেক জাতি, যা আপনারা চিনেছেন; তাই আপনাদের সাথে থাকা আমার দারা সম্ভব হবেনা!
আপনাদের সাথে থাকলে, আমি সুস্থ থাকতে পারবো না হয়তো!
আমাকে এখানে ঘর করে দিলে, আমি এখানে একা থাকলে, হয়তো ইনশা আল্লাহু তা'আলা, আমি সুস্থ হয়ে যেতে পারি!
আমার ভাই তাতে রাজি হন নাই, আমার জন্য এখানে ঘর তৈরি করা, তিনি পছন্দই করেন নাই!
যার জন্য আমার আবেদন পূর্ণ না হওয়ায়, আমি এই জন্য বিরোধিতা করতে পারি!
এ পয়েন্টেও আমার বিরোধিতা করা অন্যায় হয়নি!
যেহেতু আমি ভিন্ন জাতি, যেহেতু আমি ইসলাম অনুযায়ী ১০০% চলতে চেষ্টা করি, যেহেতু আমার কারেকটার এবং তাদের কারেকটারে ভিন্নতা রয়েছে, যেহেতু আমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং তাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে, এবং যেহেতু আমি বড় ধরনের কিছু করতেই দুনিয়াতে এসেছি; তাই যদি তারা আমাকে চাইতো, তাহলে আমাকে এখানে ঘর করে দেয়াটা, তাদের পক্ষে যুক্তিযুক্ত ছিল!
অতএব আমার বিরোধিতা করাটা অন্যায় হয়নি বলে আমি মনে করি!
৪। আমার মায়ের মুখে শুনেছিলাম, আমি নাকি, আমাকে ঔষুধ খাওয়াতে, হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিষেধ করেছিলাম, আমি বলেছিলাম আমাকে ধর্মীয় শিক্ষা দিন, আমাকে আলাদা জীবনযাপনের সুযোগ করে দিন, আপনাদের বেপর্দান পরিবেশে, অনৈসলামিক পরিবেশে, আমি থাকতে পারছি না!
আপনারা আমার কথা শুনেন নাই! আপনারা আমাকে ঔষধ খাওয়াইয়া গিয়েছেন! বিভিন্ন ধরনের তাবিজ-তুমার ইত্যাদি ব্যবহার করতে আমাকে বাধ্য করেছিলেন! সেখানে কূফরী তাবিজ ও কূফরী তদবীর ছিলো!
আপনাদের কারণে এসব কিছুও আমাকে হজম করতে হয়েছিলো!
আপনারা আমার কথা না রেখে, আমাকে ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে; তাবিজ- তুমার, হুজুর, খোনার, বৈদ্য ইত্যাদি খরচ ও হাসপাতাল খরচ বহন করতে গিয়ে, আমার জায়গা জমি সহ বিক্রি করেছেন! যার জন্য আমি আপনাদের বিরোধিতা করেছি!
এ পয়েন্টে আমি অপরাধ করিনি বরং আপনারা গুরুতর অপরাধ করেছেন!
আমি ঔষধ খাওয়াতে, তাবিজ তুমার লাগাতে এবং হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিষেধ করেছিলাম; মায়ের মুখের এই কথাটা যদি সত্য হয়, তাহলে আমার নিষেধ বাণী সত্তেও আপনারা ইয়াতিমের মত আমার সম্পদ নিজেদের মনগড়া ভাবে বিক্রি করেছেন বা মা-বাবাকে বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন!!
৫। আমি আমার ভাই ও অন্যান্যদেরকে বুঝিয়ে ছিলাম যে, আমরা মানব আকৃতিতে এবং আমাদের দ্বারা সম্ভব অন্যান্য আকৃতিতে, আপনাদের ছোট ভাইয়ের নিকট দুনিয়াতে আগমন করবো!
আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ করা এবং নিজেদের বংশকে সমুন্নত করা!
এ বিষয়টি আমি আমার ভাইদেরকে এবং অন্যান্যদেরকে বুঝিয়েছিলাম; আমার মনে হয় আপনারা বিশ্বাসও করেছিলেন!
কিন্তু আপনাদের কারণে যখন আমি আমার মতো করে চলতে পারি নাই, উপরুন্ত আপনারা আমায় অবিশ্বাস করে আমার বিরোধিতা শুরু করেছিলেন; যখন আমার আবেদন সমূহ, যেমন, ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন, ওষুধ খাওয়াতে না করা, যেমন আপনাদের অনৈসলামিক পরিবেশে চলতে না পারার কারণে আমাকে পৃথকভাবে জীবন-যাপনের ব্যবস্থা করে দেয়া, ইত্যাদিতে যখন আপনারা রাজি হন নাই, বরং করলেন বিরোধিতা! এবং এতে শুরু হলো এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের!
আপনারা আমাকে ইবলিশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন!
আপনারা আমি আপনাদেরকে মানি না কেন এই জন্য আপনারা আমার বিরোধিতা শুরু করেছেন!
আপনার মনে করেছিলেন আমাকে পেয়ে আপনারা জাতীয় কিছু একটা পাবেন; কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমি আপনাদেরকে মানি না বিধায়, আপনারা আমার বিরোধিতা আরম্ভ করেছেন!
পরে আপনারা যখন দেখলেন আমি কিছুতেই আপনাদেরকে হার মানছি না! আপনাদের নেতৃত্ব, আপনাদের কর্তৃত্ব, কিছুই যখন আমি মানতে নারাজ তখন আপনারা আপনাদের সেই যে লোভ, আমাদের বংশে বড় কিছু একটি আসবে, আপনারা জাতীয় ব্যক্তিত্ব হবেন, ইত্যাদির জন্য যে লোভে আপনাদেরকে পেয়েছিল, সে লোভ যখন আপনাদের পূর্ণ হচ্ছিলো না, তখন আপনারা আমার সাথে আরও মারমুখী ভূমিকা অবলম্বন করলেন এবং আমিও বিরোধিতা করতে থাকলাম; সেই কারণে, মানে আপনাদের লোভের কারণে, যখন আপনাদের পকেট ভর্তি হচ্ছিলো না, তখন আপনারা আমার বিরোধিতা করলেন এবং আমিও বিরোধিতা করলাম!
আমি তন্ময় হয়ে দেখতে থাকলাম, কেমন করে আপনাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ সামষ্টিক, মানে জাতিগত স্বার্থকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিল!
কেমন করে আপনারা পুরো মুসলিম জাতি, পুরো মানব জাতির একটি ঐতিহাসিক দিককে, একটি কল্যাণময় দিককে আপনারা চাপা দিতে চেষ্টা করলেন এবং দাবিয়ে ফেলতে চাইলেন, যেটি শুধুমাত্র আপনাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ না হওয়ার কারণেই চাইলেন!
আমি অবাক হয়ে সেই বিষয়টি হিসাব করতে থাকলাম!
এই পয়েন্টেও আমি নই, বরং আপনারাই চরম দোষী সাব্যস্ত হবেন!
৬। বাড়িতে যখন আপনাদেরকে আমি কিছুতেই আর মানছিলাম না; আপনাদের নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব, অধীনতা, কিছুই যখন আমি স্বীকার করতে পারছিলাম না, তখন আপনারা বাড়িতেও আমার সাথে বিরোধিতা শুরু করলেন, বিভিন্নভাবে আমাকে মানসিক কষ্টে জর্জরিত করলেন, এবং সমাজেও আপনারা আমাকে যাকে যেভাবে পেরেছেন, কাউকে বলেছেন আমাকে শয়তানে পাইছে, কাউকে বলেছেন আমার জিন ইবলিশ জিন, কাউকে বলেছেন আমি মানসিক রোগী হয়ে গিয়েছি, কাউকে বলেছেন পাগল হয়ে গেছি, কাউকে বলেছেন আমি বোকা আমার জ্ঞান বুদ্ধি কম, আমার যোগ্যতা কম, এত বড় জিন বা পরা শক্তিকে আমি কিভাবে কন্ট্রোল করবো, আবার কাউকে বলেছেন আমি খারাপ লোক, দুষ্ট প্রকৃতির লোক, কাউকে বলেছেন সে হুজুর হতে চায়, এই বয়সে সে কিভাবে হুজুর হবে, তার যোগ্যতা কী যে সে এত বড় উপরে যাবে, সে অনেক বড়ত্ব দেখায়, ইত্যাদি বলে আমাকে সমাজেও ব্ল্যাক করেছেন এবং মানুষের কাছে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন!
যার জন্য আমি আপনাদের বিরোধিতা করেছিলাম!
আর এই পয়েন্টেও আমি মনে করি আমি দোষী নই, কারণ আপনারা আমাকে আপনাদের স্বার্থ পূরণ না হওয়ায়, আমার যুক্তিপূর্ণ আবেদনগুলো আপনারা গ্রহণ না করায়, আপনারা আমার বিরোধিতা করেছিলেন!
শুধুমাত্র আপনাদের স্বার্থসিদ্ধি না হওয়ায় বা আপনাদের দূরদর্শিতার অভাব ও জ্ঞান স্বল্পতা হেতু, অযৌক্তিক ভাবে আপনারা আমার বিরোধিতা করেছেন, যার জন্যই আমি বিরোধিতা করেছিলাম!
এটা আমার অপরাধ ছিল না, সেটা আপনাদেরই অপরাধ বলে আমি মনে করি!
৭। সমাজের মানুষকে আপনারা বলেছিলেন আমি বড়ত্ব দেখাই, আমি অহংকারী, আমি গর্ব করে চলতে চাই, আমি দাম্ভিক!
এই যে কথাগুলো বলেছেন, এগুলো কতটুকু সত্য!?
দুনিয়ার সকল মানুষই প্রতিযোগিতায় প্রথম থাকতে চায়!
এখন আমি কি প্রতিযোগিতা করেছি দুনিয়ার জন্য, না আল্লাহু তা'আলার জন্য!?
আমিতো কোরআন শরীফ বেশি তিলাওয়াত করতে চাইতাম, নামাজ বেশি পড়তে চাইতাম, আল্লাহর ঘর মসজিদের দিকে বেশি যাইতে চাইতাম!
তাহলে যে আল্লাহু তা'য়ালার জন্য দৌড়াবে, সে ছোট থাকবে কেন!?
সে আপনার পিছনে থাকবে কেন!?
সে তো প্রথমেই থাকবে, সে প্রথমেই থাকতে চাইবে, এখানে় বড়ত্বের কী দেখলেন!?
জেনেশুনে আমার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার, এ কুৎসা রটনা কেন করলেন!?
আল্লাহু তা'আলা বড়!
সুতরাং আল্লাহু তা'য়ালার পথে যারা থাকবে, তাদেরকে বড় না মেনে, আপনারা দুনিয়াবী যারা, তারা বড় হবেন!?
আবার আপনাদেরকে এক নাম্বার ভাববেন!?
আর আল্লাহ্ ওয়ালা দেরকে অহংকারী ভাববেন, সেটা তো কোন যুক্তিপূর্ণ কথা নয়!!
কথা কি এরকম যে, আমি জিন ওয়ালা, ভূত ওয়ালা, আমি আল্লাহ্ ওআলা নই; আপনারা আল্লাহ্ ওয়ালা!?
যদি আপনাদের চাইতে আমাকে আল্লাহ ওয়ালা ভাবেন, তাহলে, সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে আপনারা আমাকে অহংকারী সাব্যস্ত করে, সমাজের কাছে আপনারা আমাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় ফেলেছিলেন, যা মানসিকভাবে আমাকে যথেষ্ট কষ্ট দিয়েছে!!
আপনাদের সবাইকে বলেছিলাম সকলে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়তে, সুন্নতি লেবাস ধারন করে চলতে, আপনারা তাতে রাজি ছিলেন না!
আপনাদেরকে বলেছিলাম পর্দা পালন করে চলতে, আপনারা আমার এই ধর্মীয় আচরণ গুলোকে আপনারা উগ্রতা হিসেবে, শয়তানী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন!
যা কখনোই যৌক্তিক ছিল না!!
মানুষের নিকট আমার বিষয়ে এমন গীবত-চোগলখুরীর কারণে সমাজের মাঝে আমি মজলুম হয়ে গিয়েছিলাম আপনাদের কারণে!!
যার জন্য অনেকটা দিশেহারা হয়ে, আপনাদের বিরোধিতা করেছিলাম!!
আপনাদের জুলুম, আর জুলুমের বিপরীতে প্রতিবাদ করা, বা আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সমাজের মানুষের নিকট সঠিক বিষয়টি বা অবস্থাটি মানুষকে জানানো বা প্রকাশ করা বা প্রচার করা এটা কখনো অপরাধ হতে পারে না!!
সুতরাং এ ইশুতে আপনারাই দোষী, আপনারাই অপরাধী, আমি নই!!
৮। সমাজের মানুষের কাছে আপনারা আমাকে শয়তান জিন বা ইবলিশ জিন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন!
আমার মধ্যে আপনারা শয়তানি আসলে কী দেখতে পেয়েছিলেন এবং তা কতটুকু বাস্তব সত্য ছিল!?
যার পরিপ্রেক্ষিতে আপনারা আমাকে শয়তান জিন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, এর কি কোন প্রমাণ আসলে আপনারা দিতে পারবেন!?
আমি তো নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তাম! কখনো নামাজ ছাড়িনি! আমি কোরআন শরীফ বেশি করে তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করতাম! আমি দীর্ঘ নামাজ পড়তাম! সত্য বলতে সবাইকে আমি উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করতাম! আমি পর্দা পুশিদা মেনে চলতে সবাইকে বলতাম! আমি সুদের বিরুদ্ধে, আমি মিথ্যার বিরুদ্ধে কথা বলেছি সব সময়!
তাহলে আপনারা আমাকে শয়তান জিন হিসেবে কিভাবে চিহ্নিত করলেন ও প্রচার করলেন!? যার জন্য সমাজের মধ্যে আমি বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় পড়েছিলাম!!
মানুষের এত পরীক্ষার মাঝে আমার অনেক কষ্ট হয়েছিল যার জন্য আমি আপনাদের বিরোধিতা করেছি!!
এই পয়েন্টেও আমি দোষী সাব্যস্ত নই, আপনারাই অপরাধী; কারণ শুধুমাত্র আপনারা আপনাদের জ্ঞান ও স্বার্থ অনুযায়ী একজন নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছেন!!
৯। আপনারা বুঝতে পেরেছিলেন আমি জিন হিসেবে মানবাকৃতিতে এ দুনিয়ায় আগমন করবো! যা আমি বলেছিলাম!
এবং আপনারা হয়তো অনেকেই বুঝতে পারছিলেন যে, আমরা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার (সাঃ) বংশ, মানে আমরা সৈয়দ বংশের সদস্য!
এবং এ সৈয়দ বংশকে উন্নত করতে, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর বংশকে সমুন্নত করতেই আমার আগমন হয়েছিল! এটাও আমি বলেছিলাম!
তার মানে আমি সমস্ত মানবজাতির কল্যাণে, মুসলিম জাতির কল্যাণে, আমি কাজ করতে এসেছিলাম!
এটা হয়তো আপনারা অনেকেই বুঝতে পেরেছিলেন!
কিন্তু সেটা বোঝার পরেও আপনারা আপনাদের ব্যক্তিস্বার্থ যখন চরিতার্থ হচ্ছিল না, ঠিক তখন আপনারা বিরোধিতা করা শুরু করলেন; এবং যেটা পুরো জাতির যে নিয়ামত, তাকে ছাড়িয়ে আপনারা ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেন, ঊর্ধ্বে তুলে ধরলেন! এবং একই সাথে আমাকে সমাজের মধ্যে যে ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন! সবার কাছে যেভাবে আমাকে কালারিং করেছেন! আমাকে শয়তান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন! আমাকে অহংকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন! আমাকে নারীলোভী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন!
যে কারণে ঘরে, বাইরে, সমাজে, রাস্তায়, ঘাটে, বাজারে, এভাবে সর্বত্র আমি মানুষের দৃষ্টিতে ভালো বিবেচিত হইনি!
আপনারা সকলে আমার চাইতে বড়, আমার চাইতে ধনী, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ভালো ভালো, বড় বড় চাকরি-বাকরি করেন, রাজনীতি করেন, বিভিন্নভাবে সমাজে আপনারা প্রতিষ্ঠিত!
আপনাদের ছেলে-মেয়ে, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, চাকুরে স্থানের বা কর্মস্থলের সহকর্মী; এভাবে আপনাদের পক্ষে আমাদের স্বার্থ অনুযায়ী, তাদের স্বার্থ অনুযায়ী আপনারা অনেক মানুষ!
সমাজের প্রায় সব মানুষই আপনাদের! যেহেতু আমি কোনো ভালো চাকরি করি না! ব্যবসা করি না! আমার কোন ইনকাম নেই! আমি তো রাজনীতি করি না! আমার অর্থ-বিত্ত কিছুই নেই! তাই সমাজের কোনো মানুষই আমার পক্ষে নাই!
আপনারা একজন যা বলেন, আরেকজন তাই শুনেন! আপনাদের একজনের সাথে আরেকজনের স্বার্থ জড়িত!
তাই কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্য, এত কিছু বিবেচনা করা, আপনাদের সেই নিয়ম আপনাদের মাঝে নেই!
আর এভাবে সকলের কাছে আমাকে ইবলিশ জিন ওয়ালা মানুষ, মানসিক রোগী, পাগল, বোকা, যোগ্যতাহীন, দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ! খারাপ লোক, অহংকারি, দাম্ভিক প্রকৃতির লোক, নারীলোভী দুইনাম্বার সিস্টেমের লোক, ইত্যাদি বলে আমাকে পুরো সমাজে এবং পুরো এরিয়াব্যাপী আমাকে ব্ল্যাক হিসেবে পরিচিত করিয়েছেন!!
আমি কোথাও যেতে পারতাম না, মানুষ আমাকে অসম্মানের দৃষ্টি দিয়ে, ছোটরাও আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধাংদেহী মনোভাবের দৃষ্টিতে, তাচ্ছিল্য আর অবহেলার দৃষ্টিতে দেখতো, বিবেচনা করত, ব্যবহার করতো!
আমার বিবেচনায়, আমার বিরুদ্ধে আপনাদের, এটি একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ!
এবং এ হিসেবে আমি আপনাদেরকে অপরাধী সাব্যস্ত করেই আপনাদের বিরোধিতা করেছিলাম!!
এ পয়েন্টেও আমি অপরাধী নই! বরং আপনারা চরম ভাবেই অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন বলে আমি মনে করি!
১০। আমার জিনেরা আমার শরীরে এবং আমার সাথে থাকে!
আর আমার স্ত্রী সহ ঘরে বাহিরে প্রায় সকল মানুষ আমার এই জিনদের কাছে মনে মনে প্রশ্ন করতেন, আর আমার জিনেরা মনে মনে উত্তর দিত!
আপনাদের বিভিন্ন সম্পর্কের কারণে আমার জিনেরা অনেক সময়ই আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে! কারণ আপনাদেরকে বুঝাতে হয়েছে যে, আমরা ভালো জিন!
এভাবে আমার পরিচয় দিতে গিয়ে, আপনাদের বিভিন্ন ধরনের টেকনিক্যাল এবং ক্রিটিকেল প্রশ্ন উত্তর প্রদান করতে গিয়ে, আমি যে জিন এবং আমি যে ভালো জিন, আপনাদেরকে তা বোঝানোর জন্য, আমি অনেক সময়ই কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে কষ্ট করেছি!
এভাবে করে আপনারা আমাকে ২৪ টা ঘন্টা কষ্ট দিয়েছেন! আপনাদের কাছে একটু দয়া মায়াও হয় নাই! না হয় এ লোকটা কতক্ষণ এভাবে প্রশ্ন উত্তর দিতে পারে!
আমার তো মানুষ হিসেবে কষ্টের পর কষ্ট হয়েছে! কিন্তু আপনারা আমাকে প্রশ্ন করা ছাড়েন নাই! আপনারা শুধু বুঝতে চেয়েছেন, শুধু বুঝতে চেয়েছেন!
বুঝতে বুঝতে আমায় সীমা ছাড়া কষ্ট দিয়েছেন!
অনেক সময় আপনারা মুখে বলতেন একটি, কিন্তু জানতে চাইতেন অন্যটি! অনেক সময় মুখে কিছু বলতেনও না; আমি আপনাদের মনোভাব বুঝতে এবং বুঝাতে গিয়ে অনেক সময়ই বিব্রত হয়েছি!
অনেক সময় আপনারা একই প্রশ্ন বারেবারে বলতে বলতে আমাকে অনেক সময় ত্যাক্ত, বিরক্ত দিয়ে দিয়েছেন! এই মনে মনে উত্তর দিতে গিয়ে এবং একই প্রশ্ন বারবার আওড়াতে গিয়ে আপনাদের মনোভাব বুঝতে এবং বুঝাতে গিয়ে আমি অনেক সময়ই আপনাদের সাথে রাগান্বিত হয়েছি এবং আপনাদের বিরোধিতা করেছি!
কারণ অনেক সময় আপনাদের মনোভাব আমার জিন আমাকে বুঝতে দিত না! আমি বুঝতে পারতাম না যে, আপনি আসলে কী বুঝাতে চাচ্ছেন! বা কী জানতে চাচ্ছেন! কারণ বিষয়টা তো মুখে বলেননি! বিষয়টা মনে মনে বলেছেন! বা ইশারা-ইঙ্গিতে বলেছেন! সেখানে কোনো বিশেষ কারণে আমি হয়তো উল্টো বুঝেছি বা আমি বুঝতে পারিনি!
যার জন্য আমি অনেক সময়ই রাগান্বিত হয়েছি এবং আপনাদের বিরোধিতা করেছি!
অনেক সময়ে সঠিক বুঝ দিতে পেরেছি, আবার অনেক সময় আপনাদের মন-মগজ বা স্বার্থ অন্যরকম হওয়ায় বা যে কারণেই হোক না কেন, হয়তোবা দিতে পারি নাই এবং একপর্যায়ে হয়তো আমি রাগ করে আপনাদের বিরোধিতা করতে বাধ্য হয়েছি!
এ পয়েন্টেও আমি দোষী নই, আপনারাই দোষী! কারণ আপনাদের মুখে একটি, মনে আরেকটি! আপনাদের এ দুমুখো সিস্টেম হওয়ার কারণে, এটা আমার অপরাধ নয়!
১১। জিন হিসেবে আমাকে সবাই নারীলোভী, সেক্সুয়াল, এরকম মন্তব্য করতে থাকে এবং এতে মানুষ হিসেবে আমি যথেষ্ট মর্মাহত হই!
ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমার কোনো ধরনের বেড রেকর্ড নাই, বরং আমাকে অনেক মেয়ে এবং অনেক মেয়ের গার্ডিয়ান পেতে চেয়েছিলো, আমি সেগুলো এভোয়েড করেছিলাম, অথচ আজ আমাকে নারীলোভী, সেক্সচুয়াল বলা হয়!
যার কারণে আমি মানুষ হিসেবে চরম অপমান এর শিকার হই!
আসলে আমরা চেয়েছিলাম আল-কোরআনের যৌন সম্পর্কিত কিছু আইন যেগুলো বর্তমানে ইন্যাক্টিভ হয়ে আছে এবং কিছু কিছু আইন মানুষ নাজায়েজ ও হারাম মনে করে!
এ ধরনের আইন গুলো আসলে জায়েজ এবং হালাল! যা আমার জিনের মাধ্যমে আমি গবেষণা করে বুঝতে পেরেছিলাম!
প্রকৃতপক্ষে আল-কোরআন এবং আল হাদিস, ইসলামের কিছু আইনকে জায়েজ হিসেবে বিবেচনা করে; আর পৃথিবীতে মানুষ ও জিন এগুলোকে নাজায়েজ হিসেবে শনাক্ত করে রেখেছে ও যুগ যুগ ধরে এভাবেই আমল করে চলেছে!
এটা তো হতে দেওয়া যায় না!
তাই আমাদের সংগ্রাম ছিলো, কিভাবে আমরা আল কোরআন ও আল হাদিস অনুযায়ী এ আইনগুলোকে বিশ্ববাসীর সামনে জায়েজ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবো!
মূলত আমাদের জিহাদ ইসলামী আইন বিষয়ক!
এ আইনগুলোর পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এবং নারী জাতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন হিসেবে ও নারী জাতি আজকে যে জুলুমের শিকার বা তাদেরকে যে পৃথিবীতে পণ্যের মত ব্যবহার করা হচ্ছে সেদিকে খেয়াল করে, আমি তাদের দিকে হয়তো কখনো কখনো তাকিয়েছি বা ইঙ্গিত প্রদান করেছি!
এছাড়াও আমি যে মহিলা জিন, তা হাইলাইট করতে গিয়েও আমি তাদের দিকে তাকিয়েছি!
এখানে আমাদের বিন্দুমাত্রও কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না বা নাই!
এ আইন গুলো পরিবর্তন করার অংশ হিসেবে আমরা একটি মাসয়ালার কিতাব লিখা আরম্ভ করেছি এবং এই কিতাবের প্রাথমিক প্রচেষ্টা হিসেবে আমরা যৌন সম্পর্কিত যে আইন গুলো একটিভ করা বা নতুন করে নাজায়েজ কে জায়েজ করার যে প্রচেষ্টা; সে আইনগুলো আমরা সেখানে পাবলিস্ট করেছি!
আপনারা প্রয়োজনে নিম্নে ক্লিক করে আইনগুলো পড়ে দেখতে পারেন-
https://fatwaarif1.blogspot.com/?m=1
অথচ মানুষগুলো কোন প্রমাণ ব্যতিরেকেই আমাদেরকে খারাপ বিবেচনা করে!
আর যখনই আমার স্ত্রী সহ যে কেউ আমাদেরকে খারাপ বিবেচনা করে, তখনই আমরা এর বিরোধিতা করেছি!
যেহেতু আমাদের উদ্দেশ্য আল কোরআনের আইন বিষয়ক এবং এটি একটি সওয়াবের কাজ!
অতএব আমাদের এ বিরোধিতার কারণে আমরা কিছুতেই দোষী সাব্যস্ত হতে পারি না!!
১২। এখন বলছি হুজুরদের বিরোধিতা আমি কেন করছি!
প্রথমতঃ আমি যদি পবিত্র কোরআন শরীফের কোন সূরা তেলাওয়াত করি বা দীর্ঘ নামাজ পড়ি বা সুন্নাত অনুযায়ী চলাচলের চেষ্টা করি বা জিকির-আজকার বা ভাল কোন ব্যবহার করি; সেই ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাকে হুজুরেরাও জিন ওয়ালা বলে কোন ধরনের সাপোর্ট দেয় না!
হুজুরেরাও হয়তো মনে করে আমি মাদ্রাসায় পড়িনি, আমি আলেম নই, আমি হাফেজ নই; আমি জিনে আসর ওয়ালা ব্যক্তি! তাই আমি সম্মান পাবার উপযুক্ত নই!
এছাড়াও দেখতে পাই, আমি যখন হুজুরদের সাথে কথা বলতে চাই বা তাদের সাথে ভালোবেসে, শ্রদ্ধা করে মিশতে চাই, তখন তারা আমাকে তাদের পাশে যেতে দেন না!
তাদের মান-ইজ্জতের ব্যবধান হয়! তারা আলেম, তারা হাফেজ, আর আমি বাঙাল! আমি মাদ্রাসায় পড়িনি! আমি আলিম নই! আমি হাফেজ নই! আমি কেমন করে তাদের সাথে তাদের পাশে যেতে পারি!?
এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি যখন কোন আমলের সম্মান, মূল্যায়ন যখন হুজুরদের কাছ থেকেও পাই না; যখন সম্মান করে তাদের পাশে গিয়ে তাদের সাথে মিশতে পারিনা, তারা যখন আমায় সসম্মানে একসেপ্ট করেনা বরং জিন ওয়ালা, ভূত ওয়ালা, বলে তিরস্কৃত করে; তখন আমি তাদের বিরোধিতা করা ছাড়া আর উপায় দেখিনা!
আল কুরআন তেলাওয়াতকারি, দীর্ঘ নামায আদায়কারী, এইভাবে ইবাদত গুজার ব্যক্তিকে জিন ওয়ালা, ভূত ওয়ালা, বলে প্রত্যাখ্যান করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, সম্মান না করা এবং সাধারন মানুষ বিবেচনা করে নিজেকে অনেক দামী হিসেবে মূল্যায়ন করে তাদেরকে পাশে থাকতে, পাশে রাখতে অসম্মানিত বোধ করা, এটা কোন আলেমের কাজ হতে পারে না!
অতএব আমি মনে করি আমি এই পয়েন্টে তাদেরকে যে বিরোধিতা করেছি তা আমি কোন অন্যায় করিনি!
১৩। হুজুরদের বিরোধিতা করার দ্বিতীয় যে কারণ তা অনেক গভীর!
এটি ইসলামী আইন বিষয়ক! হুজুরদেরকে যখন আমি বলি, জিনের সাথে মানুষের বিয়ে জায়েজ, তখন তারা বিশ্বব্যাপী প্রায় সবাই বলে নাজায়েজ!
এমনকি আমি অনেক মাদ্রাসায় এ বিষয়ে বড় বড় হুজুরদের কাছ থেকে প্রচন্ড ঘৃণা এবং বিরোধিতা পেয়েছি ও চরমভাবে অপমানিত হয়েছি তাদের নিকট!
অতীতে প্রকাশিত আমার কনটেন্ট সমূহ পড়লে আপনারা তা জানতে পারবেন!
এছাড়া আমি যখন বলেছি ইসলামে চার স্ত্রীর মধ্যে এবং ডান হাতে আবদ্ধ নারীদের সাথে গ্রুপ সেক্স জায়েজ; তখন তারা আমার বিরুদ্ধাচারণই শুধু করে নাই, আমাকে চরম লাঞ্চিত করার মানসিকতাও তাদের মধ্যে আমি দেখেছি!
এই ধরনের মাসআলা আমি জায়েজ মনে করি, আর উনারা নাজায়েজ মনে করে যার পরিণামে উনারা আমার বিরোধিতা করায় আমি তাদের বিরোধিতা করেছি!
আমি এই মাসআলা সমূহ যে জায়েজ, এর স্বপক্ষে আমি মাসআলা লিখেছি; যা উপরে উল্লেখিত ১১ নং ক্রমিকে আমি সেই লিঙ্ক দিয়েছি!
আপনারা সেখানে পড়ে দেখতে পারেন!
যেহেতু মাসআলা সমূহ জায়েজ! অতএব হুজুরদের বিরোধিতা করা এটা আমার পক্ষে অন্যায় হয়নি বলে আমি মনে করি!
এবার লিখছি তারা; মানে আমার বড় ভাই, অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন এবং হুজুরেরা কেন আমার বিরোধিতা করেছে-
যেসব কারণে তারা আমার বিরোধিতা করতে পারে তা নিম্নে ক্রমিক অনুসারে তুলে ধরলাম-
১। আমার মত জিনকে পেয়ে, যে কিনা মানব রূপে আবির্ভূত হবে, এবং সবাইকে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিবে, এরকম একটি সম্ভাবনা দেখে, তারা হয়তো তাদের মাধ্যমে দুনিয়াবাসী জাতীয় কিছু পাবে; এ রকম সম্মানের লোভে পড়ে ছিল; অবশ্য আমি তাদের ভাই হিসেবে এটা তাদের হকও ছিল!
কিন্তু যখন দেখল যে আমি তাদের বিরোধিতা করছি! এবং এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত আমাকে বাধ্য করতে না পেরে, এবং বাধ্য করতে গিয়ে, আমার উপর যে অত্যাচার, অবিচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ও জুলুম করেছিল; তা ঢেকে রাখতে, নিজেদের অপরাধ ঢেকে রাখতে এবং মানুষের নিকট, নিজেদেরকে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে, হয়তো তারা চেয়েছিল যে, আমি যাতে তাদের এরকম অমানবিক ব্যবহার সম্পর্কে কিছু বলতে না পারি, এইজন্য হয়তো তারা আমার মুখ ঢেকে রাখতে অর্থাৎ মানুষকে যাতে কিছু না জানাতে পারি; এইজন্যে আমার মুখ চেপে রাখতে তারা হয়তো এরকম ব্যবহার করে যাচ্ছিলো!
এটা হয়তো আমার সাথে তাদের এ রকম দুর্ব্যবহারের একটি কারণ হতে পারে!!
তাদের এ ধরনের কর্ম আমি, আমার বিরুদ্ধে অন্যায় ও জুলুম মূলক অপরাধ হিসেবেই সাব্যস্ত করি!
২। যেহেতু তারা একটি লোভে পড়ে ছিল, এবং যেহেতু তারা সেটি পাচ্ছিল না; আর তাই রাগে, ক্ষোভে, ঘৃণায়, প্রতিহিংসায়, প্রতিশোধের আগুনে, জর্জরিত হয়ে আমার বিরুদ্ধাচারণ করতে গিয়ে আমার সাথে হয়তো এরকম অমানবিক ব্যবহার করছিল!
এভাবে আমার বিরোধিতা করার কারণে, আমি তাদেরকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করছি!
৩। সমাজ ও দেশের কিছু মানুষকে হয়তো তারা বলছিল যে, আমার কাছে অনেক শক্তি আগত হয়েছে, এবং আমার বিদ্যা শিক্ষা যোগ্যতা, এ ধরনের কিছুই নেই বিধায়, এবং তারা এটিকে হয়তো শয়তান বলেও পরিচয় দিয়েছে, যার জন্যে এই মহাশক্তিকে অতিক্রম করে বা মহাশক্তিকে ধারণ করে বা লালন করে, আমি সাফল্যমন্ডিত হব, এরকম কোন আশা তারা দেখতে পায়নি; যার জন্য এ মহাশক্তি বা জিনকে তাড়িয়ে দেওয়া, হত্যা করে ফেলা তারা উপযুক্ত মনে করেছে!
মানুষদেরকে হয়তো তারা এরকম বুঝিয়েছে; আর এখন যদি তারা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করে এবং আমাকে ভালো কিছু করতে পথ তৈরি করে দেয়, অথচ আমি তাদেরকেই বিরোধিতা করছি; এমন একটা অবস্থায় আমি যদি সাফল্যমন্ডিত হই, তবে তারা যে মানুষদেরকে বলেছিল আমি অযোগ্য, আমার এ ধরনের কোন যোগ্যতা নেই, সেই হেতু আমার ভাই, আমার চাচা, বা আমার এই আত্মীয় লোকটি (মানে আমি) পারবেনা! মানুষদেরকে যে এভাবে তারা বুঝিয়েছিল এটা তো মিথ্যা হয়ে যাবে!! আর এটাতো তাদের প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও প্রতিহিংসামূলক অপকৌশল বা ছলচাতুরি! সমাজ ও দেশের কাছেতো তা প্রমাণিত হয়ে যাবে! এ বিষয়ে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাবে বা তাদের নির্বুদ্ধিতা, বা অমানবিকতা প্রমাণিত হয়ে যাবে!
সুতরাং, নিজেদেরকে ভালো মানুষ সাজিয়ে রাখতে বা ভাল মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করতেই অথবা আমার বিষয়ে তাদের নিজেদের যে বুদ্ধি বা নিজেদের যে প্লান, সেটা সঠিক ছিলো; সমাজ ও দেশের মানুষকে এ রকম কিছু বুঝাতে হয়তো তারা এরকম বিরোধিতামূলক, আমাকে দাবিয়ে রাখার ঘৃণ্য এই ব্যবহারগুলো করে যাচ্ছিল!
আর আমার বিবেচনায়, আমার বিরুদ্ধে তারা এভাবে বিরোধিতা করা, এটা অবশ্যই একটি অপরাধ!!
৪। তাছাড়া আমাকে যে দুষ্ট জিন বলেছে, বা ইবলিশ শয়তান বলেছে; বা আমি যদি প্রতিষ্ঠিত হতে পারি তাহলে দেশের ক্ষতি হবে, এই ধরনের ম্যাসেজ সমাজ ও দেশকে তারা যে প্রদান করেছে; এটা তো এখন সত্য হতে হবে তাই না!? সত্য যদি না হয় তাহলেতো তারা মিথ্যাবাদী হবে!? এ দুনিয়ায় কেউ কি মিথ্যাবাদী হতে চাইবে!? অতএব তারা সত্যবাদী হতেই হয়তো এরকম অমানবিক, ও অপকৌশলগত খারাপ ব্যবহার গুলো করিয়েছিল এবং এখনো করে যাচ্ছে!
যা অবশ্যই একটি অপরাধের শামিল!
৫। আবার এমনও হতে পারে যে, তারা বাস্তবেই আমাকে ইবলিশ শয়তান বা দুষ্ট জিন সদস্য; এটি বুঝতে পেরেছিল; আর যেহেতু তারা ইবলিশ শয়তান হিসেবেই আমাকে শনাক্ত করেছিল; তাই পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী ইবলিশ শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু! অতএব খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি তাদের নিকট শত্রু হিসেবে নির্ণীত হয়েছিলাম! অতএব শত্রুর সাথে এরকম ব্যবহার এটি খুবই স্বাভাবিক! আর তাই তারা এরকম নিপীড়ন মূলক, নিষ্পেষণ মূলক বা আমাকে নিঃশেষ করে দেয়ার মত এরকম ব্যবহার গুলো করে যাচ্ছে বা করছে!
আমি মনে করি এভাবে না বুঝে কাউকে ইবলিশ শয়তান শনাক্ত করা ও তা প্রচার করা, এটা একটি মারাত্মক অপরাধ!!
৬। আবার আমি যখন তাদের বিরোধিতা করছি, তাহলে তারা তো আমার বিরোধিতা করবে এটা স্বাভাবিক!
আমি যখন তাদের নেতৃত্ব কর্তৃত্ব মানবো না, তাদের ছাতায় যখন আমি প্রবেশ করব না, তাদেরকে মেনে যখন আমি চলবো না; তখন তারা আমার সাথে কেউ আসবে না, আমাকেও মানবে না, আমাকে মেনে চলবে না, এটাতো সহজ হিসাব!
তাছাড়া আমি তাদের ছোট, আমি অর্থনৈতিকভাবে ছোট, বয়সে ছোট, আমি তাদের ছোট ভাই, তাহলে আমি তাদেরকে মানবো এটাই তো নিয়ম!
এছাড়া আমার তো এমন কোন যোগ্যতা নাই যে, আমি দেশ-বিদেশে এমন কোন দায়িত্ব পালন করি না যে, আমাকে তারা মানবে বা মানতে হবে!
অতএব আমি যখন তাদের বিরোধিতা করেছি, আর তারা যেহেতু আমার বড় ভাই, তাহলে তাদেরকে না মানলে, তারা আমার চরম বিরোধিতা করবে এবং এই সমাজ ও এই দেশ আমাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এটা তো একেবারেই ন্যায় বিচার!
এবং এ কারণেই তারা এবং সমাজ ও দেশের মানুষেরা আমার বিরোধিতা করেছে ও করে চলেছে!
আসলে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা এটা কখনো কাম্য হতে পারে না!
এবং আমি মনে করি এটাও অপরাধ হিসেবেই সাব্যস্তকৃত হবে!
--: সমাপ্ত :--

0 Comments