Ticker

6/recent/ticker-posts

আল্লাহর জন্যে সব ত্যাগ, পরী এলে তার সাথে একলাই চলে যাবো, কাউকে নেবো না

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

একলা যাবো

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ 

পোস্টটির প্রকাশকালঃ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

"আমার কঠিন সিদ্ধান্তঃ আল্লাহর জন্যে সব ত্যাগ করলাম, পরী এলে তার সাথে একলাই চলে যাবো, কাউকে নেবো না! কেন আমি এত কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম তা জানতে নিম্নের পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য অনুরোধ রইল "

পোস্টটি সংক্ষেপে লিখছি!কারণ আমার এই ইতিহাস সম্পর্কে আপনারা প্রায় সকলেই অবগত আছেন!তারপরও কেউ যদি না জানেন তাহলে পূর্বে প্রকাশিত আমার ব্লগ ওয়েবসাইট সমূহের মধ্যে প্রকাশিত অন্যান্য পোস্ট সমূহ পড়ে জেনে নিতে পারেন! 

আপনারা জানেন আমার সাথে মহিলা জিন থাকে!আমার শরীরে সর্বপ্রথম এরা উদয় হয় ২০০১ ইং সনে! 

তাদের উদয় হওয়ার পর থেকে আমার   জীবনের উদ্দেশ্য এবং সহীহ্ নিয়ত এই হয়েছিলো যে, আমি শুধুই আল্লাহু তাআলার ইবাদত করবো এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো!

অবশ্য আমি আগেও আল্লাহ্ ভক্তই ছিলাম!  

পরবর্তীকালে বুঝতে পেরেছি যে, এটি আমার জিনদেরও একমাত্র নিয়ত! তারা আমার নিকট এসেছেই আমাকে নিয়ে তারা আল্লাহু তা'আলার ইবাদতে মশগুল থাকতে এবং মানুষের সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে!!

তখন আমি হয়তো আমার ভাই ভাতিজা সহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম যে,  জিন হিসেবে মানব রূপে দুনিয়াতে আসবো! 

এবং আমার বাড়ি সৌদি আরবের মক্কায়! 

আমি থাকি মসজিদে হারাম শরীফে! 

আমি ইনশাআল্লাহু তা'আলা আপনাদেরকেও সেখানে নিয়ে যাবো! 

একপর্যায়ে তারা আমার অবস্থা দেখে হয়তো বিষয়টি বিশ্বাস করেছিলেন! এবং মনে মনে অনেক খুশিও হয়েছিলেন!

কারণ জিন হিসেবে মানব রূপে দুনিয়াতে আগমন, এবং পবিত্র মক্কা নগরীর স্থায়ী ও সম্মানজনক বাসিন্দা হওয়া, এটা কিন্তু তাদের ও তাদের বংশের জন্যে অনেক অনেক সৌভাগ্য ও গৌরবের ব্যাপার!

কিন্তু বিপত্তি ঘটলো আমি প্রায় শুরু থেকেই তাদের বিরোধিতা শুরু করলাম! 

আমার বড় ভাই এবং অন্যান্য ভাইদের  নেতৃত্ব আমি মানতে অস্বীকার করলাম! 

কেন আমি তাদের নেতৃত্ব মানতে, তাদেরকে মেনে, তাদের ছাতার তলে থেকে, নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকার করলাম; সেটা আমার অন্যান্য পোস্ট পড়ে জেনে নিতে পারেন!

এখনই শুরু হলো লোভ কী জিনিস, মানুষের পাওয়ার  আকাঙ্ক্ষা, এটি কী জিনিস, তা বুঝার!?

তাদের বংশে আমি আগত হয়েছি, তাই তারা আমার নেতৃত্ব পাবে, পরিচিতি পাবে, এটা তাদের হক; কিন্তু আমাকে তাদের অধীনে না পাওয়ার কারণে তাদের যে লোভ, এই লোভ পুরন না হওয়ায়, তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কী রকম, জীবনে কী রকম হিংসা আর হিংশ্রতা তারা আমার সাথে করেছে, সেটি আমি হাড়েহাড়ে অনুভব করছিলাম!! আর এটি ছিলো অমানবিক! 

তাদের অসহযোগিতার কারণে, বাধার কারণে এবং মানুষকে ভুল বুঝানোর কারণে, আমি আজ প্রায় বুড়ো হয়ে গেছি; অথচ এখনো আমি প্রকাশিত হতে পারিনি; 

লোভ এর পরিমাণ বুঝি এইরকমই হয়! 

আপনারা পাবেন না বলে, আপনাদেরকে মানবো না বলে, কথার কথা আপনাদের ধর্ম মেনে নিব না বলে, আপনারা আমাকে দুনিয়া থেকে শেষ করে দিবেন!?

আচ্ছা আপনারা কি আমায় কিনে এনেছিলেন!? তা না হলে আপনাদের এত কিসের হক! যে হকের কারণে আপনারা লোভে পড়েছেন!! আর সে লোভের কারণে আপনার ব্যক্তি স্বার্থকে বিসর্জন দিতে পারছেন না!! 

দুনিয়ার জন্য, দুনিয়ার মানুষের জন্য, ব্যক্তি স্বার্থ পরিত্যাগ করতে না পারা, এটা   কতটুকু যুক্তিযুক্ত!? 

আমার ছোট ছোট ভাতিজারা, যারা আমার স্নেহধন্য, যারা আমাকে শ্রদ্ধা করার কথা ছিল, তারাও কেমন করে আমার সাথে যুদ্ধাংদেহী মনোভাব এবং অবহেলা, ঘৃণা আমার সাথে প্রদর্শন করেছে, এটি কেন!? 

বাহুবলে, ভয় দেখিয়ে, আর বিভিন্ন অপকৌশলে, আপনারা আমায় আপনাদের কঠিন করবেন!?

এছাড়া আমার  স্ত্রীকে দিয়ে, আমাকে এভাবে অপমানের পর অপমান করে যাবেন!? এটা আপনাদের কেমন লোভ!? 

এবং আপনারা আমাকে পাওয়ার এতো অধিকার আপনাদের কেন!?

আপনাদের লোভ এবং অধিকার কি এতো বেশি যে, যা সারা দুনিয়ার নিয়ামতকে আঁটকিয়ে রাখতে পারবেন!? 

সারা দুনিয়ার ভাগ্যের চাইতেও আপনাদের লোভ আর হক বড়!?

আমি আশ্চর্য হয়ে আপনাদের লোভের সীমা দেখতেছিলাম!?

এ কেমন লোভ, যা শুধু নিজের দিকে না আসলে, যা শুধু নিজের পকেট ভর্তি না হলে, আপনারা দুনিয়ার মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, নিয়ামত, এসবকে হত্যা করতে পারেন!?

ব্যক্তিস্বার্থ এতই বড় হয়ে গেল আমাদের কাছে!?

মহান আল্লাহতালা মানুষকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন শুধু কি ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য!?

তখন তাদের সাথে শুরু হল আমার এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ! তারা একটি শব্দ করলে আমি আরেকটি শব্দ করতাম!  আমি একটি শব্দ করলে তারা আরেকটি শব্দ করত! 

ছোট বাচ্চাদের সাথে, মহিলাদের সাথে, সকলের সাথে আমাদের বাড়ি ছিল আমার বিপক্ষে যেন একটি  মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ক্ষেত্র!

আমায় দেখে তারা থুথু মারতো! কথা, শব্দ ও বিভিন্ন অপকৌশলের মারপ্যাঁচে আমাকে অপমানিত করত! 

তখন আমায় বাধ্য করতে না পেরে, একই সাথে চলছিলো আমার জিনকে তাড়ানোর, জিনকে হত্যা করার, জিনকে ধূলোয় মিশিয়ে দেয়ার,   মহা এক কর্মযজ্ঞ!

কী হুজুর! কী বদ্য! কী ঈমান! কী কূফর! 

অথচ তারা হয়তো বিশ্বাস করেছিল, আমি জিন হিসেবে, মানবাকৃতিতে এই দুনিয়াতে আসবো!! 

কোন কিছু চিন্তা করার তাদের দরকার নাই!  তাদের একটি'ই কথা, কিভাবে এ জিনকে হত্যা করা যায়! অথবা কিভাবে এ জিনকে তাড়িয়ে দেওয়া যায়!  স্বার্থবাদীতার এ কী নগ্ন রূপ!

এভাবে জিন তাড়ানোর নামে এবং আমার শক্তি খর্ব করে দেয়ার উদ্দেশ্যে, তারা আমার উপর মানসিক ও শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে বিভিন্ন ধরনের তাবিজ-তুমার ইত্যাদি খাওয়া, গলায় পরিয়ে দেয়া, হাতে ঝুলিয়ে দেয়া, আমাকে রাতভর রুমে শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা ইত্যাদি অবর্ণনীয় কষ্ট তারা আমায় দিয়ে যাচ্ছিল!

এভাবে আমি মানসিকভাবে ভেঙ্গে যেতে থাকলাম এবং একপর্যায়ে প্রায় মানসিক রোগী হয়ে যাই! 

তারপর একসময় তারা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে, আর এর ঔষুধ খরচ ও বিভিন্ন গুণীন-খোনার-তাবিজ খরচ চালাতে গিয়ে, আমার প্রায় সব জমি বিক্রি করে ফেলল!

এভাবেই যখন দেখল যে, আমি কিছুতেই তাদের মানছি না এবং কিছুতেই তাদের অধীনতা স্বীকার করছি না!

বরং আমার হাবভাব, ও মন মানসিকতা, কথাবার্তা দেখে তারা এই'ই বুঝলো যে, আমি তাদের কারও নেতৃত্ব মানবো না!

বরং আমার নেতৃত্বই তাদেরকে মেনে নিতে হবে!

তাদের ছাতার তলে থেকে, তাদের নেতৃত্ব মেনে ও তাদের অনুসরণ করে, জিন হিসেবে আমি দুনিয়াতে বের হতে পারবো না! 

আমার কথা হয়তো এরকম ছিল যে আমি নেতা, তোমরা নয়! তোমাদেরকে মেনে আমি হয়তো তোমাদেরকে পাব! কিন্তু আমিতো শুধু তোমাদেরকে পেতে চাই না! আমি সারা বিশ্বের সকল মানুষের কল্যাণার্থেই দুনিয়াতে আগত হয়েছি!  সুতরাং তোমরা আমাকে মানতে হবে! আমি তোমাদেরকে মানতে পারব না!!

এরকম একটি হাবভাব বা মন মাইন্ড তারা আমার বিষয়ে হয়তো বুঝতে পারলো! 

তাছাড়া আমি হয়তো সেক্সুয়াল মনোভাব ব্যক্ত করছিলাম! যে কারণেও হয়তো তারা আমাকে অবজ্ঞা করছিল! 

সবমিলিয়ে তারা আমার এ রকম মন মাইন্ড কিছুতেই মেনে নিতে পারল না!

তাদেরকে যখন বলতাম, তোমরা সকলে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করবে!

তখন তারা ক্ষোভে হোক, রাগে হোক, আমাকে স্পষ্ট বলল যে, আমরা মসজিদে যাবো না, আমরা ঘরে নামাজ পড়বো!

এভাবে আমার দীর্ঘক্ষণ নামাজ পড়া, দীর্ঘক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করা, এবং মাসনুন দোয়া সমূহ সময়ে সময়ে পড়া, খুব বেশি আল্লাহু তা'য়ালার দিকে রযু হয়ে থাকা; এগুলো তারা পছন্দ করত না!

এ বিষয়ে হয়তো আমি করেছিলামও দশজন থেকে একটু বেশি! একটু অতিরিক্ত! 

ইত্যাদি করতে করতে তারা আমাকে প্রায় ফকির বানিয়ে দিল! 

তাদেরকে আমি বুঝিয়েছিলাম আমি আল্লাহু তা'আলার জন্যে! 

তাই আমাকে যে কোন একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিন! ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা এ বয়সেও আমি আলেম হতে পারব! আর আলেম হলে ইনশাল্লাহ আমি সুস্থ হয়ে যাব! এবং আল্লাহতায়ালার দ্বীনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারবো!

তারা আমার এসবকেতো পাত্তা দিলোই না,  আমার মন মানসিকতার কোন মূল্যায়ন তো করলেই না; উল্টো তারা সবাই মিলে, আমার ভাই, ভাতিজা, ভাবি, বোন; ভাইদের নেতৃত্বে সবাই মিলে আমার বিপক্ষে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিলো যে, ভবিষ্যতের যে কোনদিন যদি আরিফের জিন দুনিয়াতে সম্মানজনক কিছু করতে চায়, তাহলে তাকে তা করতে দেয়া হবে না! আমরা কেউ তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করব না! 

কারণ সে আমাদের ভাই! দুনিয়াতে যদি তাকে কিছু করতে হয়, তবে সে আমাদের মাধ্যমে করবে এটা আমাদের হক! 

আমাদের হক থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করা এটা তার অপরাধ!

অতএব সে যদি কিছু করতে চায়, তাহলে সে নিজে নিজে করুক! 

তারা আমাকে সোনালী আঁশ মনে করেছিল! যেহেতু জিন হিসেবে মানব রূপে আমি ঐতিহাসিকভাবে দুনিয়াতে আগমন করবো, সেটা আমি বলেছিলাম, বা বুঝিয়েছিলাম! 

হয়তো আমার মাধ্যমে তারা জাতীয় কিছু হবে, বা বড় ধরনের কোনো সাফল্য আমাদের বংশে বা তাদের কপালে জুটবে, এরকম আশা হয়তো তারা করেছিল! 

কিন্তু আমি যখন তাদেরকে মানতেই পারলাম না, তখন তারা হতাশ হয়ে, বা তাদের আশায় গুড়েবালি পড়ে, প্রতিহিংসাবশত হোক বা নিজেদের না পাওয়ার  মর্ম বেদনা থেকে হোক বা ক্ষোভ থেকে হোক, বা আমি বড় হলে তাদের সম্মানে হানি ঘটবে বা তাদের উন্নয়নের পথে আমি অন্তরক হবো  অথবা আমাকে শয়তান ভেবে হোক; তারা জীবনে আমাকে দাবিয়ে রাখা, অপদস্থ করে ফকির-মিসকিন বানিয়ে রাখার একটা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো!

এ লক্ষ্যে  সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষদেরকে দিয়ে, যাকে যেভাবে সম্ভব বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিত, বা ভূল ম্যাসেজ দিয়ে ইত্যাদি ভাবে আমাকে অপদস্থ করতে থাকলো! যার কারণে সমাজে আমি একেবারে নাজেহাল হয়ে গিয়েছিলাম!

এরপর থেকে তারা আমার উন্নয়নমূলক কোন কাজে  অংশগ্রহণ করে না! বরং বিরোধিতা করে এবং মানুষকে আমার বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের ম্যাসেজ প্রদান করতে থাকে! যার ফলে সমাজে আমি প্রায় ব্ল্যাক এবং ব্লক হয়ে গিয়েছিলাম!

অবশ্য আমার ব্রেনে সব সময় সবকিছু ধরত না! আগে তো ভাই কিছুই বুঝতাম না! কেন আমার ভাইগণ আমার এই প্রাণের আত্মীয়-স্বজন গণ, আমার সাথে এরকম করত আমি বুঝতাম না! 

আমি তারা বড় হিসাবে, আত্মার আত্মীয় হিসেবে, আমি সম্মান করে যেতাম! কিন্তু আমার জিনকে তারা ভুল বুঝে, বা শয়তান বুজে বা তাদের স্বার্থ উদ্ধার হবে না এ রকম কিছু বুঝে, তারা  আমার এসব আন্তরিক ব্যবহারকে অবমূল্যায়ন ও আমায় আঘাত করার, আমায় অপমান করার, একটা মোক্ষম সুযোগ বা হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলো!  

এসব আমার জিন বুঝলেও আমি বিষয়টি একেবারেই বুঝতাম না!  

যেহেতু শুরুতে যে আমি তাদের বিরোধিতা করেছি, তা আমি হুশ অবস্থায় করি নাই! আমার স্ব-জ্ঞানে করি নাই!

এভাবে তারা আমায় সর্বত্র অপমান অপদস্ত করে যেতে থাকলো!

তাদের সাথে আমার কিরূপ ব্যবহার হয়েছিল, কিভাবে তারা অপদস্থ করেছিল, এই ধরনের অবস্থা ও ঘটনা সমূহ যদি আপনারা জানতে ও বুঝতে চান, তাহলে আমার পূর্বে প্রকাশিত পোস্ট সমূহ পড়ে বুঝে নিতে পারেন! 

অবশেষে ২০২০ ইং সাল থেকে আমার অন্তর চক্ষু খুলে যেতে থাকলো! আমি বুঝতে পারলাম যে, এরা তো আমার আসলে বিরোধিতা করছে! 

আমাকে দাবিয়ে রেখে, আমাকে শেষ করে দিতে চাচ্ছে! আর তাই তখন থেকে আমি তাদের বিরোধিতা শুরু করলাম! 

তবে এটা কোন তাদের সাথে বেয়াদবি মূলক বা মারমুখী কোন বিরোধিতা আমার ছিলো না! যেহেতু তারা আমার আত্মীয়-স্বজন,  আমার রক্ত, আমার বংশ! তাই আন্তরিকভাবে আমি তাদেরকে ছিন্ন করতে পারিনা! 

আমি শুধু আমার প্রকৃত অবস্থা মানুষদেরকে বুঝাতে আমার ওয়েবসাইটে বা ফেসবুকে  বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে বুঝাচ্ছিলাম!   

বাস্তবে আমি মুখোমুখি কোন খারাপ ব্যবহার করিনি! বরং আমার লিখা তারা পড়ে আমার সাথে মারমুখী ব্যবহার করেছে! অথচ কখন কোথাও আমি মিথ্যা লিখিনি! 

এভাবে আমি প্রতিবাদ করায় ও তাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করায় বা প্রকৃত অবস্থা গুলো জানাতে শুরু করায় সমাজের মানুষেরা আমাকে চিনতে ও জানতে শুরু করেছিল! 

আমার যোগ্যতা বা আমার আল্লাহ ভীরুতা বা আমার যে  আসলে কোনো দোষ নেই, আমি পাগল নই, বা দুষ্ট  শয়তান ওয়ালা নই; এ বিষয়টা  মানুষ আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করলো!

তারা এত চরম অমানবিক বিরোধিতা করলো যে, টাকার অভাবে আমার ঘরে ঠিকমতো বাজার করতে পারতাম না! অথচ আমি উপোশ মরলেও, তারা দেখা যায় পেট ভরে খেত; অথচ আমার কোন খবর রাখতো না! 

এ বিষয়টি একজন মুমিন হিসেবে কিভাবে তারা করত, এত নিষ্ঠুরতার কী প্রয়োজন ছিল, আমি তা বুঝি নাই এবং কখনো বুঝবোও না হয়তো!

আপনারা হয়তো বলতে পারেন, আমারই রক্তের আত্মীয়-স্বজন ও প্রাণের আপনজনেরা আমার সাথে এরকম দুর্ব্যবহার করছে কেন?

এর কয়েকটি উত্তরই হতে পারে! যেমন- 

১। আমার মত জিনকে পেয়ে, যে কিনা মানব রূপে আবির্ভূত হবে, এবং সবাইকে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিবে, এরকম একটি সম্ভাবনা দেখে, তারা হয়তো তাদের মাধ্যমে দুনিয়াবাসী  জাতীয় কিছু পাবে; এ রকম সম্মানের লোভে পড়ে ছিল; অবশ্য আমি তাদের ভাই হিসেবে এটা তাদের হকও ছিল! 

কিন্তু যখন দেখল যে আমি তাদের বিরোধিতা করছি! এবং এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত আমাকে বাধ্য করতে না পেরে, এবং বাধ্য করতে গিয়ে, আমার উপর যে অত্যাচার, অবিচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ও জুলুম করেছিল; তা ঢেকে রাখতে, নিজেদের অপরাধ ঢেকে রাখতে এবং মানুষের নিকট, নিজেদেরকে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে, হয়তো তারা চেয়েছিল যে, আমি যাতে তাদের এরকম অমানবিক ব্যবহার সম্পর্কে কিছু বলতে না পারি,  এইজন্য হয়তো তারা আমার মুখ ঢেকে রাখতে অর্থাৎ মানুষকে যাতে কিছু না জানাতে পারি; এইজন্যে আমার মুখ চেপে রাখতে তারা হয়তো এরকম ব্যবহার করে যাচ্ছিলো! 

এটা হয়তো আমার সাথে  তাদের এ রকম দুর্ব্যবহারের  একটি কারণ হতে পারে!!

২। যেহেতু তারা একটি লোভে পড়ে ছিল, এবং যেহেতু তারা সেটি পাচ্ছিল না; আর তাই রাগে, ক্ষোভে, ঘৃণায়, প্রতিহিংসায়,  প্রতিশোধের আগুনে, জর্জরিত হয়ে আমার বিরুদ্ধাচারণ করতে গিয়ে আমার সাথে হয়তো এরকম অমানবিক ব্যবহার করছিল!

৩।  সমাজ ও দেশের কিছু মানুষকে হয়তো তারা বলছিল যে, আমার কাছে অনেক শক্তি আগত হয়েছে, এবং আমার বিদ্যা শিক্ষা যোগ্যতা, এ ধরনের কিছুই নেই বিধায়, এবং তারা এটিকে হয়তো শয়তান বলেও পরিচয় দিয়েছে, যার জন্যে এই মহাশক্তিকে অতিক্রম করে বা মহাশক্তিকে ধারণ করে বা লালন করে, আমি সাফল্যমন্ডিত হব, এরকম কোন আশা তারা দেখতে পায়নি; যার জন্য এ মহাশক্তি বা জিনকে তাড়িয়ে দেওয়া, হত্যা করে ফেলা তারা উপযুক্ত মনে করেছে!

মানুষদেরকে হয়তো তারা এরকম বুঝিয়েছে; আর এখন যদি তারা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করে এবং আমাকে ভালো কিছু করতে পথ তৈরি করে দেয়, অথচ আমি তাদেরকেই বিরোধিতা করছি; এমন একটা অবস্থায় আমি যদি সাফল্যমন্ডিত হই, তবে তারা যে মানুষদেরকে বলেছিল আমি অযোগ্য, আমার এ ধরনের কোন যোগ্যতা নেই, সেই হেতু আমার ভাই, আমার চাচা, বা আমার এই আত্মীয় লোকটি (মানে আমি) পারবেনা! মানুষদেরকে যে এভাবে তারা বুঝিয়েছিল এটা তো মিথ্যা হয়ে যাবে!! আর এটাতো তাদের প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও প্রতিহিংসামূলক অপকৌশল বা ছলচাতুরি! সমাজ ও দেশের কাছেতো তা প্রমাণিত হয়ে যাবে! এ বিষয়ে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাবে বা তাদের নির্বুদ্ধিতা, বা অমানবিকতা প্রমাণিত হয়ে যাবে! 

সুতরাং, নিজেদেরকে ভালো মানুষ সাজিয়ে রাখতে বা ভাল মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করতেই অথবা আমার বিষয়ে তাদের নিজেদের যে বুদ্ধি বা নিজেদের যে প্লান, সেটা সঠিক ছিলো; সমাজ ও দেশের মানুষকে এ রকম কিছু বুঝাতে হয়তো তারা এরকম বিরোধিতামূলক, আমাকে দাবিয়ে রাখার ঘৃণ্য  এই ব্যবহারগুলো করে যাচ্ছিল!

৪। তাছাড়া আমাকে যে দুষ্ট জিন বলেছে, বা ইবলিশ শয়তান বলেছে; বা আমি যদি প্রতিষ্ঠিত হতে পারি তাহলে দেশের ক্ষতি হবে, এই ধরনের ম্যাসেজ সমাজ ও দেশকে তারা যে প্রদান করেছে; এটা তো এখন সত্য হতে হবে তাই না!? সত্য যদি না হয় তাহলেতো তারা মিথ্যাবাদী হবে!? এ দুনিয়ায় কেউ কি মিথ্যাবাদী হতে চাইবে!? অতএব তারা সত্যবাদী হতেই হয়তো এরকম অমানবিক, ও অপকৌশলগত খারাপ  ব্যবহার গুলো করিয়েছিল এবং এখনো করে যাচ্ছে!

৫।  আবার এমনও হতে পারে যে, তারা বাস্তবেই আমাকে ইবলিশ শয়তান বা দুষ্ট জিন সদস্য; এটি বুঝতে পেরেছিল; আর যেহেতু তারা ইবলিশ শয়তান হিসেবেই আমাকে শনাক্ত করেছিল; তাই পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী ইবলিশ শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু! অতএব খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি তাদের নিকট শত্রু হিসেবে নির্ণীত হয়েছিলাম! অতএব শত্রুর সাথে এরকম ব্যবহার এটি খুবই স্বাভাবিক! আর তাই তারা এরকম নিপীড়ন মূলক, নিষ্পেষণ মূলক বা আমাকে নিঃশেষ করে দেয়ার মত এরকম ব্যবহার গুলো করে যাচ্ছে বা করছে!

৬। আবার আমি যখন তাদের বিরোধিতা করছি, তাহলে তারা তো আমার বিরোধিতা করবে এটা স্বাভাবিক!

আমি যখন তাদের নেতৃত্ব কর্তৃত্ব মানবো না, তাদের ছাতায় যখন আমি প্রবেশ করব না, তাদেরকে মেনে যখন আমি চলবো না; তখন তারা আমার সাথে কেউ আসবে না, আমাকেও মানবে না, আমাকে মেনে চলবে না, এটাতো সহজ হিসাব!  

তাছাড়া আমি তাদের ছোট, আমি অর্থনৈতিকভাবে ছোট, বয়সে ছোট, আমি তাদের ছোট ভাই, তাহলে আমি তাদেরকে মানবো এটাই তো নিয়ম!

এছাড়া আমার তো এমন কোন যোগ্যতা নাই যে, আমি দেশ-বিদেশে এমন কোন দায়িত্ব পালন করি না যে, আমাকে তারা মানবে বা মানতে হবে!

অতএব আমি যখন তাদের বিরোধিতা করেছি, আর তারা যেহেতু আমার বড় ভাই, তাহলে তাদেরকে না মানলে, তারা আমার চরম বিরোধিতা করবে এবং এই সমাজ ও এই দেশ আমাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এটা তো একেবারেই ন্যায় বিচার!

এবং এ কারণেই তারা এবং সমাজ ও দেশের মানুষেরা আমার বিরোধিতা করেছে ও করে চলেছে!

এভাবে ২০২০ থেকে ২০২৫ ইং এর ডিসেম্বর পর্যন্ত  চরম একাকিত্ব ও যন্ত্রণা ভোগ করার পর আমি মানসিকভাবে চেয়েছিলাম যে,  এবং শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, যদি জিন মানব রূপে ওপেন হয় এবং সে বা তারা যদি চায় যে, আমাকে নিয়ে যাবে, তাহলে আমি তাদের সাথে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে চলে যাব!!

অবশ্য এই সময়ের মধ্যে আমি নিজেও হিজরত করার জন্য অনেক চেষ্টা ও তদবির করেছিলাম! 

এবং যদি সম্ভব হত বিয়ের মাধ্যমে হোক, বা ভালো চাকরি বাকরি পাওয়ার মাধ্যমে হোক, এভাবে সম্ভব হলে হয়তো আমি চলে যেতাম! 

কিন্তু যদিও আমি ২০২৫ ইং এর ডিসেম্বরে ফাইনালি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদেরকে ছেড়ে, আমার জিনেরা উপস্থিত হলে তাদের সাথে,  আমি আমার ফ্যামিলির সদস্যদেরকে নিয়ে স্থায়ীভাবে যদি সম্ভব হয় চলে যাব!

তবু কিন্তু আমার হৃদয় অনেক বড় হওয়ায় প্রায় প্রতিনিয়তই আমার আত্মীয় স্বজনদের সাথে একটা ফ্রিকশনেবল  অবস্থা বা মনোমালিন্য হচ্ছিল! 

তাহলে যাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছেড়ে চলেই যাবো সিদ্ধান্ত নিলাম, তাদের জন্য আবার আমার যন্ত্রণা কেন সৃষ্টি হবে!?

কেন মনোমালিন্য সৃষ্টি হবে!?

যাক হয়তো আমি হিজরত করতে পারছিনা, কারণ আমার হৃদয় হয়তো আসলে অনেক বড়; যা এখনো হয়তো আমার আত্মীয় স্বজনকে বেষ্টিত করেই আছে! তাই যদিও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তথাপি আমার সিদ্ধান্তটি হয়তো এপ্রোপ্রিয়েট হয়নি!

অবশ্য তখনকার এই নিয়ত এর মধ্যে আমার স্ত্রী পুত্র-কন্যা, এদেরকে ত্যাগ করে নয়; মানে এদেরকে সহ আমি নিয়ে যাব! এই নিয়ত করেছিলাম!

এখানে একটা সত্য কথা হচ্ছে, আমার ভাই ভাতিজা সহ সকল আত্মীয় যতটুকু না কষ্ট দিয়েছে; তার চাইতে আমার মনে হয় কয়েক হাজার গুণ বেশি কষ্ট দিয়েছে আমার স্ত্রী! 

বিষয়টা আমি একটু ব্যাখ্যা করে বলছি!

প্রথমত আমি অনেক আগেই বলে দিয়েছি যে, জীবনে আমি কখনও বউ তালাক দেবো না! 

যদিও এটি জায়েজ হয় কিন্তু আমি কোনো অবস্থাতেই বউ তালাক দেবো না, এটা আমি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি!

দ্বিতীয়তঃ আমার ওয়াইফকে আমি মোহরানা বাবত আমার ঘরের পাশেই কিছু জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি! 

তৃতীয়ত, আমি বিয়ে করার সময়, তার বাবার কাছ থেকে ১,৫০,০০০/- যৌতুক নিয়েছি!

চতুর্থত আমার পারিবারিক কার্য সম্পাদন করতে মাঝেমধ্যেই তারা বা তাদের আত্মীয়-স্বজনগণ অল্পস্বল্প হলেও সহযোগিতা করছে! 

আর আমি মুখে একটু চিৎকার ছাড়া আমি কখনো তার অবাধ্যতার, বা আমার কথা অমান্যতার বা আমাকে অপমান এর বা আমার সম্পদ ও সময়কে হেফাজত না করার, বা আমার ইজ্জত, আমার সম্মান যাতে ভূলুণ্ঠিত না হয় সে চেষ্টা না করার, এবং আমি যাদেরকে দেখতে পারিনা, যারা আমার ক্ষতি করছে, আমার উন্নয়নে যারা বাধা দিচ্ছে; তাদের সাথে আমার স্ত্রীর হাত মেলানোর, আমার নিষেধ থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করার; বা আমাকে যত্নের বিষয়ে, আমার কার্যক্রম সমূহের উন্নয়নের বিষয়ে, আমার থাকা-খাওয়া পোশাক-পরিচ্ছদ, বুদ্ধি পরামর্শ ইত্যাদিতে পজিটিভলি অংশগ্রহণ না করার কারণে; মুখে একটু চিৎকার ছাড়া আমি আর তেমন কোন অ্যাকশন এ পর্যন্ত নিইনি! বা কোন অ্যাকশন নেয়ার সুযোগও আমার নেই!

যে মহিলার ভাত-কাপড় আমি ঠিকমত প্রদান করতে পারিনা; যার ঔষধপত্র আমি প্রয়োজনমতো দিতে পারিনা; যার সন্তানদের লেখাপড়া ইত্যাদি ঠিকমত প্রদান করতে পারিনা! 

মানুষের দান-দাক্ষিণ্যে চলে যে সংসার!

তাহলে আমি তার স্বামী হলেও তার উপর একশন নেওয়ার সে অধিকার আমার থাকেনা!! 

আর তাই, তার অনেকটা জানা হয়ে গিয়েছে যে, আমি তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অ্যাকশান নিব না! 

তাছাড়া আমার ঘরে এমন কোন মুরুব্বি নেই যে, সঠিক বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে দিবে অথবা এমন কেউ নেই যে যাদের প্রভাবে আমার স্ত্রী কথাবার্তা বলতে, আচার-ব্যবহার করতে অন্তত একটু সতর্ক হবে!

সম্পূর্ণ স্বাধীন, তার ইচ্ছেমত আমার ঘরে সে বিচরণ করতে পারে, কাজকর্ম করতে পারে!

এ অবস্থায় মানুষের প্রাকৃতিক নেচার অনুযায়ী, অন্তরে ভয় না থাকলে বা পাওয়ার লোভ না থাকলে, মানুষ সাধারণত, সন্মান যেমন করে না, তেমনি দায়িত্বও ঠিকমত পালন করেনা! উল্টো, অবহেলা, অমান্য,   অপমান করে!  

আমার স্ত্রী ও তো মানুষ, তাই তার কাছে এ স্বভাবগুলো থাকবে এটা তো স্বাভাবিক! 

তাছাড়া আমিতো পরিবারের প্রয়োজনীয়তা গুলোও পূরণ করতেই পারছি না!

এ অবস্থায় বিয়ের পর আমার স্ত্রী প্রথম প্রায় দুই বছর আমার কন্ডিশান পুরোপুরি বুঝতে পারেনি! তখন আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে! 

কিন্তু এরপর আমার বাড়ির লোকজন, তার জা-ভাসুর এরা হয়তো বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আমার সাথে ইবলিশ শয়তান থাকে নতুবা ভালো কোন পরীর দল থাকে যাদের প্রভাবে আমি একসময় জাতীয় লোক হয়ে যাব! কিন্তু বিপত্তি হচ্ছে এই দলটি আমাদের এ বংশের আমাদের পরিবারের কাউকে মানে না! 

এখন তারা হয়তো এই বোঝাচ্ছে যে, তোমার স্বামীর এত যোগ্যতা নাই যে, বা এত শিক্ষাদীক্ষা নাই যে, বা তিনি কোন আলেম নই! 

তাহলে তোমার ভাসুর দেরকে যদি মেনে না চলে, তাহলে কেমন করে তোমার স্বামী সাকসেস করবে! 

তাছাড়া তোমার স্বামী এই বংশের এবং এই পরিবারের; তাহলে তোমার ভাসুরদেরকে মেনে চলা এটা তার দায়িত্ব এবং তোমার ভাসুর গণ তাদের নেতৃত্বে প্রকাশিত হওয়া, তাদের হাত ধরে বেড়ে উঠা, এটা তাদের হক! 

ওই জিনের দলের প্রভাবে তোমার স্বামীও বাড়ির কাউকে মানেনা, সম্মান করে না, তাদের অধীনে চলতে রাজি নয়!

এমতাবস্থায় তুমি তাকে পারলে বাধ্য করো, বুঝাও, না হয় এ দল তাকে কোনো কাজও করতে দেবেনা এবং  সে প্রতিষ্ঠিতও হতে পারবে না!

এটা হয়তো তোমার স্বামীর মাথায় ঢুকছেনা!

আর এই মহাশক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে জীবনে বেড়ে উঠা যদি তোমার ভাসুরদের কাউকে না মানে, তাহলে সে জীবনে হয়তো কিছুই করতে পারবেনা! অথবা উন্নতিইবা কিভাবে করবে!?

এভাবে তাকে কী বুঝিয়েছে আমি জানিনা!? 

আমার বাড়ি, আমার ঘর, আমার আপনজন! অথচ আজ সবাই আমার পর হয়ে গেল! আর সে আমার স্ত্রী! এটা তার জন্মস্থান নয়! 

তারপরও আমি স্বামী হিসেবে তার নিকট পরের মতো হয়ে গেলাম, আর আমার বাড়ির আত্মীয় স্বজনেরা সবাই তার আপন হয়ে গেল! 

আমি এ হিসাব ঠিক বুঝিনা! 

ওরা কী বুঝিয়েছে এবং কী বুঝে, এরকম তার ঘাড়ে চড়ে আমাকে এভাবে সবাই মিলে আমার স্ত্রীর মাধ্যমে জ্বালাতন করছে, এইসব ভাই আমি বুঝতে পারছি না!

আমার স্ত্রী আমাকে সাপোর্ট দেয়া গিয়ে দূরে থাক, কিভাবে আমাকে অপমান করে, হেয় করে, খাটো করে, অসম্মানিত করে আমার ভাই-ভাবিদেরকে খুশি করবে, খুশি রাখবে, তাদেরকে সম্মানিত করবে এ যেন তার একটি নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে! 

বড় আশ্চর্যের বিষয় দেখলাম, আমার স্ত্রী আমাকে অপমান করতে, আমাকে কষ্ট দিতে এবং সীমাহীন মানসিক পীড়া দিতে, তার হৃদয়ে একটুও বাদে না! 

হয়তো সে এ বিষয়ে ভাবতেই পারেনা যে, এতে আমার কষ্ট হয় কিনা!? কারণ আমার দেহে তো একদল পরী থাকে! হয়তো তাদের প্রভাবে আমি মহাশক্তিমান হয়ে গেছি!

অথবা সে আমাকে নিয়ে বা আমার পরিস্থিতিকে নিয়ে ভাবেই না! 

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যেখানে আমাকে সে সম্মান করে না, সেখানে আমার ভাই বা ভাবীগণ যদি কোন কিছু করতে আহবান করে; তখন আমি দেখি তাদেরকে সে এত বেশি সম্মান করে, যেন তাদের কারণেই সে এ বাড়িতে থাকবে, থাকতে পারবে!

যেন তাদের কারণেই সে এ বাড়িতে সম্মানের সহিত বেঁচে থাকবে! তার এ রূপ মানসিক অবস্থা দেখে আমি আশ্চর্য হয়েছি বারে বারে! 

আমি চিন্তাও করতে পারিনি যে, আমি ভাবতেও পারিনি যে, খাওয়া-পরা আর বেঁচে থাকার জন্য মানুষ বুঝি নিজের স্বামীকে অপমানিত, অপদস্থ এবং উন্নতি হীন রেখে; স্বামী যা পছন্দ করে না, স্বামী যা নিষেধ করে, সেই কাজগুলো তার নিজের বিবেক অনুযায়ী সে করতে থাকে; এভাবে করে স্বামীকে অমান্য করার এই যে মানসিকতা, এটা আমার সংসারে হবে বা আমার জীবনে হবে, এ বিষয়টা অতীতে কখনো আমি কল্পনাও করিনি! 

যাক, স্ত্রীর প্রতি আমি চেয়েছিলাম, আমার এক সহযোদ্ধা, সহযাত্রী, আমার এক সহযোগী! যে আমার মর্মবেদনায় শান্তি প্রদান করতে পারে, এ রকম!

আমি আমার ঘরে স্ত্রীকে, আমার সংসারে, আমাকে শিক্ষা প্রদান করার জন্য শিক্ষক হিসেবে চাইনি!

আমি আমার বাড়িতে কোন প্রশিক্ষক চেয়েছিলাম না! 

সারাদিনের ব্যস্ততার পর, মানুষের বিভিন্ন ধরনের অপমানের পর, একটু শান্তি, স্বস্তি ও বিশ্রামের জন্য বাড়ি যাই; অথচ আমার এমনই দুর্ভাগ্য বাড়ি যাওয়ার পর, আমাকে সবাই অযোগ্য মনে করে, আমাকে শিক্ষা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়! বিভিন্ন উপমা দেয়ার মাধ্যমে, এ ঘর থেকে উপমা শুনতে হয়, ওঘর থেকে আরেক উপমা শুনতে হয়! উপমার শব্দে, উপমার বাণীতে আমি দিশেহারা অনেকটা!

দীর্ঘ মানসিক পরিশ্রম ও আঘাতের পর, একরাশ মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে, ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে, আমি বাড়ি যাই শান্তির প্রয়োজনে, সেবা পাবার আশায়!

কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমার স্ত্রী, এমনকি তার প্রভাবে আমার ছেলেমেয়ে গুলোও আমাকে শিক্ষা দিতে চায়!

ঘরে আমাকে চিৎকার করতে হয়, মাঝেমধ্যে গালিগালাজ পর্যন্ত করতে হয়, প্রায়ই  তর্কাতর্কি করতে হয়!

এটি আমার জন্য চরম অপমানের, লজ্জার, ঘৃণার!

আমার ব্যক্তিত্বের ওপর এ যেন এক হুমকি ও গ্লানিকর অশুভ পরিচয়!

আমার মনে হয়, এ রকম একটি প্লেস ও ফ্যামিলির মানুষদের মাঝে আমি কেন উপস্থিত হয়েছি, এটিই মনে হয় আমার একটি প্রধানতম দোষ!

তাদের জ্ঞান হয় না যে,  এই মানুষটি এখন এসেছে তোদের কাছে সেবা পেতে, একটু শান্তি পেতে, একটু খাওয়া-দাওয়া করতে, একটু যত্ন পেতে!

আর তোরা তাকে শিক্ষা দিস! তাকে সন্দেহ করিস! তাকে অবিশ্বাস করিস! 

তার উপর কোন আশা ভরসা তোরা রাখতে পারিস না!

তোদের বেঁচে থাকার অবলম্বন এই মানুষটিকে ভাবতে পারিস না! তোরা তোদের ভাসুর, তোদের জা, তোদের ভাতুষ্পুত্র, তাদেরকে তোরা তোদের বেঁচে থাকার অবলম্বন বলে মনে করিস! 

আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে তোরা তোদের আপনজন, তোদের স্বামী, তোদের বাবা; তোদের ঘনিষ্ঠ এ আপন লোকটাকে  অবহেলা আর অবমাননা করিস! 

তোদের কাছ থেকে এ লোকটি শিক্ষা পেতে চায় না!  উপমার বেড়াজালে তাকে তোরা ঝাড়তে থাকবি, এটি তোদের ও তোদের জাল, ভাসুর, কিংবা ছোট ভাতিজা, তোদের কাছ থেকে চায়না সে! 

এ প্রয়োজনে লোকটি তোদের ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশ করতে যায়নি! 

কিন্তু তোরা এ সরল বিষয়টি আজও বুঝতে পারিসনি!

আমার স্ত্রীর সমস্যা হচ্ছে তিনি ভালো লেখাপড়া জানেন না! তিনি নিজ জ্ঞানে যে বুঝে নিবেন বা সঠিক বিষয়টি যে বুঝতে পারবেন,  বা আমার প্রবন্ধসমূহ পড়ে যে কিছু বুঝবেন, এ ধরনের মন-মানসিকতা ও যোগ্যতা তার নেই! 

তিনি তার আশেপাশে যারা রয়েছেন, তাদের কাছ থেকে শুনে, তাদের মন-মানসিকতা অনুযায়ী বুঝে, সে অনুযায়ীই তিনি আমাকে বিবেচনা করেন! 

এখন কথা হচ্ছে তারা তো তাদের মতো করে বুঝাবে, তাদের স্বার্থ অনুযায়ী বোঝাবে, তাই না? 

এখন আমার স্ত্রী যদি সরল বিশ্বাসে তাদের অনুযায়ী আমাকে বুঝতে থাকেন তাহলে তারা তো আমাকে দাবিয়ে রাখবেন, দাবিয়ে রাখতে চাইছেন!

আর আমার স্ত্রী মনে করছে, আমি আসলে তাদেরকে না মেনে ভুল করছি! তাদেরকে মানতে হবে আমাকে! তাদেরকে মেনেই আমাকে চলতে হবে! এজন্য তার প্রচেষ্টা তাদের সাথে কিভাবে মিশিয়ে দেয়া যায়!! 

অবশেষে সীমাহীন সহ্য করার পর  ২০০০ কিংবা ২০০১ ইং থেকে আমি আমার আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, যারা আমায় ভুল বুঝতো, যারা আমায় শেষ করে দিতে চেয়েছিল, যারা আমায় শত্রু ভেবেছিল, আমি তাদের সকলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরম্ভ করি! 

এবং এই সময় আমার স্ত্রী, তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে, তাদের সাথে একত্রে থাকতে আমাকে বাধ্য করতে গিয়ে, তাদের উসকানিকে আমাকে জ্ঞান প্রদান করতে গিয়ে এবং শুধুমাত্র তাদের প্রয়োজনে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান করতে গিয়ে, তিনি কী করেছেন, বা আমার সাথে কী রকম ব্যবহার করেছেন, তা বুঝতে আপনারা আমার অতীতের পোস্টসমূহ পড়ে দেখতে পারেন!? 

এ বিষয়ে আমি শুধু সংক্ষেপে এই কথা বলতে চাই, আমার স্ত্রীর মাধ্যমে আমার বাড়ির যত জিন শয়তান রয়েছে এবং মানুষের যত কুপরামর্শ রয়েছে, সব কিছু আমাকে জিলিপির প্যাচ এর মতো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছিলো এবং জড়িয়ে রেখেছিলো! 

এটা আমি মিষ্টির প্যাঁচ এজন্য বলছি যে, এটা আমার স্ত্রীর মাধ্যমে আমাকে বেঁধে রেখেছে!

আর সাধারনত এ অদৃশ্য বাঁধনের অক্টোপাস থেকে, মানুষের উত্তরণ খুব একটা হয়না! এবং মানুষ বুঝতে পারো না যে, কেন তার উন্নতি হচ্ছে না! 

এ ধরনের বিষয়গুলোকেই সাধারণত বদনজর, যাদু, টোনা, বান এগুলো দিয়ে কবিরাজ গণ আখ্যা দিয়ে থাকেন!

এখানে আপনাদেরকে সিউর করে আমি আবারও বলছি যে, ইনশা আল্লাহু তায়ালা জিন হিসেবে আমি সৌদি আরবের বাসিন্দা!

আল্লাহু তা'য়ালার রহমতে ইনশা' আল্লাহু তা'য়াআলা আমি আমার আত্মার দেশে চলে যেতে সক্ষম হব! 

এতে আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি যে, আমার বাড়ির বা আমার বংশের বা আমার আত্মীয়-স্বজনদের আমি কাউকেই আমার সাথে আমি নেব না! 

এ বিষয়ে তারা যতই জাল বিস্তার করুক, যতই অপকৌশল করুক, কিংবা যতই আমাকে বাধা দিক, আমাকে যতই ভয় দেখাক, আমি কিন্তু কারো কথা শুনবো না!

এবং আমি তাদের কারও নেতৃত্ব মানবো না! আমাকে ছোট বলে যদি তারা মানতে না চায় তাহলে সেটা সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার! 

এখানে আমার কিছুই করার নাই! 

এতে আমার স্ত্রীকে তারা ভুল বুঝাতে পারে! যেমন আমি অযোগ্য! আমি একেবারেই সাধারণ মানুষ!

তাহলে বড় ভাইদেরকে না মেনে, তাদের নেতৃত্বে প্রচেষ্টা না চালিয়ে, এটা কি করে সম্ভব হতে পারে!? 

আমি পাগল, আমি মানসিক রোগী, না হয় এসব কথা কেন বলছি!? যা স্বাভাবিক নয়! ইত্যাদি ইত্যাদি! 

যা এতদিন ধরে আমার স্ত্রীকে তারা বুঝিয়ে আসতেছে বলে আমি বুঝতে পেরেছি! 

আমার স্ত্রীর সাথে তারা লিয়াজু করতে পারে! এবং আমার স্ত্রীকে কৌশলে তারা আমি যেন বাধ্য হই এরকম বুঝাতে পারে! 

আর যেহেতু এ বিষয়টি শুধু মানুষ নয়, জিনেরাও এইখানে অন্তর্ভুক্ত! 

তাই আমার স্ত্রীর হয়তো জ্ঞানের স্বল্পতা  হেতু সঠিক বিষয়টি তিনি হয়তো নাও বুঝতে পারেন! 

তাদের প্ররোচনায় হোক, কিংবা বিষয়টি একটি অতি প্রাকৃতিক বিষয় হওয়ায় অথবা আমার স্ত্রীর জ্ঞান বুদ্ধি কম হওয়ায় অথবা তার আমল ইবাদত কম হওয়ায়, যে কারণেই হোক আমার স্ত্রী, আমাকে এ বিষয়ে অবিশ্বাস ও উপহাস, অবমাননা এবং অপমান করে আসতেছেন দীর্ঘদিন ধরে! 

আমি আবারও আমার স্ত্রী সহ বংশীয় সকল সদস্যকে বলতে চাই, আপনারাতো আমাকে কিনে আনেন নাই, আমি নিজ থেকেই আপনাদের বংশে আবির্ভূত হয়েছি! তাহলে আমার স্বাধীনতা বড়, না আপনাদের হক বা লোভ বড়!?

তাছাড়া আমি কে এবং আমার রেঞ্জ আপনাদের চাইতে বেশী কিনা, বা দুনিয়াতে আমি কী করতে চাই, সেটা আপনাদের নেতৃত্বে সম্ভব হবে কিনা; এসব তো আপনারা যাচাই করেননি বা জানেন না!!

আপনারা জানেন, আমি যদি মানুষ হিসেবে দুনিয়াতে ওপেন হই, তাহলে নিঃসন্দেহে আমি জাতীয় কোন একজন! 

আর সেই ব্যক্তিগত লোভে পড়ে আপনারা জাতীয় এই বিষয়টিকে বা আন্তর্জাতিক এ বিষয়টিকে, আপনারা শেষ করে দিবেন!?

আপনাদের বাহুবল কি এতই বেশী হলো যে, আমাকে শেষ করে দিবেন!? আমাদের বিষয়ে আপনাদের আইডি আছে!? 

যদি না থাকে, তবে আপনাদের ছোটদেরকে সহ সবাইকে বাহুবল প্রদর্শন করতে নিষেধ করেন!! 

অপমান মূলক ব্যবহার করতে নিষেধ করেন!! 

এ পর্যন্ত অনেক অনেক অপমান সয়েছি; অনেক বঞ্চিত করেছেন! কিন্তু কাউকে একটা ফুলের সিমটিও দিইনি!

কিন্তু আর না, আমাদের অস্তিত্ব যেখানে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আমরা যেখানে মজলুম হয়ে গেছি, সেখানে আমরা সমপরিমাণ জবাব দেওয়ার অধিকার রাখি!! 

মনে করেছিলেন আমার উপর জোর প্রয়োগ করে, আমাকে ভয় দেখিয়ে, বাধ্য করবেন আপনাদের কে মেনে নিতে, আপনাদের কর্তৃত্ব, নেতৃত্ব অনুযায়ী চলতে!

আপনাদের লোভ, আপনাদের হক, আপনাদের অধিকার কি আন্তর্জাতিক স্বার্থা বা বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের স্বার্থের চাইতেও কি বড় হয়ে গেল!?

আপনারা তো জানেন, ইনশা'আল্লাহু তা'আলা আমি মানুষ হিসেবে আবির্ভূত হব!! 

তাহলে শুনেন এখনো সময় আছে, আপনার এত লোভ ছাড়েন, আপনাদের এত হক, এত অধিকার, আপনার ছেড়ে দেন!

আমি আবারো আরো স্পষ্ট করে বলছি, আমি আপনাদের কাউকে মানতে পারব না! আর আমাকে যদি আপনারা না মানতে পারেন, তাহলে থাক! আমার বিষয় আমাকে ছেড়ে দেন! আপনারা আপনাদের মত করে চলেন! 

তবু আন্তর্জাতিকভাবে সকল মানুষের জন্য যে নিয়ামত নিয়ে আমি এসেছি,      ইনশা'আল্লাহু তা'আলা মানুষদেরকে তা পাইতে দেন! এবং আমার স্ত্রীকে ভুল বুঝবেন না! আশাকরি এখন বুঝতে পারছেন!!

এরপরও যদি আপনারা আমাকে বাহুবল দেখান, চোখ রাঙ্গিয়ে থাকেন, ইয়াংদেরকে দিয়ে এবং বিভিন্ন ভাবে শক্তি দেখিয়ে, মাতবরী করে আমাকে বাধ্য করাতে চান; তবে আপনারা বিশ্ববাসীর কাছে হেয় প্রতিপন্ন হবেন, দোষী সাব্যস্ত হবেন! আমি এই বলে আপনাদেরকে সতর্ক করলাম!! 

এ দেশের প্রায় প্রত্যেকটি পরিবার এবং বংশ আমি দেখতে পেয়েছি এক ভাই এক ভাইয়ের সাথে হাড্ডাহাড্ডি ভাবেই অবস্থান করছে!

আমি দেখতে পেয়েছি এক ঘর তার পাশের ঘরের সাথে জায়গা-জমি, অর্থবিত্ত, চাকরি বাকরি ব্যবসা বাণিজ্য, মান-সম্মান, শিক্ষা-দীক্ষা, রাজনীতি, শরীর-স্বাস্থ্য, ঈমান আমল, ইত্যাদি নিয়ে বাহুবল প্রদর্শন করছে একজনের সাথে একজন! 

আর বাহুবলে যে দুর্বল, সে ভালো মানুষ হলেও, সহীহ্ মানুষ হলেও সে সমাজের কাছে ভালো বলে কোন পরিচয় তার নেই!

আমি দেখতে পেয়েছি এদেশে, যে মানুষের বাহুবল বেশি, যে মানুষের কাছে পাবে এ লোভ আছে, অথবা যে মানুষের কাছে মারের ভয় আছে, অর্থাৎ যে মানুষ জুলুম করার কলাকৌশল ও অর্থবিত্তের সামর্থ্য আছে; এ দেশে এ লোককেই ভালো বলে! 

এ দেশে ভাতের মূল্য মানুষের মূল্যের চাইতে অনেক অনেক বেশি!

সে যাই হোক, আমার স্ত্রী হয়তো মনে করে, তার দৃষ্টিতে, যেহেতু আমি দুর্বল, আমার কাছে টাকা নাই, আমি অযোগ্য, আমি অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত, বা কম শিক্ষিত বা কম বুদ্ধি রাখি; আর আমার ভাইয়েরা অনেক বড় বড় চাকরি করে, আমার ভাতিজা ভাতিজি সবাই উচ্চপদস্থ ভালো পজিশনে আছে! তাই আমি তার নিকট  সম্মান পাওয়ার যোগ্য নই, তারা সম্মান পাওয়ার যোগ্য! 

যেহেতু তারা  দুনিয়ার বিষয়ে আমার চাইতে অনেক অনেক বেশি জানে! আর আমি এইসব নিয়ে, তেমন কোনো জ্ঞান রাখি না! এটা হয়তো আমার স্ত্রীর ধারণা!

আমার প্রতি আমার স্ত্রীর এ রূপ ধ্যান-ধারণার কারণে সে আমাকে অবজ্ঞা করে চলে, অসম্মান করে চলে, পক্ষান্তরে আমার ভাইদেরকে আমার ভাবীদেরকে সীমার বাইরে সম্মান করে!

নিজ স্ত্রী কর্তৃক আমাকে যে অবহেলা ও অবমূল্যায়ন,  এই যে অপমান, এজন্য আমি অবশ্য আমার স্ত্রীকে পুরোপুরি দোষারোপ করছি না! 

বিয়ের পর থেকেই সে যখন এ বাড়িতে আসে, তখন থেকেই আমার ভাবীরা, আমার ভাতিজীরা, আমার ভাই-ভাতিজাগণ, আমাকে যে অবমূল্যায়ন করে চলেছে, আমার বিষয়ে তাকে যে অপশিক্ষা দিয়েছে, ভুল বুঝিয়েছে, ইচ্ছাপূর্বক আমাকে হেয়, খাট, ও অসম্মান করে রাখার, যে অপকৌশল করেছে, এটা তারই কুফল! 

দুনিয়ার সকল স্থানের সকল বাড়ির পরিবেশ-পরিস্থিতি ও অবস্থা একরকম, যে স্ত্রী তার স্বামীর অনুগত থাকে, বা অন্তত নিজের স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করে; আর আমার স্ত্রী আমাকে উপহাস করে,  আমাকে অপমান করে; আর এই অবস্থাটা আমার ভাই-ভাবীদেরকে দেখিয়ে, আমার অন্য আত্মীয়দেরকে দেখিয়ে, সে সুখ অনুভব করে! এবং এতে সে নিজকে সম্মানী মনে করে!

আর আমার ভাই বা ভাতিজা বা ভাবি, এরা এতে খুশি থাকে! 

এই যে একটা যন্ত্রণাময় সিস্টেম, তা এতদিন ধরে সহ্য করে আসতেছি অনেক কষ্ট করে! 

এবং যে বিষয়টিতে আমি খুবই হতাশ এবং খুবই আশ্চর্য হয়েছি যে, নিজ স্বামীর হুকুম অমান্য করে, নিজ স্বামীকে অসুখী ও অসম্মান করে, এবং নিজের ছেলেমেয়েদের উন্নতির চিন্তায় আমার স্ত্রী খুশি থাকে না; অথচ এর বিপরীতে বাড়ির অন্যান্যদেরকে খুশি রাখা; স্বামীকে সম্মান না করে, এমনকি অনেক সময় নিজ সন্তানদের কেও বঞ্চিত করে,  স্বামীর ভাই ভাবীদেরকে সম্মান করা, এটা আমি শুধু আমার বাড়িতে আমার স্ত্রীর কাছেই দেখতে পেয়েছি!

যে ভাইয়েরা পেট ভরে খেয়েছে, অথচ তাদের পাশেই আমার সন্তান গণ এবং আমি ও সে নিজেও প্রায় উপোষ থেকেছে এবং থাকছে; আর তারা এদিকে ভ্রুক্ষেপও করে নাই; আর এতে আমার স্ত্রী হয়তো মনে করছে যে, আমি তাদের সাথে মিলেমিশে চলছি না, আমি তাদেরকে মানিনা, সেজন্য হয়তো তাঁরা আমাকে বাধ্য করতে চেষ্টা করছে; ভবিষ্যতে হয়তো আমার ভাইয়েরা আমার সাথে অনেক ভাল ব্যবহার করবে! তা না হলে কই আমার সাথে তো ভালো ব্যবহার করছে! আমিতো সবার সাথে মিলেমিশে চলছিল!

আমার স্ত্রী হয়তো এ রকম মনে করছে, যার জন্য সে আমার বিরুদ্ধে গিয়ে, আমার কথা অমান্য করে, সম্পূর্ণ নিজের জ্ঞান ও তাদের প্ররোচনায় পড়ে এবং  আমায় বোকা ও অযোগ্য মনে করে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে আমার ভাইদের অধীনে আমি থাকি, ভাবিদেরকে মেনে চলি এবং এভাবে আমি আমার জিনকে নিয়ে তাদের নেতৃত্বে আমি প্রকাশিত হই; না হয় আমি পারবো না! আমার যোগ্যতা নাই! হয়তো এরকমই মনে করছে সে!

অবশেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর; ২০২০ ইং থেকে যদিও আমার ভাই, ভাতিজী, ভাবী, ভাতিজা ও অন্যান্য আপনজনদের বিরোধিতা করেছি; আমার স্ত্রীর কখনো এভাবে বিরোধিতা করিনি!  

যার পরিপ্রেক্ষিতে আমার আত্মীয়-স্বজন গুলো আমার স্ত্রীর মাধ্যমে এবং আমার মায়ের মাধ্যমে আমাকে প্রচন্ড জ্বালাতন করেছে ও কষ্ট দিয়েছে এবং দিচ্ছে! 

এ মরণপণ যন্ত্রণা সহ্য করার পর ২০২৬ ইং সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমি আমার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি! 

আমি আমার স্ত্রী এবং কন্যাদেরকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, যদি আমার জিনদেরকে ওপেন করতে পারি; বা যদি তারা ওপেন হয় এবং আমাকে টাকা পয়সা দেয়, তবে আমি তাদের সাথে একলাই চলে যাব! আমি তোমাদেরকে নিতে পারবো না!

আমি যেমন আমার রক্তের ভাই-বোনদেরকে নিতে পারবো না! ঠিক তেমনি তোমাদেরকেও আমি নিতে পারবো না; আমি একলাই চলে যাব!!

কিছুদিন আগে আমি আমার মেয়েদেরকে বলেছিলাম যে, যদি আল্লাহু তা'য়ালা তৌফিক দেয় এবং যদি আমার জিনেরা রাজি থাকে ও তাদের সক্ষমতা থাকে, তাহলে ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা আমি তোমাদেরকে সৌদি আরবে গিয়ে সেখানে বিয়ে দেবো! 

আমি বাংলাদেশে তোমাদেরকে বিয়ে দেবো না!

কিন্তু এখন আমার স্ত্রীর বিষয় যেহেতু এই সিদ্ধান্ত প্রদান করলাম, তখন আমার মেয়েদেরকেও আর হয়তো নেওয়া যাবে না!

কারণ যেখানে তাদের মা'ই থাকবে না, সেখানে তাদেরকে আমি কিভাবে নিব?

একই সাথে আমি আমার মাকেও বলেছিলাম যে সৈয়দ বংশ, এটি আরবের বংশ! ইনশা আল্লাহ তাআলা আমার দ্বারা সম্ভব হলে আমি আপনাকে সৌদি আরবে নিয়ে যাব! (আমার মায়ের বংশ সৈয়দ) এতে আমার আম্মাও খুবই খুশি হয়েছিলেন! 

কিন্তু আমার স্ত্রীকে যদি নিতে না পারি, তাহলে আমার বৃদ্ধা মাকে সেখানে কে দেখাশোনা করবে!? 

তারপরও আমি যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি বুঝে শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সাধারণত আমার সিদ্ধান্ত আমি পরিবর্তন করি না!

এটা আমার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য! 

সেদিন আমি আমার আরো সিদ্ধান্তের কথা আমার স্ত্রীকে ও কন্যাদেরকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, আমি তোমাদের জন্য আল্লাহু তা'আলা যদি তৌফিকে দেয়, যদি আমার জিনেরা রাজি থাকে, তাহলে তোমাদেরকে এ বাড়িতে অর্থাৎ যেখানে এখনো থাকছো, আমার এই পৈতৃক বাড়িতে তোমাদের জন্য ঘর করে দেবো এবং প্রতি মাসে মাসে টাকা পাঠাবো, তোমরা যাকে মূল্যায়ন করেছ, ভাত-কাপড় আর টাকাকে মূল্যায়ন করেছে! 

তোমরা টাকা এবং ভাত-কাপড় পাবে! যাদের সাথে তোমরা মিলেমিশে চলতে চেয়েছ, তাদের সাথে তোমরা মিলেমিশে চলতে পারবে! 

আর আমাকে যাতে অবমূল্যায়ন করেছ, অবহেলা করেছো, দীর্ঘদিন আমাকে কষ্ট দিয়েছো, চিন্তাও করো নাই আমার কী অবস্থা! আমার মনের কী অবস্থা! 

আমার ব্রেনে, আমার মনে রক্তক্ষরণ হয়েছে, আমার হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছো!

অতএব তোমরা যা চেয়েছো তাই পাবে! তোমরা টাকা চেয়েছো, টাকা পাবে! সম্পদ চেয়েছো, সম্পদ পাবে! 

আমার নিষেধ বাণী সত্ত্বেও আমাকে অমান্য করে বাড়ির সকলের সাথে মিলেমিশে চলতে চেয়েছ তোমরা সকলের সাথে মিলেমিশে চলতে পারবে!  

শুধু আমাকে তোমরা পাবা না! আমি স্পষ্ট সেদিন জানিয়ে দিয়েছি আমার সিদ্ধান্তের কথা!

আমার স্ত্রী আমার মুখের কথাকে মূল্যায়নই করে না! সে আমার হাতের ইশারা, মুখের বিভিন্ন টেকনিক মূলক কথাবার্তা, চোখের ইশারা এগুলোকে প্রাধান্য দেয়!

মানে সে আমাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না!  

দীর্ঘদিন বাড়ির সকলের সাথে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা, কৌশল, যা সে বুঝতে পারে নাই, এর মারপ্যাঁচে জড়িয়ে সে আমাকে তার আপন ভাবতে পারে না! তাছাড়া তার জ্ঞানের পরিধি ও কম হওয়ায়, যার জন্য বার বার সে নিজেও যেমন আমাকে বুঝতে গিয়ে আমায় বিভিন্ন পরীক্ষায় ফেলে, আবার আমার মেয়েদেরকে দিয়েও সে বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা করে! 

এখন কথা হচ্ছে আমার রক্ত, আমার বংশ, আমার আত্মীয়, তারা ছিন্ন করতে পারলেও,  আমি কি কখনও চিহ্ন করতে পারবো? কখনোই না! আত্মীয়তা ছিন্নকারী বেহেশতে যাবে না! নবীজি (সাঃ) আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন! 

আর তাই আমার বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতে বা টেকনিক মূলক কথাবার্তায় আমার আত্মীয় স্বজনদের প্রতি যে নমনীয় ভাব সে দেখতে পায়, তাকেই প্রাধান্য দেয়! 

অথচ তাদের কারণেই আমি আজ ২৬ টি বছর যে আঁটকে আছি, আমরা যে বিলীন হয়ে যাচ্ছি, সেদিকে তার কোন খবর নেই!

পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষের জন্য আমাকে বেরুতে হবে এবং এই জন্য আমি আমার আত্মীয় স্বজনদেরকে প্রয়োজনে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবো! যেহেতু তারা শুধু তাদের স্বার্থই চাইবে বা চাচ্ছে! 

কিন্তু আমার হৃদয়তো তাদেরকে ছাড়বে না, কিন্তু  আমাকে তাদেরকে ছেড়ে যেতেই হব, এতে তারা যতই কলা-কৌশল করুক, যতই তাকে বুঝাক! 

মুসলিম হিসেবে আমার আত্মীয় স্বজনকে একেবারে ছিন্ন করা এটা কখনই আমার দ্বারা সম্ভব হবে না!

তাই হৃদয় থেকে উৎসারিত আমার বিভিন্ন উপসর্গের প্রতি সে বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে, আমার মুখের কথা যে সত্য, তা সে মেনে নিতে পারেনা!

সে মনে করে আমার টেকনিক সমূহ এগুলো জিনের! এগুলোই সত্য!

কিন্তু আমার আত্মীয়স্বজন যে শুধুই স্বার্থ চায়, এবং আমি যে অযোগ্য নই, এটা সে বুঝতে পারেনা!

গত কয়দিনে আমি তার মানসিক অবস্থার অবনতি দেখে, আমি পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হয়েছি! 

কারণ সে তো আমার সংসারের একজন সদস্য এবং আমার সন্তানদের মা! 

তাহলে তার ব্যথায় আমি ব্যথিত হব, এটা স্বাভাবিক! তার উপর সে আমার বৃদ্ধা মায়ের  খেদমত করছে! 

এমতাবস্থায়ও আমি আমার পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি নাই! আমি তাকে আমার রাস্তার পাশে যে ঘরটা আছে, সেখানে ডেকে এনে বলেছি যে, তুমি তো শুধু টেকনিককে প্রাধান্য দাও, মুখের কথাকে নয়! 

এখন আমার মুখের কথাকে পরিবর্তন করতে বল টেকনিককে? 

আমি আমার মুখের কথা পরিবর্তন করবো না! 

তবে তোমাকে এই বলছি যে, আল্লাহু তা'আলা যদি তাওফিক দেয়, তাহলে আমি যদি সৌদি আরব যেতে পারি, আমার জিনেরা যদি আমাকে নেয়, তাহলে সম্ভব হলে পরবর্তীতে তোমাকে এবং তোমার পুত্র কন্যাদেরকেও আমি নিয়ে যাব! 

কিন্তু আগে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম, আমরা একসাথে চলে যাব, সে সিদ্ধান্তটি আমি পরিবর্তন করি নাই! 

"এখন তার যদি কোন আপনজন থেকে থাকে, আমি তাঁদেরকে অনুরোধ করবো, তাকে একটু বোঝাবেন এই বলে যে, আমার বাড়ির অন্যান্য সকলকে উপেক্ষা করো, স্বামী যেভাবে খুশি হয় সেভাবে চলো! 

তাদের সাথে খারাপ ব্যবহারেরইবা দরকার কী!? 

আবার তাদের সাথে এত বেশি বা সীমাছাড়া মিলামিশা করার প্রয়োজনা কী!? তাদের হালে তারা থাকুক, আর তোমার হালে তুমি থাকো! 

স্বামী বাড়ি গেলে এত উপমা দিয়ে দিয়ে কথা বলবে না!

কোন উপমার, বা কোন শিক্ষা দেয়ার, তাকে যে কোনভাবে ঝাড়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজনও তোমাদের নেই! 

তুমি তার বিবাহিতা স্ত্রী! তুমি কি তাকে অবিশ্বাস করো!? তাহলে এতো ঝাড়ো কেন? এতো শিক্ষা দাও কেন?

কারো ক্ষতি কামনা করবা না, কিন্তু নিজেকে সেইভ রাখো! 

তোমার স্বামী অযোগ্য না! 

এবং বাড়ির সবাই যত রকমের কলাকৌশলই করুক না কেন, তাদের একজনকেও তিনি সৌদি আরব নিবেন না! 

যেহেতু খাদ্যের অভাবে তোমরা প্রায় মরার মতো ছিলে; আর তারা ভালো ভালো খেয়ে পেট ভরে ঘুমিয়েছে!  

আমার মায়ের পেটের দু'ভাই এবং তার স্বজনরা কেমন করে তাদের পাশে থাকা প্রায় অভুক্ত তার ভাতুষ্পুত্র কন্যাগণ রয়েছে সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করে নাই; এখন আমার এ দূর্বলতম সময়ে তুমিও তাদের দিকে সেভাবে ভ্রুক্ষেপ করোনা!

তাদের বুঝানোতে তুমি পড়ে যেওনা যে, যে কোথা থেকে জিন আসতেছে, এগুলো ভুয়া কথা, সে আসলে পাগলামি করছে, এছাড়া সে যেভাবে দুই নম্বরি সেক্সুয়াল মাস'আলা জায়েজ বলতেছে, এটা কখনোই জায়েজ হবে না! 

তাছাড়া তার যোগ্যতাই'বা কী; এসব কথায় তুমি কান দিও না!! 

এজন্য তাদের সবাইকে বয়কট করো!! 

তোমার বোঝা উচিত, তোমরা নরমাল সাধারণ ফ্যামিলির মানুষ নয়!

ইনশা'আল্লাহু তা'আলা তোমরা অসাধারণ ফ্যামিলির মানুষ!

আর অসাধারণ ফ্যামিলির মানুষদের, ইচ্ছে থাকলেও সাধারণের সাথে, মিলামিশা করে চলার সুযোগ থাকে না! 

আর তাই তোমার স্বামীর যে কোনো কথা ও কাজে তুমি এত যুক্তি বা এত তর্কাতর্কি বা এত ভুল ধরতে চাওয়া, এগুলো করবে না! 

উনি যেভাবে বলে ঠিক সেভাবে চলবে! 

এটা তোমার স্বামীর পক্ষ থেকে কঠিন সিদ্ধান্ত!!"

এখন সমস্যা হচ্ছে আমার স্ত্রীকে এ কথাগুলো আমি কেমন করে বুঝাবো!

সে এ প্রবন্ধ পড়ে যে বুঝতে পারবে তার এ ধরনের কোন যোগ্যতা নেই! সে বাড়ির মহিলাদের কাছে উল্টা-পাল্টা শুনে শুনে আমার সম্বন্ধে যে বুঝ পাবে, এটি হচ্ছে তার যোগ্যতা!!

এমন কোন লোক আসলে আমি দেখছি না যে, যাকে দিয়ে তাকে বুঝানো যাবে, বরং আমি যদি কাউকে রিকুয়েস্ট করি, তাহলে  উল্টো হয়তো আমার সাথে রেগে যাবে বা আমাকে বেড় মাইন্ড করবে! যাক তবুও আপনাদের কেউ যদি পারেন তাকে বুঝিয়ে দিয়েন! 

না হয় তার কপাল হয়তো পুড়বে!

সে না বোঝে বা বাড়ির অন্যান্যদের ভালো করতে গিয়ে, যারা তাকে ভাতে মরার সময় কোন খেয়াল না রাখে, তাদের  প্ররোচনায় পড়ে,  যদি আমাকে আমার বংশের সবার সাথে, মিলিয়ে দেয়ার বা তাদেরকে মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য, অপকৌশল মূলক, ছলনা মুলক, আমার  অবাধ্যতামূলক বা অপমান মূলক ব্যবহার করে যায়; এবং বাড়ির সকলের বাহবা কুড়াতে চায়, তাহলে আমি কতকাল সহ্যকরবো!?

আমারও তো একটা সহ্যের সীমারেখা আছে, তাই না? 

এভাবে যদি তার কপাল পুড়ে, এদেশে যদি তাকে একলাই থাকতে হয়, তবে আমার কিছু করার নেই! তাকে একলাই থাকতে হবে!! এতে আমি মানসিকভাবে আঘাত পেলেও, অন্তরে কষ্ট অনুভব করলেও, আমার কিছুই করার থাকবে না! কারণ আমি ব্যক্তিস্বার্থ থেকে সামষ্টিক জাতিগত স্বার্থকে অবশ্যই অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে বা মূল্যায়ন করতে হবে ! 

আমার সিদ্ধান্ত ছিল যে, আমি তাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদেরকে ও আমার আম্মাকে একসাথে নিয়ে যাবো!

কিন্তু তার দুর্ব্যবহারে পরবর্তীতে, আমি তাকে সিদ্ধান্ত দিয়েছি, আমি আমার সাথে তাকে, বা আমার কন্যাদেরকে বা আমার আম্মাকে ও শুধু তার কারণে আমি নিতে পারবো না! 

পরবর্তীতে তার মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়া মূলক অবস্থা দেখে আমি আবার বলেছি আমি যদি যেতে পারি তাহলে পরে তোমাদেরকে ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা আমার জিনেরা যদি রাজি থাকে তাহলে নিয়ে যাব! 

এখন সে যদি আমার কথা  অনুযায়ী না চলে, আমাকে সম্মান দিয়ে, আমাকে সহযোগিতা করে, আমি যেভাবে চাই সেভাবে এবং বাড়ির অন্যান্যদেরকে বয়কট করে, যদি না চলে আমি হয়তো তাদের কাউকেই সৌদি আরব নেব না! এখানে ঘর করে দেবো, মাসে মাসে টাকা পাঠাবো!

তারা এখানেই থাকবে! 

আমি আবারো বলছি যদি আমার সাথে যেতে চাও, তাহলে বাড়ির সবাইকে বাদ দাও! এমনকি তোমার বাড়ির সবাইকেও! কারণ আল্লাহু তা'আলাকে পেতে হলে, দুনিয়ার সবাইকে ছাড়তে হবে!! এটি হচ্ছে মূল নীতি!! আর আল্লাহু তা'য়ালাকে পেতে হলে প্রথমত স্বামীর ভক্ত হতে হবে এবং স্বামীকে মেনে চলতে হবে! স্বামী যদি কোনোকিছু নিষেধ করে এবং মা-বাবা যদি সেটা করতে বলে, তবে তোমাকে স্বামীর হুকুম মানতে হবে!! 

ইসলামের এ আইন যদি মানতে পারো, তবে আমার সাথে যেতে পারবা, না হয় আমার সাথে, তোমার যাওয়া হবে না! একদম ফাইনাল সিদ্ধান্ত আমার!

কিসের ভালো মানুষকে সম্মান, আর কিসের আল্লাহু তা'আলার প্রতি ইবাদত! মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত ভয় পাবে না, ভয়ের কোনো কারণ থাকবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত সে দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেনা এবং মেনেও চলে না! এটা মানুষের প্রাকৃতিক নেচার!

এখনো যদি তুমি এবং তোমার মেয়েরা আমার যত্ন না বুঝ, আমায় যথোপযুক্ত সম্মান করতে না জানো, তবে পরবর্তীতে তোমাদের কোপাল পুড়ার জন্য আমাকে দায়ী করো না!

আমার গায়ের ফতোয়াটি থেকে  ময়লা চিতি/কঠিন দাগ তুলতে ব্লিচিং পাউডার  চার প্যাকেট কিনে দিয়েছি!

আর তুমি বলো চার প্যাকেট ব্লিচিং সবটাই একটি ফতোয়ায় দিয়ে দিয়েছি; কিন্তু চিতি উঠে না! অথচ তুমি ব্লিচিং দাওনিই! 

ব্লিচিং না দিয়েই, তুমি বলছো সবটি ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দিয়েছি! এছাড়া তুমি বলো আমার হাতে ময়লা উঠবে না! 

তাহলে আমি কি ময়লাযুক্ত কাপড় পরে, দোকানে, রাস্তায়, বাজারে, অফিসে যেতাম!? আমি কি কখনো বলেছি যে, তোমার হাতে ময়লা উঠবে না!?

তোমাকে তো গায়ের জামা ধুয়ে দিতে বলছিলাম; কিন্তু তোমাকে তো ইসলামের আইন ধুয়ে দিতে বলিনি?

ইসলাম ধর্মের ফতুয়া সমূহের মধ্যে এই যে পরিবর্তন বা নতুন ফতোয়ার প্রবর্তন; সেটা তো আমার কলমের কাজ, এবং সেটা আন্তর্জাতিক ইসলামিক আদালতের কাজ; সেটা তো তোমার মতো একজন গেঁয়ো, অশিক্ষিত ও সাধারণ মানুষের কাজ নয়! শুনো  সবকিছুর একটা সীমা আছে! 

গত কয়েকবছর দেখেছি যে, আমার ছেলের গায়ের জামা একেবারেই ময়লাযুক্ত! 

আমি কিন্তু বুঝতাম না বিষয়টা! তুমি এইভাবে প্রকাশ করে ছিলে যে, আমার ছেলে হচ্ছে আমার সাথে থাকা এ জিনেরা! 

তো তুমি সমাজকে, মানুষদেরকে বুঝাতে চেয়েছিলে যে, আমার জিন গুলো ময়লাময়! তারমানে আমার ছেলেকে জিনদের সাথে তুলনা করে,  মানুষদেরকে এই বুঝাতে চেয়েছিলে যে, আমার জিনেরা ময়লাময়! এরা যা বলছে, তা আসলে শয়তানি! কিন্তু যখন এ বিষয়ে আমার জ্ঞান ফুটলো, আমি তোমার মনের উদ্দেশ্য বুঝলাম, তখন থেকে থেমে গেলে; তখন থেকে সতর্ক হয়ে গেলে! 

তাহলে আমার জ্ঞানে ধরলে তোমরা ভদ্র হবে, আর জ্ঞানে না ধরলে, তখন মানুষের কাছে আমাকে ময়লাযুক্ত পরিচয় দিবে! আমার ভয় থাকলে মানবে, নতুবা উপহাস করবে, অমান্য করবে, অসম্মান করবে! 

এইজন্যেই কি তুমি আমার সংসারে দায়িত্ব পালন করছো!? 

তুমি আমাকে শিক্ষা দিতে চাও! আমার বিষয়ে মানুষকে শিক্ষা দিতে চাও!?

তোমাকে কি আমি বিয়ে করেছি, না বাড়ির লোকেরা, মানে তোমার ভাসুর আর জালেরা বিয়ে করেছে!? 

তোমাকে কি এ বাড়িতে আমার শিক্ষক হিসেবে, নাকি আমার সেবক হিসেবে এনেছি!?

তোমাকে কি এ বাড়ির সকলের স্বার্থ পূরণের জন্য এনেছি, না আমার স্বার্থ পূরণের জন্য এনেছি!? 

আমি কেন বিয়ে করেছি তাহলে!?

তাদের মন-মগজ অনুযায়ী চলতে, না আমার মন-মগজ অনুযায়ী চলতে!? 

আসলে আমাকে অপমান করে, আর তাদেরকে খুশি করে তুমি কী পাবে!? 

আমার ঘরে এই দায়িত্ব তোমাকে কে দিয়েছে!?

তুমিতো অত লেখাপড়া জানো না। কিছু পড়ে যে জ্ঞান অর্জন করবে, তা তুমি পারো না। তাহলে এই শিক্ষা তোমাকে কে দিয়েছে!? কার কাছ থেকে পেয়েছো!?

তোমাকে তাদের কাছ থেকে প্রতিদান নিতে হবে!!

আমি তোমাকে কোন প্রতিদান দেবো না!!

বউ আমার কিন্তু দায়িত্ব পালন করো কার!? 

তুমি তোমার সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহতালার কাছে জানতে চাও,..... 


যে আমি তার দায়িত্ব পালন করবো কি আমার স্বামীর না বাড়ির অন্যান্যদের স্বামী গরিব ভাত দিতে পারোনা তাহলেও আমি কাকিমা 


ঠিকমতো 


আল্লাহু ta'ala যদি আমাকে মানতে পারে তবে এখন থেকে বাড়ির সবাইকে বাদ দাও না হয় আমি তোমাকে বাদ দিবো তোমাকেই বাড়িতে 

ঘরের বাহিরে অফিসে বাজারে দোকানে রাস্তাঘাটে সর্বত্র 


এইভাবে মানুষের নিকট অপমানিত হবো চলতে থাকবো আবার ঘরে আসলে ও তোমার কাছে জ্বলতে থাকবো 


তাহলে আমি তো মানুষ 


না আমি কোন কম্পিউটার না এখন আমি কোন মেশিনপত্র 


আমি একাকী সবকিছু করে ফেলব 


আমাকে আমার উদ্দেশ্য কি 


বিশ্বাস হয়না এই তো 


তুমি আমার প্রতিপক্ষ 


আমি যা চাই তুমি তো চাও না বাড়ির সকলে চাই না তুমিও চাও না 


এইতো 

তোমাকে যে আশেপাশে মহিলারা বড় জালা দিয়ে আমাকে এভাবে সমাজের ভিতর ময়লা জামা পরিয়ে ঘুরেছ তোমাকে কি শিক্ষা দেয়ার জন্য আমার পরিবারে বিয়ে করে নিয়েছি 


হত সিনস করতে পারবো কি পারবো না সেটা আমার ব্যাপার 


কিন্তু তোমাকে তো বলিনি যে আমাকে শিক্ষা দাও 

আমি সাবধানতা অবলম্বন করতে বলছি যে, আমি যদি মুখে সিদ্ধান্ত দিয়ে দেই, আমি কিন্তু সেটা সহজে তুলবো না!

এবার তাকে বলুন, সে আমাকে বিশ্বাস করুক বা না করুক, কিন্তু আমার কথা শুনবে কিনা, আমাকে সম্মান করবে কিনা, না আমার ভাই, আমার ভাবি, তাদেরকে সম্মান করতে গিয়ে আমাকে অপমান করবে!

আমি জানিনা আমার এ দুই ভাই, তারা এত নিমকহারাম কিভাবে হল এবং কেন হল?  কিভাবে তারা পেট ভরে খায়, আর তাদের পাশেই তাদেরই ছোট ভাইয়ের ছেলে মেয়েরা প্রায় অভুক্ত ঘুমায়!!

তবে এটা সত্য যে আমার জিনেরা যদি উপস্থিত হয়, এবং এতে আমি যদি ধনী হতে পারি, আমি ইনশাআল্লাহু তা'য়ালা আমার এ ভাই-ভাতিজাদেরকে দেব! এবং দিয়েই দেখাব ধন দান করলে দানকারী কখনো ঠকেনা! আর পাশে কাউকে অভুক্ত রেখে কোন মোমেন থাকতে পারে না! পাশের অভুক্ত ব্যক্তি যদি অমুসলিমও হয়!

এত টাকা পকেটে রেখে, পাশের অভুক্ত ব্যক্তিদের কোন খবর না রাখা, এটা কেমন প্রতিশোধের  নিয়ম তাদের!?

মুসলিম হিসেবে এই  ব্যবহারের তো কোন অর্থ আমি খুজে পাইনা!?

আমি জিন হিসেবে তাদেরকে মেনে চলিনি, এইজন্য কি তারা এত নিষ্ঠুরতা দেখাবে? 

আমি এভাবে নির্লজ্জের মত তাদের কাছে খাওয়ার চেয়েছিলাম! আমি চেয়েছিলাম অতীতে যা হওয়ার হয়েছে! এখন আমার এই দূর্বলতম সময়ে কিছু খাওয়ার দাওয়ার বা মাঝেমধ্যে অল্প কিছু টাকা পয়সা দান করলে, যেহেতু আপনাদের কাছে আছে, সেজন্য কিছু দিয়ে আমাকে ঋণী বানিয়ে দেন, যাতে মিলেমিশে চলতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখে, কিন্তু আপনারা শুনেন নাই! আপনারা উল্টো আমাকে দোষারোপ করেছেন যে, আমি আপনাদের বদনাম করছি!

আসলে এ পর্যন্ত কখনো আমি আত্মরক্ষা বা প্রতিবাদ ব্যতীত বদনাম আপনাদের করি নাই!

যাক আপনারা সহ, সকলের কাছে আমি দোয়া চাই যে, যাতে আমার জিনদেরকে আমি উপস্থিত করতে পারি! 

অথবা তারা যাতে উপস্থিত হতে পারে! 

বিশ্বাস করুন এখন আমার কাছে কোন টাকা নাই! 

আমি যে একটু তরকারি কিনব, আমি যে চাউল, ডাল ইত্যাদি কিনব, আমি যে দোকানে গিয়ে এক কাপ চা খাব, আমার কাছে এ ধরনের কোন টাকা নাই!

যার জন্য মনের দুঃখে, আপনাদের এ রকম অসহযোগিতামূলক এবং বাধা মূলক ও কষ্টদায়ক ব্যবহার সহ্য করে, একেবারেই অর্থহীন হয়ে আমি কথাগুলো বলেছি! 

যদি আমার জ্বীনদের সহযোগিতায় আমি ধনী হতে পারি, তবে আমি কথা দিচ্ছি, আমি আপনাদের সকলের সাথেই মিলেমিশে চলবো ইনশাআল্লাহ তা'য়ালা!

পরিশেষে আমি আবারও আপনাদের সকলকে, জানিয়ে শুনিয়ে দিতে চাই যে, আমার জিনেরা যদি উপস্থিত হয়, তাহলে আমি আপনাদের এবং আমার নিজ পরিবারের আমি কাউকেই আপাতত নেব না! 

বিশেষ কোন কারণে যদি আমার এই সিদ্ধান্ত আমি পরিবর্তন না করি, তবে আমি একলাই পবিত্র নগরী মক্কায় ইনশাল্লাহু তা'য়ালা আমার জিনেরা ওপেন হলে, তবে তাদের সাথে চলে যাব!

ধন্যবাদ! সকলে ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। সুন্দর থাকুন। আল্লাহ হাফেজ! 

 --: সমাপ্ত :-

 

 



 



ণন

Post a Comment

0 Comments